যে অভ্যাসগুলো আমরা ভুলবশত ভাল মনে করি!   যে অভ্যাসগুলো আমরা ভুলবশত ভাল মনে করি!

যে অভ্যাসগুলো আমরা ভুলবশত ভাল মনে করি!

সবাই জানে যে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া এবং অতিরিক্ত খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু মাঝেমধ্যে ক্ষতি করে না এমন অভ্যাসও আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে তা কি সবাই জানে? 

আজকে আমরা এমনি কিছু অভ্যাসের তালিকা সংগ্রহ করেছি, যেগুলো ক্ষতিকর মনে না হলেও আসলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। 

 

১. হাঁচি দমিয়ে রাখা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

সমস্যাঃ শ্বাসযন্ত্র, রক্তশিরা এবং ব্রেইনে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয় খাদ্যনালীতে। 

হাঁচির প্রধান কাজ হল ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ধুলিকণা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হাঁচি দেওয়া। আপনি যখন এটি আটকে রাখবেন, তখন আপনি শরীরের এই জিনিসগুলো বের করতে পারছেন না। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। নল বন্ধ করে রাখলে কি ঘটতে পারে তা কল্পনা করে দেখুন। একইভাবে আপনার নাকের ভিতরেও ঘটে- হাঁচির পুরো শক্তি পুনরায় প্রবেশ করে আপনার শ্রবণশক্তিকে আঘাত করতে পারে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে এবং এমনকি খাদ্যনালীর ক্ষতি করে।   

 

২. টুথপিক ব্যবহার

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ ব্রেইনে। 

ডেন্টিস্টরা টুথপিক পছন্দ করেন না। এটা এনামেলের জন্য বেশী ক্ষতিকর নয় ঠিকই, কিন্তু মাড়ির জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও টুথপিক দিয়ে আপনার মুখ পরিষ্কার করা প্রায় অসম্ভব।  আপনার মুখ পরিষ্কার রাখতে, দাঁতের ফ্লস ব্যবহার করুন (তবে আপনাকে প্রথমে এটি কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শিখতে হবে)।

 

৩. বালিশের উপর মুখ নিচু করে ঘুমানো

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ আপনার শ্বাস, রক্ত সঞ্চালন, মেরুদণ্ড কর্ড এবং মুখের ত্বক ক্ষতি করে।

বালিশের উপর মুখ নিচু করে ঘুমানো আরাম ঠিকই, কিন্তু এটা বেশ ক্ষতিকর। এই অবস্থানে শ্বাস নেওয়া কঠিন, ঘাড় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকে, রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে এবং ঘাড়ের কশেরুকার ক্ষতি হয়। এছাড়া, চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই অবস্থানে ঘুমানোর পরে আপনার বলিরেখা শীঘ্রই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে, যা পরে আর কখনো দূর হবে না। 

 

৪. দাঁত দিয়ে খোসা ছাড়ানো

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ দাঁত এবং পিত্তকোষে।

সূর্যমুখী বীজ সুস্বাদু এবং দরকারী। কিন্তুএই বীজের খোসা দাঁত দিয়ে না ছুলে হাত দিয়ে ছাড়ানোই ভালো। কারণ দাঁত দিয়ে শক্ত কিছু কামড় দিলে দাঁতের ক্ষতি হয়। আর যাদের গলব্লাডারের সমস্যা আছে তাদের এগুল খাওয়া উচিৎ না।

 

৫. শক্ত কিছু চিবানো

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ দাঁত, মস্তিষ্ক এবং মুখ। 

কলম, পেন্সিল, পেপার ক্লিপ এবং অন্যান্য কঠিন জিনিস চিবানোতে এনামেলের ক্ষতি করে। এছাড়াও বোতল, চকোলেট, বরফ এবং ললিপপ দাঁত দিয়ে খোলার চেষ্টা করা উচিৎ না। আপনি যদি তা করেন তাহলে আপনার ইনফেকশন হতে পারে। 

 

৬. প্রকৃতির ডাক চেপে রাখা বা বাথরুমে দেরীতে যাওয়া

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ কিডনি, প্রস্রাব সিস্টেম এবং অন্ত্র।

২০১৮ সালের জুন মাসে, গ্রেট ব্রিটেনের একজন তরুণ খেলোয়াড়কে বিরতি ছাড়া টানা ৮ ঘন্টা সময় কাটানোর পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অন্ত্র এবং মূত্রাশয় এত ফুলে গিয়েছিল যে, ডাক্তারেরা মনে করেছিলেন তার ক্যান্সার টিউমার ছিল। সব ডাক্তারেরা একমত: আপনি যদি চেপে রাখতে পারেন, তারপরেও এটা চেপে রাখা উচিৎ নয়। কারণ এতে আপনার পেশীতে আঘাত লাগতে পারে যা মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণ হতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। 

 

৭. গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ ব্রেইনের শিরা এবং স্কাল্প।

