যে কয়েকটি অভ্যাস আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে  যে কয়েকটি অভ্যাস আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে

যে কয়েকটি অভ্যাস আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে

সাফল্য হঠাৎ করে আসে না। ছোট ছোট অনেক কাজ, অনেক পরিশ্রমের সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সাফল্য আসে। 

যদি আপনি বড় কিছু করতে চান, আপনার স্বপ্নটাও বড় হতে হবে। তবে এটি ভাবলে চলবে না আপনি একদিনে সফল হয়ে যাবেন। আর সফলতার জন্য আপনার কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরী। আসুন দেখে নেই কি সেই সব অভ্যাস যা সফল হতে সাহায্য করে। 

 

১. আপনি যা করতে চান তা করে ফেলুন।
প্রথম ধাপ হলো, যা করতে চান তা করে ফেলুন। সবাইকে বলে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই আপনি এটি করতে চান। 

 

২. প্রতিদিন জার্ণাল লিখুন

 © unsplash.com
হ্যাঁ, আপনি প্রতিদিনই লেখার অভ্যাস করুন। আপনাকে লেখক হতে হবে না, শুধু আপনি প্রতিদিন কাজের কাজ কি কি করছেন, স্বপ্নপূরণের জন্য কি কি করেছেন তা নোট করে রাখুন। আপনাকে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে যেতে হবে না, অন্তত একটি প্যারা হলেও লিখে রাখুন।

© unsplash.com

 

৩. মিথ্যা বলবেন না। 
কখনো মিথ্যে বলবেন না। কাজের প্রতি সৎ থাকুন, না করলে জার্ণালে লিখে রাখুন আপনি করতে পারেননি। 

 

৪. সবসময় কাছের বন্ধুদের জন্য সময় হাতে রাখুন।

© Matheus Ferrero
শুধু কাজে ডুবে থাকবেন না, কাছের বন্ধুদের জন্য সময় রাখুন। তাদের সাথে কাজের/স্বপ্নপূরণের আগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করুন। আপনাকে উদ্দীপ্ত করতে এসব আলোচনা সহায়তা করে।

© Matheus Ferrero

 

৫. শখের কাজেও সময় দিন
আপনি আপনার শখের কাজেও সময় দেয়ার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অল্প করে হলেও সময় দিন। হয়তো বাগান করা, হাতের কাজ করা, কিংবা লেখালেখি বা ছবি তোলা, এমন কাজগুলো আপনাকে সতেজ রাখবে।

 

৬. শরীর চর্চা করুন।

© Justyn Warner
আপনাকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা খুব জরুরী। তাই শুধু মূল কাজে ফোকাস রাখলেই হবে না, শরীরের যত্ন নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। 'কুড়িতেই বুড়ি' বা অল্প বয়সেই বৃদ্ধ হতে না চাইলে সুসাস্থ ধরে রাখতে শরীরচর্চা করুন। নিয়মিত জিমে যান, কিংবা হাঁটুন প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে নিয়ম করে। 

© Justyn Warner

 

৭. আপনি যেমন হতে চান, তেমন মানুষদের আশেপাশে থাকুন।
ধরুন আপনি সফল ব্যবসায়ী হতে চান। তাহলে এমনভাবে নিজের নেটওয়ার্ক তৈরী করুন যাতে আপনি নিয়মিতই সফল ব্যবসায়ীর আশেপাশে থাকছেন। তাদের দেখে শিখুন। বিভিন্ন পরিস্তিতিতে তারা কেমন আচরণ করে, কিভাবে ঝামেলা সমাধান করে দেখে দেখে আপনিও শিখতে পারবেন। 

 

৮. পড়ুন।
হ্যাঁ, পড়ার অভ্যাস থাকাটা খুব জরুরী। আপনার কাজের ক্ষেত্র নিয়ে বিভিন্ন লেখা পড়ুন, কিংবা নিজেকে শক্ত-সামর্থ মানসিকতার হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ার কোন বিকল্প নেই। 

