জিউসের মূর্তি...  জিউসের মূর্তি...

গ্রীক দেবতা ও ঈশ্বর জিউসের সম্পর্কে মজার কিছু অজানা তথ্য!

গ্রীক দেবতা জিউসের নাম আমরা কম বেশি সবাই শুনেছি। গ্রিকদের ঈশ্বর ছিলেন জিউস। তাঁকে গ্রীকরা মনে করতো ঈশ্বরদের ঈশ্বর! তার মানসপুত্র হারকিউলিসও অনেক জনপ্রিয়।গ্রিক মিথলজি বা পুরাণের দেবতাদের চরিত্র অনুসারের এখন পর্যন্ত বহু সিরিয়াল ও ব্যবসাসফল চলচিত্র নির্মিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে! পৌরাণিক কাহিনীর গ্রিক ঈশ্বর জিউস সম্পর্কে আজ আপনাদের কিছু চম্পকপ্রদ তথ্য জানাচ্ছি!  

১।বর্তমানের সব বড় ধর্ম যেমন- খ্রিষ্ট, ইসলাম, জুডাইজম, বৌদ্ধ ধর্ম এবং অন্য সকল ধর্ম প্রবর্তনের আগে জিউসকেই একমাত্র ঈশ্বর বলে দাবি করা হতো। সুদুর গ্রিস থেকে গ্রিক ঈশ্বর জিউসের নাম পৃথিবীর সকল প্রান্তেই ছড়িয়ে গেছিল! গ্রীসের অধিপতি আলেকজান্ডারের হাত ধরে জিউস পাড়ি দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দিকে। রোম সাম্রাজ্যের উত্থানের সাথে সাথে জিউস অধিকার করে নেয় তাদের দেবতার পদ। এভাবে বড় দুইটি সভ্যতার ঈশ্বর এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের পূজনীয় জিউস হয়ে ওঠেন একক আধিপত্যের বিস্তারকারী।   

২। তাঁর প্রিয় পাখি ছিল সোনালী ঈগল, যা তিনি বহন করতেন সবসময় তাঁর সাথেই। তাঁর মতই ঈগলটি ছিল শক্তির প্রতীক, সাহস এবং ন্যায় বিচারের প্রতীক। পরবর্তীতে এটি হয়ে ওঠে প্রাচীন রোমের প্রতীক, বিশেষ করে রোমান লিগনের পরিচায়ক হয় ঈগল। 

৩। বিশ্বাস করা হত, জিউস সবসময় কথা দিয়ে কথা রাখেন এবং তাদেরকে শাস্তি দেন যারা কথা রাখেন না এবং অন্যের কাজে দখল দেন।

৪। অলিম্পিয়ায় সকল গ্রীক নাগরিক তাদের প্রধান দেবতার নিকট নৈবেদ্য দান করতেন। সেখান থেকেই বিখ্যাত অলিম্পিক গেমস এর প্রচলন যা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় দেবতে জিউসের সম্মানে।

৫। যদিও ওরাকল সাইটগুলো সাধারণত দেবতা এপোলো বা অন্যান্য দেবতা, থেমিসের মত জনপ্রিয় দেবীদেরকে উৎসর্গ করা হয়, কিন্তু লেবাননের বা'আল ছিল জিউস সম্পর্কিত যাকে ল্যাটিনরা বলে জুপিটার।

৬। জেরুজালেমের জুদাইন মন্দিরে সম্রাট এন্টিওচাস একটি মূর্তি সনাক্ত করেন যা ছিল দেবতা জিউস অলিম্পিয়াসের মূর্তি। পরবর্তীতে হেলেনিজড জিউএস মূর্তিটিকে বা'আল সামেন হিসেবে চিহ্নিত করেন যার অর্থ 'স্বর্গের দেবতা'।

৭। জিউস ছিল ক্রনোস এবং রেয়ার সন্তান, তার ধারার সর্বোকনিষ্ঠ শিশু, যদিও অনেক সময় বলা হয় সে সবচেয়ে প্রবীন।

৮। জিউসকে তার বাবার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কারণ একজন বলেছিল, তার সন্তানদের একজনই তাকে সিংহাসনচ্যুত করবে। তখন রেয়া তাকে ক্রীটের মাউন্ট ইডার একটি গুহায় লুকিয়ে রাখেন এবং গায়ার কাছে সাহায্য প্রার্থণা করেন।

৯। অন্য একটি উপকাথায় বলা হয়, জিউসকে আমেলথিয়া নামক ছাগলের পিঠে চড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এমন একটি জায়গায় যেখানে সেনারা চিৎকার করছিল, নিজেদের অস্ত্র দ্বারা শব্দ তৈরি করছিল যাতে শিশুর কান্না কেউ শুনতে না পায়।

১০। যদিও বিদ্যুৎ এবং আলোর দেবতা হিসেবে জিউসের নাম শোনা যায়, কিন্তু জিউস বৃষ্টির দেবতাও ছিল। তিনি সবসময়ই প্রকৃতির সাথে জড়িত ছিলেন। শস্য, ঝড়, আবহাওয়া সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন সার্বিক দেবতা।

আমাদের আয়োজন কেমন লাগলো তা মতামতে জানাতে ভুলবেন না যেনো! সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ.... 



জনপ্রিয়