ডায়েটে কাজ না হলেও ওজন কমানোর কিছু কার্যকরি টিপস  ডায়েটে কাজ না হলেও ওজন কমানোর কিছু কার্যকরি টিপস

ডায়েটে কাজ না হলেও ওজন কমানোর কিছু কার্যকরি টিপস

বৃহত্তর মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুসারে, ৫ জন ব্যক্তির মধ্যে শুধুমাত্র ১ জন ব্যক্তি তাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন ১০% কমাতে পারে। ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার চেয়ে ওজন কমানোর কাজ অনেক কঠিনই বটে। তবে ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব, এজন্য আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে।

কারণ অনেকেই ডায়েট করার পরও কোন অগ্রগতি দেখতে না পেলে, হতাশ হয়ে ডায়েট বন্ধ করে দেয়।

আজকে আমরা ওজন কমানোর সময় নিশ্চলতার সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য কিছু কার্যকরি টিপস আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

 

১. ওজন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন 

© Unsplash   © Unsplash

© Unsplash © Unsplash

ওজন কমানোর জন্য কার্ডিও ব্যায়াম থেকে ওজন প্রশিক্ষণ কম কার্যকর, কিন্তু আপনি যখন একটি দীর্ঘ মেয়াদী ডায়েটে থাকবেন তখন এটি বিপাকক্রিয়ার স্তর বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওজন প্রশিক্ষণ বিপাককে আরো দ্রুত করে তোলে।

একটি ব্যায়ামের পর কিছু প্রোটিন খেতে ভুলে যাবেন নাঃ এতে আপনার পেশী শক্তিশালী হবে এবং কোন চর্বি থাকবে না।

 

২.  সপ্তাহের মধ্যে ক্যালোরি মান পরিবর্তন করুন।

© Instagram / milla.food   © Instagram / Фото профиля dmitrii.savraskin dmitrii.savraskin

© Instagram / milla.food © Instagram / Фото профиля dmitrii.savraskin dmitrii.savraskin

আমরা যখন ডায়েটে থাকি তখন আমাদের শরীর কম পরিমাণ খাবার পেয়ে থাকে, যার কারণে শারীরিক শক্তি কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, আমাদের শরীর নতুন জীবনের অবস্থাকে গ্রহণ করে, শরীরে কোন খাবার না থাকা সত্ত্বেও শরীরে অতিরিক্ত ওজন থেকে যায়? আপনি যখন কম ক্যালোরির খাবার খাওয়া শুরু করবেন তখন আপনার শরীর বুঝতে পারবে যে আপনি ঠিক কাজটাই করছেন। 

সেক্ষেত্রে আপনি ক্যালোরি চক্র কাজে লাগাতে পারেন। সপ্তাহে ২ দিন আপনি প্রায় ১,০০০ বা ১,২০০ কিলোক্যালোরি খেতে পারেন এবং বাকী দিনে ১,৫০০ কিলোগ্রাম। এই কৌশলটি বিপাকক্রিয়াকে মন্থর করবে না এবং প্রয়োজনীয় ক্যালোরির ঘাটতি হবে না।  

 

৩. একটি বাস্তব বিরতি এবং কাল্পনিক মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করুন। 

© Depositphotos

© Depositphotos

ডায়েটের প্রথম দিনে, আমাদের শরীর থেকে অনেক তরল বের হয়ে যায়। ১ পাউন্ড ওজন কমানোর জন্য আপনাকে ৩,৫০০ ক্যালোরি ঘাটতি পূরণ করতে হবে। আপনি কতটা অর্জন করেছেন সেটা কোন ব্যাপার না, কিন্তু অগ্রগতি দ্রুত হবে না।

অনেকেই মনে করেন যে, ধীরে ধীরে ওজন কমানো একটা নিশ্চলতা, তাই তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং ডায়েট করা ছেড়ে দেয়। ডায়েট করার সময় আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে এবং সপ্তাহে এক দিনের বেশি ওজন মেশিনে দাঁড়াবেন না।

 

৪. প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং শাকসবজি খান। 

© Instagram / the_local_chefs   © Instagram / nadinas_80

© Instagram / the_local_chefs © Instagram / nadinas_80

কম কার্বোহাইড্রেট ডায়েট ওজন কমানোর জন্য সেরা কৌশল বলে মনে করা হয়। প্রোটিন এবং ফাইবার আমাদের পরিপূর্ণ করে এবং বিপাক বৃদ্ধি করে। কার্বোহাইড্রেট আমাদের ক্ষুধার্ত করে ইনসুলিন স্তর বৃদ্ধি করে। সুতরাং আপনি যদি ওজন কমানোর চেষ্টা করেন তবে মিষ্টি ফলের চেয়ে কম চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া ভাল।  

 

