ঘুমের ঘোরে যে মানুষ কত অস্বাভাবিক কাজ করে তা আসলে আপনি কল্পনা ও করতে পারবেন না          ঘুমের ঘোরে যে মানুষ কত অস্বাভাবিক কাজ করে তা আসলে আপনি কল্পনা ও করতে পারবেন না

স্বপ্নচারীরা ঘুমের ঘোরে হাঁটার বাইরে যে সব অস্বাভাবিক কাজ করেন তা গা সিউরে ওঠার মত!

ঘুম সাধারণত একটা শান্তিপূর্ণ কাজ। সাধারণত যখন আমরা রাতে ঘুমোতে যাই আমাদের অনেকেই শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে চাবি লুকিয়ে ফেলার প্রয়োজন মনে করেন না। কিংবা আমরা ঘুমোতে যাওয়ার আগে রেফ্রিজারেটর দরজায় লক করিনা অথবা কোন ধারালো বস্তু লুকিয়ে রাখি না। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার কমপক্ষে ১ শতাংশ নিয়মিত নিদ্রায় হাঁটাহাঁটি করেন। রাতে চোখ বন্ধ করার পর কিছু অস্বাভাবিক এবং ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও নিদ্রার ঘোরে হাঁটাহাঁটি করা অনেক মানুষ শুধুমাত্র ঘরের বিভিন্ন জায়গায় হাঁটাহাঁটি করে বিছানায় ফিরে আসতে পারেন যা পরিবারের জন্য অবশ্যই দুশ্চিন্তা জনক কিন্তু এর বাহিরেও ঘুমের ঘোরে যারা হাঁটাহাঁটি করেন এমন কিছু কাজ করেন যা আসলেই ভয়াবহ। 

১০. সেক্স করা- স্বপ্নচারীদের অনেকেই ঘুমের ঘোরে নিজের সাথে কিংবা সঙ্গীর সাথে যৌন ক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন 

listverse.com

listverse.com

ঘুমের ঘোরে অনেক মানুষ তার নিজের সাথে কিংবা সঙ্গীর সাথে যৌনতায় লিপ্ত হতে পারেন যেটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সেক্সোমনিয়া। মজার বিষয় হচ্ছে যিনি ঘুমের ঘরে এ কাজটা করছেন তিনি আসলে সজ্ঞানে এ কাজটা করছেন না এবং পরের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর সে যা করেছিল সেটা তার মনেও থাকে না। নারী পুরুষ উভয়ই এই ধরনের অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে পারেন। সেক্সসমনিয়ার শিকার ব্যক্তি নারী কিংবা পুরুষ উভয়ই ভয়াবহ অবস্থার শিকার হতে পারেন। এবং এক্ষেত্রে যেটা জটিলতার তৈরি করে সেটা হচ্ছে এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ না জেনে কাউকে ঘুমের ঘোরে ধর্ষণ করে ফেলতে পারেন। পরবর্তীতে যার জন্য তাকে আইনগত শাস্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে।

৯. গাড়ি চালানো- গাড়ী চালিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার চলে গিয়েছিলেন এক মহিলা

listverse.com

listverse.com

যেহেতু ঘুমের মধ্যে হাঁটা সম্ভব সে ক্ষেত্রে এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষে গাড়ি ও চালানো সম্ভব। এ ধরণের মানুষ ঘুমের ঘোরে প্রায়ই অনেক দূরে ও গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে পারেন। এটা আসলে পরিমাপ করা সম্ভব না যে কতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা স্বপ্নচারীদের কারণে ঘটেছে। যেহেতু স্বপ্নচারীরা ঘুমের ঘরে গাড়ি চালান তাদের পক্ষে নিজেই ড্রাইভ করা সম্ভব না এজন্য তারা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির উপর নির্ভর করেন। অবশ্যই শুধুমাত্র স্বপ্নচারিনী গাড়ি চালা না বরং ঘুমের ঘোরে মদ পান করে ও গাড়ি চালাতে পারেন। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একজন নারী স্বপ্নচারী ঘুমের ঘরে তার অফিস থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে শুধুমাত্র পাজামা পড়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গিয়েছিলেন।

