মারিয়া জিমেন্জ ওরফে লা টোসকা ইতিহাসের জঘন্য নারী মাফিয়া ডানে মানুষ মেরে দিন দুপুরে ঝুলিয়ে রেখেছিল... মারিয়া জিমেন্জ ওরফে লা টোসকা ইতিহাসের জঘন্য নারী মাফিয়া ডানে মানুষ মেরে দিন দুপুরে ঝুলিয়ে রেখেছিল...

বিশ্বজুড়ে কুখ্যাত নারী মাফিয়াদের লোমহর্ষক হত্যা ও অপরাধ সমগ্র মা জাতিকে কলঙ্কিত করেছে!

নারীদের কথা এলে আমাদের সবার আগে তাদের শান্ত স্বভাবের কথা মনে পড়ে। বর্তমানে নারীরা আর আগের মত ভীতু কিংবা কুয়ার ব্যাঙ নয়। তারা তাদের জড়তা, ঢর জয় করে বেরিয়ে এসেছেন।লুকিয়ে থাকার দিন শেষ, এখন তারা গ্যাংস্টারের খাতায় ও নাম লিখিয়েছে।নারীদের যে কোমল রূপের বাইরে ভিন্ন এক নিষ্ঠুর রূপ রয়েছে তা এ নারীদের সম্পর্কে না জানলে আপনি বিশ্বাস ই করবেন না।যিনি রাঁধতে জানেন তিনি বাঁধতে ও জানেন আবার গলায় ছুরি ও চালাতে জানেন। শুধু মা না একজন নারী গ্যাংস্টার ও হতে পারেন। আজ আমরা আপনাদের সেই সব নারীদের কথা বলবো যারা প্রত্যেকে আন্ডারয়ার্ল্ডের বড় বড় ডন এরা মা জাতির কলঙ্ক।  

১০. মারিয়া জিমেন্জ ওরফে লা টোসকা ইতিহাসের জঘন্য নারী মাফিয়া 

3.bp.blogspot.com

3.bp.blogspot.com

মেক্সিকোর সবচাইতে জঘন্য নারী গুপ্তঘাতক ২০ জন মানুষকে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন। মারিয়া জিমেন্জ ওরফে লা টোসকা ২০১২ সালে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হন। ২৬ বছর বয়সী বিধবা নারী আরো স্বীকার করেন যে, তাকে হত্যা এবং অন্যান্য মাদক সংক্রান্ত চোরাকারবার সম্পাদনের জন্য প্রতি মাসে ১৭০০ মার্কিন ডলার করে দেয়া হতো। সে বিপরীত দলের কিছু মাদক চোরাকারবারী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং ঘটনার স্থান থেকে তাকে তার সাথে তিনজন পুরুষ গুপ্তঘাতক সঙ্গী সহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের এই মাফিয়া গ্যাং মেক্সিকোর মানিটারি নামক স্থানের নুয়ে লার্দো শহরের ১৪ টির বেশি স্থানে অবৈধ মাদক বিক্রি করতো।

img2.rtve.es

img2.rtve.es

যে শহরটি একসময় লাটিন আমেরিকার সবচাইতে নিরাপদ শহর হিসেবে বিবেচিত সেটি আজ মাফিয়াদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। ২০০৬ সাল পর্যন্ত মেক্সিকোতে ৫০,০০০ এরও বেশি মাদক সংক্রান্ত হত্যা সংঘটিত হয়েছে! তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল মূলত মেক্সিকোর মাদক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত নুয়ে লার্দো শহরের একটি সেতুতে ৯ মানুষের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় একটি বড় ব্যানারসহ পাওয়া যায় যার ২৩ দিনের মাথায়। এখানে মাদক মাফিয়াদের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হচ্ছে মারিয়ার ড্রাগ কার্টেল "লাস্ট জেটাস"। এই হত্যা মারিয়া ও তার সঙ্গীরা মিলে করেছিল। ভাবতে পারে না একজন নারী হয়ে এত ভয়ংকর কাজ কিভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব? পুলিশ পরবর্তীতে আরো ১৪ টি মানুষের মাথা সেখানকার সিটি হলের বাহিরে একটি কুলার এর মধ্যে খুঁজে পান যেখানে হুমকির একটি নোট লিখাছিল।

