ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক মাস্ক তৈরি! ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক মাস্ক তৈরি!

ঘরোয়া উপায়ে প্রাকৃতিক মাস্ক তৈরি!

আমাদের ত্বক বয়স, জলবায়ু এবং চাপের মতো অনেকগুলো কারণে প্রভাবিত হয়। ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধ করার জন্য, আপনার আগে থেকেই এটির যত্ন নেয়া উচিৎ। যেখানে আপনি ফ্রিজ থেকে কিছু উপাদান নিয়েই ত্বকের যত্ন নিতে পাচ্ছেন সেখানে এতো দাম দিয়ে কসমেটিক পণ্য কেনার দরকার কি?

আজকে আমরা কয়েকটি প্রাকৃতিক মাস্ক তৈরির উপাদান সম্পর্কে আপনাদের জানাবো, যা আপনি ঘরোয়া উপায়েই সেগুলো আপনার ত্বকে প্রয়োগ করতে পারবেন।  

 

১. টমেটো + বেকিং সোডা

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

আপনাকে রসালো, তাজা টমেটো ব্যবহার করা করতে হবে। এই মাস্ক অনেক ভিটামিন সমৃদ্ধঃ ভিটামিন বি৯ ব্রণ দূর করে, ভিটামিন এ পুরোপুরি শুষ্কতার বিরুদ্ধে কাজ করে, ভিটামিন কে অত্যধিক পিগমেন্টেশন দূর করে, ভিটামিন এইচ এবং জিঙ্ক আপনার ত্বকের কোষ পুনরুত্থিত করতে সহায়তা করে, পটাসিয়াম ময়শ্চারাইজিং করে, ক্যালসিয়াম ত্বক কোমল এবং মসৃণ করে তোলে।

প্রণালীঃ

- একটি টমেটো চিপে নিন

- পরে সেটি ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে মিশিয়ে নিন

- মিশ্রণটি আপনার মুখে প্রয়োগ করুন এবং ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- পরে পানি দিয়ে আপনার মুখ পরিষ্কার করুন।

  

২. আভাকাডো + মধু

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

আভাকাডোতে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, কপার, আইরন, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক এবং ভিটামিন ই রয়েছে। মধুর সংমিশ্রণে আভাকাডো আপনার ত্বকে পুষ্টি সাধন করতে পারে এবং এটি আরও টান এবং ইলাস্টিকে পরিণত করে।

প্রণালীঃ

- একটি পাকা আভাকাডো নিন এবং এটি পেস্ট করুন

- এটির সাথে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন

- আপনার মুখে এই মাস্কটি প্রয়োগ করুন এবং ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- পরে পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।

   

৩. ময়দা + আলু রস

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

উজ্জ্বল ত্বক পেতে, আটা বা ময়দা আলুর রসের সাথে মিশিয়ে নিন। ময়দা আপনার রুক্ষ ত্বক উজ্জ্বল করবে, আলুর রস ব্ল্যাকহেডস উপশম করবে এবং আপনার ত্বকে কিছু উজ্জ্বলতা নিয়ে আসবে।

প্রণালীঃ

- একটি আলুর জুস এবং ৬ চা চামচ ময়দা মিশিয়ে নিন

- আপনার ত্বকের উপর মৃদুভাবে ম্যাসেজ করুন

- মাস্কটি ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।

 

৪. শসা + হলুদ

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

আমরা সবাই শসা ধারণকারী কসমেটিক পণ্য পছন্দ করি। শসা ত্বকের আর্দ্রতা পুরোপুরি শোষণ করে। আর শসার মধ্যে সংকোচন করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে, মানে একটি শসার মাস্ক ব্যবহার করার পর ত্বক টান হয় এবং লোমের কূপ সঙ্কুচিত হয়। হলুদ হল প্রাকৃতিক এন্টিসেপটিক এবং একটি সার্বজনীন আয়ুর্বর্ধক মশলা।

প্রণালীঃ

- একটি শসা ব্লেন্ড করে নিন

- ১ চা চামচ হলুদ যোগ করুন এবং একসাথে মিশিয়ে নিন

- আপনার ত্বকে লাগিয়ে নিন এবং ১০-১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- পরিষ্কার পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।

 

৫. লেবু রস + পেঁপে

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

পেঁপে একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যার ফলে ভিটামিন এ উচ্চ পরিমাণে রয়েছে। তাছাড়া, পেঁপেতে পাপাইন নামক এক ধরণের এনজাইম রয়েছে যা মুখের মরা কোষ দূর করে ত্বকে দীপ্তিময় আভা নিয়ে আসতে সহায়তা করে। লেবুর রস ত্বকের গাঢ় দাগগুলোকে দূর করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা মসৃণ করে, এটি সতেজ এবং দীপ্তিময় করে তোলে।

প্রণালীঃ

- ৪ ফোঁটা লেবুর রসের সাথে ১টেবিল চামচ পেঁপের পেস্ট মিশিয়ে নিন

- এটি আপনার ত্বকে লাগানোর পর ১০-১২ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- পরে ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।

 

৬. সবুজ চা + অ্যালোভেরা

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

আপনি কি ব্রণ দূরীকরণ এবং বলিরেখা দূর করে ত্বক পুনরুদ্ধার করার জন্য দ্রুত ফেসিয়াল খুঁজছেন? তাহলে সবুজ চা, ভিটামিন সি, পিপি, কে এবং বি আপনার এই সমস্যা সমাধান করবে। অ্যালোভেরা আপনার ব্রণ নিরাময়ে, মসৃণ রেখা এবং মুখের ত্বক ভাল রাখতে সাহায্য করবে।

