বামের শিশুটি আমেরিকায় থাকে অনেক সুন্দর কক্ষে অন্যদিকে ডানের শিশুটি থাকে ভাগাড়ে... বামের শিশুটি আমেরিকায় থাকে অনেক সুন্দর কক্ষে অন্যদিকে ডানের শিশুটি থাকে ভাগাড়ে...

শিশুদের শৈশব কতটা সংগ্রামের তা এই শিশুদের না দেখে বোঝা কঠিন!

শিশুরা সত্যিকার অর্থেই আমাদের তাঁদের জীবন এবং আশ্রয়স্থল সম্পর্কে আমাদের একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে যাতে আমরা আরো ভালো করে বুঝতে পারি যে আসলে তাঁরা কিভাবে বসবাস করছে।যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এই আর্টিকেলটির ধারণা আপত্তিজনক, কিন্তু আমরা এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি শুধুমাত্র আপনাদের শিশুদের হাসিমাখা চেহারার পেছনে যে সংগ্রামের কষ্ট লুকিয়ে থাকে তা তুলে ধরার জন্য। এই আরটিকেলের সম্পুর্ণ কপিরাইট জেমস মলিসনের যিনি ছবি সংগ্রহ ও তথ্য প্রদান করেছেন। 

১০. রিসা, বয়স ১৫, কিয়োটা জাপান

 James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

রিসা কিওটোর একটি টি হাউসে ১৩ জন নারীর সাথে বসবাস করে যেখানে সে গাইসা হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। গাইসা অর্থ হচ্ছে জাপানি বাইজী। সে টেলিভিশনে গাইসাদের দেখার পর থেকে এই পেশার প্রতি আগ্রহী হয়েছে। সে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা চা বানানো, আবৃত্তি, গান এবং নাচ অনুশীলন করো। সে জাপানের সবচাইতে কম বয়সী মাইকো ( মাইকো হচ্ছে যারা গাইসা হিসেবে ট্রেনিং নেয়ার পর পরীক্ষায় পাশ করে)। সে সপ্তাহে দুদিন ছুটি পায়।

০৯. ডং, বয়স ৯, ইউনান, চীন

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

ডং তার বোন এবং বাবা মায়ের সাথে এই ছোট্ট শোবার ঘরটি শেয়ার করে। তার পরিবারের শুধুমাত্র দুবেলা-দুমুঠো টেনেটুনে আহার জোগাড় করার সামর্থ্য রয়েছে। ডং ফ্রী শিক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু এর বাহিরে ও তার বাবা মার ইউনিফর্ম এবং টিউশনের জন্য অর্থ খরচ করতে হয়। যদিও এই অর্থ সামান্য তবুও তার বাবা-মার এটা বহন করতে কষ্ট হয়। ধন বড় হয়ে একজন পুলিশ হতে চায় যাতে সে চোরদের ধরতে পারে।

০৮. এলেক্স, বয়স ৯ , রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

এলেক্স স্কুলে যায় না সে ভিক্ষা করে তার দিন অতিবাহিত করে। সে বয়স্ক লোকজন কিংবা জ্যামে আটকে পড়া গাড়িতে বসে থাকা মানুষদের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরির মাধ্যমে তার জীবিকা নির্বাহ করে। সে রাস্তার পাশেই কোথাও ঘুমিয়ে পরে বেশিরভাগ সময় ছবিতে দেখানো পরিত্যক্ত এই সোফাতেই সে ঘুমায়। তার বাবা-মা আছেন এবং সে মাঝে মাঝে তার বাবা মার সাথে দেখা করতে যায়।

০৭. অজানা, বয়স ৯, লাইবেরিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

ছবিতে প্রদর্শিত বালকটি একজন শিশু সেনা। যার নামটি গোপন রাখা হয়েছে। খাদ্য এবং অর্থের অভাবে সে এই পেশায় যোগ দিতে বাধ্য হয়। সে একজন এতিম এবং তার তিনটি ভাই রয়েছে। সে বড় হয়ে একজন শিক্ষক হতে চায়। এই ছোট্ট শোবার ঘরে একটি খাটে তাদের ৪ জনকে থাকতে হয়। 

০৬. লেই লেই, বয়স ৪, ম্য সট, থাইল্যান্ড

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

লেই লেই একজন বার্মিজ কিন্তু বর্তমানে থাইল্যান্ড শরণার্থী হিসেবে বসবাস করে। সে একজন এতিম এবং থাইল্যান্ডে একটি এতিমখানায় বসবাস করে যেটার দুটি কক্ষ রয়েছে- দিনে পড়ার ঘর আর রাতে শোবার ঘর। রাতে পড়ার টেবিল গুলোকে দেয়ালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয় যাতে শোবার ঘরটি বাকি অন্য ২১ জন তারই বয়সী এতিমদের সাথে শেয়ার করানো যায়। প্রত্যেকটা শিশুর জন্য একটা ছোট ছোট বক্স রয়েছে নিচের ছবিতে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন। ক্ষুদ্র বক্সগুলোতে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে হয়। লেই লেই সামান্য কিছু কাপড়চোপড় রয়েছে যেগুলো সে এই ক্ষুদ্র বক্সে রাখে।

