দুর্গন্ধ থেকে বাঁচুন... দুর্গন্ধ থেকে বাঁচুন...

গরমে শরীরের দুর্গন্ধের শরম থেকে বাঁচতে এই সহজ টিপসগুলো মেনে চলুন!

শরীরে দুর্গন্ধ হওয়া খুবই অস্বস্তিকর একটি বিষয় তবে নিজের জন্য নয় বরং আশেপাশের মানুষগুলোর জন্য। সামনে গরমের সিজন আসছে, শরীরে ঘামজনিত দুর্গন্ধের অত্যাচারও বাড়বে! ঘর্ম গ্রন্থি অতিমাত্রায় সক্রিয় হলেই শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় , গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা অনুজীব আদ্র এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় সাধারনত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আপনি চাইলেই খুব সহজেই দূর করতে পারেন শরীরের দুর্গন্ধ! আজকের আয়োজনে থাকলো শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার জাদুকরী কিছু সহজ টিপস।  

১. নিজেকে পরিষ্কার রাখুন  

Dermstore

Dermstore

প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করার চেষ্টা করুন। এর ফলে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমবে। ঘাম মূলত দুর্গন্ধহীন, কিন্তু যখন এর সাথে ত্বকের উপরের ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত হয় তখন তারা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সামান্য গন্ধের সৃষ্টি করে। তাই শরীরের যেসব স্থানে ঘাম হতে পারে সে স্থানগুলো ধুয়ে ফেললে দুর্গন্ধ হয়না। যদি আপনার ঘাম স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে তাহলে আপনার শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, যাদের ঘাম বেশি হয় তাদের তুলনায়। এর কারণ হচ্ছে, যাদের অনেক বেশি ঘাম হয় তাদের এই অতিরিক্ত ঘামের সাথে গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াও ধুয়ে চলে যায়।

২। অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী সাবান ব্যবহার করা 

nytimes.com

nytimes.com

ব্যাকটেরিয়ানাশক  সাবান দিয়ে গোসল করলে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে এবং দুর্গন্ধও কমে। সাবান কেনার সময় প্যাকেটে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল শব্দটি আছে কিনা দেখে নিন।

৩. ভালো করে তোয়ালে দিয়ে ভেজা শরীর মুছে নিন 

Shutterstock

Shutterstock

গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে শরীর মুছে নিন। ঘাম বেশি হয় যে স্থানগুলোতে সেগুলো খুব ভালো করে শুকিয়ে নেয়া উচিৎ। কারণ ত্বক শুষ্ক থাকলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

৪. শক্তিশালী ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট ব্যবহার করুন

Internet

Internet

আপনার শরীর পরিষ্কার ও শুষ্ক করে নেয়ার পর শক্তিশালী ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট ব্যবহার করুন বগলে। যদিও ডিওডোরেন্ট ঘামকে প্রতিহত করতে পারেনা, তারা ত্বকের ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট গন্ধে মাস্ক পরাতে পারে। অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট এ অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড নামক রাসায়নিক থাকে যা ঘাম কমতে সাহায্য করে। সকাল ও সন্ধ্যা এই দুই বেলা ব্যবহার করুন ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট। বাজারে শক্তিশালী ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট পাওয়া যায়। আপনি চাইলে এক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিনতে পারেন ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপারস্পাইরেন্ট।

৫. পরিষ্কার কাপড় পরুন  

All4Women

All4Women

অনেক বেশি ঘেমে গেলে পরনের কাপড় পরিবর্তন করে নেয়া ভালো। এতে গন্ধ কমে যায়।  আপনার মোজা জোড়া ও পরিবর্তন করে নিতে ভুলবেন না বিশেষ করে যদি আপনার পায়েও দুর্গন্ধ হয়। জুতার মধ্যে ডিওডোরেন্ট পাউডার ব্যবহার করুন এবং জুতার সোল ঘন ঘন পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে খালি পায়ে থাকুন।

৬. আক্রমণাত্মক খাবার বা পানীয় বর্জন করুন

UChicago Medicine

UChicago Medicine

আপনি যা খান তা আপনার শরীরের গন্ধকে প্রভাবিত করে। মরিচ এবং অন্য মসলাযুক্ত খাবার অনেক বেশি ঘাম সৃষ্টি করে। সুগন্ধি খাবার যেমন- পেঁয়াজ ও রসুন ও ঘাম তৈরিতে ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণ করলেও ঘামের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

