অমানবিক কর্মকান্ড বৈধতা অন্তত এ সময়ে মানা যায় না...    অমানবিক কর্মকান্ড বৈধতা অন্তত এ সময়ে মানা যায় না...

৯ টি ভয়ঙ্কর অমানবিক কাজ কিন্তু এখনো বিভিন্ন দেশেই বৈধ

পৃথিবীতে সব সময় চমৎকার নয় এটা এখন আর গোপন নয় এবং আমাদের অনেকেই খুব সম্ভবত সেই সকল ভয়ংকর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানেন না যা আজ ও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনুশীলন করা হয়। যদি আমাদের এই সময়ে নরমাংসভক্ষণ প্রথা, পাশবিকতা, মৃতদেহের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, অজাচার, নারী যৌনাঙ্গ ছেদন, ধর্ষণ, খোজাকরন, জনসমক্ষে বেত্রাঘাত কিংবা চাবুক মারা, পাথর নিক্ষেপ, দাস প্রথা চলতে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে এগুলো আমাদের কাছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বলে বিবেচিত। সত্যি কথা বলতে গেলে এসকল কর্মকান্ড এখনো পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বৈধ। এবং আমরা কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত কিংবা অন্ধকারময় কোন অঞ্চলের কথা বলছি না।কিছু দেশে মানুষের জন্য কি ধরনের কর্মকান্ড বৈধ সেটা জেনে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে।

০৯. নরমাংসভক্ষণ প্রথা

listverse.com

listverse.com

প্রায়োগিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশে নরমাংস ভক্ষণ প্রথা বৈধ। যাই হোক যেহেতু হত্যা করা বেআইনি মানুষের মাংস দিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য প্রথমে একজন নরখাদক কে মৃতদেহ খুঁজে বের করতে হয়।২০০১ সালে জার্মানিতে আর্মিন মাইস নামের একজন ব্যক্তি একটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। সেই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আরমিন এর হাতে মৃত্যুবরণ করতে রাজি হয়েছিলেন। অর্থাৎ, নরমাংস ভক্ষণ এর জন্য সে নিজেকে সঁপে দিতে প্রস্তুত। তাদের দেখা হওয়ার পরে আরমিন লোকটি কে হত্যা করে এবং তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে পরবর্তীতে ভক্ষণ এর জন্য রেফ্রিজারেটরে তার মাংস সংরক্ষণ করেন । পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং সে খুনি হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়।

০৮. মৃতদেহের সাথে যৌনমিলন স্থাপন

listverse.com

listverse.com

যে কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাছেই এধরনের কর্মকান্ড গা শিউরে ওঠার মতো। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু জায়গায় মৃত ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বেআইনি নয়। আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে তিনজন মরদেহ ডাকাত পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। যারা মূলত একটা নারীর মৃতদেহ কবর খুঁড়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে তাঁরা পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে তাঁরা ওই নারীর সাথে যৌন মিলন করার জন্য তাঁর লাশটা কবর থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে এই আইনটি সংশোধন করার চেষ্টা চলছে।

০৭. পশুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন

listverse.com

listverse.com

গত ছয় বছর ধরে ডেনমার্ক সুইডেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে পাশবিকতা বা পশুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য কিছু দেশে এই কর্মকাণ্ড এখনো বৈধ। জার্মানিতে কিছু চিড়িয়াখানা রয়েছে যেখানে পশুদের কে লালন পালন করা হয় শুধুমাত্র তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার উদ্দেশ্যে। অনেকটা পশুদের পতিতালয় যেখানে খদ্দেররা গিয়ে তাদের পছন্দমত পশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। একজন কৃষক যখন উপলব্ধি করলেন তাঁর ভেড়া মানুষের সংস্পর্শে আসা এড়িয়ে চলছে।

 তখন সে তাঁর ভেড়া যেখানে অবস্থান করে সে জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে। পরবর্তীতে উঠে আসলো এক ভয়ংকর সত্য। সে দেখতে পেলো যে তার ভেড়ার পালের সাথে কিছু মানুষ অবৈধভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করছে। এই ধরনের অনুশীলন হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড, মেক্সিকো এবং নেভাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ মেক্সিকো, অহিও, টেক্সাস, ভারমন্ট, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং উমিং এ এখনো বৈধ রয়েছে।

