নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে ও বেঁচে যাওয়া এই মানুষগুলোকে আপনি কি বলবেন?            নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে ও বেঁচে যাওয়া এই মানুষগুলোকে আপনি কি বলবেন?

নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে ও বেঁচে যাওয়া এই মানুষগুলোর দুঃসাহস আপনাকে অবাক করে দেবে!

আত্মহত্যা করলেই যে মৃত্যু সব সময় মৃত্যু ঘটবে তা সঠিক নয়। যত জন এই চেষ্টা করে তাঁদের সামান্য পরিমাণ ও সফল হয় বলে মনে হয় না। বরং তাদের সারা জীবন সামাজিক বিভিন্ন সমালোচনা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। শুধু তাই নয় আত্মমর্যাদা ও অনেকাংশেই লোপ পায়। গবেষণায় দেখা যায় ২৫ জন আত্মহত্যার প্রচেষ্টায় অংশ নেয়া মানুষের মধ্যে মাত্র একজন সফল হতে পারে। অনেক এটাও মনে করে যে, হয়তো পিস্তল দিয়ে নিজেকে গুলি করলে সহজেই মরে যাওয়া যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা তেমন না। আজ আপনাদের জানাচ্ছি এমনই ১০ ঘটনা যেখানে মাথায় পিস্তল দিয়ে গুলি করার পরেও তাঁরা আত্মহত্যায় সফল হতে পারেননি। 

১০. ডেভিড পারনেল

Photo credit: Changing Lives Foundation

Photo credit: Changing Lives Foundation

ডেভিড পার্নেলের ঘটনাটা একটা গা শিউরে উঠার মত। ২০০৩ সালে তার স্ত্রী এমি তাকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারণ সুদীর্ঘ তেইশ বছর ধরে ডেবিড মাদকাসক্ত ছিলেন। তার স্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে সে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। তার স্ত্রী যখন ওদিকে অন্য রুমে যাওয়ার ব্যবস্থা করছিলেন। এরই মধ্যে ডেবিড তার এসকেএস এসল্ট রাইফেল দিয়ে চিবুকে তাক করে কোন কিছু চিন্তা ছাড়াই গুলি করে দেন। যদিও গুলিটা চিবুক হয়ে সরাসরি তার মাথার মাঝখান দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেটা না হয়ে গুলিটা তার কপাল ছেদ করে দুভাগ হয়ে বের হয়ে যায়। এবং তার মুখের ভেতরের সকল অস্থি কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে।মজার বিষয় হচ্ছে তখন তার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং সে মাটিতেই পুরোপুরি চেতনা থাকা অবস্থায় বসে ছিলেন। স্ত্রী দৌড়ে আসার সাথে সাথে সে তার সাথে কথা বলেন। ও সে তাঁর সকল বিষয়ের জন্য সেই মুহূর্তে ক্ষমা চাচ্ছিলেন। পরে দ্রুত ইমারজেন্সিতে ফোন করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। অনেকগুলো সার্জারি করে তার মুখের অবয়বটা ঠিক করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে তিনি বেঁচে আছেন। 

০৯. ক্যামেরুন আন্ডারউড

Photo credit: RusTransplant

Photo credit: RusTransplant

ছবিতে মাঝখানে যাকে দেখতে পাচ্ছেন তার নাম ক্যামেরুন আন্ডারউড। আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে ফেরা একজন মানুষ। দীর্ঘ হতাশা এবং মদ্যপান করতে করতে সে জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৬ সালে সে তাঁর নিজের মাথায় গুলি করে। ওই ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ দু'বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মুখের অবয়ব সার্জারি করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। সে কোন সুস্থ জীবন যাপন করছে। সে তাঁর অতীত জীবনের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত।

০৮. ড্যানিয়েল ভন বার্জেন

Photo credit: YouTube

Photo credit: YouTube

এটা আমাদের সকলের কাছেই অস্বাভাবিক লাগতে পারে। ড্যানিয়েল ভনের মতো একজন সফল টিভি ব্যক্তিত্ব ও হলিউড তারকা আত্মহত্যার মতো কাজ করতে পারেন। ২০১২ সালে এই ঘটনা ঘটে। তিনি তার ব্যক্তিগত বন্দুক নিলেন এবং সেটা তার কপালে ঠেকিয়ে গুলি করেন। মজার বিষয় হচ্ছে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সাথে সাথে তার ফোন থেকে ৯১১ ইমারজেন্সিতে কল করেন। প্রশ্ন হচ্ছে আত্মহত্যাই কেন করতে চাইলেন আবার বেঁচে থাকার জন্য ইমারজেন্সিতে বা কেন ফোন করলেন?