৫. আপনার ব্যায়াম পরিবর্তন করুন।

© Unsplash   © Pixabay

© Unsplash © Pixabay

হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমাদের দেহ একটি সহজ জিনিস শিখে গেছেঃ যেকোন উপায়ে সম্পদ রক্ষা করা উচিৎ। কিছু সময়ের মধ্যে মানব শরীর আপনার ব্যায়ামের সাথে খাপ খাইয়ে যাবে। কাজেই, একই ধরনের ব্যায়াম কয়েক সপ্তাহ ধরে করলে আপনার অগ্রগতি অবশ্যই হ্রাস পাবে। 

এটার একটি সমাধান আছেঃ প্রতি ১ থেকে ১.৫ মাসে একবার আপনার ব্যায়ামের প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা উচিৎ। যেমন- যোগব্যায়াম পরিবর্তন করা, নতুন ব্যায়াম যোগ করা, নতুন পেশীগুলো ট্রেইন করা এবং ওজন তোলার সরঞ্জাম পরিবর্তন করা।  

 

৬. অল্প পরিমাণে সুস্বাদু খাবার খান। 

© Instagram / naastia_cake   © Instagram / a_iriskaa

© Instagram / naastia_cake © Instagram / a_iriskaa

খাওয়ার আক্ষেপ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা মস্তিষ্কের সঠিক ফাংশনের উপর নির্ভর করে। যাইহোক, আপনি যদি দীর্ঘদিন সুস্বাদু খাবার না খেয়ে থাকেন, তবে আপনার হয়তো চকোলেট বা বিস্কুটের একটি অংশ খেতে খুবই ইচ্ছা জাগতে পারে এবং আপনাকে তাই করতে হবে। 

এজন্য পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা 'নিষিদ্ধ' খাবারের ছোট টুকরা খাওয়ার সুপারিশ দিয়ে থাকেন।  কারণ আপনি যদি সবসময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তাহলে আপনি হয়তো একটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডায়েট করাই বাদ দিবেন! 

 

৭. আপনার খাবারের ক্যালোরির মান পুনরায় হিসাব করুন। 

© Depositphotos

© Depositphotos

ওজন হ্রাস করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালোরি সংখ্যা শুধুমাত্র শারীরিক ক্রিয়াকলাপের উপর নয় বরং শরীরের ভরের উপরও নির্ভর করে। যদি একজন মোটা ব্যক্তি প্রতিদিন মাত্র ২,০০০ ক্যালোরি খায় তবে তার ওজন হ্রাস পাবে এবং যদি কোন চিকন ব্যক্তি একই কাজ করে তবে তার ওজন বাড়বে।  

আপনি প্রতি ১০ পাউন্ড ওজন কমানোর পর আপনার খাদ্যের ক্যালোরির মান পুনরায় হিসাব করতে ভুলবেন না। 

 

৮. একটি নিয়ন্ত্রিত ঘুমের সময়সূচী রাখুন।  

© Depositphotos   © Depositphotos

© Depositphotos © Depositphotos

বিজ্ঞানীরা খুঁজে বের করেছেন যে, বাজে ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো অসম্ভব। কেন অসম্ভব তার অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু সংক্ষেপে বলতে গেলেঃ আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে আপনার শরীর স্ট্রেস হয়ে যাবে। স্ট্রেসের কারণে বেশি ক্ষুধা লাগবে এবং হজমে পরিবর্তন আসবে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে লক্ষ্য রাখুন। 

 

৯. ক্যালোরি পরিমাপ করুন। 

© Instagram / galainst   © Instagram / galainst

© Instagram / galainst © Instagram / galainst

ওজন কমাতে ডায়েট করার সময় আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, আপনার কতটুকু ক্যালোরি খেতে হবে। 

 

১০. শরীরের বৈশিষ্ট্যের হিসাব নিন। 

© Instagram / _jenia__jenia_   © Instagram / energy_mira

© Instagram / _jenia__jenia_ © Instagram / energy_mira

সবাই জানে যে মাসিক চক্রের শুরু হওয়ার ঠিক আগেই, নারীদের শরীর অনেক বেশি পানি ধরে রাখে, ঠিক যেমন মানুষ যখন প্রচুর পানি পান করে (বিশেষ করে ঘুমানোর আগে), মিষ্টি খাবার খাওয়া, মদ খাওয়া এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য খাওয়ার সময়। বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন খাদ্যের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই, আপনার কি খাওয়া উচিৎ এবং এটি আপনার শরীরে কি প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করতে হবে। 

কিছু খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়ার পর, পরবর্তী ২ দিনের মধ্যে ফোলা অদৃশ্য হয়ে যাবে। তাই অতিরিক্ত কিছু পাউন্ডের জন্য আপনি হতাশ বা প্যানিক নিবেন না। স্কেল সম্পর্কে ভুলে যান এবং একটি টেপ পরিমাপের ফিতা ব্যবহার করুনঃ  এটি সহজেই প্রমাণ করবে যে আপনার ওজন কমানো অগ্রগতি লাভ করছে। 

 



জনপ্রিয়