০৮. খুন- ঘুমের ঘোরে একজন ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে

listverse.com

listverse.com

২০০৯ সালে ওয়েলসের বায়ান থমাস নামের একজন স্বপ্নচারী ঘুমের ঘরে হাঁটার সময় তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন। মূলত থমাস এ ধরনের সমস্যায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ভুগছিলেন। এজন্যই সে এবং তার স্ত্রী আলাদা কক্ষে রাতে ঘুমাতেন। কিন্তু সমস্যা হয় তারা যখন তাদের অবকাশ যাপনের জন্য ক্যাম্পারভ্যানে করে এক জায়গায় যাচ্ছিলেন সেদিন তারা ক্যাম্পারভ্যানে একই জায়গায় রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সমাস মূলত তার এই সমস্যার জন্য ওষুধ খেতেন। কিন্তু যখন তারা অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ছিলেন সে ওষুধ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। ওষুধ নিয়ে বন্ধ করা কারণ ছিল ওষুধ গ্রহণের ফলে তার যৌন শক্তি কমে যেত।

তাদের যাত্রা ভালই ছিল কিন্তু তাদের ক্যাম্পারভ্যানের পাশ দিয়ে কিছু তরুণ রেসিং কার নিয়ে দ্রুত গতিতে চলে গিয়েছিল। এবং ঐদিন রাতে থমাস ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেনি। রাতে সে দুঃস্বপ্ন দেখে যে সেই যুবক গুলো তাদের ক্যাম্পারভ্যানে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করছে। এবং সে স্বপ্নে দেখছিল যে সে তার স্ত্রীকে তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচার ছিল। কিন্তু নির্মমভাবে সত্য ছিল তাই যে থমাস ঘুমের ঘোরে তার স্ত্রীর গলাচিপে শ্বাসরোধ করে দিয়েছিল এর ফলে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছিল।

০৭. উলঙ্গ হওয়া- স্বপ্নচারী ঘুমের মধ্যে বাস্তবে উলঙ্গ হয়ে জনসমক্ষে হাজির হয়ে যেতে পারেন

listverse.com

listverse.com

নিজেকে মানুষের সামনে উলঙ্গ দেখা একটা বহুল প্রচলিত স্বপ্ন। কিন্তু অনেক স্লিপওয়াকার বা স্বপ্নচারীর ক্ষেত্রেই এটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে। বিদেশের বিভিন্ন দেশে আবাসিক হোটেলগুলো এরকম অপ্রীতিকর অবস্থা এড়ানোর কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ যদি হোটেলে অবস্থানরত কোন ব্যক্তি ঘুমের ঘোরে উলঙ্গ অবস্থায় রিসিপশনে চলে আসে কিংবা করিডোরে হাঁটাহাঁটি করে সে ক্ষেত্রে হোটেল কর্মচারীদের তোয়ালে এবং রুমের চাবি সরবরাহ করা হয় যাতে তারা সেরকম কোন পরিস্থিতিতে কাস্টমারদের রক্ষা করতে পারেন এবং সসম্মানে তাদের কক্ষে পৌঁছে দিতে পারেন। বিদেশের আবাসিক হোটেলগুলোতে এমন সমস্যা প্রায়ই হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশে তেমন হয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই। 

০৬. অনেক বেশি কথা বলা

listverse.com

listverse.com

আমাদের প্রায় সবাই কম বেশি ঘুমের ঘরে কথা বলে থাকি। যাইহোক কিছু মানুষ রয়েছে যারা তাদের পুরো আলোচনায় ঘুমের মধ্যে সেরে নেন। ঘুমের ঘোরে কথা বলা যে কতটা বিরক্তিকর সেটা যে ঘুমিয়ে আছে সে হয়তো পরদিন সকালে মনে করতে পারেন না। কিন্তু যার সাথে ঘুমিয়ে ছিল সেই বেচারার অবস্থা নাজেহাল হয়ে যায়। যদিও এ ধরনের সমস্যা অনেক বড় কোনো সমস্যা নয় এবং কারো ক্ষতি করে না তবে এটা এই সমস্যার কুত্তা ভোগে যথেষ্ট বিব্রত অবস্থায় থাকেন। এখানে সমস্যা হতে পারে নিদ্রাহীনতা, মানসিক চাপ, মাদক এবং অ্যালকোহল এর ব্যবহারের ফলে। তবে গবেষকগণ এটা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন যে, ঘুমের ঘরে যে কথা গুলো মূলত একজন মানুষ বলে থাকেন সেগুলোর বেশিরভাগই হচ্ছে "না" বোধক কোন উক্তি কিংবা বিভিন্ন ধরনের "শপথ" জাতীয় বাক্য।