৭. তেলের ব্যবহারঃ

নারিকেল তেলের ব্যবহার-

Shutterstock

Shutterstock

এক্ষেত্রে নারিকেল তেল, এক চামচ সাইট্রিক এসিড পাউডার ও এক কাপ পানি প্রয়োজন হবে! তুলনামূলক কম দুর্গন্ধের ক্ষেত্রে যে সকল জায়গায় আপনার বেশি ঘাম হয় সেখানে সরাসরি নারিকেল তেল লাগিয়ে আলতো করে ঘষুন। বেশি দুর্গন্ধের ক্ষেত্রে এক কাপ পানিতে সাইট্রিক এসিড পাউডার মিশিয়ে গোসলের শেষের দিকে বোগলে এবং কুচকিতে ব্যবহার করুন এবং গোসল শেষ করে শুকনা তোয়ালে দিয়ে পুরো শরীর ভালো করে মুছে ফেলুন! সবশেষে যে সকল জায়গায় আপনার বেশি ঘাম হয় সেখানে সরাসরি নারিকেল তেল লাগিয়ে আলতো করে ঘষুন। প্রতিদিন কাজটি করুন! 

চা গাছের তেলের ব্যবহার-

Ootymade

Ootymade

দুই টেবিলচামচ চা গাছের তেল ও দুই টেবিলচামচ পানি একত্র করে মিশিয়ে বোগলে ও অন্যন্য স্থানে প্রয়োগ করুন। প্রতিদিন কাজটি করুন! 

৮. এ্যাপল সাইডার ভিনেগার

Shutterstock

Shutterstock

এ্যাপল সাইডার ভিনেগার ও তুলা এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হবে। যদিও আপেল সাইডার ভিনেগার চাইলে আপনি সরাসরি ঘাম প্রবণ অংশগুলোতে ব্যবহার করতে পারেন, তবে আপেল সাইডার ভিনেগারে তুলা চুবিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পেতে পারেন!

৯. সবুজ চা এর পাতা

Shutterstock

Shutterstock

সবুজ চা এর তাজা পাতা পানিতে ছেড়ে দিয়ে একটু ফুটিয়ে নেবার পর পাতা থেকে সুগন্ধ পানিতে মিশে যাবে। এবার ঠান্ডা করে পানির মিশ্রণটি ঘাম প্রবণ অংশগুলোতে ব্যবহার করুন। আর সকালে খালী পেটে গ্রিন টি নিয়মিত পান করলে শরীরের বাজে গন্ধ দূর হয়! 

১০. টি ব্যাগ

Shutterstock

Shutterstock

৪ টি টি ব্যাগ ও ২ লিটার পানিতে চুবিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার এই পানির মিশ্রণ আপনার নিয়মিত গোসলের সময় ব্যবহার করুন। যদি বাথটাব থাকে তাহলে এই মিশ্রণ বাথটাবের পানিতে ঢেলে ১৫-২০ মিনিট আপনার শরীর চুবিয়ে রাখুন! 

১১. বেকিং সোডা

Shutterstock

Shutterstock

এক চামচ বেকিং সোডায় কয়েক ফোটা জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সেখান থেকে আঙ্গুলের ডগায় লাগিয়ে ঘাম প্রবণ স্থাঙ্গুলোতে প্রয়োগ করুন। প্রতিদিন করে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করুন। 

১২. লেবুর জুস

Shutterstock

Shutterstock

একটা লেবু কেটে দুভাগ করে সরাসরি বগলে ঘষুন। এটাকে শুকাতে দিন এর পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন! যদি আপনার ত্বক সংবেদনশীল হয়ে থাকে তাহলে আপনি এই লেবুর রসে কিছু পানি ব্যবহার করে লাগাতে পারেন! অন্যদিকে লেবুর রস বালতির পানিতে সরাসরি প্রয়োগ করুন এবং সেই পানি দিয়ে গোসল করুন দেখবেন আপনার শরীরে সতেজতা কাজ করছে! 

১৩. নিম পাতা

Shutterstock

Shutterstock

একমুঠ নিমপাতা ভালো করে মিহি করে বেটে পেস্ট তৈরি করে ঘাম প্রবণ অংশগুলোতে প্রয়োগ করুন। এটা শুকানোর পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অথবা নিম পাতা এক কাপ পরিমাণ জলে চুবিয়ে তা সেদ্ধ করুন, এবং এই পানির মিশ্রণ আপনার গোসলের পানিতে ব্যবহার করুন! 

আমাদের আয়োজন সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না যেন! সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ.. 



জনপ্রিয়