৯. গ্রিসেল্ডা বালানকো রেস্ট্রেপো ওরফে লা মাড্রিনা কোকেন সম্রাট ও মাফিয়া

Internet

Internet

অন্ধকার জগতে এক ভয়ঙ্কর নারী গ্যাংস্টার হলেন কলাম্বিয়ার গ্রিসেল্ডা বালানকো রেস্ট্রেপো যিনি মাফিয়া জগতে " The Black Widow" নামে পরিচিত। তিনি হচ্ছেন কোকেন সম্রাজ্ঞী বা কোকেনের দেবী। অনেকে তাঁকে লা মাড্রিনা নামে ও চেনেন। যিনি মাদক পাচারের রানী। ১৯৫০-২০০০ সালের আগ পর্যন্ত মিডেলিন কার্টেল নামক কলাম্বিয়ার মাফিয়া সংগঠনের প্রধান এবং মিয়ামি ভিত্তিক কোকেইন নামক মাদক ব্যবসা ও আন্ডারয়ার্ল্ডের অগ্রদূত হচ্ছেন এই ব্ল্যাক উইডো।তিনি এখন পর্যন্ত ২০০ এর ও অধিক খুন করেছেন।

৮. মেলিসা মারগারেটা কালডেরন অজেডা ওরফে লা চায়না 

Internet

Internet

মেলিসা মারগারেটা কালডেরন অজেডা অরফে লা চায়না যিনি একজন মেক্সিকান মাদক চোরাকারবারী, গুপ্তঘাতক এবং "Sinaloa Cartel" নামক মেক্সিকোর মাফিয়া সংগঠনের কার্যকরী দল  "Las Fuerzas Especiales de Los Dámaso" সংগঠনের মূল হোতা। তাঁর বিরুদ্ধে মেক্সিকোতে ১৫০ টির ও বেশি খুনের অভিযোগ রয়েছে এবং লা পাজ নামক স্থানে বহু সহিংসতা ও সংঘর্ষের মূল হোতা এই সুন্দরী চেহারার ডাইনি। অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যার পর সে মৃতদেহগুলো মৃতদের আত্নীয় স্বজনের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে আসত। 

৭. মারিয়া লিসিয়ারডি ক্যামোরা নামক মাফিয়া সংগঠনের প্রধান

www.thestar.com

www.thestar.com

মারিয়া একজন জন্মগত অপরাধী। তার পুরো পরিবার ইতালিতে মাফিয়া সংগঠন চালায়। সে তার পরিবারকে পতিতাবৃত্তিতে ধাবিত করেছেন পাশাপাশি সেখানে কোকেন ও হেরোইন ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ক্যামোরা নামক অপরাধী সংগঠনের সআথে মারিয়া জড়িত এবং তিনি লিসিয়ারডি সম্প্রদায়ের প্রধান। গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল ধরে ন্যাপলস শহরের ক্যামোরা নামক মাফিয়া সংগঠনের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন।

৬. সামান্থা লুইস লুইথওয়েইট 

www.the-star.co.ke

www.the-star.co.ke

সামান্থা লুইস লুইথওয়েইট যে কিনা শেরাফিয়াহ লুইথওয়েইট অথবা দ্যা হোয়াইট উইডো নামে মাফিয়া জগতে পরিচিত। ব্রিটিশ এই নারী বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের অন্যতম সন্দেহভাজন দাগী আসামী। লন্ডনের ৭/৭ আত্নঘাতী বোমা হামলাকারী জঙ্গী জারমাইন লিন্ডসে ওরফে আব্দুল্লাহ শাহিদ জামালের বিধবা স্ত্রী হলেন এই সামান্থা যার বিরুদ্ধে ৪০০ জন মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় অবস্থান করছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা দাবী করছে। তারা আরো বলেন যে সামান্থা সেখানে নারী জঙ্গীদের আত্নঘাতী বোমা হামলার প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

