কফিনের আঘাতে মৃত্যু...  কফিনের আঘাতে মৃত্যু...

যে অভাগারা মারা গিয়েছিলেন অদ্ভুত সব কারণে

জন্মেছেন যেহেতু মরতে আপনাকে হবেই। সবাই একই পথের পথিক। কিন্তু সব মৃত্যুর পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে, তাই না? রোগ, বার্ধ্যক্য কিংবা দূর্ঘটনা এসবেই মানুষ মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু যদি আপনি চিনি খেয়ে মরে যান কিংবা দুই হাত উঁচু স্থান থেকে পড়ে মরে যান? সেক্ষেত্রে আসলে কোন যুক্তি কাজ করে না। এমনই খুব অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত ৫টি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আমরা সাজিয়েছি আজকের আয়োজন।পুরো ঘটনাগুলো অবশ্যই পড়তে ভুলবেন না কিন্তু! 

১. বেশি পাকনামি করার ফল! 

Internet

Internet

১৮৮১ সালের অক্টোবরে একজন ব্যাক্তি কাউকে উপহার দেয়ার জন্য তাঁর চাকরকে একটা পিস্তল আনতে বললেন। সেই চাকর মহাশয় তাঁর মনিবের কথামত একটা পিস্তল আনতে গেলেন এবং সেই পিস্তলটা ভালো করে পরীক্ষা করে কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। হগ, অধমের নাম, একটা বন্দুক হাতে নিয়ে তাঁর মুখমন্ডলের খুব কাছাকাছি দূরত্বে নল তাক করে বন্দুকের ট্রিগার এবং অন্যান্য মেকানিজম দেখছিলেন এবং দেখতে গিয়ে নিজের মুখে নিজেই গুলি করে দিলেন।সেখানে উপস্থিত আরেকজন চাকর এ পুরো বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন যে পুলিশে খবর দেন।  যাই হোক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কিভাবে পুরো ঘটনা ঘটলো তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে সে হুবহু যেভাবে সেই “হগ” গুলি খেয়ে মারা গেছিল সেভাবে ঐ একই পিস্তল দিয়ে নিজের মুখের দিকে তাক করে এবং হঠাৎ বিকট শব্দ হয় আর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সেও একইভাবে গুলি লেগে মারা যায়। বেশি পান্ডিত্য ভালো না।

২. দুর্ভাগ্যের সংজ্ঞা এর চেয়ে ভালো হতে পারে না! 

Internet

Internet

১৮৯৬ সালে টেম্পল এজকাম্বে ক্রোজিয়ার নামে একজন অভিনয়কারী লন্ডনে "দ্যা সিনস অফ দ্যা নাইট" নামের একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে এই জগতে পা রাখতে যাচ্ছিলেন। সেই অভিষেক যে তাঁর জীবনের প্রথম ও শেষ অভিষেক হবে সেটা সে কখনো হয়ত ভাবে নি।যাই হোক তাঁর ই এক সহ-অভিনেতার ছুরির আঘাতে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে মঞ্চেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। সংলাপ টি ছিল "মর,শয়তান তুই মর ।" তবে কোন কারণবশত নকল ছুরির স্থলে আসল ছুরি রেখে দেয়া হয়েছিল। এবং নাটকের ঘটনা অনুযায়ী এই সংলাপ শেষ করতেই বুকে ঠিক হার্ট বরাবর নকল ছুরি দিয়ে আঘাত করা। সব নকল ছিল শুধু আঘাতটা আসল ছিল।

৩. লাশবাহী কফিনের চাপায় পড়ে মৃত্যু! 

Photo credit: The London Dead

Photo credit: The London Dead

আমাদের দেশে যদিও মৃতদেহ আত্নীয় স্বজনরাই বহন করে থাকে, বিদেশে কিন্তু এগুলো বহনের জন্য শুধুমাত্র এই পেশায় ই নিয়োজিত মানুষ রয়েছে। এই কাজটা কিন্তু একদম ই ঝুকিপূর্ণ নয়। কিন্তু লন্ডনের হেনরি টেইলরের জন্য তা সত্যি ঝুঁকিপূর্ন ছিল।১৮৭২ সালে একটি বর্ষাস্নাত দিনে টেইলর তাঁর নিয়মিত পেশার অংশ হিসেবে গোরস্থানে কাজ করছিলেন।

সেখানকার ভূমি প্রচণ্ড পিচ্ছিল ছিল এজন্যই কোন ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে সেখানের উপস্থিত শোকার্তদের শবযান থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গোরস্থানে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে শবযান অতিরিক্ত ভারের কারণে কাদায় আটকে না যায়।পরে ৬ জন মানুষ মিলে কফিনটি নিয়ে গোরস্থানের ভেতরে  প্রবেশ করছিলেন হঠাৎ অতিরিক্ত ভারে কফিনটি কাত হয়ে গেল এবং সকলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কফিনটি ছেড়ে দিলে সেটার ভারী অংশ সরাসরি টেইলরের ওপর পড়ল এবং তৎক্ষণাৎই টেইলরের মৃত্যু ঘটে।  

৪. ইঁদুর মারতে গিয়ে ইঁদুর বেচারার গলায় ঢুকে যায় আর ফলাফল মৃত্যু! 