০৫. ইফতাচ, বয়স ১০, বাত ইন, ফিলিস্তিন 

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

ইফতাচ তার বাবার তৈরি একটা চমৎকার কাঠের তৈরি ঘরে বসবাস করে। তা বাবা হচ্ছেন একজন ইহুদীপন্থী যদি বিশ্বাস করেন এই ভূমি ঈশ্বরের উপহার। ইফতার সৌরশক্তি এবং প্রকৃতি নিয়ে পড়াশোনা করতে ভালোবাসে। সে বড় হয়ে একজন পাইলট হতে চায়। তার বাবা সব সময় সাথে একটা বন্দুক রাখেন। এর পেছনে কারণ হচ্ছে সে তার সন্তানদের কাছাকাছি অবস্থানকারী ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে চান।

০৪. দুহা, বয়স ১০, হেব্রন, ইজরায়েল

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

দুহা প্যালেস্টাইনের একটি শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে বসবাস করছে। ইসরায়েলি সৈন্যরা তাদের ঘরবাড়ি সবকিছু গুড়িয়ে দিয়েছে। দুহার পেছনে যে ছবি দেখতে পাচ্ছেন সেখানে তার ভাইকে দেখতে পাওয়া যায়। তার ভাইয়ের জন্যই তাঁদের এত বড় বিপদে পড়তে হয়েছে। তার ভাই ইসরাইলে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৩ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে এবং নিজেও মৃত্যুবরণ করেন। এ শাস্তিস্বরূপ ইসরায়েলি সরকার দুহা এবং তার পরিবারের সাথে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে।

০৩. নিতু, বয়স ১১, কাঠমান্ডু, নেপাল

James Mollison

James Mollison

James Mollison

James Mollison

ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নিতুকে তার বাবা-মা ভারত থেকে নেপালে তার খালার কাছে পাঠায়। তবে নিতুর খালা ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না। এজন্য নিতুকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য ভিক্ষা করতে হতো। কিন্তু সে খুব কমই ভিক্ষার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারতো। এর কারণ হচ্ছে শুধুমাত্র পর্যটকরাই সেই দেশে ভিক্ষা দিয়ে থাকে। নিতু এই জীর্ণ শীর্ণ ছোট্ট পলিথিন এবং কার্টুনের তৈরি ঘরে আরো ১১ জনের সাথে বসবাস করে।

০২. রোথী, বয়স ৮, ফনম পেন, কম্বোডিয়া

 James Mollison

James Mollison

 James Mollison

James Mollison

রোথী তার পরিবারের সাথে বিশাল একটি ময়না নিষ্কাশনের স্থানে বসবাস করে। তারা মূলত যে সকল আবর্জনা পূর্ণ ব্যবহার করা যায় সেগুলোর উপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করে। সতীর বিছানা হচ্ছে পুরাতন গাড়ি টায়ার দিয়ে তৈরি। এই ময়না নিষ্কাশনের স্থানে তারা একা নয় আরো প্রায় ৫ হাজারের মতো একই পেশায় নিয়োজিত লোকজন এখানেই বসবাস করে। খুবই নোংরা পরিবেশ সারাক্ষণ মাছি ঘুরতে থাকে। যেটা দেখলে আপনার মনে হবে এটা একুশ শতকের কোন দেশ নয়। এবং এই মানুষগুলো আমাদের সময়ের নয়। রোথী সেখানে বসবাসকারী বেশিরভাগ মানুষের মতোই মূলত দিন এবং পুন ব্যবহার উপযোগী বোতল সংগ্রহ করে এবং সেগুলো রিসাইক্লিং কোম্পানির কাছে বিক্রি করে। অথচ এই সময় রোথির স্কুলে থাকার কথা।

০১. জেসমিন, বয়স ৪, কেন্টাকি, ইউএসএ

 James Mollison

James Mollison

 James Mollison

James Mollison

জেসমিন তার বাবা-মা এবং তিন ভাইয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি শহরে একটি বিশাল বাড়িতে বসবাস করে। তার শোবার ঘরটি অসংখ্য মুকুট এবং বিজয়ীর ফিতা দিয়ে ভর্তি। সে এসকল পুরস্কার শিশু সুন্দরী প্রতিযোগিতায় জিতেছে। প্রত্যেকটা প্রতিযোগিতার জন্য তাকে ১০০০ ডলার করে দেয়া হয়। এবং প্রতি সপ্তাহের শেষ দিন সে এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাঁকে সবাই রাজকুমারী ভাবো সে এটা চায়। সে নিজেকে জ্যাজি নামে শুনতে পছন্দ করে। জ্যাজি বড় হয়ে একজন রকস্টার হতে চাই।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।



জনপ্রিয়