০৫. সৃজনশীল কাজ করা- পিয়ানো বাজানো কিংবা চিত্রঙ্কন স্বপ্নচারীর কাছে কোন ব্যাপার ই না

three-olives.net

three-olives.net

সম্ভবত অবচেতন হাওয়ার মধ্যে এমন কিছু আছে যেটা মানুষের ভেতরের সৃজনশীল কর্মকান্ড কে বের করে নিয়ে আসতে পারে। ২০১৫ সালে আমেরিকাতে একটা ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে ঘুমের ঘরে পিয়ানো বাজাতে দেখা যায় যেটা তার পরিবারের সদস্যরা ভিডিও ধারণ করেছিলেন। যদিও সে তার নাক ডাকার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল এবং তার মাথা পিয়ানোর ঠিক উপরে রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিল তবুও সে সুন্দর সুর তৈরি করতে পেরেছিল। শুধুমাত্র তাই নয় স্বপ্নচারী রা ঘুমের ঘোরে চিত্রকর্ম ও এঁকেছেন।

আমেরিকার লিডভ ইন নামের একজন স্বপ্নচারী তার ঘুমের মধ্যে আঁকা চিত্রকর্মের চিত্রশালার আয়োজন করেছিল যেখানে সে তার আঁকা চিত্রকর্ম গুলো ভালো দামে বিক্রি ও করেছিল। আবাসন অবাক লাগতে পারে যে তার চিত্রকর্ম আমেরিকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিনেছিলেন। তবে বেশির ভাগ গবেষক মনে করেন চিত্র আঁকার জন্য একজন শিল্পীকে সচেতন এবং সংবেদনশীল হতে হয়, তবে আমাদের মস্তিষ্কের কারণে হয়তো এমন ধরনের সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড শিশু শিল্পীদের পক্ষে আঁকা সম্ভব হয়েছে যারা আসলে চেতন অবস্থায় ছিলেন না।

০৪. বাস্তবে অবাস্তব স্বপ্ন দেখা- অনেকে ঘুমের ঘোরে কাপরচোপড় গুছিয়ে ফেলতে পারেন

listverse.com

listverse.com

স্বপ্নচারী রাত জেগে জেগে স্বপ্ন দেখেন। মূলত তাদের মস্তিষ্ক পিসির সাথে যোগাযোগ স্থাপন বন্ধ করে দেয় শুধুমাত্র চোখ এবং মধ্যচ্ছদা ( যেটা আমাদের শ্বাসকার্য পরিচালনা করতে সাহায্য করে)সাথে যোগাযোগ বহাল রাখে ফলে স্বপ্নচারীরা নিদ্রা অবস্থায় কার্যকরভাবে অবশ হয়ে যায়। সমস্যা ঘুমানোর ৯০ মিনিটের মাথায় হতে পারে এবং সারা রাতে স্বপ্নচারী যা সাধারণত তিনটি কিংবা তার বেশি ধাপে এমন সমস্যায় পড়তে পারে। এই ধরনের সমস্যা আক্রান্ত মানুষ পরবর্তীতে আরেকটা ধাপে উন্নীত হয় আর সেই ধাপ হচ্ছে- দেশি গুলো আগের ধাপের মতো পুরোপুরি অবশ হয়ে যায় না এবং সে ক্ষেত্রে স্বপ্নচারিরা বাস্তব স্বপ্ন দেখতে থাকেন। যেমন তারা দেখতে পান যে কোথাও যাওয়ার জন্য কাপড়চোপড় গোছাচ্ছেন স্যুটকেসে সেগুলো পুরছেন। কিন্তু আসলে কোথাও যাচ্ছেন না কিংবা সামনে কোন বাস্তব সুটকেস ও নেই।

০৩. সশস্ত্র ডাকাতি- ব্র্যাড পিটের সিনেমা দেখে ঘুমানোর পর এক মহিলা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়ে সশস্ত্র ডাকাতি করার চেষ্টা করেন

listverse.com

listverse.com

এতক্ষণ যে ঘটনাগুলো আমরা জেনেছি সেগুলোর মধ্যে খুব সম্ভবত এটা সবচাইতে ভয়ংকর ঘটনা। ২০০৭ সালে মারিয়া হুডসান টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন। এবং নিদ অবস্থায় তিনি ঘরে গিয়ে হাত মোজা পড়েন এবং পাতলা এক ধরনের জালি জাতীয় মোজা পরিধান করেন যেটা মূলত ডাকাতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে পরে থাকেন। এরপর তিনি তার বাসা থেকে ১০ মিনিট পথ হেঁটে একটা স্থানীয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ১২ ইঞ্চি লম্বা একটা রান্নাঘরের ব্যবহৃত বিশাল চুরি বের করে দোকানিকে বলেন, " টাকা পয়সা যা আছে সব দিয়ে দাও।"

