বিবাহ সম্পর্কিত এই ইস্যুগুলো বুদ্ধিমান দম্পতিরা সহজেই জয় করে নিতে বা বশে আনতে পারেন বিবাহ সম্পর্কিত এই ইস্যুগুলো বুদ্ধিমান দম্পতিরা সহজেই জয় করে নিতে বা বশে আনতে পারেন

বিবাহ সম্পর্কিত এই ইস্যুগুলো বুদ্ধিমান দম্পতিরা সহজেই জয় করে নিতে বা বশে আনতে পারেন

সব দম্পতির জীবনে সংকটকাল থাকেই। কিছু দম্পতিরা বিয়ের কয়েক বছর পরেই বিবাহবিচ্ছেদ করে, অনেকেই আবার অনেক বছর ধরে একসাথে তাদের জীবন সুখে শান্তিতে কাটিয়ে দেয়। এটা ভাগ্যের জোরের বিষয় না- সেখানে একটি সহজ ধারণা রয়েছে যা সব সুখী দম্পতিরা বুঝতে পারে। তারা যেকোন সমস্যা একসাথে মোকাবেলা করতে পারে। 

আজকে আমরা দাম্পত্য জীবনের কিছু সমস্যা এবং সেটা জয় করার কিছু কৌশল আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। 

 

১. অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায়

© Depositphotos

© Depositphotos

অধিকাংশ নবদম্পতিদের বিয়ের পর উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন বেড়ে যায়। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি গবেষণা পরিচালিত করেন, সেই গবেষণায় দেখা যায় যে নতুন বিয়ে করা দম্পতিরা তাদের বিয়ের প্রথম বছরে প্রায় ৩-৫ পাউন্ড ওজন বৃদ্ধি পায়। সাধারণত, অবিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় বিবাহিত ব্যক্তিদের ওজন ১৩ পাউন্ড বেশী থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য অবস্থার সাথে ওজন বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। কারণ সঙ্গীরা একে অপরের সাথে আবদ্ধ এবং রিলাক্স মুডে থাকে।

 

২. শিশুর জন্মে আর্থিক সমস্যা বাড়ে

© Depositphotos

© Depositphotos

একটি তরুণ পরিবারে সন্তান নিলে আর্থিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। নরডওয়ালেট পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে যে, অভিভাবকেরা প্রায়শই বাচ্চা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না এবং এটা তাদের আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করে না। মধ্যবিত্ত পরিবার এবং নিম্ন আয়ের পরিবার অর্থের অভাবের সম্মুখীন হয়।

এজন্য প্রথম সন্তান নেওয়ার আগে টাকা জমাতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে।

 

৩. শাশুড়ীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব

© Depositphotos

© Depositphotos

‘বউ-শাশুড়ি’ বা ‘জামাই-শাশুড়ি’র সম্পর্ক প্রায়শই তিক্ত এবং অনেকসময় হাস্যকর থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে, এই ধরনের সম্পর্ক কিছুটা নাটকীয় হতে পারে এবং এটা দু’পক্ষের স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষকরে বউ-শাশুড়ির মধ্যকার সম্পর্কে টেনশন আরো জোরালো।

১৯৫৪ সালের গবেষণায় দেখা যায় যে, দুই-তৃতীয়াংশ শাশুড়িরা তাদের ছেলেদের বউয়ের উপর সন্তুষ্ট থাকে না, অন্যদিকে বউয়েরা তাদের স্বামীদের কাছে শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। জাপানিজ বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন, যে নারীরা তাদের শাশুড়িদের সাথে একসঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করে তারা হার্টের রোগে বেশী ভুগে।

 

৪. ভিন্নভাবে অর্থ ব্যয় করা

© Depositphotos

© Depositphotos

গবেষণা অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ এবং তালাকের অন্যতম কারণ হল, অর্থ বা টাকা পয়সা। বিয়ের পর আপনার ব্যক্তিগত অর্থ এক হয়ে যায় এবং এটি অনেকের জন্য চাপ হয়ে যায়- বিশেষ করে যদি একজন আরেকজনের থেকে বেশী উপার্জন করে তাহলে। দুর্ভাগ্যবশত, দম্পতিরা কাল্পনিক উদারতার কারণে আর্থিক ব্যাপারে কথা বলা এড়িয়ে চলে।

আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কোন লজ্জা ছাড়াই খোলাখুলিভাবে আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুপারিশ করে।

 

৫. সঙ্গীর অভ্যাসে বিরক্ত হওয়া

© Depositphotos

© Depositphotos

কয়েকমাস একসাথে থাকার পর, আপনি আপনার সঙ্গীর কিছু অভ্যাসে বিরক্ত হয়ে যেতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটা অনেক দম্পতিদের মধ্যে হয়ে থাকে এবং তার মানে এই নয় যে তাদের মধ্যকার ভালবাসা শেষ হয়ে গেছে।

আপনার সঙ্গীকে মেনে নিন। নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দেন যে, আপনার সঙ্গীর এই অভ্যাস তাকে অন্যদের থেকে অনন্য করে তুলেছে।

 