Internet

Internet

১৮৭৫ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার আমলে ইংল্যান্ডে একটা খুব অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একটা কারখানায় যথারীতি সকলে কাজ করছিল। হঠাৎ একজন তরুণী যে তখন তাঁর টেবিলে কাজ করছিলেন চিৎকার করেন। দ্রুত এক সাহসী যুবক তাঁর টেবিলের সামনে দৌড়ে উপস্থিত হলেন। তখন  তিনি দেখতে পেলেন একটা ছিঁচকে ইঁদুর ঐ নারী কর্মীর টেবিলের চারপাশে ঘোরাঘোরি করছিল।একটা কথা বলে রাখছি সেটা হল- সে সময় কারখানাগুলো এখনকার মতো অতটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল না। যার কারণে প্রচুর পোকামাকড় ও ইঁদুরের আস্তানা ছিল সব কারখানাগুলোতেই।

যাইহোক সেই সাহসী লোকটি ইঁদুরটি খপ করে ধরে ফেললেন কিন্তু ঠুস করে ইঁদুরটি তাঁর হাত ফসকে বেড়িয়ে গেল এবং তাঁর শার্টের হাতার ভেতর ঢুকে গেল। তাঁর শার্টের কলার দিয়ে বের হয়ে একটা অন্ধকার গর্ত খোঁজার চেষ্টা করছিল।এবং সেই সাহসী পুরুষের হা করে থাকা মুখের ভেতর লাফ দিয়ে ঢুকে দ্রুত গলার ভেতর চলে গেল। ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজের বরাত দিয়ে আমরা জানতে পারি, একটা ইঁদুর নির্দিষ্ট সময় অবধি পর্যাপ্ত অক্সিজেন ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। যাইহোক সেই ইঁদুর তাঁর গলার থেকে বুকের ভেতর অবধি কুট কুট করে কামড়ে সব টুকরা টুকরা করতে লাগল। যার ফলস্বরূপ সেই অভাগার মৃত্যু ঘটেছিল। এর চেয়ে অস্বাভাবিক মরণ আর কি হতে পারে?

৫. সকালে ঘুম থেকে না উঠতে পারার খেসারত! 

Internet

Internet

স্যাম ওয়ারডেল ১৮৮০ সালের মাঝামাঝি ফ্ল্যাটবুশ (নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের অংশ) এর একজন দীপপ্রজ্বলক হিসেবে কাজ করতেন। দীপপ্রজ্বলকেরা সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে মই নিয়ে গ্যাসচালিত রাস্তার বাতিগুলো জ্বালাতেন এবং খুব ভোরে গিয়ে সেগুলো নিভিয়ে দিতেন। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তাঁদের স্থানীয় মানুষদের ঘুম থেকে জাগাতেও হত। তবে স্যাম নিজেই সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারতেন না।এজন্য তিনি এক অভিনব পদ্ধতির আবিষ্কার করলেন। তিনি যাতে এলার্ম শুনে উঠতে বাধ্য হন সে ব্যবস্থা করলেন। তিনি ঘড়ির সাথে প্রথমে একটা তারের এক মাথা বাঁধলেন এবং অন্য মাথা বাধলেন তার একটি তাকের সাথে। এরপর তিনি একটা সাড়ে ৪ কেজি ওজনের পাথর সেলফের ওপর রাখলেন।

যাইহোক তিনি এমনভাবে সবকিছু সাজিয়েছিলেন যাতে এলার্ম বাজার সাথে সাথে তাকটা মেঝেতে ধপাস করে পরে এবং পাথরটা সজোরে মেঝেতে আঘাত করে যাতে বিকট শব্দ হয়ে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সব  ঠিকঠাক  চলছিল। তার মেঝে অনেক শক্ত ছিল এবং তার নিচতালায় কোন প্রতিবেশী ও ছিল না।১৮৮৫ সালের ক্রিসমাসের আগ পর্যন্ত সব সঠিকভাবেই যাচ্ছিল। যাইহোক তার বাসায় সে ক্রিসমাসে পার্টির আয়োজন করে যেখনে বন্ধুদের দাওয়াত করেছিল। সেখানে নাচানাচি করার জন্য তার জিনিসপত্র সরিয়ে দেয়ালের পাশে রেখেছিল এবং কোন কিছু ঠিক না করেই রাতে মাতাল হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে  এবং যথারীতি ভোরে তার এলার্ম বেজে ওঠে তাকটা মেঝেতে পড়ে ঠিকই তবে পাথরটা তার মাথায় পড়ে। বেচারা এলার্ম বন্ধ করার আগে নিজেই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। 

আয়োজনটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না যেনো! সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ... 



জনপ্রিয়