সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়া এক দারুণ মানুষের গল্প! সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়া এক দারুণ মানুষের গল্প!

সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়া এক দারুণ মানুষের গল্প!

অধিকাংশ মানুষ অফিসে যায় বাসে, ট্রেনে কিংবা নিজের গাড়িতে চড়ে কিন্তু জার্মানীর বেঞ্জামিন ডেভিড অফিসে যান সাঁতার কেটে! কেউ যদি আপনাকে এসে বলে, সে সাঁতার কেটে অফিসে যেতে ভালবাসেন আপনি কি বিশ্বাস করবেন? আসুন জেনে আসি সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়া এক দারুণ মানুষের গল্প!

Daniel Loher.

Daniel Loher.

অফিসে যাওয়া-আসা করা এই বিষয়টা বড় বড় শহরের মানুষের কাছে সহজ কোন কাজ না। কারণ, রাস্তায় থাকতে পারে ভয়াবহ জ্যাম, গাড়িতে হতে পারে প্রচন্ড ভিড় এবং এর সাথে যদি গরম যোগ হয় তবে আপনার অবস্থা বারোটা বেজে যেতে পারে! কিন্তু ডেভিডের কথা আলাদা, কারণ সে অফিসে যায় নদীতে সাঁতার কেটে! 

Daniel Loher.

Daniel Loher.

জার্মানীর মিউনিখ শহরের বাসিন্দা ডেভিড, শহর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইসার নদীতে সাঁতার কেটে প্রতিদিন অফিসে যান তিনি। তার মতে বাসে গাড়িতে যাওয়ার ঝক্কি ঝামেলা বেশি। তাই তিনি ইসার নদীতে সাঁতার কেটে খুব সহজে ও ঠিক সময়ে পৌঁছে যান অফিসে।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে তিনি তার ল্যাপটপ, অফিসের জামা কাপড় আর জুতা একটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে  ভরে অফিসের জন্যে নেমে যান নদীতে। তারপর অত্যন্ত আনন্দের সাথে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যান দুই কিলোমিটার দূরের অফিসে। সময় লাগে মাত্র ১৩ মিনিট! 

Daniel Loher.

Daniel Loher.

তিনি বলেন, ''নদীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তাটিতে সকালে প্রচুর গাড়ি থাকে। ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়া খুবই ঝামেলার মনে হয়। তার চেয়ে সাঁতার কেটে যাওয়া অনেক ভালো। কারণ আমি খুব দ্রুত ও টেনশন ছাড়াই অফিসে পৌঁছে যেতে পারি।''

গ্রীষ্মকালীন সময়টা প্রতিদিনই সাঁতার কেটে অফিসে যান ডেভিড। তখন তিনি সাঁতার কেটে বাড়িতেও ফেরেন। শুধু এটাই নয়, শীতের সময়েও তিনি মাঝে মাঝে সাঁতার কেটে অফিসে চলে যান।

Daniel Loher.

Daniel Loher.

অফিসে যাওয়ার জন্যে তার আছে বিশেষ একটি ব্যাগ। তার ভেতরে থাকে তোয়ালে ও কাপড় চোপড়। এর মধ্যে সবকিছু রেখে পেছিয়ে মুখটা বন্ধ করে দেন। মজার বিষয় হলো ব্যাগটি তাকে সাঁতার কাটতেও সাহায্য করে। এটি ফুলে পিঠের সাথে লেগে থাকায় পানিতে ভেসে থাকতে সুবিধা হয়।

Daniel Loher.

Daniel Loher.

প্রতিদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে একটা কাজ তিনি অবশ্যই করেন আর সেটা হলো নদীতে পানির উচ্চতা, তাপমাত্রা, স্রোতের গতি এসব ইন্টারনেটে পরীক্ষা করে নেন। ইসার নদীটির উৎস আল্পস পর্বতমালায়। গ্রীষ্মকালে এর পানির তাপমাত্রা থাকে ১৪ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পানির তাপমাত্রা দেখেই তিনি ঠিক করেন কি পোশাক পরে তিনি নদীতে নামবেন। 

Daniel Loher.

Daniel Loher.

তিনি জানান, অনেকেই এখন তাকে দেখে সাঁতার কাটার ব্যাপারে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। নদীটিকে জলপথ হিসেবে ব্যবহার করার দেড়শো বছর পূর্তিতে তার মাথায় এভাবে অফিসে যাওয়ার এই ভাবনাটি তার মাথায় আসে। রোম ও ভিয়েনাতে যাওয়ার জন্যে এই ইসার নদীর একসময় ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। লোকজন নৌকায় করে চলাচল করতো। কিন্তু গত একশো বছরে এসব কিছু হারিয়ে গেছে। 

ডেভিড বলেন, "এখন আর কেউ ইসার নদীকে ব্যবহার করে না। তাই আমি নিজেই প্রতিদিন ঝাঁপিয়ে পড়ি। এবং পৌঁছে যাই অফিসে। আমি অবাক হবো না যদি আগামী বছরে দেখি আরো বহু মানুষ এই নদীতে সাঁতার কেটেই অফিসে যাচ্ছেন।"

bbc থেকে নেয়া!



জনপ্রিয়