 

৯. স্বপ্নের পথে কতদূর গেলেন, হিসেব করুন নিয়মিত।

© RawPixel
শুধু স্বপ্ন নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। আপনি স্বপ্নে পথে কতদূর গেলেন তা হিসেব করুন। সাপ্তাহে, দু'সাপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত একবার নিজেকে নিজের আয়নার সামনে দাঁড় করান। অগ্রগতির হিসেব করুন। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, স্বপ্নের পথে কতদূর গেলেন তাও ফিরে ফিরে দেখতে হয়। 

© RawPixel

 

১০. একা খেতে বসবেন না। 


দুপুরে কিংবা রাতে যখন খেতে বসবেন, একা বসবেন না। সমকর্মী কিংবা পরিবারের সাথে একসাথে খেতে বসুন। খেতে বসে যে আলোচনা হয় সেখানেও অনেক কিছু শেখার আছে। 

 

১১. পোষাকের ব্যাপারে সচেতনতা। 

© Dylan Gillies

© Dylan Gillies

পোষাক আপনাকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। পোষাকে নিজের ব্যাক্তিত্ব প্রকাশ পায়। নিজেকে প্রেজেন্ট করার জন্য এই অভ্যাস থাকা উচিত। 

 

১২. সংকল্প করুন, লেগে থাকুন।
প্রতিদিন সংকল্প করুন পরদিন কি কি কাজ করবেন। হতাশ না হয়ে নিজের উদ্দ্যেশের প্রতি সৎভাবে কাজ করে যায়।

 

১৩. অন্যকেও শেখান।
আপনি যখন সুযোগ পাবেন, নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন। বিশেষ করে যারা আপনার কাজের পথে নতুন, তাদের সহায়তা করুন। শিখতে সাহায্য করুন।

 

১৪. খেলাধূলা করুন বা গান শুনুন। 

© Virgil Cayasa
নিয়মিত খেলাধূলার সুযোগ থাকলে নিজেকে সতেজ রাখতে খেলাধূলা করুন। না হলে অন্তত গান শুনুন। এগুলো আপনাকে সতেজ রাখে। 

© Virgil Cayasa

 

১৫. স্বাস্থকর খাবার খান। 
আপনার খাওয়া-দাওয়াও একটা অভ্যেসের মধ্যে মধ্যে। কি খাচ্ছেন নজর রাখুন। স্বাস্থকর খাবার খাওয়ার অভ্যেস করুন। এই অভ্যাসটা আপনার শরীরেরই যত্ন নিবে আপনা-আপনি! 

 

১৬. বিভিন্ন বয়সের মানুষের সাথে মিশুন।
শুধু সমবয়সীদের সাথে না, বিভিন্ন বয়সী মানুষের সাথে মিশুন। এটি মানসিক স্বাস্থের জন্য উপকারী। 

 

১৭. ঘুরে বেড়ান কিংবা মুভি দেখুন।

© Toa Heftiba
সারাদিন টানা কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে একসময় কাজের প্রতি একঘেষেমি চলে আসে। তাই সময় করে প্রিয়জনের সাথে ঘুরতে বেরিয়ে যান কিংবা মুভি দেখুন। 

© Toa Heftiba

 

১৮. ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।

© Kinga Cichewicz
আলসেমি করবেন না। ঘুমানোর আগে নিজেকে কথা দিন কখন ঘুম থেকে উঠতে চান। ঘুম থেকে ঠিক সময়ে না উঠলে সারাদিনের পরিকল্পনাগুলো ভেস্তে যাবে। 

© Kinga Cichewicz

 

১৯. উচ্চস্বরে নিজের স্বপ্নগুলো পড়ুন। 
আপনি কি হতে চান, কি করতে চান একটা কাগজে লিখে রাখুন। প্রতিদিন একবার লেখাটি সামনে রেখে উচ্চস্বরে পড়ুন। নিজেকে মোটিভেট করার জন্য এটি পড়া খুব উপকারী। 
 



জনপ্রিয়