৬. গুরুত্বপূর্ণ দিনের কথা ভুলে যাওয়া

© Depositphotos

© Depositphotos

সঙ্গীর ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আপনাকে দুঃখী করতে পারে, কারণ মাঝেমধ্যে এটি ব্যক্তিগতভাবে অপমানিত হওয়া হিসেবে অনুভূত হয়। আপনার প্রিয় ব্যক্তি আপনাদের বিয়ের তারিখ বা আপনার জন্মদিন কিভাবে ভুলে যেতে পারে? এমনকি পারফেক্ট দম্পতিরাও অতিরক্ত কাজের চাপে বা সহজাত অন্যমনস্কতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ দিনের কথা ভুলে যেতে পারে।

আপনার সঙ্গীকে বিশেষ দিনের কথা মনে করিয়ে দিবেন, এটা হতাশা এড়িয়ে যেতে আপনাকে সহায়তা করবে এবং আপনার সঙ্গীকে তার ভুলোমনের জন্য লজ্জিত হতে হবে না।

 

৭. আপনি বিরক্ত

© Depositphotos

© Depositphotos

বিয়ের প্রথম বছর সবসময় একটি ম্যাজিক্যাল হানিমুনের মতো হয় না। খুব শীঘ্রই বা পরে, তাদের প্রত্যাশা, ফুলশয্যা, রোমান্টিক সন্ধ্যা এবং ফ্লার্টি কথোপকথন কমতে থাকে এবং একে অপরের সঙ্গ একঘেয়েমি রুটিনে পরিণত হতে থাকে। তারপরও, অধিকাংশ দম্পতিরা তাদের সম্পর্কে এই ধরনের পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়ে মোকাবেলা করতে পারে।

 

৮. আপনারা প্রতি সপ্তাহে ২৪ ঘন্টাই একসাথে থাকেন এবং এটি বিরক্তিকর

© Depositphotos

© Depositphotos

একটি ধারণা রয়েছে যে, স্বামী বা স্ত্রীকে তাদের ফ্রি সময় একসঙ্গে কাটানো উচিৎ। কারণ এটি তাদের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করে। যাইহোক, কিছু দম্পতি কয়েক বছর ধরে এই ধরনের জীবনযাপন করার পর বিরক্ত হয়ে যায়।

এজন্য উভয় সঙ্গীরই তাদের নিজস্ব ইচ্ছা আকাংক্ষা থাকা উচিৎ এবং ব্যক্তিগত স্পেসের জন্য সময় সুযোগ দেওয়া উচিৎ। আলাদাভাবে আপনার সাপ্তাহিক ছুটি কাটানোতে কোন খারাপ কিছু নেই।

 

৯. খারাপ বন্ধু

© Depositphotos

© Depositphotos

নবদম্পতিরা শুধুমাত্র নতুন আত্মীয় পায় না, বরং সেইসাথে তারা নতুন বন্ধু পেয়ে থাকে। প্রায়শই, সঙ্গীর বন্ধুকে নতুন পরিবারে স্বাগত জানানো হয় না। নতুন বিয়েতে, এটা মনে হতে পারে যে বন্ধুরা পারিবারিক জীবনে বেশী স্থান দখল করে এবং তার সঙ্গীকে খারাপ পথে পরিচালিত করতে পারে।

 

১০. ঘুমের নিয়ম আলাদা

© Depositphotos

© Depositphotos

 

১১. গৃহস্থালির কাজ অসামনভাবে বণ্টিত

© Depositphotos

© Depositphotos

একবিংশ শতাব্দীতে বাস করা সত্ত্বেও এখনো অনেক পরিবারেই লিঙ্গবৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। পুরুষেরা বাইরে কাজ করে উপার্জন করে এবং নারীরা ঘরের কাজ সামলায়। এই ধরনের অবস্থা অপমান এবং দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে।

 

১২. খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া

© Depositphotos

© Depositphotos

মনোবিজ্ঞানীরা দাবী করেন যে, প্রত্যেকের বিবাহিত জীবনে সঙ্কটকাল থাকেই- এটা সাধারণত হয়ে থাকে যখন সঙ্গীর প্রতি অসন্তুষ্টের মাত্রা চরম পর্যায়ে উঠে। যাইহোক, এই সঙ্কটকালের একটা সুবিধা রয়েছে, তা হল এটা সম্পর্ককে নতুনভাবে পরিচালিত হতে সুযোগ দান করে এবং তা একটি নতুন স্তরে নিয়ে যায়।

আপনার সঙ্গীকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না, এই ধরনের প্রচেষ্টা তার ক্রোধের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করতে পারে। তাই বদল করার পরিবর্তে তার মতামতটা শুনুন এবং বুঝতে চেষ্টা করুন।

 

১৩. সে অন্য মেয়েদের দিকে তাকায়

© Depositphotos

© Depositphotos

আপনার সঙ্গী অন্য কারো দিকে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে? এটা কি স্ক্যান্ডালের একটি লক্ষণ হতে পারে? এই প্রশ্নের কোন একক উত্তর নেই। অনেকেই মনে করেন, এটা সম্পর্কে ফাটল ধরার একটি উলক্ষণ হতে পারে।  

 

আপনি কি বিবাহিত? আপনার দম্পত্য জীবনে কি এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে? সেটা কিভাবে আপনি মোকাবেলা করেন? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করে জানান। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 



জনপ্রিয়