০৬. অজাচার / আপন ভাইবোনের মধ্য যৌন সম্পর্ক

Timeofgist

Timeofgist

(ছবিটি টুইটারে প্রকাশ করা হয় এবং সেখানে @gurujeremy2 নামের আইডি থেকে লোকটি বলে তাঁর বোনকে সে গর্ভবতী করেছে এবং সে এখন ৩ মাসের অন্তসত্ত্বা। আপনাদের জানানোর সার্থে সোর্স দেয়া হল-( http://timeofgist.com.ng/my-younger-sister-is-3-months-pregnant-for-me-call-it-incest-but-we-call-it-fate-man-brag-on-social-media/)

যদিও আপন ভাই বোনের মধ্যে যৌন সম্পর্ক বেশিরভাগ দেশেই বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে, তবে এই ধরনের সম্পর্ক ফ্রান্স স্পেন এবং পর্তুগালে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবং তারা এই আইনে বলেছেন যদি ভাই বোন প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং তারা স্বেচ্ছায় যৌনকর্মে লিপ্ত হয় তাহলে সেটা আইনগত ভাবে অপরাধ বলে স্বীকৃত হবে না। রোমানিয়াতেও এই অজাচার কে আইনগত স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

০৫. নারী যৌনাঙ্গ ছেদন

Photo credit: Liberty GB

Photo credit: Liberty GB

এফ জি এম ( ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন) যার অর্থ হচ্ছে নারীদের যৌনাঙ্গের বাহিরের কোন অংশ আংশিক অথবা পুরোপুরি কর্তন করাকে বোঝায়। এটা অনেক মেয়েদের সাথে হয়ে থাকে যাদের বয়স ৪ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এতে স্বাস্থ্যগত কোন সুফল তো নেই, বরং এটার কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও এফ জি এম অস্ট্রেলিয়া কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের ৯ টি দেশ ও আফ্রিকার ১৮ টি দেশে প্রচলিত রয়েছে। এটা আফ্রিকার ২৮ টি দেশে ব্যাপকভাবে অনুশীলন করা হয়ে থাকে পাশাপাশি এশিয়ার কিছু দেশে ও এ মারাত্মক কর্মকাণ্ডের অনুশীলন রয়েছে। ১৪০ মিলিয়ন নারীদেরকে এই এফ জি এম পদ্ধতি গ্রহণ করানো হয়েছে।

এবং আর তিন মিলিয়নেরও বেশি মেয়ে ও নারী এই প্রক্রিয়া প্রতিবছরই গ্রহণ করে থাকে। গ্রহণ করে থাকে বললে ভুল হয়। গ্রহণ করানো হয়ে থাকে বলা উচিত। এই এফজিএম পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচাইতে কমন যে পদ্ধতিতে হয়েছে সেটা হলো নারীদের যৌনাঙ্গের ঠিক উপরে মাঝখানে ক্লিটোরিস নামের একটা অংশ থাকে সেটা কর্তন করে ফেলে দেওয়া। এটা কোন এনেসথেসিয়া ছাড়াই করা হয়।এবং এই পদ্ধতি চলমান অবস্থায় যোনির প্রবেশদ্বার সেলাই করে আটকে দেয়া হয়। লোহিত সাগর থেকে শুরু করে আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে।

০৪. ‌ ধর্ষণ

listverse.com

listverse.com

ভারতে স্বামী স্ত্রীকে ধর্ষণ করা আইনগতভাবে বৈধ। দিল্লির একজন বিচারক আদেশ দিয়েছেন যে বিয়ের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক ধর্ষণ করাটা বেআইনি নয়। যে মামলায় এই রায় দেয়া হচ্ছে সেই মামলাটি ছিল- একজন ২১ বছরের নারী যিনি তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, তাকে নেশাগ্রস্ত করে তার কোন অনুমতি ছাড়াই বিয়ের কাগজপত্রে সই করানো হয়েছে এবং তাকে বিয়ে করা হয়েছে। তিনি যখন নেশাগ্রস্ত ছিলেন তার স্বামী তার সাথে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। তার ঘটনাটিতে প্রমাণের যথেষ্ট অভাব ছিল এবং অসঙ্গতি ছিল।