সে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ব্র্যাড পিটের একটা মুভিতে এরকম ঘটনা দেখেন যেখানে ব্যাক পিট ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়ে একি সুরে দোকানদার সাথে কথা বলেছিল। তার চেতনা ফিরে এসে ছিল শুধুমাত্র যখন পুলিশের অফিসাররা গিয়ে তাকে ঘাড় ধরে দোকানের বাইরে নিয়ে নিরস্ত্র করেন। যদিও মারিয়া কি করছেন সেটা জেনে বুঝে করেননি কিন্তু ঐ মুহুর্তে পুলিশের সে বিষয়ে সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিল না। তারা শুধুমাত্র অপরাধী ধরার জন্যই সেখানে গিয়েছিলেন। যে পরবর্তীতে মারিয়া কে ছেড়ে দেওয়া হয় যখন চিকিৎসা বিশারদগণ তার ঘুমের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটার বিষয়ে নিশ্চিত করা।ভাগ্যিস এই ঘটনা বাংলাদেশে ঘটে নি তা না হলে মারিয়ার এখন পর্যন্ত জেলেই পচতে হত। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির যত ভয়ঙ্কর ধারা আছে সব দেয়া হত।

০২. খাদ্যগ্রহণ- অনেকেই ঘুমের ঘোরে ফ্রিজ খুলে খাবার খেতে পারেন কিংবা রান্না ও করতে পারেন

listverse.com

listverse.com

স্বপ্নচারীদের অনেকেই ঘুমের ঘোরে রেফ্রিজারেটর খুলে নিদ্রারত অবস্থায়ও খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন। এটাকে মূলত SRED(sleep related eating disorder) বা ঘুম সংক্রান্ত খাওয়ার ব্যাধি বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায় যারা ঘুমের ঘোরে রেফ্রিজারেটর খুলে খাদ্য গ্রহণ করেন তাদের অনেকেই সে সকল খাবার মূলত জেগে থাকা অবস্থায় গ্রহণ করেননি। শুধু তাই নয় স্বপ্নচারী'এর অনেকে ঘুমের ঘরে রান্না করারও চেষ্টা করেন যেটা আসলেই ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে। অর্থাৎ কোন ধরনের পোড়া কিংবা কাটা জনিত আঘাত পেতে পারেন। আরো মজার বিষয় হচ্ছে তারা যখন এই কাজটা করেন তারা স্বাভাবিক নিয়মের তুলনায় অনেক দ্রুত খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন। সুন্দর করে খাওয়া দাওয়া শেষ করে তারা আবার ঘুমোতে চলে যান।

০১. ভয়ানক উঁচু স্থানে আরোহণ- ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে ঘুমের ঘোরে ১৩০ ফিট উঁচু ক্রেনে উঠে হাঁটছিল 

listverse.com

listverse.com

লন্ডনে ২০০৫ সালে এক রাতে একজন পথচারী হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন হঠাৎই তিনি লক্ষ্য করলেন একটি নির্মাণ সাইটে বিশাল উঁচু ক্রেনের একদম উপরে একটা মেয়ে হাঁটছে। আপনারা শুনে অবাক হবেন যে ক্রেনের উপরে মেয়েটি অবস্থান করছিল সেটা মাটি থেকে ১৩০ ফুট উপরে অবস্থিত ছিল। ক্রেনের উপরে যে বাহুটা দিয়ে ভারী নির্মাণ সামগ্রী উঠানামা করানো হয় সে বাহুর চিকন লোহার বীমের উপর দিয়ে মেয়েটির হাঁটছিল। লোকটি দ্রুত ইমার্জেন্সিতে ফোন করেন এই ভেবে যে, মেয়েটি আত্মহত্যা করছে। কিন্তু যখন উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌছলেন এবং তাদের লোকজন প্রায় আড়াই ঘন্টা পরে মেয়েটির কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন।

তাদের চোখ রীতিমতো কপালে উঠে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে কেন? আর উত্তরটা হচ্ছে আসলে মেয়েটি সেখানে আত্মহত্যা করতে ওঠেনি বরং সে ঘুমের ঘোরে বাসা থেকে বের হয় এবং এত উঁচু ক্রেনের উপরে উঠে হাঁটা আরম্ভ করে। উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পেলেন মেয়েটির চোখ বন্ধ সে ঘুমোচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশি মেয়েটি হাঁটাও চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনায় সবচাইতে বেশি অবাক করে যে জিনিসটা সেটা হচ্ছে মেয়েটি কি করে ওখানে আরোহণ করে? কিভাবে নিদ্রারত অবস্থায় থেকে ও সমতা রক্ষা করে হেঁটেছিল? যেখানে সুস্থ মানুষ জাগ্রত অবস্থায় ওরকম উঁচুতে উঠে হাঁটাটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে জীবন বিপন্ন হতে পারে।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। 



জনপ্রিয়