যে ৮টি লক্ষণ বলে দিবে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা স্বার্থপর ! যে ৮টি লক্ষণ বলে দিবে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা স্বার্থপর !

যে ৮টি লক্ষণ বলে দিবে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা স্বার্থপর !

স্বার্থপরতা আমাদের সবার মাঝেই বিদ্যমান। যে কোন সম্পর্কে স্বার্থপর আচরণ আমাদের এক এক জনের এক এক ধরণের হয়ে থাকে, কিন্তু আত্মকেন্দ্রিক, অবিবেচক ও স্বার্থপর আচরণটাই যদি স্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা চিন্তার বিষয়।

প্রেমিক বা প্রেমিকা ছুটির দিনে কী করতে চায়, তা জিজ্ঞেস করা হয়? নাকি নিজে নিজেই প্ল্যান তৈরি করা হয় অনুমতি ছাড়াই? মাঝে ঝগড়া হলে কি আপনার কথা শোনেন, নাকি ধরেই নেয় আপনি ভুল আর সে ঠিক? তাহলে দেখে নিন ‘স্বার্থপর’ প্রেমিকা বা প্রেমিকা হওয়ার ৮টি লক্ষণ

 

কথা বলা, কিন্তু কথা অন্যের কথা না বুঝতে না চাওয়া

মন-মেজাজ খারাপ, সে আপনার কাছে এসে নিজের সব দুঃখের কথা বললেন,  আপনিও মন দিয়ে শুনলেন এবং তাকে সান্ত্বনা দিলেন কিন্তু যখন একইভাবে নিজের দুঃখের কথা বলতে যান, তখন সে কি করেন? বিরক্ত হয়ে যায়? চুপ করিয়ে দেয়? আপনাকে বলে এসব নিয়ে চিন্তা না করতে? আপনার সঙ্গীর এই আচরণ হয়ত আপনি মেনে নেন, তার মানে কি তিনি যে কাজটি করছেন তা সঠিক?  সম্পর্কে দুজনের মাঝেই ভারসাম্য বজায় থাকা উচিত, একে অপরের মাঝে নির্ভরতার একটি জায়গা থাকা উচিত। 

 

রেগে গেলে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া

কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে আপনি আলোচনা না করে বরং সঙ্গীর সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া কিন্তু কোনো সমাধান নয়! দুজন মানুষের মাঝে মতের পার্থক্য হবেই। এ বিষয়ে কথা বলে একটা সমাধানে আসতে হবে।   

 

নিজের কথাই সঠিক

যদি সব সময় মনে হয় আপনি যা বলছেন / বলেছে তাই সঠিক তাহলে ভুল !  আমরা পুরুষ বা নারী, আর দশজন মানুষের সাথে আমাদের খুব একটা পার্থক্য নেই। আমাদের সঙ্গী সব সময় সব কিছু বেশী নাও জানতে পারেন আবার জানতেও পারে। তিনি যে পেশার মানুষ, ধরুন, ডাক্তার হলে স্বাস্থ্যের বিষয়ে ভালো জানেন। ব্যাংকে চাকরি করলে আর্থিক বিষয়ে বেশি বোঝেন। তাই সব সময় কথা বলার বেলায় কারো কথা চাপিয়া না দেওয়াটাই ভালো । 

 

নিয়মিত প্রেমিক বা প্রেমিকাকে স্বার্থপর বলা

মাঝে মাঝে নিজের কোন দোষ থাকলে সেই দোষটা আমরা অন্যের ভেতরেও খুঁজি এবং তা খুঁজে পেলে তা নিয়ে দোষারোপ করতে থাকি। সঙ্গীর ছোটখাটো স্বার্থপর আচরণগুলোও দেখে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করুন, দোষারোপ সমস্যার সমাধান কখনো ডেকে আনে না, আপনার সঙ্গী যদি সব সময় আপনাকে দোষারোপ করে তাকে বিষটি বুঝিয়ে বলুন, সমাধানের চেষ্টা করুন।

 

প্রেমিক বা প্রেমিকাকে চোখে চোখে রাখা

প্রেম করছেন, তার মানে এই নয় যে দুজন শুধুই দুজনাকে সময় দেবেন। আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার নিজের একটা জীবন আছে, পরিবার আছে, আলাদা বন্ধুমহল আছে একই ভাবে আপনারও আছে। তাই সব সময় এক পক্ষের হয়ে সব কিছু আশা করা যায় না।  নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচুন এবং তাকেও বলুন জীবনের কিছু অংশ আলাদা করে বাঁচতে। 

 

পরিবার ও বন্ধুদের প্রচুর সমালোচনা করা

সঙ্গীর পরিবারের কোনো কোনো সদস্য ও দুয়েকজন বন্ধুর প্রতি অনীহা থাকতেই পারে কিন্তু এ কারণে পরিবার ও বন্ধুদেরকে এড়িয়ে চলা, তাদের নিয়ে আপত্তিকর আচরণ, কটু কথা বলা এমনকি তাদের থেকে দূরে থাকার জন্য প্রেমিক বা প্রেমিকাকে চাপ দেওয়া মোটেই ভালো নয়।  কে ভালো মানুষ আর কে খারাপ সে বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিন। আপনি কিংবা সে নিজ নিজ যায়গায় সন্মান প্রদর্শন করুন, ভালোলাগা না থাকতেই পারে, বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন যদি কোনটাতে আপনার আপত্তির কারণ থাকে, কিন্তু তাই বলে প্রচুর সমলোচনা না করাই ভাল। 

 

চাহিদা প্রাধান্য না দেওয়া

সুস্থ একটি সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের যত্ন নেন, তার শারীরিক-মানসিক চাহিদার খোঁজ রাখেন কিন্তু যদি শুধু নিজের ভালোর কথা ভাবে, সঙ্গীর প্রতি যত্নশীল না হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে স্বার্থপর। এই কাজগুলো মানুষ আসলে তখনই করে থাকে যখন প্রেমটি তার কাছে আসলে অতটা প্রাধান্য পায় না।  কারো সাথে প্রেম করতে হবে তাই প্রেম করা বিষয়টি এমন হয়ে গেলো না ? তাই মতামত, ইচ্ছা, সিদ্ধান্তগুলো একসাথে নিতে পারলেই ভালো না হলে বিয়ের পরে লম্বা জীবনে বিপদে পড়তে হবে। 

 

সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকি

দুজন মানুষে মিলে সম্পর্ক তৈরি হয়, কোনো বিষয়ে নিজের মনের মতো ফলাফল নাও পেতে পারে। হয়তো  তিনি চাইছেন ছুটিতে বাইরে বেড়াতে যাবেন , তখন আপনি চাইছেন পরিবারকে বা বন্ধুদের সময় দিতে। এমন সময়ে আপনি কী করেন? নিজের মনের মতো কাজটা করতে না পারলে কি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়াটা উচিত ? ভালো সম্পর্কের খাতিরে এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। 

আমাদের কথাগুলো ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আপনার প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, সম্পর্কগুলো বেঁচে থাকুক আজীবন, ভালো থাকুক মানুষগুলো। 



জনপ্রিয়