পল ওয়াকার ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস মুভির শুটিং এর বিরতিতে মর্মান্তিক গাড়ি দূর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন!               পল ওয়াকার ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস মুভির শুটিং এর বিরতিতে মর্মান্তিক গাড়ি দূর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন!

শুটিংরত অবস্থায় বিখ্যাত অভিনেতাদের অকাল মৃত্যুই প্রমাণ করে, জীবন কতটা ঠুনকো!

অভিনয় জগতের অধিকাংশ তারকাই স্বাভাবিক মানুষের মতই মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু সিনেমা প্রেমীদের কাছে তারকাদের অকালপ্রয়াণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি স্মৃতি। তারকার আমাদের সিনেমার মাধ্যমে আনন্দ দিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয় অসংখ্য তারকা অভিনয় গুণে মুগ্ধ হয়ে অনেক মানুষের জীবনে পরিবর্তন হয়। মৃত্যু একটি অনিবার্য বিষয় যা কারো পক্ষেই এড়ানো সম্ভব না। বন্ধুরা আপনাদের সামনে আজ আমরা সেইসব বিখ্যাত তারকাদের উপস্থাপন করছি যারা তাদের শেষ সিনেমাটি সম্পন্ন না করেই কেউ কেউ শুটিং স্পটে মৃত্যুবরণ করেছিলেন!

১. হেথ লেজার- ওষুধের বিষক্রিয়ায়

© SonyPicturesClassics   © GettyImages

© SonyPicturesClassics © GettyImages

দা ডার্ক নাইট খ্যাত তারকা হেথ লেজার দা ইমাজিনারিয়া অফ ডক্টর পার্নাসাস নামক চলচ্চিত্রের শুটিং এর মাঝামাঝি সময়ে ২০০৮ সালে তাঁর নিউ ইয়র্কের বাসস্থান থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে এই তারকা'র ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ওষুধের বিষক্রিয়ায় কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

২. মেরিলিন মনরো-মাত্রাতিরিক্ত মাদকাসক্তি

© PublicDomain   © 20thCenturyFox

© PublicDomain © 20thCenturyFox

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আবেদনময়ী অভিনেত্রী মনে করা হয় মেরিলিন মনরোকে।চলচিত্র জীবনে তিনি প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিলেন। তবে একদম ই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল এই জননন্দিত মহাতারকার।ক্ষণজন্মা এই তারকা ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ওপারে পাড়ি জমান।  অনেকেই মনে করেন তাঁকে খুন করা হয়েছিল। তবে, অধিকাংশ মানুষের ধারণা মাত্রাতিরিক্ত মাদকাসক্তিই তাঁর জীবন কেড়ে নিয়েছে। আবার কেউ কেউ দাবি করেন একগাদা ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

৩. সালমান শাহ- আত্নহত্যা বা পরিকল্পিত হত্যা 

daily-sun.com/Salman Shah

daily-sun.com/Salman Shah

নব্বই দশকের বাংলাদেশের চলচিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক সালমান শাহ যিনি তাঁর অভিনয় শৈলী দিয়ে আজো লাখো হৃদয়ে বেঁচে আছেন।সালমানের প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন।স্টাইল, চেহারা, শরীরের গঠন সবই যেনো অনন্য ছিল এই ক্ষণজন্মা মানুষটির।  সর্বপ্রথম বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে একটি গানে মডেল হিসেবে অভিনয় জগতে পা রাখেন এই স্মার্ট নায়ক।  ১৯৮৫ সালে টেলিভিশন নাটক দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হলেও পরে বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা নায়ক হয়ে ওঠেন।

সামিরা ও তাঁর বর্তমান স্বামী!

সামিরা ও তাঁর বর্তমান স্বামী!

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খুব ই অল্প সময়ে তিনি প্রায় ২৭টি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ছাড়াও বেশকিছু দর্শকনন্দিত নাটকে অভিনয় করেন। খ্যাতির শীর্ষে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের নিজ বাসভবনে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় সালমান শাহের। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য এখনো কাটেনি। যদিও লোকমুখে সালমানের স্ত্রী সামিরাকে এই হত্যাকান্ডের সাথে অভিযুক্ত বলে শোনা যায়। শেষ ছবিটিতে তিনি অভিনয় শেষ করে যেতে পারেন নি। 

৪. পল ওয়াকার- গাড়ি দুর্ঘটনা 

nypost.com/Paul Walker

nypost.com/Paul Walker

ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াসের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ পল ওয়াকার শেষের ছবিটি সম্পন্ন না করেই এক মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান, দুর্ঘটনায় পলের গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এ সময় তাঁর সাথে পরশী গাড়িটিতে তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু ও ছিলেন। দুজনেই স্পটেই মারা যান। 

৫. এন্টন ইয়েলচিন- নিজের গাড়ির আঘাতে! 

