বাচ্চারা গর্ভেই প্রস্রাব করে ও তা পান করে....  বাচ্চারা গর্ভেই প্রস্রাব করে ও তা পান করে....

সদ্য জন্মলাভ করা শিশু সম্পর্কে অবাক করা ১০ টি তথ্য আপনি জানেন কী?

মিষ্টি চেহারা, নরম তুলতুলে শরীর, মায়াভরা হাসি কিংবা বড় বড় চোখ এসব শিশুদের প্রতি যে কারোর ই মন গলতে বাধ্য। শিশুদের কোমল পরশ ছুঁয়ে যায় আমাদের মন ও প্রাণ। কিন্তু আমরা সকলেই শিশুদের প্রসবের আগের কিংবা পরের অবস্থা সম্পর্কে জানি না। আজকের আয়োজনে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করা হল শিশুদের সম্পর্কে ১০ টি অসাধারণ ও বিস্ময়কর তথ্য। আশা করি আপনি নতুন করে কিছুই আবিষ্কার করতে পারবেন। 

১০. বাচ্চাদের ২ সেট দাঁত থাকে

listverse.com

listverse.com

আমাদের সকলেরই ছোটবেলায় ৬ বা ৭ মাস বয়সে প্রথম দাঁত উঠেছিল। মূলত নিচের মাড়িতে প্রথমে এক জোড়া দাঁত উঠেছিল। এক্ষেত্রে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে শিশুরা তাদের জন্মের আগেই মাড়ির নিচে দাঁত নিয়ে জন্মায়। যেগুলো পরবর্তীতে পড়ে গিয়ে নতুন করে দাঁত ওঠে। আরো অবাক করা বিষয় হচ্ছে শিশুদের যে দাঁতগুলো থাকে সেই দাঁতের নিচে কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় আপনার যেরকম এর দাঁত হবে সেগুলো লুকায়িত থাকে। শুধুমাত্র সময়ের পরিবর্তনে উপরের গুলো পড়ে গিয়ে নিচের গুলো আবার উঠে আসে। সুতরাং শিশুদের ফোকলা হাসি দেখে মোটেও এটা ভাববেন না যে তাদের দাঁত নেই বরং তাদের দাঁত আছে যেটা আপনি খালি চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। 

০৯. সদ্যজাত বাচ্চার শরীরে ৩০০ হাড় থাকে কিন্তু কেন?

Photo credit: medicaldaily.com

Photo credit: medicaldaily.com

আপনি কি জানেন যে সদ্যোজাত বাচ্চাদের ছোট্ট শরীরে ৩০০ এর মত হাড় থাকে। যদিও আমরা বিজ্ঞানে পড়েছে মানুষ মানব শরীরে হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি। শিশুরা জন্মের সময় অসংখ্য তরুণাস্থি এবং হাড়ের জোড়া নিয়ে পৃথিবীতে আসে যেগুলো পরবর্তীতে তাদের পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল তৈরিতে সাহায্য করে। এর কারণ হচ্ছে বাচ্চাদের শরীর নমনীয় হতে হয় তা না হলে জরায়ু দিয়ে বের হওয়া অনেক কঠিন হয়ে যেত।

বাচ্চাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে তাদের মাথা যেটা এরকম অসংখ্য নমনীয় হাড়ের জোড়া দিয়ে তৈরি যার ফলে সহজেই তাদের জন্মের সময় এগুলো কে প্রয়োজন মতো নাড়াচাড়া করা যায়। বাচ্চাদের মাথার এই নমনীয়তার জন্য কিছু সমস্যা ও তৈরি হতে পারে। যেমন তারা পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে যদি বেশীক্ষণ তাদেরকে মাথার পেছনের অংশে নির্ভর করে শুইয়ে রাখা হয় সেক্ষেত্রে সেটা গোল না হয়ে চ্যাপ্টা হয়ে যেতে পারে অনেকটা উপরের ছবির মত। এজন্যই বিষয়টা বাচ্চার মায়ের সব সময় খেয়াল রাখতে হবে।