আপনি যদি খুব গরম পানি দিয়ে স্নান করতে পছন্দ করেন, তাহলে আপনাকে তা বন্ধ করতে হবে। কারণ এতে আপনার মাথা ব্যথা হতে পারে এবং মাথা ঘুরতে পারে। গরম পানি স্কাল্পের উপরে থাকা চর্বির মাংসপিন্ডকে উদ্দীপিত করতে পারে, যা চুলকে ময়লা করে তোলে।  

 

৮. মুখ স্পর্শ করা এবং চোখ ঘষা দেওয়া

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ ত্বক এবং চোখে। 

আপনি যদি প্রায়শই আপনার হাত দিয়ে আপনার মুখ স্পর্শ করেন, তাহলে আপনার ব্রণ, চুলকানি এবং আরো সংক্রমণ হতে পারে। আপনি যদি চোখ ঘষেণ, তাহলে চোখে প্রদাহ হতে পারে যা সত্যিই অপ্রীতিকর রোগের সৃষ্টি করে। যেমন- চোখ জ্বলা, পানি পড়া এবং হালকা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। 

 

৯. প্রায়শই চুইং গাম চিবানো

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ পেট, দাঁত এবং স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি। 

প্রায়শই চুইংগাম চিবালে বিভিন্ন পরিণতি দেখা দিতে পারে। এটি গ্যাস্ট্রিকের রস উৎপাদন তৈরি করে। তাই খাওয়ার আগে চুইংগাম খেতে নেই। এই গ্যাস্ট্রিক থেকে আলসারও হতে পারে। 

চুইংগাম আপনার দাঁতের ক্ষতি করে। এছাড়াও এটি স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। এটি স্মৃতিচিহ্ন উন্নত করে এবং এটি দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলোতে মনোযোগী হতে সহায়তা করে। কিন্তু এটি আপনাকে কম ফোকাস করে, স্বল্পমেয়াদী মেমরির ক্ষতি করে।

 

১০. বিছানায় শুয়ে পড়া

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ চোখ, মেরুদণ্ড এবং ঘাড়ের ত্বক।

বিছানায় থেকে পড়তে চাইলে কিছু নিয়ম অনুসরণ করা দরকার। যেমনঃ-

আপনার চোখ বইয়ের খব কাছে রাখবেন না। আপনার পিঠ বাঁকা করবেন না এবং আপনার ঘাড়ে চাপ দিবেন না। 

পাশ ফিরে শুয়ে বই পড়বেন না- বইয়ের উপর আপনার দৃষ্টির দূরত্ব পরিবর্তন করুন। এছাড়াও আপনার পেটের উপর ভর দিয়ে শুয়ে পড়বেন না। এতে আপনার মেরুদণ্ডের কর্ডের ক্ষতি হতে পারে। 
 

১১. ছোট কাটাছেঁড়া চাটা এবং সেটার উপর ফুঁ দেওয়া

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ নিরাময় প্রক্রিয়া।

অনেকেই একটু কেটে গেলে, সেই কেটে যাওয়া অংশটি চুষে নেয় এবং ফুঁ দেয়। কিন্তু হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সেটা করতে নিষেধ করেছেন। কারণ মানুষের মুখের মধ্যে ৬০০ টিরও বেশী অণুজীব বসবাস করে। এই অণুজীব সব প্রাণীর মধ্যে স্ট্যাফিলোকোকি এবং স্ট্রেপ্টোকোকি সবসময় থাকে। সেগুলোর বসবাসের জন্য একটি নিখুঁত জায়গা হল ক্ষত স্থান। আপনি ক্ষত স্থানে বিশেষ ঔষধ প্রয়োগ করুন, অন্যথায় এটা নিরাময় হওয়ার জন্য অনেক সময় লাগবে। 

 

১২. ফিসফিস করে কথা বলা

© Depositphotos

© Depositphotos

বিজ্ঞানী এবং প্রাক্তন কণ্ঠশিল্পী রবার্ট স্যাটলফ দ্বারা পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে বেশিরভাগ মানুষ ফিসফিস করে কথা বলার সময় তাদের কণ্ঠনালীর কর্ডে চাপ পড়ে। এটি স্বরযন্ত্রে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। 

 

১৩. বাথরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা

© Depositphotos

© Depositphotos

সমস্যাঃ মলদ্বার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যবিধি।

এটা শুধুমাত্র ফোনের ক্ষেত্রে নয়, বরং পত্রিকা এবং বই পড়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ ৫ মিনিটের বেশী সময় ধরে টয়লেটের উপর বসে থাকলে আপনার শিরাগুলোর উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষকরে মোবাইল ফোন টয়লেটে নিয়ে যাওয়া আরো খারাপ। এটি ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দিতে পারে। 

 

বোনাসঃ নাকে কটনবাড ব্যবহার করুন। 

© Depositphotos

© Depositphotos

যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ নাকের মধ্যে কোন জিনিস ঢুকাতে সুপারিশ করেন না, তবে কিছু ক্ষেত্রে আঙ্গুল ঢুকানোর চেয়ে একটি কটনবাড ব্যবহার করা অনেক ভালো। 

 

 



জনপ্রিয়