রক্তের ঝর্ণা ও রেলাম্পাগো ডেল কাতাতুম্বো       রক্তের ঝর্ণা ও রেলাম্পাগো ডেল কাতাতুম্বো

পৃথিবীর ৫ টি অমীমাংসিত রহস্যময় স্থান, যার রহস্য এখনো অজানা!

আমাদের অবাক করার জন্যে পৃথিবীর ভাণ্ডার যেন সবসময় পূর্ণ থাকে। পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় লুকিয়ে আছে ক্কোন না কোন ব্যাখ্যাহীন এমন কিছু প্রাকৃতিক বিস্ময় যা আমাদেরকে পৃথিবী সম্পর্কে আরো বেশি জানার জন্য অনুপ্রাণিত করে। এই স্থানসমূহের মধ্যে কিছু স্থানে পৌঁছানো অনেকটা অসাধ্য সাধনের সমান, তাতে কি অসাধারণ মানুষগুলো কি আর মৃত্যুতে ডরায়! আজ আপনাদের সামনে এমনই রহস্যে ঘেরা ৫ টি স্থান তুলে ধরছি যার রহস্য এখনো বিজ্ঞানীরা উদঘাটন করতে পারে নি!  

৫. রক্তের ঝর্ণা, এন্টার্কটিকা

Steemit/blood falls

Steemit/blood falls

টেইলর গ্লেসিয়ার বা হিমবাহ থেকে অনবরত বেয়ে পড়ছে রক্তলাল ঝরণা। ১৯১১ সালে গ্রিফিথ টেইলর নামে একজন অস্ট্রেলিয়ান ভূতত্ত্ববিদ   এই ঝর্ণা প্রথম আবিষ্কার করেন এবং তার নামানুসারে গ্লেসিয়ারটির নামকরণ করা হয়। গ্লেসিওলজিস্ট এবং মাইক্রোবায়োলজিস্টরা এই রহস্যময় লাল প্রবাহের কারণ এখনো অনুসন্ধানের চেষ্টা করছেন। 

৪. রহস্যময় জিন পাহাড়, মদীনা

World for Travel

World for Travel

সৌদি আরবের মদিনা শহর হতে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ওয়াদি আল বায়দা নামক স্থানে এই জিনের পাহাড় অবস্থিত। সেই পাহাড়ের বিস্ময়কর ঘটনা হচ্ছে, সবকিছুই ঢালুর বিপরীত অর্থাৎ উচুর দিকে গড়ায়। সাধারণ নিয়মেরর একাবারেই  উল্টো। রহস্যঘেরা এই পাহাড়ে বন্ধ গাড়িও ঢালুর বিপরীতে চলতে শুরু করে। তাও আবার ছোট খাটো বস্তু হলেও কথা ছিলো এই অদৃশ্য শক্তি টেনে নিয়ে যায় কয়েক টন ওজনের গাড়িকেও প্রায় ১৪০ কিঃ মিঃ স্পীডে!

অনেকেই ধারণা করেন, জায়গাটিতে প্রচুর চুম্বকজাতীয় পদার্থ রয়েছে বিধায় এমন ঘটনা ঘটে।নানা তথ্যসুত্র বলছে, ২০১০ সালের দিকে সৌদি সরকার ওয়াদি আল বায়দায় একটি সড়ক তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তাতে ঘটে বিপত্তি। ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করার পর হিতে বিপরীত। হঠাৎ দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণের যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে মদিনা শহরের দিকে একা একাই চলে যাচ্ছে, এজন্য সেখানে এখন অবধি রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে! 

৩. মোয়েরাকি বোলডার্স, নিউজিল্যান্ড 

backpackerguide.nz

backpackerguide.nz

নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ পূর্ব একটি উপকূলে কোয়েকোহে সমুদ্র সৈকত অবস্থিত এবং সেই সৈকতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মস্ত বড় বড় উপবৃত্তাকার পাথর, যার একেকটির পরিধি প্রায় ১২ ফিট। হাজার হাজার বছর আগে সমুদ্রের নিচে এই পাথরগুলোর সৃষ্টি হয়েছিল, ধরতে গেলে এরা ইতিহাসের সাক্ষী। জীবাশ্ম বা ঝিনুকের মত খনিজ পদার্থ ও পলি সংগ্রহ করে করে শক্ত মজবুত এই পাথর সৃষ্টি হয়েছে, যেমন করে সৃষ্টি হয় ঝিনুকের ভেতরের মুক্তা। তবে পাথরগুলোর বিভিন্ন অংশ এবং পাথরগুলোর ভেতরের ফাটল কেন সৃষ্টি হচ্ছে তা নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। এই পাথরগুলর ভেতরের অংশ একদমই অন্যান্য পাথরের চেয়ে আলাদা! 

২. পামুক্কালে, তুর্কি

Turchia.Net

Turchia.Net

পামুক্কালে শব্দটির অর্থ তুলার প্রাসাদ! তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত দেনিজলি প্রদেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক স্থান হচ্ছে এই পামুক্কালে। এলাকাটি তার প্রাকৃতিক উষ্ণ জলাশয় এবং ট্রাভেরটাইনের প্রকাণ্ড সাদা চত্বরের জন্য বিখ্যাত, যা মূলত প্রবাহিত পানির রয়ে যাওয়া কার্বনেটেড খনিজ পদার্থ দিয়ে সৃষ্ট। এই এলাকায় মোট ১৭ টি প্রাকৃতিক উষ্ণ জলাশয় আছে! 

১. রেলাম্পাগো ডেল কাতাতুম্বো ( কাটাটুম্ব এর বজ্রপাত ), ওলোগা, ভেনিজুয়েলা   

bbc

bbc

 এই ঘটনা শুধুমাত্র লেক মারাকাইবোতে নিমজ্জিত কাটাটুম্ব নদীর মুখে ঘটে থাকে। সেই স্থানের আর্দ্রতা, পর্বতমালার উচ্চতা এবং সমুদ্র থেকে প্রবাহিত বাতাসের সংঘর্ষের ফলে মারাকাইবো এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল কোণেন সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত ঘটে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে এখানে ২৫০ টি বজ্রপাত ঘটে এখানে! প্রতি বছরের মে এবং অক্টোবর মাসের শুরুতে বছরে  ২০০ রাত ধরে ভয়ানক বজ্রপাতের দেখা পাবেন এখানে। মাঝে মাঝে প্রতি মিনিটে ২৫ টিরও বেশি বজ্রপাতের ঘটনাও আছে। 

আমাদের আয়োজন সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না যেন! সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়