© Wikipedia   © PublicDomain

© Wikipedia © PublicDomain

আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলেন হলিউডের বিশ্বখ্যাত সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘স্টার ট্রেক’ এ চেকভ চরিত্রে অভিনয় করা প্রতিভাবান ও উদীয়মান অভিনেতা এন্টন ইয়েলচিন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তার লসএঞ্জেলসের বাড়ির সামনে নিজের গাড়ির আঘাতে নিহত হন তিনি। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত এই অভিনেতা তার গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।শুটিং এ যাবার জন্য তাঁর স্বয়ংক্রিয় গারটি গ্যারেজ থেকে বের করার মূহুর্তে কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে পিষে ফেলে।এটা সত্যি অত্যন্ত নির্মম একটি মৃত্যু।   

৬. ব্রুস লি- মস্তিষ্ক ফুলে গিয়ে! 

© PublicDomain   © WarnerBros

© PublicDomain © WarnerBros

১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে এমন একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো যিনি পশ্চিমা বিশ্বে চীনা সংষ্কৃতির ধারণা বদলে দিয়েছিলেন। জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন সনাতন মার্শাল আর্টের চর্চ্চা।তিনি হলেন ব্রুস লী।দিনটা ছিলো ১৯৭৩ সালের ২০শে জুলাই। সেদিন হঠাৎ করেই তরুণ অভিনেতা এবং মার্শাল আর্ট শিল্পী ব্রুস লীর মৃত্যুর খবরে সারা বিশ্বেই শোক ছড়িয়ে পড়লো।হংকং এ কাউলুন টং-এর একটি বাড়িতে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি বলছিলেন যে তার মাথা ধরেছে এবং এজন্যে তিনি মাথাব্যাথার ওষুধও খেয়েছিলেন। মূলত ব্রেইন ইডিমা নামক রোগে মৃত্যু হয় তাঁর। তার বয়স হয়েছিলো মাত্র ৩২ বছর। শেষ চলচিত্র ছিল এন্টার দ্যা ড্রাগন। 

৭. ব্র্যান্ডন লি- পেটে গুলি লেগে! 

© BrandonLeeFB   © MiramaxFilms

© BrandonLeeFB © MiramaxFilms

ব্রুসলির ছেলে ব্র্যান্ডন লি ও বাবার মতো একটি সিনেমার শুটিং চলাকালীন মারা যান। এ যেনো ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। ১৯৯৩ সালে ‘দ্য ক্রো’ ছবির শুটিং সেটে মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। যেই দৃশ্যের শট দেওয়ার সময় ব্র্যান্ডন লি মৃত্যুবরণ করেন, সেটি তাঁর বডি ডাবলকে দিয়ে শেষ করা হয়েছিল।মূলত শুটিং এ ব্যবহৃত একটি ডামি পিস্তল যার ভেতর ডামি বুলেট লোড করা ছিল সেটা দিয়ে গুলি ছুড়লে লি'র পেটে লাগে এবং প্রচণ্ড রক্ত ক্ষরণ শুরু হয়। পরবর্তিতে তাঁর মৃত্যু হয়। আর ১৯৯৩ সালে মেকআপ ও সম্পাদনার অনেক আধুনিক কলাকৌশলের সঙ্গেও বেশ পরিচিত হয়ে উঠছিল হলিউড। সেসব কৌশল কাজে লাগিয়ে পরিচালক ব্র্যান্ডন লিকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন। এই তারকার মৃত্যুর পরের বছর মুক্তি পায় ‘দ্য ক্রো’। ছবিটি বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য বয়ে আনে।   

৮.অলিভার রিড- হার্ট অ্যাটাকে

© Nijs, Jac. de / Anefo   © UniversalPictures

© Nijs, Jac. de / Anefo © UniversalPictures

‘গ্লাডিয়েটর’ ছবির শুটিং শেষ হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা অলিভার রিড।পরে ছবির পরিচালক কম্পিউটার গ্রাফিকস, স্টান্ট ডাবল ও ম্যনিকুইন ব্যবহার করে অলিভারকে পর্দায় ‘জীবন্ত’ করে ছবিটি শেষ করেন।  

৯. ফিলিপ সেমুর হফম্যান- অতিরিক্ত ওষুধ সেবন

© Georges Biard   © Lionsgate Movies

© Georges Biard © Lionsgate Movies

হলিউডি অভিনেতা ফিলিপ সেমুর হফম্যনকে তাঁর নিউ ইয়র্কের ম্যানহ্যাটনের বাসভবন থেকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, অস্কারজয়ী ওই অভিনেতার মৃত্যুর কারণ ছিল অতিরিক্ত ওষুধ সেবন।  ‘হাঙ্গার গেইমস’ সিরিজের ‘দ্য হ্যাঙ্গার গেইমস: মকিংজেয়’-এর শুটিং শেষ করে যেতে পারেননি এই শক্তিমান অভিনেতা।

১০. ক্লার্ক গেবল- হার্ট অ্যাটাকে

© PublicDomain   © UnitedArtists

© PublicDomain © UnitedArtists

ক্লার্ক গেবল গন উইথ দা  ওয়িন্ড এবং অন্যান্য অনেক দুর্দান্ত ক্লাসিক চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তী অভিনেতা ছিলেন। দ্য মফিস্ট সিনেমার চিত্রগ্রহণকালে তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন এবং সিনেমাটি অসম্পন্ন রেখেই পরপারে পাড়ি জমান। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন মেরিলিন মনরো, যিনি তাঁর পরে মাত্র এক বছরেরও কম সময়ে মারা গেছেন। 

আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ.... 



জনপ্রিয়