ধনী ব্যক্তিরা যে নিয়মগুলো অনুসরণ করেন     ধনী ব্যক্তিরা যে নিয়মগুলো অনুসরণ করেন

ধনী ব্যক্তিরা যে নিয়মগুলো অনুসরণ করেন

‘আপনি এটি করা না পর্যন্ত সেটি ফেক’ এই নীতিবাক্য আমরা আমাদের জীবনে বিভিন্ন সময় এবং বিষয়ের উপর প্রয়োগ করতে পারি। এটি আত্মবিশ্বাস, একটি ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করবে এবং বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করতে সহায়তা করবে। এই নীতি আপনি আপনার জীবনধারায় প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।  

 

১. কথা কম বলে, বেশি শোনা

© pexels.com

© pexels.com

এই নিয়মটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের চাহিদার কথা শোনা ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা কম কথা বলেন তারা বেশি চিন্তা করেন। কারণ তারা বেশি লেখেন এবং পড়েন। তারা তাদের এনার্জির সবটুকু কোন গঠনমূলক কাজে ব্যয় করতে চান। তারা সৃজনশীল কাজ করতেও বেশি পছন্দ করেন।   তাছাড়া কম কথা বলার বিষয়টি ব্রেইনের জন্য ভালো। এতে ব্রেইনের কর্মক্ষমতা সঠিক থাকে এবং কোনো কথা বলার আগে চিন্তা করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এজন্য ধনী ব্যক্তিরা অন্যের কথা বেশি শোনেন এবং ভেবে চিন্তে কথা বলেন।

 

২. অফিস থেকে বের হওয়া

© depositphotos.com   © depositphotos.com

© depositphotos.com © depositphotos.com

তারা অফিস থেকে তাদের দৈনন্দিন কিছু কাজ  সরানোর চেষ্টা করেন, যেমন- গ্রাহকদের সাথে কথা বলা বা ক্লায়েন্ট এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে মিটিং। এটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, আপনার জ্ঞান এবং নেটওয়ার্ক প্রসারিত করার একটা ভাল উপায়। কারণ আপনি অফিসের চারদেয়ালে বসে সবকিছু শিখতে পারেন না, কিন্তু আপনি সময়ের সাথে সাথে বাইরের পরিবেশ দেখে অনেক কিছুই শিখতে পারবেন।

 

৩. বিজ্ঞতার সাথে বন্ধুত্ব যাচাই করা

© depositphotos.com   © amc.com

© depositphotos.com © amc.com

যদিও এটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আপনার যে বন্ধু মহল আছে তা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আপনার লক্ষ্য যদি একজন সফল ব্যক্তি বা ধনী ব্যক্তি হওয়া হয়, তাহলে সেইসব ব্যক্তিদের সাথে আপনার বন্ধুত্ব স্থাপন করুন যারা আপনাকে সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করতে পারে।

 

৪. কখন স্থগিত করা লাগে তা জানা

© depositphotos.com   © pexels.com

© depositphotos.com © pexels.com

নিজেকে সীমাবদ্ধ করার জন্য, রাতে কাজ করা বা অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসা এই ধরনের কোন কাজ ধনী ব্যক্তিরা করেন না। তারা ভালভাবে জানেন যে, অফিসের কাজ আপনার বাড়ি এবং ব্যক্তিগত জীবন থেকে আলাদা করাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

৫. জ্ঞান অর্জন কখনো স্থগিত না করা

© depositphotos.com

© depositphotos.com

আমরা সবসময় পরিবর্তিত বিশ্বের মধ্যে বসবাস করি। নতুন পণ্য, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি প্রায় প্রতিদিনই আবির্ভূত হচ্ছে। আপনি যদি শীর্ষে থাকতে এবং সফল হতে চান, তাহলে আপনাকে যা যা ঘটছে সেই সম্পর্কে ক্রমাগত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। বই, বক্তৃতা, ভিডিও এবং পডকাস্ট আপনাকে আপ-টু-ডেট থাকতে সাহায্য করতে পারে।

