সেলেনা গোমেজের সংগ্রামী গল্প।     সেলেনা গোমেজের সংগ্রামী গল্প।

সেলেনা গোমেজের সংগ্রামী গল্প।

সেলেনা গোমেজ একজন মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী এবং অভিনেত্রী। “বারনি এ্যন্ড ফ্রেন্ডস” টিভি সিরিজের মাধ্যমে সেলিনা প্রথমে আত্মপ্রকাশ করেন। এটি ২০০২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত চলে। 

কিশোরী অবস্থায় তাকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জীবন চালাতে হয়। তার বয়স যখন পাঁচ তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। বড় হতে হতে সুখী পরিবার না থাকার হতাশায় ডুবে যান।তার মা তাদের খরচ যোগাতে তিনটি চাকরি করতেন। একটা সময় টেবিলে খাবার দিতেই তাদের যুদ্ধ করতে হতো। তার মা জানতেন এটা তার মেয়ের জন্য মেনে নেয়া খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তাই তার মা মেয়েকে কনসার্টে নিয়ে যেতে টাকা জমাতেন।

এই কনসার্টগুলোতে তিনি অনুপ্রাণিত হতেন এবং খুব দ্রুতই অভিনয় আর গানের ঝোঁক হয় তার। তার এই ঝোঁক তাকে গ্লিটজ ও গ্ল্যামার জগতে নিয়ে যায়। তবে হতাশা এবং বিষাদগ্রস্ততার সাথে যুদ্ধ এই ইন্ডাস্ট্রিতে তার টিকে থাকাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। স্টেজে উঠার আগে অথবা ঠিক স্টেজ ছাড়ার পরে তার প্যানিক অ্যাটাক হত।

 

তবে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং তার দিকে ধেয়ে আসা সমস্ত চ্যালেঞ্জ ছাড়িয়ে যান। তার এই সংগ্রামকে তিনি শক্তিতে পরিণত করেন, পারবোনা কে পারায় এবং স্বপ্নকে প্ল্যানে রূপ দেন। বিখ্যাত হবার পরে, তিনি সমাজের প্রতি কিছু ঋণ শোধ করার ব্যাপারে নিজেকে দায়বদ্ধ করেন। আজ সেলেনা গোমেজ পৃথিবীর সবচেয়ে চেনা মুখ গুলোর একটি।

"আমি ক্ষুদ্র, আঘাতে জর্জরিত কিংবা ভিকটিম হতে চাইনি। আমি চেয়েছি মেয়েদের জন্য শক্তিশালী হতে... আমি শুধু তাদের এটাই জানাতে চাই যে নিজেকে তুলে ধরার একটা অপশন তাদের আছে।" - সেলেনা গোমেজ 

 

সেলেনা গোমেজ ১৯৯২ সালের ২২শে জুলাই টেক্সাসের গ্র্যান্ড প্রেইরিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম রিকার্ডো জোয়েল গোমেজ এবং মায়ের নাম অ্যামান্ডা ডন ম্যান্ডি কর্নেট। গোমেজের নামকরণ করা হয় বিখ্যাত শিল্পী সেলেনার অনুসারে। গোমেজের পাঁচ বছর বয়সে তার বাবা-মার বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর গোমেজ তার মায়ের সাথেই থাকত। তার দুটি বোন আছে।

গোমেজের বিনোদন জগতে কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার মার মঞ্চ নাটকের প্রস্তুতি দেখে। তিনি বিভিন্ন চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে থাকেন। “বারনি এ্যন্ড ফ্রেন্ডস” এর অডিশনের সময় তার ডেমি লোভাটোর সাথে দেখা হয়। ২০০২ সালে তারা দুজন একসাথে অনুষ্ঠানে সুযোগ পায়। গোমেজ অনুষ্ঠানের ১৪ পর্বে অভিনয় করেন। ২০০৩ সালে তিনি স্পাই কিডস থ্রি-ডি: গেম ওভার চলচ্চিত্রে একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেন। ২০০৬ সালে তিনি “দ্য স্যুট লাইফ অফ জ্যাক অ্যান্ড কোডি” সিরিজে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করে।



জনপ্রিয়