ভ্লাদিমিরের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারে বেঁচে যাবে অসংখ্য প্রাণ...   ভ্লাদিমিরের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারে বেঁচে যাবে অসংখ্য প্রাণ...

অসাধারণ এই আবিষ্কারে আগামীতে বিমান দূর্ঘটনায় বেঁচে যাবে লক্ষ লক্ষ প্রাণ!

বিমান দুর্ঘটনা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম একটি ঘটনা যেখানে একজন যাত্রীর বেঁচে থাকার বিন্দুমাত্র আশা থাকে না। প্রতিদিন অসংখ্য বিমান পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে যাচ্ছে। যদিও দুর্ঘটনার পরিমাণ খুবই কম কিন্তু যে বিমান দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় তার যাত্রী থেকে শুরু করে কেবিন ক্রু কিংবা পাইলট কেউই জীবিত ফিরতে পারেন না। প্রত্যেকটা বিমান দুর্ঘটনার সমাপ্তি খুবই করুন ও ভয়াবহ যেখানে আপন জনের মৃতদেহ চিহ্নিত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক মানুষই ভয়ে বিমানে চড়তে চান না। বিমান আকাশে উড়ছে ভয় সেখানে না বরং ভয় হচ্ছে আমি সুস্থ ভাবে আমার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারবো কিনা? বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই অনেক গবেষণা ও চিন্তা ভাবনা করেই চলেছেন যে এমন কোনো উপায় বের করা কি সম্ভব? যেখানে বিমান দুর্ঘটনা হলেও প্রত্যেকটা যাচ্ছে কি নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব।

i.ytimg.com

i.ytimg.com

কেমন হয় যদি আমরা বিমান দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরতে পারি? হ্যাঁ এমন আশার বাণী শুনিয়েছেন ইউক্রেনের একজন বিমান প্রকৌশলী যার নাম নাদিমের টাটারেনকো। ভ্লাদিমির তিন বছর ধরে বিমান সংক্রান্ত দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের এবং অন্যান্য সকল কে বাঁচানোর উপায় খুঁজছিলেন এবং তিনি খুঁজে ও পেয়েছেন। তিনি বিমানের যাত্রীদের বহনের জন্য একটি আলাদা করা যায় এমন কেবিনের নকশা প্রণয়ন করেছেন যেই কেবিনটি সেকেন্ডেরও কম সময়ে জরুরি অবস্থায় মূল বিমান থেকে আলাদা করে ফেলা যাবে। কেবিনটি যেকোনো জায়গায় অবতরণ করতে পারবে। সমুদ্রে ,নদীতে, সমতল ভূমি কিংবা যে কোন দুর্গম অঞ্চলে এই অপসারনযোগ্য নিরাপদ ভাবে যাত্রীদের নিয়ে অবতরণ করতে পারবে।

sa.kapamilya.com

sa.kapamilya.com

এই প্রথিতযশা বিজ্ঞানী বলেন, যদিও পৃথিবীর সকল দেশের সকল প্রান্তে বিজ্ঞানীরা বারবার চেষ্টা করে চলেছেন যাতে করে বিমান কে আরো বেশি নিরাপদ করা যায় কিন্তু মানুষের তৈরি বা সংগঠিত কোন বিষয় থেকে বিমান কে কখনোই বাঁচানো সম্ভব নয়। অবশ্যই যদি বিমানে কোন বোমা আঘাত করে সেক্ষেত্রে হয়তো বা যাত্রীদের বাঁচানো সম্ভব না। অনেকেই বলেছেন যে এই অপসারণযোগ্য কেবিনটি বিমানের কাঠামোগত অখন্ডতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে। অবশেষে বৈমানিকদের কি হবে? যাত্রী এত নিরাপদে অবতরণ করবেন। ভাদিমির এর আবিষ্কারকে এমন সব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু ভাদিমির বলছেন তার এই আবিষ্কারে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বেঁচে যাবে। চলুন কিভাবে এটা কাজ করবে আমরা জানবো।

১. বিমানে যেকোনো ধরনের ত্রুটি হওয়া মাত্রই সেকেন্ডেরও কম সময়ে এই অপসারণযোগ্য কেবিনটি আলাদা হয়ে যেতে পারবে।

static.boredpanda.com

static.boredpanda.com

২. আলাদা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি গান পাউডার ইঞ্জিন সম্বলিত মেশিন অপসারনযোগ্য কেবিনটির গতিকে কমিয়ে দেবে এবং প্যারাসুট উন্মোচিত হবে।

static.boredpanda.com

static.boredpanda.com

৩. দুর্ঘটনায় পতিত বিমান থেকে অদূরে এই অপসারণযোগ্য কেবিন যাত্রীদের নিয়ে নিরাপদে ভূমিতে অবতরণ করবেন।

static.boredpanda.com

static.boredpanda.com

৪. পানিতে অবতরণের ক্ষেত্রে এই কেবিনের সাথে কিছু রাবারের তৈরী টিউব থাকবে যেগুলো বায়ুতে পরিপূর্ণ হয়ে কেবিনকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করবে। এর অর্থ হচ্ছে আপনি জলে ও নিরাপদ।

static.boredpanda.com

static.boredpanda.com

৫. আপনার মালপত্র নিয়ে কোন ধরনের চিন্তা করতে হবে না যেহেতু কেবিনটির নিজস্ব সংরক্ষণাগার রয়েছে।

static.boredpanda.com

static.boredpanda.com

৬. এই অপসারণযোগ্য কেবিনটি বিমানের নিচের দিকে থাকা একটি রিয়ার হ্যাচের মাধ্যমে যে কোন মুহূর্তে উড্ডয়ন কিংবা আকাশে থাকা অবস্থায় অথবা অবতরণের ক্ষেত্রে খুব সহজেই অতি অল্প সময়ের মধ্যে মূল বিমান থেকে আলাদা করা যাবে।

static.boredpanda.com

static.boredpanda.com

আমরা আগেই বলেছি যে কিছু সমালোচক এই আবিষ্কারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু যুক্তি দিয়েছেন যেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই ধরনের অপসারণযোগ্য কেবিন ব্যবহারের ফলে বিমানের কাঠামোগত অখন্ডতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে এর ফলে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। যে কোন ধরনের রকেট অ্যাটাক এর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কাজে আসবে না। দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে, পাইলটরা যে কোন ভাবেই দুর্ঘটনায় পতিত বিমানের মধ্যে অবস্থান করবেন।

Vladimir Tatarenko, engineer, the member of the NAS Ukraine

Vladimir Tatarenko, engineer, the member of the NAS Ukraine

পরিশেষে, কিছু মানুষ এই ধরনের আবিষ্কার এর দেয় কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যারা এ ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন তাদের ভাষ্যমতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বিমান আসা যাওয়া করে যেখানে বিমান দুর্ঘটনায় সারা বিশ্বে ৫০০'র ও কম মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সুতরাং এতগুলো বিমানে একযোগে এই ধরনের সুবিধা নিয়ে আসা যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু ভ্লাদিমির বলেন তার এই আবিষ্কারের পক্ষে ৯৫% মানুষই একমত পোষণ করেছেন যাদের সকলে এ ধরনের ব্যবস্থাপনার জন্য অনেক বেশি পরিমাণ টাকা খরচ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন। ভ্লাদিমির এর এই আবিষ্কার কতটা কার্যকর হবে সেটা আমরা জানি না তবে অদূর ভবিষ্যতে বিমান দুর্ঘটনায় মানুষের জীবন বাঁচাতে এ ধরনের আবিষ্কার অবশ্যই প্রশংসনীয়।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ.... 



জনপ্রিয়