আলবার্ট আইনস্টাইনের নিহত হওয়ার ভয়ে আত্নগোপন, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির চোখ ট্যারা, মাদার তেরেসাকে মৃত্যুর আগের বছর পেতাত্না আঁছড় করা। আলবার্ট আইনস্টাইনের নিহত হওয়ার ভয়ে আত্নগোপন, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির চোখ ট্যারা, মাদার তেরেসাকে মৃত্যুর আগের বছর পেতাত্না আঁছড় করা।

বিখ্যাত লোকদের সম্পর্কে এই ৫ টি সত্য খুব মানুষ ই জানেন!

ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আমরা অনেক তথ্য জানি। কিন্তু প্রচলিত তথ্যের বাহিরেও এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা শুধুমাত্র গবেষকরা যখন গভীর থেকে অনুসন্ধান করেছে তখন খুঁজে পেয়েছেন। আপনি কি জানেন যে মাদার তেরেসা তার উপর দুষ্ট আত্মার প্রভাব দূর করতে তন্ত্র-মন্ত্রের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন? বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে এমন আরও কিছু মজার ঘটনা নিয়েই সাজিয়েছি আমরা আজকের আয়োজন। 

০৫. আলবার্ট আইনস্টাইনের নিহত হওয়ার ভয়ে আত্নগোপন

Universe Today

Universe Today

১৯২২ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের বন্ধু ওয়েল্ডার রথিনো গুপ্ত হত্যায় মারা গিয়েছিলেন যে কিনা তখনকার জার্মান ফরেন মিনিস্টার ছিলেন। এর পিছনে কারণ ছিল তিনি একজন ইহুদী ছিলেন তাই তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর আইনস্টাইন মারাত্মকভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। এবং পুলিশ আইনস্টাইনকে আত্মগোপন করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন কারণ তাঁকে ও মেরে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

Photo credit: Live Science

Photo credit: Live Science

তিনি তখন ১৯২২ সালে আত্মগোপনে চলে যান এবং কেউই জানত না তিনি কোথায় আছেন বা কেমন আছেন? অবিশ্বাস্যভাবে সে সময় তিনি তার বোন মাজকে একটা চিঠি লিখেছিলেন যে তিনি ভালো আছেন এবং তিনি তার জার্মানির তীব্র জাতীয়তাবাদদের উত্থান উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ।   

০৪. ১০টি পিকাসোর উন্মোচন

Photo credit: Smithsonian Magazine

Photo credit: Smithsonian Magazine

কোন ১৯৭০ সালের দিকে ইরানের সম্রাজ্ঞি একটা মডার্ন আর্টের বা আধুনিক শিল্পের জন্য মিউজিয়াম স্থাপন করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে যখন তার স্বামী ইরানের সর্বশেষ শাহ এর বিরুদ্ধে সেখানে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়েছিল তখন তিনি এবং তার স্বামী দেশ থেকে পালিয়ে যান। সে সময় সেখানে থাকা চিত্রকর্মগুলো দ্রুত জাদুঘরের বেজমেন্টে লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল। এই বিষয়টা শিল্প প্রেমীদের জন্য দুঃখজনক ছিল।

commons.wikimedia.org

commons.wikimedia.org

এর কারণ ছিল সেই মডার্ন আর্ট মিউজিয়ামে হাজার হাজার পাশ্চাত্যে যুদ্ধ পরবর্তী চিত্র শিল্পের সংকলন ছিল। যদিও এই চিত্রকর্মগুলো রাজার আদেশ এই লুকিয়ে ফেলা হয়েছিল যখন সে চিত্রকর্মগুলো জাদুঘরে পাওয়া যায়নি এজন্য দায়ী করা হয়েছিল বিদ্রোহ কে। সাম্প্রতিক সময়ে জাদুঘরটির সংস্করণ কাজের সময় একটা রোমাঞ্চকর আবিষ্কার হয়েছিল। জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক গোন এজেন্ট পন্ত জেনেছিলেন এই মিউজিয়ামে শুধুমাত্র দুটি পিকাসো রয়েছে যখন তারা সংরক্ষণাগার এ কাজ করছিলেন আরও দশটি অজানা খুঁজে পাওয়া যায় এর পরপরই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মার্সেল দুচাম্প একটা মূল্যবান চিত্রকর্ম খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।

০৩. গ্যালিলিওর গীর্জার বিরুদ্ধাচরণের আসল চিঠি

Courtesy of Wellcome Library)

Courtesy of Wellcome Library)