কিন্তু বিচারক এই মর্মে রায় দিয়েছিলেন যে, এই যৌন মিলন কে ধর্ষণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না এবং তার স্বামী এই অপরাধে অভিযুক্ত হবেন না। যদিও সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার বিষয়টাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। বৈবাহিক ধর্ষণ আফগানিস্তান, চায়না, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং আরো অনেক জায়গাতেই আইনগতভাবে বৈধ। ২০১৬ সালে ভারতীয় আইনে এই প্রস্তাবনা আনা হয়েছিল যে বিয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরনের যৌন সম্পর্ক ধর্ষণ এর আওতাভুক্ত নয়।

০৩. খোজাকরণ বা অন্ডকোষ কেটে ফেলা

listverse.com

listverse.com

কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, লুসিয়ানা, মন্টানা, অরিগন, টেক্সাস এবং উইসকনসিন এসকল স্থানে ধর্ষণের শাস্তি স্বরূপ ধর্ষকের অন্ডকোষ রাসায়নিক কিংবা সার্জারির মাধ্যমে কেটে ফেলে দেওয়ার বিধান রয়েছে।রাসায়নিক খোজাকরণ এর ক্ষেত্রে ধর্ষকের শরীরে কৃত্রিম ভাবে নারী হরমোন প্রবেশ করানো হয় যার ফলে টেস্টোরেন এর মাত্রা কমে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শিশুদের ধর্ষণের শাস্তি স্বরূপ এ কাজ করা হয়ে থাকে।

২. পাথর নিক্ষেপ

listverse.com

listverse.com

পাথর নিক্ষেপ ইসলামিক দণ্ডবিধি অনুযায়ী একটি শাস্তির বিধান।মূলত যেনা বা অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এক্ষেত্রে পুরুষদেরকে কোমর পর্যন্ত বালির নিচে গারা হয় অন্যদিকে মহিলাদের বুক পর্যন্ত গারা হয়। একদল দন্ড পরিচালনাকারী ব্যক্তিবর্গ থাকেন যারা আসামিকে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকেন। অভিযুক্তদের মধ্যে যদি কেউ সেই গর্ত থেকে বেরিয়ে পলায়ন করতে পারে তাহলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু নারীদের জন্য সেটা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য কারণ তাদের শরীরের বেশির ভাগ অংশই বালির নিচে চাপা দেয়া হয়। এই দণ্ড কার্যকর নিশ্চিত করতে অনেক বেশি কিংবা স্বল্প সময় নেয়া যাবে না। পাথরের আকার বা আকৃতি কতটুকু হবে সেটা ওই আইনে বলা হয়েছে। নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, সুদান এবং সংযুক্ত আরব আরব আমিরাতের বিভিন্ন জায়গায় এই শাস্তির বিধান রয়েছে।

০১. বিচারক শারীরিক শাস্তি

Photo credit: Voice of America

Photo credit: Voice of America

বিচারক শারীরিক শাস্তি মূলত আদালতের রায়ে আইন অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়। যেখানে আসামিকে জনসমক্ষে বেত, চাবুক ইত্যাদি দিয়ে আঘাত করা হয়। সাধারণত পিঠে কিংবা পাছার উপর এ শাস্তি প্রদান করা হয়। সাধারণত এই শাস্তির ফলে মারাত্মক গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে মাংসে কিংবা পেশিতে যা সেরে যেতে বেশ কিছু দিন সপ্তাহ কিংবা মাসও লেগে যেতে পারে।

এই ধরনের অমানবিক শাস্তি বাহামাস বোটসানা, ব্রুনাই, ডোমিনিকা ইকুয়েডর, গায়া না ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কাতার, এসটি ভিন্সেন্ট এবং দা গ্রেনাডাইনস, সৌদি আরবিয়া, সিয়েরা লিওন, সিঙ্গাপুর, সুদান, সোয়াজিল্যান্ড, তাঞ্জানিয়া, টঙ্গা, ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়েতে চালু রয়েছে।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে বেশি বেশি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। 



জনপ্রিয়