কিছু জায়গা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে কিছু জায়গা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে

শিহরণ জাগানো ৮টি পরিত্যক্ত স্থান

পৃথিবীতে অনেক পরিত্যক্ত জায়গা আছে এবং প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা বিশেষ ইতিহাস আছে। তাদের মধ্যে কিছু জায়গা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে, অন্যগুলো আপনার মধ্যে সমীহ জাগাবে। 

আমরা ৮ টি পরিত্যক্ত জায়গা নির্বাচন করেছি যা আপনাকে আকৃষ্ট করবে অথবা ভয় পাইয়ে দিবে।

মিশিগান সেন্ট্রাল স্টেশন, ডেট্রয়েট

১৯১৩ সালে নির্মাণের সময় এটি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু রেল স্টেশন ছিল। স্টেশনটি  ১৯৮৮ সালে বন্ধ হয় কিন্তু ১৯৯০ সালের শেষের দিকে এটি জনসাধারণের জন্য  খোলা হয়। ঐ বছরে অসংখ্য ভাঙচুরের কারণে এই স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন  এটি বন্ধ এবং বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাতে আছে।  

প্রিপায়াত, ইউক্রেন

উত্তর ইউক্রেনে প্রিপায়াত একটি ভৌতিক শহর। ১৯৮৬ সালের ২৭ এপ্রিল চেরনোবিল দূর্যোগের পর সরকার এই এলাকাটিকে অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেয়। কোন  ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। জনসাধারণের আতঙ্ক দূর করার জন্য মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় যে তারা যথাসম্ভব দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে পারবে। আজ শহরটি ভ্রমণের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ বলে মনে করা হয় এবং কিছু লোক এর আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়।

এস এস আমেরিকা

১৯৪১ সালে, এই জাহাজটি সেনাবাহিনী পরিবহনের জন্য অনুমোদিত ছিল এবং এর নামকরণ করা হয় ইউএসএস ওয়েস্ট পয়েন্ট। যুদ্ধের পরে এটি যাত্রীবাহী জাহাজ এসএস আমেরিকাতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৮০ সালে এক নতুন মালিক জাহাজকে কারাগারে রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে জাহাজটি আটলান্টিক মহাসগরে বজ্রঝড়ের মধ্যে পড়ে এবং ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ফুয়েতেভেন্তুরা উপকূলে আছড়ে পড়ে। হেলিকপ্টার দিয়ে এর নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছিলো।  

ডিসকভারি দ্বীপ, ফ্লোরিডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

১৯৭৪ সালে ওয়াল্ট ডিসনি ওয়ার্ল্ড এর সম্পত্তিতে ডিসকভারি দ্বীপ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আকর্ষণের কেন্দ্র হিসাবে পর্যটকদের জন্য খোলা ছিল, যেখানে তারা স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীতে মোহিত হতে পারতো। ১৯৯৯ সালে আকর্ষণ কেন্দ্রটি বন্ধ হয় এবং সেই থেকে এটি পরিত্যক্ত।  

হোটেল দেল সেলতো, বোগোটা, কলোম্বিয়া

১৯৯০ সালের প্রথম দিকে হোটেল দেল শেল্টো বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ দীর্ঘায়িত সংস্কারে ধীরে ধীরে পর্যটকদের আগ্রহ এই এলাকার প্রতি কমতে থাকে। হোটেলে কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল বলে গুজব ছড়িয়েছিল। কিছু লোক বিশ্বাস করে যে এই পুরো জায়গাটা ভূতুড়ে।  

বেলিজ সামরিক হাসপাতাল, ব্রেনডেনবুর্গ, জার্মানি 

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময়, সার্বভৌম জার্মান সেনাবাহিনী সৈন্যদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসাবে এই হাসপাতালটি ব্যবহার করেছিল। ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এটি রেড আর্মি ফোর্সের দখলে ছিল। অ্যাডলফ হিটলার এই হাসপাতালের বিখ্যাত রোগীদের একজন ছিলেন। স্থানীয় লোক এবং পর্যটকেরা বলে যে হাসপাতালের বিশাল এলাকাজুড়ে অস্বাভাবিক কার্যকলাপ এবং ভীতিকর একটি পরিবেশ বিদ্যমান।

মিরান্ডা দুর্গ, সেলস, বেলজিয়াম 

এই বিশালাকার নব্য-গথিক দুর্গ ১৯৯১ সাল থেকে নির্জন এবং সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। ছবি তৈরির জন্য প্রচুর খরচের প্রয়োজন ছিল এবং বিনিয়োগকারী পাওয়া যাচ্ছিল না। বিখ্যাত আমেরিকান টেলিভিশন ধারাবাহিক হেনিবলের পরিচালক মিরান্ডা দুর্গকে ছবি বানানোর জায়গা হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

চার্লেরোর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বেলজিয়াম

২০০৬ সালে গ্রীনপিস এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে  কিছু নেতিবাচক ঘোষণা তৈরি করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে চার্লেরো দেশের প্রায় ১০% কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। এর কিছু পরেই ২০০৭ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। 



জনপ্রিয়