৫. ক্লাউডিয়া ওচোয়া ফেলিক্স

www.researchgate.net

www.researchgate.net

 ক্লাউডিয়া ওচোয়া ফেলিক্স হলেন একজন মেক্সিকান মডেল এবং সামাজিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। ২০১৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গুজব ওঠে যে তিনি বিখ্যাত মাফিয়া সংগঠন সিনাওয়ালা কারটেলের একজন উচ্চ পদধারী মাফিয়া যিনি এই মাফিয়াদের মার্ডার স্কোয়াড লস আন্ট্রাক্সের সদস্য। 

৪. এঞ্জি সানচেলেন্টে ভ্যালেন্সিয়া

4.bp.blogspot.com

4.bp.blogspot.com

এঞ্জি সানচেলেন্টে ভ্যালেন্সিয়া কলাম্বিয়ার একজন সাবেক বিউটি কুইন ও লিঙ্গারি মডেল যাকে পৃথিবীর সবচাইতে বড় ড্রাগ মাফিয়া সংগঠনের সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়। তাঁর বয়ফ্রেন্ড মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত এবং তিনি ও তার সাথে জোটবেধে ব্যবসা পরইচালনা করেন। সে তার সহকর্মীদের মাদক সেবন করিয়ে নেশাগ্রস্থ করে বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।

৩. স্যান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

servindope.files.wordpress.com

servindope.files.wordpress.com

স্যান্ড্রা আভিলা বেলট্রান হচ্ছেন মেক্সিকান মাদক সম্রাজ্ঞী যিনি মেক্সিকান কার্টেল মাফিয়াদের অনুসারী। গণমাধ্যমে লা রেইনা পাসিফিকা নামে পরিচিত। বর্তমানে জেলে থেকেও তিনি বিলাসবহুল জীবন অতিবাহিত করছেন। সুন্দর চেহারার আড়ালে একজন ভয়ানক ড্রাগ মাফিয়া এই সান্ড্রা।

২. রাফায়েলা দি অল্ট্রিও ওরফে দ্যা বিগ ফিমেল কিটেন 

mbroiler.ru

mbroiler.ru

রাফায়েলা দি অল্ট্রিও ৪৬ বছর বয়সী রাফায়েলা একজন স্বর্ণকেশী মাফিয়া গডমাদার। ২০১২ সালে ইতালির পুলিশ তাকে এবং তার ড্রাগ মাফিয়া দলের ৬৫ জন সঙ্গী সহ গ্রেফতার করে। যাদেরকে ধরার জন্য ইতালির পুলিশের বিশাল সুসজ্জিত বহরের প্রয়োজন হয়েছিল। হেলিকপ্টার এবং গোয়েন্দা কুকুর এই অভিযানে ভয়ংকর এই মাফিয়াকে গ্রেপ্তার করতে প্রয়োজন হয়েছিল। ৬ বছর আগে রাফায়েল আর মাদক ব্যবসায়ী স্বামীকে প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক মাফিয়া দলের কিছু সদস্য গুলি করে হত্যা করেছিল।এরপর থেকে তিনি তার স্বামীর মাফিয়া সংগঠন নিজেই প্রচারণা শুরু করেন। মাদক পাচার থেকে শুরু করে অপহরণ, গুম ও খুনের মতো নৃশংস অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন রাফায়েলা ও তার সহযোগী সদস্যরা। ইতালিতে ড্রাগ মাফিয়াদের কবলে পড়ে ৩০ বছরে ৪০০০ লোক খুন হয়।বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

১. এনা চ্যাপম্যান

media.vanityfair.com

media.vanityfair.com

এনা চ্যাপম্যান মূলত রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রতিনিধি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং একজন মডেল যাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল। ভারতের সে একজন রাশিয়ান মাফিয়া যে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির কাজে নিয়োজিত। তিনি রাশিয়ান ফেডারেশন এর বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা স্লুজবা ভেনশনি রজভেদকির পক্ষে কাজ করতেন। 

আমাদের আয়োজন কেমন লাগলো বন্ধুরা? যদি ভালো লেগে থাকে আপনাদের মতামত কমেন্ট বক্সে জানানোর অনুরোধ রইলো। সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়