গ্যালিলিও তার নিজের কাজের মাধ্যমে এটা অনুপ্রাণিত করেছিলেন যে জ্যোতির্বিদ নিকোলাস কোপার্নিকাস সঠিক ছিলেন। ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস ধারণা দিয়েছিলেন যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে অন্য কোন দিকে ঘোরে না। গ্যালিলিওর জীবদ্দশায় গির্জা নিকোলাসের এই সূর্য কেন্দ্রিক অভিমতের ধারণাকে প্রচলিত মতের বিরোধী বলে বিবেচনা করে ছিল। এই অবস্থা একটা রহস্যের জন্ম দিয়েছিল। আজকে গ্যালিলিওর দুটি চিঠিতে গির্জার বিরোধিতা করার প্রচেষ্টা পুরোপুরি খুঁজে পাওয়া যায়।

Photo credit: sciencealert.com

Photo credit: sciencealert.com

সে দুটো চিঠির একটিতে বিরোধিতার হার তুলনামূলক কম ছিল আর অন্যটি ছিল ঘোর বিরোধী।এবং এই জন্য গ্যালিলিওকে তাঁর বাকি জীবন তাঁর নিজের ঘরেই বন্দি থাকতে হয়েছিল।২০১৮ সালে লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি লাইব্রেরিতে একজন ইতিহাসবিদ অপ্রত্যাশিতভাবে একটি চিঠি খুঁজে পান যা ১৬১৩ সালে গ্যালিলিও লিখেছিলেন। চিঠিতে পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে মূল বা আসল চিঠিটাই মূলত বিরোধিতামূলক ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই চিঠিটা তাঁর বন্ধুকে পাঠানো হলেও তা ভুল মানুষের হাতে পরে যায়।

০২. লিওনার্দো দা ভিঞ্চির চোখ ট্যারা ছিল

Photo credit: Live Science

Photo credit: Live Science

Unknown

Unknown

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির গভীর উপলব্ধি তার চিত্রকর্মগুলোকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করেছিল। ২০১৮ সালে গবেষকরা বিস্মিত হয়েছেন তাঁর চোখজোড়া হয়ত ট্যারা ছিল। এক চোখের তথ্য অনেক সময় নিরুদ্ধ হয় যখন দুটি চোখের দৃষ্টি দুদিকে থাকে। এর ফলে দ্বিমাত্রিক দৃষ্টির তৈরি হয় যার ফলে চিত্রঅংকনে একটা শৈল্পিক তীক্ষ্ণতার সৃষ্টি হয়।তাঁর আঁকা বিখ্যাত এই যিশু খ্রিস্টের ছবিটি দেখলে নিজেরাই বুঝতে পারবেন যে তিনি ট্যারা চোখের অধিকারী ছিলেন। 

০১. মাদার তেরেসাকে মৃত্যুর আগের বছর পেতাত্না আঁছড় করে

Photo credit: indiatoday.in

Photo credit: indiatoday.in

২০০১ সালে কলকাতায় একটি চার্চের যাজক একটা চোখ কপালে উঠে যাওয়ার মত ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাদার তেরেসা ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ মুহূর্তের সময়গুলোতে দুষ্টু আত্মার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন এমআই জন্য তিনি ঝাড়-ফুঁক নিচ্ছিলেন। ১৯৯৬ সালে হিন্দি ডি সুজা নামের একজন যাজক তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। যিনি মাদার তেরেসার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তিনি মাদার তেরেসার অস্বাভাবিক আচরণে উদ্বিগ্ন হয়ে ছিলেন।

AsiaNews

AsiaNews

মাদার তেরেসা অশান্ত ছিলেন, তাঁর নিজের চুল টেনে ছিড়ছিলেন, এবং হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলেন। পরের দিন রাতে তিনি আবার মাদার তেরেসার কাছে যান এবং মাদার তেরেসা আগের মতন ই ভয়ঙ্কর আচরণ করছিলেন। এজন্য তিনি এটা বুজতে পেরেছিলেন যে তাকে কোন দুষ্টু আত্না ভর করেছে।এজন্য যাযক মাদার তেরেসাকে ভূত তাড়ানোর জন্য তান্ত্রিক দিয়ে ঝাড়ফুঁক নেয়ার পরামর্শ দেন। মাদার তেরেসা তাতে রাজিও হন। একজন তান্ত্রিক এসে প্রায় আধা ঘণ্টা তাঁর ওপর ঝাড়ফুঁক দিয়েছিলেন যা শুধুমাত্র প্রার্থনায় সীমাবদ্ধ ছিল। এবং  এর পর তিনি শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েন।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। 



জনপ্রিয়