০৮. বাচ্চাদের চোখ প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের চোখের সমান

listverse.com

listverse.com

বাচ্চাদের চাহনিতে এক ধরনের জাদুকরী শক্তি রয়েছে এর কারণ হতে পারে তাদের বড় এবং প্রশস্ত চক্ষুদ্বয়। বেশিরভাগ বাচ্চাই বড় বড় চোখ নিয়ে জন্মায়। এজন্যই তাদেরকে অনেক বেশি আদুরে এবং বিস্ময়কর লাগে। তাদের এইসব আচরণ আমাদের ভিতরে এমন একটা কিছু জন্ম দেয় যার জন্য আমরা সর্বক্ষণ তাদেরকে নিরাপদে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাই।

বাচ্চাদের দেখে কখন যে আপনার কন্ঠ পরিবর্তন হয়ে অনেক আদরে কথা বের হয় এবং কিছু ছেলেমি তৈরি হয় এটা আপনি নিজেই জানেন না। ছোট শিশুটি যে কিনা আপনার ১ হাতের মধ্যেই ছোট জায়গা দখল করে তার চোখ জোড়া প্রায় আপনার চোখের আকার এর মতই। শিশুরা জন্মের সময় প্রায় প্রাপ্ত বয়স্কদের  চোখের আকারের ৭০% আকার নিয়ে জন্মায়।

০৭. জন্মের আগেই স্বাদ অ গন্ধ গ্রহণের ক্ষমতা লাভ করে

listverse.com

listverse.com

আমরা সবাই জানি যে বাচ্চারা তাদের সামনে যা পায় সেটা তাদের ছোট হাত দিয়ে তাদের মুখে নেয়। চাবি আঙ্গুল খেলনা চুল এরকম অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস ই তারা মুখে নেয় এজন্য তাদের বাবা-মায়ের অনেক দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। আসলে এভাবেই তারা তাঁদের চারপাশে থাকা সকল বিষয় সম্পর্কে শিখতে থাকে। কিন্তু অনেক মানুষই জানেন না যে শিশুরা জন্মের আগেই স্বাদ গ্রহণ ও গন্ধ নেয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। আপনারা তো অবাক হ লাগতে পারে যে সে মায়ের পেটের ভেতর কিসের গন্ধ নিতে পারে।

এটা অবশ্যই একটি যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। মায়েদের গর্ভে থাকা অবস্থায় গর্ভের ভেতর এক ধরনের এমনিওটিক ফ্লুইড বা তরল থাকে সেখান থেকেই তাদের এই স্বাদ এবং গন্ধ গ্রহণের ক্ষমতা জন্মায়। গবেষণায় দেখা গেছে তারা গর্ভে থাকা অবস্থায় যে ধরনের খাদ্য মা গ্রহণ করে সে খাদ্য গুলোর গুলোই নতুন করে তারা গ্রহণ করতে পছন্দ করে। অর্থাৎ আমি বলতে যাচ্ছি সেই সাত বা গন্ধ যুক্ত খাদ্যগুলোকে।

০৬. জন্মের সময় তাঁদের শরীর সাদা চটচটে আঠালো জিনিসে ঢাকা থাকে

Photo credit: babyology.com.au

Photo credit: babyology.com.au

মায়ের গর্ভে শিশুরা ক্রমাগত ময়েসচার বা আদ্রতা পেতে থাকে। কিন্তু এমনিওটিক ফ্লুইড উচ্চমাত্রায় খার সম্পন্ন যেটা সদ্যজাত বাচ্চার ত্বকের জন্য মোটেও ভালো না। বাচ্চা প্রসবের পরপরই তাদের শরীরে এক ধরনের সাদা একটু আঠালো, তেলতেলে কিংবা ক্রিমের মত অথবা দুধের মতো বস্তু তাদের শরীরে লেগে থাকতে দেখা যায়। এটার কাজ শুধুমাত্র তাদের ত্বককে রক্ষা করা নয় বরং প্রসবের সময় এটা লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে পাশাপাশি শিশুর শরীরকে শব্দ প্রতিরোধক ও অন্যান্য প্রসবকালীন সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে রাখে।

০৫. জন্মের পরপর ই মেয়ে শিশুদের মাসিক হয় 

listverse.com

listverse.com

মেয়ে শিশুরা জন্মের দুই বা এক দিন বা কিছুদিনের মধ্যেই তাদের প্রথম মাসিক হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই কারণ এটা একটা অতি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক বিষয়। বরং আপনার শিশুটি মেয়ে শিশু হিসেবে পরিপূর্ণভাবে আত্মপ্রকাশ করল।