আরো অবাক করা বিষয় কপালে গুলি খাওয়ার পরেও তিনি চেতন অবস্থায় ইমারজেন্সিতে কথা বলেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। ডায়াবেটিস কি আত্নহত্যার মূল কারণ? আসলে ডায়াবেটিসের কারণে তার পায়ের অনেকগুলো আঙ্গুল বাদ দিতে হয়েছিল। এই অঙ্গহানি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। এজন্যই তিনি নিজের জীবন দিতে চেয়েছিলেন। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও ২০১৫ সালে ড্যানিয়েল ডায়াবেটিসের ফলে তৈরি হওয়া জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেন।

০৭. ওলেগ শেগেদা 

Photo credit: Nassim Benchaabane

Photo credit: Nassim Benchaabane

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মিসৌরির এসটি লুইসে একটি বাসায় একজন ৬৭ বছর বয়স্ক এসভেল্টানা শেগাধা নামের নারীকে গুলিবদ্ধ ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে অলেগ শেগাধা নামের এক পুরুষকে গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। আপনাদের কি মনে হয়? কি ঘটেছিল সেখানে? মূলত পাশের প্রতিবেশিরা পুলিশকে ফোন করেন। যাইহোক তাঁরা দু জন সেখানে ২০ বছর ধরে বাস করছিলেন। অলেগ শেগাধাকে হাঁসপাতালে নেয়া হয়। সুস্থ্য হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করা হয়। একজন আত্নহত্যা করে অন্যজনকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। 

০৬. কেইটি স্ট্যাবলফিল্ড

Photo credit: Stubblefield Family; Martin Schoeller

Photo credit: Stubblefield Family; Martin Schoeller

কেইটি স্ট্যাবলফিল্ডের ১৮ বছর বয়সে তাঁর প্রেমিকের সাথে সম্পর্ক ভেঙে যায়। এবং এই শোক সহ্য করতে না পেরে সে তার ভাই রবার্টের শিকারের রাইফেল দিয়ে সরাসরি নিজের পরীর মতো চেহারায় গুলি করেন। এবং এর সাথে সাথে তার মুখের প্রত্যেকটা অংশ তার নাক, সাইনাস ক্যাভিটিস, চোখ সব কিছু একটা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায়। ধন্যবাদ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে।

কমপক্ষে ৪০ টা সার্জারি করার পরে কেটির চেহারার একটা মিনিমাম অবয়ব তৈরি করে দেয়া হয়েছে। একটা বিষয় কোনো ভাবেই মাথায় আসেনা। কেউ আপনাকে ছেড়ে চলে গেলেই কি আপনার জীবন মূল্যহীন হয়ে পড়বে? একজনের জন্য আপনার শত শত কাছের মানুষ গুলোকে ছেড়ে যাওয়ার স্বার্থকতা কোথায়? নিজেকে ভালোবাসুন অন্যদেরকে ভালো রাখুন।

০৫. ভিক্টর সিবসন 

Photo credit: Mark Thiessen/AP

Photo credit: Mark Thiessen/AP

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল আমেরিকায় একটি অঞ্চলে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। ২১ বছর বয়সী ভিক্টর সিবসন ঘটনার দিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল তার ২২ বছর বয়সী প্রেমিকা ব্রিটানি-ম হাগ। এর পরের ঘটনা টা মোটেও সুখকর ছিল না। আপনার প্রেমিক আপনার সামনে আত্মহত্যা করছে আপনি কি বসে বসে তামাশা দেখবেন? ঠিক ব্রিটানিয়া সেটা করেনি। যখন সিবসন গুলি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল ব্রিটানি তাকে বাধা দিচ্ছিল।

এক পর্যায়ে সিবসন গুলি চলে সেটা তার মাথার মধ্য দিয়ে ঢুকে বুকের ভেতর দিয়ে বের হয় তার প্রেমিকার বুকে বিদ্ধ হয়। সাথে সাথে দুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত পুলিশ এবং মেডিকেল টিম সেখানে পৌঁছালে তাঁরা দেখতে পেলেন যে ভিক্টর এবং ব্রিটানি দুইজনে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ভিক্টর বেঁচে গেলেও তার প্রেমিকার সেখানে মৃত্যু হয়। কিন্তু তার প্রেমিকা মৃত্যুর সময় পুলিশকে ঘটনাটি বলে গিয়েছিলেন। যেদিক তোর আসলে তার জান নিতে চাইনি পরম ভুলবশত গুলি তার শরীরে লেগে গেছে। পরবর্তীতে ভিক্টরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

