যে স্বার্থপর আচরণের জন্য লজ্জিত হতে নেই  যে স্বার্থপর আচরণের জন্য লজ্জিত হতে নেই

যে স্বার্থপর আচরণের জন্য লজ্জিত হতে নেই

যদিও ‘স্বার্থপর’ কথাটা আপত্তিকর শব্দ মনে হতে পারে, তার মানে সবসময় এই নয় যে একজন ব্যক্তি ভুল কিছু করছে। এটা এমনও হতে পারে যে তারা একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া বন্ধ করতে চাচ্ছে এবং নিজেদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোটা শিখছে। অধিকাংশ মানুষ এই গুণ দেখে জ্বলে। 

আজকে আমরা তথাকথিত স্বার্থপর আচরণের একটি তালিকা সংগ্রহ করেছি, যা প্রকৃতপক্ষে একজন ব্যক্তিকে মানসিকভাবে পরিপক্ক হিসেবে নির্দেশ করে। 

 

১. ক্ষতিপূরণ দাবি

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

একটি খারাপ হেয়ারস্টাইল, নোনতা সাবান বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্যদ্রব্য অভিযোগের জন্য ভালো। বিশেষজ্ঞরা সার্ভিসের প্রতি আপনার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে এবং এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সমাধান করে দেয়ার জন্য দাবি জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন। এটা যদি অসম্ভব হয়, তাহলে আপনি ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য।

বিভিন্ন রকমের ক্ষতিপূরণ রয়েছেঃ

বিনামূল্যে সেবা প্রদান করতে হবে, ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ফেরত নিতে হবে, ডিসকাউন্ট বা একটি গিফট কার্ড পাওয়া বা কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়া। একজন ম্যানেজার বা মালিক সহজেই এই সমস্যা সমাধান করতে পারে।

 

২. কোন কিছু না করা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

উৎপাদনশীলতার অভাবে বা নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যখন একজন ব্যক্তি নিজেকে দোষী মনে করে, তাহলে এটি দৃঢ় দায়িত্বজ্ঞানের সাথে কম আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তির একটি লক্ষণ। আমরা কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য কয়েক ডজন আর্টিকেল পড়ি ঠিকই, কিন্তু আমরা প্রায়শই ভুলে যাই যে মাঝেমধ্যে আমাদেরকে থামতে হয়, বিশ্রাম নিতে হয় এবং নিজের জন্য কিছু সময় ব্যয় করতে হয়।  

 

৩. পরচর্চা উপেক্ষা করা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

কর্মক্ষেত্রে বা বান্ধবীদের সাথে পরচর্চা করা একটি বাজে অভ্যাস এবং এই পরচর্চায় যোগ না দিলে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে। আপনার মনের শান্তির জন্য, কঠোর কথা মনে হলেও আপনার মতামত অকপটে জানাতে পারেন।

 

৪. ব্যক্তিগত এবং পেশাদারী জীবন আলাদা করা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

যদিও আপনার ক্লায়েন্ট বা সহকর্মীদেরকে সন্ধ্যা ৬টা বা ৭টার পর ডিস্টার্ব না করার জন্য অনুরোধ করাটা স্বাভাবিক, কিন্তু এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, আপনার ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবন আলাদা করার ক্ষমতা স্বার্থপর আচরণ নয়, এটি পেশাদার জীবনের জ্বালা প্রতিরোধের একটি কার্যকর পদ্ধতি।

 

৫. নিজের জায়গা করে নেওয়া

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আপনি যখন একটি প্লেনে বা ট্রেনে থাকবেন, সেখানে এমন সব লোক আছেন যারা বিভিন্ন কারণে আসন পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু আপনি যদি না চান তবে তা আপনাকে করতে হবে না!  এছাড়াও আপনাকে আপনার আচরণের জন্য অজুহাত দেখাতে হবে না।

 

৬. উন্নতির জন্য আবেদন করা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

ছদ্মবেশী লক্ষণ আপনাকে সন্দেহ করতে পারে, আপনি যদি আপনার বর্তমান পদের জন্য সন্তুষ্ট থাকেন এবং একটি পদোন্নতি প্রত্যাখ্যান করেন। যাইহোক, যদি আপনি আরো কঠিন কাজ করতে সক্ষম হন এবং আপনার সহকর্মীদের সাথে দৃঢ় সংযোগ আছে বলে আপনি মনে করেন, তবে আপনাকে সর্বদা আপনার বসকে পদোন্নতির জন্য অনুরোধ করতে পারেন। 

 

৭. প্রত্যেকের ভার কাঁধে না নেওয়া

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আপনার বন্ধু বা বান্ধবী যদি প্রত্যেক দিন ফন করে তাদের জীবনের খারাপ দিকগুলো নিয়ে অভিযোগ করে এবং এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে আপনাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করার সময় হয়েছে। বন্ধুত্বে আনন্দ এবং অনুপ্রেরণা আনতে হবে এবং এটি উভয় উপায়ে কাজ করা উচিৎ। আপনার বন্ধুদের সাহায্য এবং সমর্থন করাটা অপরিহার্য, তবে আপনাকে এই বিষয়গুলো এখনি করতে হবেঃ

একজন ব্যক্তিকে ভিক্টিম হিসেবে মনে করাটা বন্ধ করতে সাহায্য করা। ভাল পরামর্শ দিন বা আপনার উদ্বেগ প্রকাশ করুন। আপনার পরিবার এবং মানসিক আরাম সম্পর্কে ভুলে যাবেন না।

একটা কথা বলার পর নিজের অনুভূতির দিকে আরো বেশী মনোযোগ দিন- আপনি মানসিকভাবে সন্তুষ্ট বোধ করেন, নাকি আপনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে হয়?

 

৮. নিজের জন্য কিছু করা

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

অন্যদের জন্য নিজের জীবন পরিচালিত করাটা মহৎ মনে হতে পারে, কিন্তু এটির পরিণতি বিধ্বংসী হতে পারে। মানসিক পরিপক্বতা মানে হল, একজন ব্যক্তি তার প্রকৃত ইচ্ছা এবং আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের আকাঙ্ক্ষাকে আলাদা করতে পারেন এবং তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারেন।   

এছাড়া, মনোবিজ্ঞানীরা দাবি করেন যে, পর্যাপ্ত আত্মসম্মানবোধ এবং নিজের জন্য কিছু করার যোগ্যতা শুধুমাত্র একটি সুখী পরিবার গঠন করতে পারে এবং একজন ভালো অভিভাবক হয়ে উঠতে পারে। 

 

৯. জনমতের জন্য ভয় না পাওয়া

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

আবেগ এবং মতামত অবাধে প্রকাশ করার ক্ষমতা একজন দৃঢ় ব্যক্তিত্বের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দৃঢ় ব্যক্তিরা কোনও সভা বা কোনও ব্যক্তির সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে কোনও কথা বলার জন্য লজ্জা বোধ করেন না।

 

কোন ‘স্বার্থপর’ আচরণটাকে আপনার স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে? কমেন্টে আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করে জানান। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়