যে কাজগুলো আপনার শিশুকে বিছানা ভিজানো থেকে বিরত রাখবে। যে কাজগুলো আপনার শিশুকে বিছানা ভিজানো থেকে বিরত রাখবে।

যে কাজগুলো আপনার শিশুকে বিছানা ভিজানো থেকে বিরত রাখবে।

আপনার বাচ্চারা যদি রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে তাহলে এই কাজ গুলো করলে হয়তো আপনি উপকৃত হবেন।

আপনার সন্তানদের ছোটো থেকে শিখানোর পরও রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলা, ৪-৭ বছরের বাচ্চাদের জন্য একটি সাধারণ ঘটনা। এই বয়সের প্রায় ১৫% শিশু সপ্তাহে অন্তত দুইবার বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। সুতরাং এটি যদি এখনও আপনার সন্তানের সঙ্গে ঘটে তবে দয়া করে মনে রাখবেন যে এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এই পরামর্শ বা কাজগুলো বাচ্চাদের ভবিষ্যতে বিছানায় প্রস্রাব করা থেকে বিরত রাখতে পারে। কাজগুলো হলো-

বিছানায় যাওয়ার আগে পানির পরিমাণ কমিয়ে দিন

© depositphotos.com

© depositphotos.com

এটি গুরুত্বপূর্ণ, সন্ধ্যার পর থেকে বিছানায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত আপনার শিশুর তরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। তাদের সকালে এবং দুপুরে পর্যাপ্ত পানি পান করান তারপর দিনের শেষের দিকে তরল পানের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিন। আর শিশুরা প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের প্রতিরাতের রুটিনের অংশে পরিণত করুন। 

মূত্রাশয়কে বিরক্ত করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন

© depositphotos.com   © depositphotos.com   © depositphotos.com

© depositphotos.com © depositphotos.com © depositphotos.com

এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো  আপনার শিশুর মূতাশয়কে বিরক্ত করে যার কারণে রাতে ঘুমের মধ্যে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে,কারণ শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কম হয়। অম্ল জাতীয় খাবার থেকে বিরত রাখুন যেমন লেবু ,কমলা, আনারস, আপেল এর জুস।
রাতে ডেইরি পণ্য এড়িয়ে চলুন যেমন- দুধ, দই যেগুলো আপনার শিশুকে আরো ঘুমকাতর করে এবং যখন মূত্রস্থলী পরিপূর্ণ হয়ে যায় তখন জেগে উঠা থেকে আটকায়। এছাড়াও  হট চকোলেট ,চা, কোক অথবা যে কোনো কার্বনেটেড পানীয় যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি অথবা ক্যাফেইন থাকে। 

মাঝ রাতে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করা

internet

internet

শিশুরা সাধারণত গভীর ঘুমে থাকে, তাই মাঝে মাঝে তাদের ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুদিন যদি তাদের মাঝরাতে জাগিয়ে প্রশ্রাব করানোর অভ্যাস করানো হয় তাহলে কিছুদিন পর তারা আরো সতর্ক হয়ে যাবে এবং নিজ থেকেই মাঝ রাতে বাথ্রুম ব্যবহার করতে পারবে। 

ম্যাগনেসিয়াম এর পরিমাণ বাড়ান

internet

internet

ন্যাশনাল ক্লিনিক সেন্টার এর গবেষণায় দেখা গেছে , তাদের খাবারে ম্যাগনেসিয়াম এর অভাবের কারণে শিশুরা বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। ম্যগনেসিয়ামের অভাব স্নায়ুতন্ত্রকে কম প্রতিক্রিয়াশীল করে, ফলে শিশুটি বুঝে না কখন তাকে টয়লেটে যেতে হবে। 
আপনার শিশুর খাদ্যতালিকায় সেসব খাবার যুক্ত করুন যেগুলো ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর যেমন- কলা,ডাল,শিম,মটরশুটি,বাদাম ।

প্রতিদিনের কাজে নজর রাখুন

 © depositphotos.com
আপনার শিশুর প্রতিদিনের কার্যকলাপের উপর নজর রাখুন। এটি আপনাকে আপনার সন্তানের অভ্যাস, ক্রিয়া, খাদ্য ও তরল গ্রহণ এবং আবেগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিরীক্ষণ করতে সহায়তা করবে। এটি আপনাকে শিশুর বিছানা ভিজানোর কারণও বুঝতে সাহায্য করবে। 

© depositphotos.com

আপনার শিশুর সাথে কথা বলুন 

© depositphotos.com
আপনার সাথে কথা বলুন ,তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। যদি তারা তাদের জীবনের কোনো পরিবর্তন এর মধ্য দিয়ে যায়,যেমন স্কুল বা অন্য কোনও মানসিক অবস্থা যা যে তাদের জন্য কিছু চাপ বা উদ্বেগের করণ হতে পারে, যার কারণে হয়তো তারা বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। পাশাপাশি তাদের সমর্থন করুন এবং যাতে বিব্রত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। 

© depositphotos.com

তাদের উপহার দিন

© depositphotos.com

© depositphotos.com

 আপনার শিশুদের মধ্যে ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের ক্রিয়াকলাপগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারার জন্য পুরস্কৃত করুন। তাদের যদি বিছানা না ভেজানোর করণে পুরষ্কৃত করেন তাহলে তাদের মাঝে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের পুরষ্কৃত করুন বিছানা ভেজানোর  সাথে সম্পর্কিত কাজ গুলো পরিহার করতে। যেমন- সকালে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সন্ধ্যার পর থেকে কম তরল জাতীয় খাবার খাওয়া, ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া,বিছানায় যাওয়ার আগে টয়লেটে যাওয়া। 

তাদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করুন

© depositphotos.com

© depositphotos.com

আপনার শিশুদের দায়িত্ব এবং কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়ার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । যদি তারা রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলে তাহলে তাদের দোষী এবং লজ্জিত বোধ করতে না দিয়ে তাদের বিছানার চাদর বদলাতে বা পরিষ্কার করতে আপনাকে সাহায্য করতে বলুন। এটি আপনার কাছে তাদের আরো সুবিবেচক করে তুলবে। 
 
যখন ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন

© shutterstock.com

© shutterstock.com

শুরুতেই বলেছি যে এটি খুবই সাধারণ ঘটনা কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে যেমন- যদি আপনার বাচ্চা ৫ বছর বয়সের পর দিন এবং রাত দুই সময়ই বিছানা ভিজিয়ে ফেলে, ৭ বছর বয়সের পরও যদি তারা ক্রমাগত বিছানা ভিজিয়ে ফেলে, আপনার ছেলের বয়স ৫ বছরের বেশি এবং যদি তারা  হঠাৎ করে বিছানা ভিজানো শুরু করে। 
 



জনপ্রিয়