অনেককে দেখা যায় অর্ধনগ্ন হয়ে নোংরা পানিতে নিমগ্ন হতে অনেককে দেখা যায় অর্ধনগ্ন হয়ে নোংরা পানিতে নিমগ্ন হতে

এই ভয়ানক ও অস্বাস্থ্যকর কাজের মূল্য জানলে চমকে উঠবেন!

বাংলাদেশে নর্দমা পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ‘মেথর’ বলে ডাকা হয়, যাদের পেশার সারমর্ম হল পায়খানা বা ম্যানহোল, ড্রেন ইত্যাদি পরিষ্কার করা।  

বাংলাদেশে প্রতিবছর অনেক পরিচ্ছন্ন (নর্দমা) কর্মী কোন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়া ম্যানহোলে ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে মারা যাচ্ছে। তারা প্রায়শই ব্লকগুলো পরিষ্কার করতে শুধুমাত্র একটি লাঠি ব্যবহার করে থাকে। আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য নর্দমা কর্মীদের দৈনিক মাত্র ৫০০-৮০০ টাকা মজুরি দিয়ে থাকে।   

source: unknown

source: unknown

বেশিরভাগ সময়ই নর্দমা কর্মীদের মাটির নিচে একটি ম্যানহোলের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়, তারা খালি হাত দিয়ে ময়লা বা অবরুদ্ধ অবস্থা পরিষ্কার করে, শহরের ড্রেনের লাইন অবরোধমুক্ত করে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা কোন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়। সাধারণত কেউ ম্যানহোলে কাজ করতে নামলে তাকে একটি দড়ির সাহায্যে সেখানে নামানো হয় যাতে ময়লা পরিষ্কার করার পর পানির স্রোতে সে ভেসে চলে না যায়।

এটি খুবই কঠিন একটা চাকুরি এবং তারা এই কাজের জন্য দিনে মাত্র প্রায় ৮০০ টাকার মতো মজুরি পেয়ে থাকেন।  

source: unknown

source: unknown

বাংলাদেশের সামাজিক কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছে এবং পূর্বে অনুমান করা হতো যে, সারা দেশে প্রতিবছর প্রায় ১০০ জন নর্দমা কর্মী ম্যানহোলে পরিষ্কার কাজে গিয়ে ভিতরেই মারা যান।

প্রায় ১৪ মিলিয়ন জনসংখ্যার একটি শহর শুধুমাত্র একটি অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতিবারই ভারী বৃষ্টির সম্মুখীন হয়, মাত্র একদিনের ভারী বর্ষনেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়।

source: unknown

source: unknown

বাংলাদেশে বর্ষাকালে ঢাকা মাসে কয়েকবার করে পানির নিচে তলিয়ে যায়। আবর্জনা জমা হতে হতে ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। প্রচন্ড বর্ষার দিনগুলোতে তাদেরকে নর্দমা পরিষ্কার করতে হয়। তারা বাঁশের কাঠি দিয়ে ম্যানহোল এর মুখ খুচিয়ে খুচিয়ে পরিষ্কার করতে চেষ্টা করেন। অনেককে দেখা যায় অর্ধনগ্ন হয়ে নোংরা পানিতে নিমগ্ন হতে। তাদেরকে বাধ্য করা হয় খালি হাতে সেই গা গুলিয়ে আনা পানির নিচ থেকে আবর্জনা তুলে আনতে। এসময় তাদেরকে শ্বাস বন্ধ রাখতে হয় এবং এতে তাদের স্বাস্থ্যের এমনকি জীবনেরও ঝুঁকি থাকে।   

source: unknown

source: unknown

নোংরা পানিতে তাদের অনেকক্ষণ ধরে নিমজ্জিত থাকতে হয়, যার ফলে তাদের শরীরে এক ধরনের চুলকানির মতো রোগ দেখা দেয় মাঝমধ্যে। নর্দমার ভিতরের পচা দ্রব্যাদি খুবই বিষাক্ত আর এসিড সমৃদ্ধ। তাই যারা পরিচ্ছন কর্মী তারা যে স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়বে তা ১০০% নিশ্চিত। বিশেষ করে চর্মরোগ।

source: unknown

source: unknown

যখন এক কর্মীকে তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে বলা হয়, তখন তিনি বলেন যে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর খাওয়ার জন্য হাত তুলতে গেলে হাতে তখনো ড্রেনের ময়লার গন্ধ থাকে। কিন্তু তিনি জানেন যে এ কাজ করা ছাড়া তার কোন গতি নেই, তাই তিনি পরের দিনেও একই কাজ করতে বের হন।    

source: unknown

source: unknown

এই লোকেদের অবস্থা বা নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিনিময়ে তারা কোন কৃতজ্ঞতা পান না। এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের একটি সমস্যা নয়। এমনকি ভারতবর্ষে বেশ কয়েকজন পরিচ্ছন্ন কর্মী ব্লকগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রতিবছর প্রাণ হারান।   



জনপ্রিয়