প্রণালীঃ

- ১ চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে ১ টেবিল চামচ সবুজ চা ব্লেন্ড করুন  

- আপনি এটি আপনার মুখের উপর ৩০ মিনিটের জন্য প্রয়োগ করতে পারেন

- পরে ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।

 

৭. নারিকেল তেল + কোকোয়া পাউডার

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

মুখের ত্বকের উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য কোকোয়া পাউডারের একটি মাস্ক ব্যবহার করা একটি চমৎকার বিকল্প। কারণ এতে ভিটামিন বি৫ রয়েছে। নারিকেল তেলের সাথে এটি মিশিয়ে মুখে প্রয়োগ করলে ত্বক ময়শ্চারাইজিং করে এবং ত্বকের স্তরের মৃত কণার স্তর উঠাতে সহায়তা করে।

প্রণালীঃ

- ১ চা চামচ নারিকেল তেলের সাথে ১ টেবিল চামচ কোকোয়া পাউডার মিশিয়ে নিন

- এটি ত্বকে প্রয়োগ করার পর ২০ মিনিটের জন্য এভাবেই রেখে দিন

- উষ্ণ পরিষ্কার পানি বা ক্যামোমিল চা (ঠান্ডা) দিয়ে মাস্কটি পরিষ্কার করুন।

 

৮. রুটি + দুধ

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

প্রসাধনীর মধ্যে, মুখের জন্য রুটি ব্যবহার করা হয় কারণ এতে অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্রুপ বি ভিটামিন এবং পিপি খনিজ রয়েছে। রুটি এবং দুধের তৈরি মাস্ক বলিরেখা মসৃণ করতে, ব্ল্যাকহেড পরিষ্কার, ত্বকের শিরা শক্তিশালী করতে এবং প্রদাহ দূর করতে সহায়তা করে।

প্রণালীঃ

- ১ টেবিল চামচ রুটির সাথে ১ চা চামচ গরম দুধ মিশিয়ে নিন

- একটি কাঁটাচামচ দিয়ে সেগুলো ভরতা করে পেস্ট তৈরি করুন

- মুখের উপর মাস্কটি প্রয়োগ করুন এবং ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন

- পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

৯. কলা + ওট

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

এই মাস্ক শুষ্ক এবং সংবেদনশীল ত্বকের জন্য দরকারি হবে। কলাতে ভিটামিন এ, বি এবং সি রয়েছে। এটি পুরোপুরি ত্বকে পুষ্টি দান করে এবং ময়শ্চারাইজিং করে, ওটমিল ছাল ওঠাতে প্রভাব ফেলে।

© face_mask_by_kik

© face_mask_by_kik

প্রণালীঃ

- ১ টেবিল চামচ কলা পেস্টের সাথে ১ টেবিল চামচ ওটমিল মিশিয়ে নিন

- এটি ত্বকে লাগানোর পর ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন

- পরে পরিষ্কার উষ্ণ পানিতে তা ধুয়ে ফেলুন।

 

১০. সক্রিয় কাঠকয়লা + জিলেটিন

© christian.rguerra

© christian.rguerra

জেলেটিনে প্রাকৃতিক কোলাজেন রয়েছে যা যথাযথভাবে ত্বকে প্রবেশ করে আরো ইলাস্টিক করে তোলে। সক্রিয় কাঠকয়লা লোমকূপ শুষ্ক এবং সংকুচিত করে। এটি ভেতরের প্লাগগুলোকে পরিষ্কার করে, ব্রণ এবং ব্ল্যাকহেড বা হোয়াইটহেডের পরিমাণ হ্রাস করে, ত্বকের প্রদাহ প্রক্রিয়াগুলোর সাথে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে এবং একটি গভীর বিশুদ্ধতা প্রদান করে।

© Amazon.com

© Amazon.com

প্রণালীঃ

- গরম পানিতে ১ চা চামচ জেলাটিন গলিয়ে নিন

- সক্রিয় কাঠকয়লা গুঁড়ার একটি ট্যাবলেট যোগ করুন

- ত্বকে প্রয়োগ করার পর ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- উষ্ণ পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।

 

১১. ডিমের সাদা অংশ + শসা

© Depositphotos.com   © Depositphotos.com

© Depositphotos.com © Depositphotos.com

আপনি যদি উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান তাহলে এই মাস্কটি ব্যবহার করুন। শসাতে প্রদাহ রোধ করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই এটি আপনার ত্বক পরিষ্কার এবং প্রশমিত করতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ডিমের সাদা অংশ একটি আদর্শ প্রতিকার। এটি আপনার ত্বককে টানটান করবে এবং আঁটো করবে।

প্রণালীঃ

- ১/২ শসা ডিমের সাদা অংশের সাথে ব্লেন্ড করুন

- এই মসৃণ পেস্টটি আপনার মুখে প্রয়োগ করুন এবং ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন

- পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

আপনি কি এই মাস্কগুলো কখনো চেষ্টা করে দেখেছেন? বা আপনার কাছে কি আরো কোন প্রণালী আছে? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করে জানান এবং সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়