০৪. বাচ্চারা অনেক লোমে ঢাকা থাকতে পারে

Photo credit: todaysparent.com

Photo credit: todaysparent.com

প্রত্যেক দম্পতি তাদের অনাগত সন্তানের অবয়ব নিয়ে আগে থেকেই কল্পনা করতে থাকেন কিন্তু কেউ কি এমন কল্পনা করেন যে আপনার শিশুটি কোন লোমশ মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে জন্ম লাভ করুক। হত এমন টা কে করেন না কিন্তু অনেক শিশুই শরীরে অনেক পশম নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতে পারে। এই প্রশ্নের ভালো দিক হচ্ছে এটা মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় তার শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি গর্ভের ভেতর ভার্নিক্স এর পরিমাণ সঠিক রাখতে সাহায্য করেছিল।

০৩. বাচ্চারা গর্ভেই প্রস্রাব করে ও তা খেয়ে ফেলে

listverse.com

listverse.com

যেহেতু আমরা জানি এমনিওটিক ফ্লুইড এর মধ্যে যাই থাকুক না কেন সেটা বাচ্চা শোষণ করে। আমরা সাধারনত ভাবি যে এমনিওটিক ফ্লুইড হচ্ছে এক ধরনের তরল নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। কিন্তু এটার মধ্যে আরো অনেক কিছুই থাকতে পারে। গর্ভাবস্থার ১০ সপ্তাহের মাথায় সে অন্য জিনিস গুলোর মধ্যে প্রস্রাব যুক্ত হয়। যখন বাচ্চার মূত্রথলি পরিপূর্ণরূপে তৈরি হয়ে যায় তখন তা মূত্র নিষ্কাশনের এর জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

নিজের প্রস্রাবের বুদবুদে বসে থাকাটা অবশ্যই বিরক্তিকর। কিন্তু আপনি জানেন এ বাচ্চারা সেখানেই থেমে যায় না। এর ৫ সপ্তাহ পর শিশুটি কোন কিছু গলাধঃকরণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। এরপর প্রত্যেকদিনই সে বেশকিছু আউন্স পরিমাণ এমনিওটিক ফ্লুইড, প্রস্রাব এবং অন্যান্য উপাদান ও গিলতে থাকে। আপনি অবশ্যই এই মুহূর্তে অবগত হয়েছেন যে বাচ্চারা গর্ভে থাকা অবস্থাতেই বিভিন্ন জিনিসের স্বাদ গ্রহণ ও গন্ধ নেয়ার ক্ষমতা লাভ করে। 

০২. বাচ্চারা মায়ের গর্ভে পায়খানা করে দিতে পারে

listverse.com

listverse.com

আমি জেনে হয়তো অবাক হবেন অনেক শিশুই মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রসব কালের ঠিক আগ মুহূর্তে পায়খানা করে দিতে পারে। তবে এ বিষয়টা অবশ্যই ভীতিকর। যদি কোন শিশু মায়ের গর্ভে পায়খানা করে তাহলে সেই পায়খানা তার নাকে-চোখে কিংবা মুখে অথবা কানে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে বাচ্চার জীবন সংকটময় হতে পারে। এজন্য চিকিৎসকগণ প্রসবের আগমুহুর্তে মায়েদের নিবিড় পরিচর্যায় রাখেন এবং খেয়াল রাখতে থাকেন বাচ্চা পেটের ভিতরে কোন ধরনের পায়খানা করেছে কিনা?

০১.  মায়ের পায়খানা বাচ্চার শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি অ বৃদ্ধি করে

listverse.com

listverse.com

বাচ্চা প্রসব কালে মায়ের পায়খানা যদি বাচ্চার শরীরে সংস্পর্শে আসে সেক্ষেত্রে বাচ্চার শরীরের জন্য উপকারী অণুজীব ব্যাকটেরিয়াগুলো বাচ্চার কাছে পৌঁছায় যা বাচ্চা গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন সময়ে তৈরি হয় না। সুতরাং তোর সকালে গর্ভবতী মায়ের পায়খানা করা টা বাচ্চার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরীর জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও মঙ্গলজনক। 

আমদের আয়োজন আপনাদের কেমন লাগলো? ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার, লাইক ও কমেন্ট করে সাথেই থাকুন। 



জনপ্রিয়