 

৬. প্যাসিভ ইনকামের উৎস

© brightside

© brightside

অধিকাংশ মানুষেরা যেভাবে মনে করেন, সেভাবে ধনী ব্যক্তিরা ডিজাইনার পোশাক, ব্যয়বহুল গ্যাজেট, জুয়েলারী বা গাড়ির পিছনে অর্থ ব্যয় করেন না। তারা তাদের টাকা নষ্ট করেন না, তারা তাদের কাজের জন্য সেগুলো বিনিয়োগ করেন। একটি পার্শ্ব ব্যবসা, বিনিয়োগ, লভ্যাংশ বা রিয়েল এস্টেটের আয়ের উপর ভিত্তি করে আয় করা অতিরিক্ত অর্থের একটি সাধারণ উৎস হতে পারে।   

 

৭. সময়ের মূল্য দেয়া

© pexels.com   © pexels.com

© pexels.com © pexels.com

আপনি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন, আপনি কতক্ষণ সময় ধরে ফেইসবুকে বা যেকোন ভিডিও দেখে সময় পার করছেন? আপনি স্ক্রিনের উপর ব্যয় করা সময়গুলো কমানোর চেষ্টা করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য আপনার যে কাজ উপকারে আসবে, সেই সেক্টরে বেশি সময় দিন। যা আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়ন, আপনার স্বাস্থ্য, স্বেচ্ছাসেবক না নেটওয়ার্কিংয়ে সহায়তা করবে।

 

৮. প্রতিদিন পড়াশোনা করা

© pexels.com   © pexels.com

© pexels.com © pexels.com

টম কোর্লিের গবেষণা অনুসারে তিনি তার বইয়ে ধনী ব্যক্তিদের অভ্যাস বর্ণনা করেছেন। ধনী ব্যক্তিরা টিভিতে পড়তে বেশি পছন্দ করেন। ৮৮% ধনী ব্যক্তিরা দিনে অবসর সময়ে অন্তত ৩০ মিনিট ধরে পড়েন। আত্ম-উন্নতির সাহিত্য থেকে পাওয়া কিছু খবর আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে। যা আপনাকে আরো সংস্কারমুক্ত করে তুলবে এবং কর্মক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে।  

  

৯. নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া 

© depositphotos.com   © depositphotos.com   © depositphotos.com

© depositphotos.com © depositphotos.com © depositphotos.com

আপনার নিকের মন এবং স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়াটা খুবই জরুরী। ওজন কমানো বা টেনিস বল খেলা, আপনার পছন্দের মানুষের সাথে সময় কাটানো বা মাঝেমধ্যে একাকী সময় কাটানো, ধ্যান করার মতো আপনি যা কিছু করেন না কেন, তা আপনার মনকে ভাল করে তুলবে এবং আপনি আরামবোধ করবেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন এবং সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করুন এবং সুস্থ থাকুন।

  

১০. একটি পরিকল্পক রাখা

© depositphotos.com   © depositphotos.com   © depositphotos.com

© depositphotos.com © depositphotos.com © depositphotos.com

আপনার ফোনে একটি নোটবুক বা অ্যাপ্লিকেশান থাকুক, সেটা কোন ব্যাপার না। টু ডু তালিকাতে আপনার  স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, লক্ষ্য এবং এমনকি আপনার স্বপ্নগুলো লিখে রাখুন। আপনার দৈনন্দিন চিন্তাধারা এবং আপনার দিনের সমস্ত ঘটনাগুলো নোট করে রাখুন। আপনার মাথার সমস্ত চিন্তা মুক্ত করুন যাতে আপনার আরো বেশি চিন্তা ও আইডিয়ার জন্য জায়গা থাকে এবং আপনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভুলে না যান।

 

আপনি কি আপনার জীবনে এই সমস্ত টিপসগুলো ব্যবহার করেন? কমেন্টে আমাদের শেয়ার করে জানান।



জনপ্রিয়