০৪. বেড বাথ এন্ড বিয়ন্ড

Listverse

Listverse

২০১১ সালে আরেকজন ব্যক্তি আত্নহত্য করতে গিয়ে ও বেঁচে গিয়েছিলেন হয়ত আমাদের গল্প শোনানোর জন্য! আমেরিকার বিখ্যাত চেইন ডমেস্টিক স্টোর বেড বাথ এন্ড বিয়ন্ড যাদের একটি শোরুম ছিল পোর্টসমাউথে। সেখানে গাড়ী পার্কিং করার অন্যতম ব্যস্ত স্থানে জনসমক্ষে এক ব্যক্তি আত্নহত্যা করার উদ্দেশ্য নিজেই নিজের গায়ে গুলি করেন।তবে দ্রুত হাঁসপাতালে নেয়ার কারণে তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। যদিও পুলিশ ভেবেছিলেন তাঁকে কেউ হয়ত গুলি করেছে। কিন্তু পড়ে অনেক তদন্তে বের হয়ে আসে যে সে আত্নহত্যার জন্যই সেই জনব্যস্ত জায়গা বেঁচে নিয়েছিলেন। কিন্তু কেন সে ঐ জায়গাটাই বেঁচে নিয়েছিল তা এখনো জানা যায় নি। 

০৩. ল্যান্স পলসান

Listverse

Listverse

ল্যান্স পলসান হলেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার এল সেরিটো শহরের একজন বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের এপ্রিলে। সে তার বন্ধু গেগননের সাথে একটা দেনা পাওনা নিয়ে ঝামেলায় জড়ায়। মূলত পলসন গেগনন এর কাছে ২০,০০০ ডলার পেতো। হয়তো গেগনন টাকাটা সময়মতো দিচ্ছিলেন না। ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি গেগননকে গুলি করেন। এবং কিছুক্ষণ পর গেগনন সেখানেই মারা যায়।

দীর্ঘদিনের বন্ধুকে রাগের মাথায় খুন করে ফেলায় তিনি নিজেও নিজের মাথায় গুলি করে দেন। তবে আত্মহত্যা চেষ্টা করলেও পুলিশ দ্রুত চলে আসে ।এজন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে সেখানকার আইন অনুযায়ী মামলা করা হয় এবং যথাপোযুক্ত অভিযোগ আনা হয়। আমাদের উচিৎ সবসময় রাগের সদ্ব্যবহার করা অপব্যবহার না করা। 

০২. কোডি মার্ক প্যাট্রিক

Listverse

Listverse

কোডি মার্ক প্যাট্রিক ছিলেন একজন আমেরিকান পর্যটক। তিনি ২০০৮ সালে ক্যাম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। ৩৩ বছর বয়সী প্যাট্রিক বন্দুকের দোকান থেকে দশটি বুলেট ক্রয় করেন। আত্মহত্যা প্রচেষ্টার আগে তিনি সাতবার ফায়ার করেছেন ৮ নম্বর গুলি টি নিজের মাথায় করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার হোটেল রুম থেকে কিছু ড্রাগ খুঁজে পান। যাইহোক পরবর্তীতে তাকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। যেহেতু ক্যাম্বোডিয়াতে আত্মহত্যা করা অপরাধ নয় তাই তার বিরুদ্ধে কোন আইনি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে কিছু দেশ যেমন নাইজেরিয়া সেখানে আত্মহত্যা করার প্রচেষ্টা অন্যতম অপরাধ বলে বিবেচিত।

০১. এরিক ক্রেমার

Photo credit: John Smierciak/Chicago Tribune

Photo credit: John Smierciak/Chicago Tribune

রিক ক্রেমার আমেরিকার একজন সাবেক এন এফ এল ফুটবল খেলোয়ার। তিনি আটলান্টা ফালকনস, ডেট্রয়েট লায়ন্স, শিকাগো বিয়ার্স এবং সান ডিয়াগো চার্জার্স এর মতো নামিদামি দলের হয়ে রাগবি খেলেছেন। এছাড়াও তিনি কানাডার ক্যালগারি স্টাম্পপিডার্স ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। সমাজে এত মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হয়েও তিনি আত্মহত্যার মতো ঘৃণিত কাজ করার চেষ্টা করেছেন। এর থেকে এটাই বোঝা যায় যে, মানুষজন শুধুমাত্র সামাজিক মর্যাদা কিংবা ধনসম্পত্তি থাকলেই যে ভালো থাকেন সেটা পুরোপুরি সত্য নয়। তা না হলে এই ব্যক্তির কিসের অভাব ছিল? এমন কিছু জীবনের অধ্যায় থাকে যেগুলো মানুষকে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। ক্রেমার ২০১৫ সালের দিকে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন। 

তিনি সন্তানের সাম্প্রতিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার নিকটতম ব্যক্তিদের কাছে সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন। এবং সবকিছু সম্পন্ন করার পর তিনি তার মাথায় নিজস্ব পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকেন। এবং পুলিশ ও এম্বুলেন্স এসে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন যে তিনি বেঁচে আছেন। তারপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে তিনি বেঁচে যান। স্ক্রিম আর মরে গেলে হয়তো তার ভেতরের প্রকৃত অনুভূতি সম্পর্কে মানুষ জানতে পারত না।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন।কোন অভিযোগ থাকলে আমাদের ইনবক্স কিংবা ইমেইলে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল।



জনপ্রিয়