হ্যালুসিনেশান সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো আপনাকে অবাক করবে!   হ্যালুসিনেশান সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো আপনাকে অবাক করবে!

হ্যালুসিনেশান সংক্রান্ত এই তথ্যগুলো আপনাকে অবাক করবে!

যুগের পর যুগ ধরে মানুষ তাঁদের উপলব্ধি ও টিকে থাকার অবস্থা পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন নতুন উপায়ের অন্বেষণ করেছে। অনেক সাধারণ মানুষ, আধ্যাত্মিক গুরু, সন্যাসি এমনকি পূজারীরা ও তাঁদের আত্নউপলব্ধির অভিজ্ঞতা পরিবর্তনের মাধ্যমে সরল আনন্দ কিংবা এক ধরনের নিজেকে আলোকিত করার পথ তৈরি করেছেন। অতি উত্তেজনা, বিভ্রান্তি, মানসিক অশান্তি মানুষকে অনুপ্রাণিত ও পরিবর্তন করেছে।

এসকল কাজ করতে গিয়ে শেষে যা ঘটেছে তা হলো "হ্যালুসিনেশান" বা অলীক প্রত্যক্ষণ।হ্যালুসিনেশান যদি আপনার কখনো না হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে পারবেন এর ভয়াবহতা আর না হয়ে থাকলে এটা নিতান্তই মজার কোন বিষয়।চলুন জানা যাক সেই কারণগুলো যার জন্য হ্যালুসিনেশান হয়। 

০১. দুশ্চিন্তা ও উত্তেজনা 

Unknown

Unknown

আপনি জানেন কি আপনার অতি উত্তেজনার ফলে হ্যালুসিনেশান হতে পারে? দুশ্চিন্তা ও উত্তেজনা এ দুটির ফলে আপনার মস্তিষ্কে স্বাভাবিক কার্যকারিতা লোপ পায় এবং যার ফলশ্রুতিতে আপনার হ্যালুসিনেশান হতে পারে। আপনার যে এই সমস্যার ফলে হ্যালুসিনেশান হচ্ছে কি করে বুঝবেন? আপনি ভয়ঙ্কর কোন উজ্জ্বল বস্তু দেখবেন কিংবা চারপাশে শোরগোল শুনবেন। অথচ এসবের কিছুই বাস্তবে ঘটেনি। এ সমস্যা কোন সাধু কিংবা সাধারণ যে কারো হতে পারে। যদি এমন হয় তাহলে ভয়ের কারণ নেই আপনি একা নন আরো অনেকের সাথেই এমন ঘটেছে। 

০২. নিদ্রাহীনতা

Unknown

Unknown

আমাদের অনেকেই ইতিমধ্যে হয়ত আমন কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন যেমন- অতি ক্ষুদ্র কোন কিছুর নেচে দ্রূত চলে যাওয়া যা আপনি বাস্তব ভেবেছেন কিন্তু অবাস্তব এবং যা আপনার দৃষ্টির বাইরে। সাধারণত মস্তিষ্কের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী নিজ নিজ চেতনা  তৈরি করে সেগুলো মনের কাছে পাঠায় এবং এর ফলে তৈরি হয় সংযোগশীল অনুভব। যখন আপনি নিয়মিত অনিদ্রায় রাত কাটাবেন আপনার হ্যালুসিনেশান হবে তা অনেকটা নিশ্চিত।

কারণ আপনার মস্তিষ্কের নিদ্রাহীনতার কারণে যথাযত উদ্দীপনা তৈরি বা পাঠাতে পারে না। সোজা ভাষায় অনেকটা  অক্ষম হয়ে পড়ে। ফলে আপনার চেতনা লোপ পায়। বিজ্ঞানীদের মতে ৮০% মানুষ ই এ ধরণের নিদ্রাহীনতার কারণে দৃষ্টিলব্ধ হ্যালুসিনেশানে ভোগে। শ্রবণ-সংক্রান্ত হ্যালুশিনেশান এক্ষেত্রে হয় না। অর্থাৎ ভোউতিক ব্যাপারগুলো আপনি চোখে দেখবেন বলে মনে হবে। 

০৩. বোবা ভূত

Photo credit: epicadamwildlife.com

Photo credit: epicadamwildlife.com

অনেকেই দাবী করেন তাঁদের বোবা ভুতে ধরেছে। আসলে কি তাই? না মোটেও না। বোবা ভুতের কোন অস্তিত্বই নেই।এটা মূলত স্লিপ প্যারালাইসিস বা নিদ্রা অসাড়তা। এটা খুবই ভয়াবহ একটা সমস্যা। যখন আপনার স্লিপ প্যারালাইসিস হয় তখন আপনার পুরো শরীর ই অসাড় হয়ে যায়। যা হলে আপনার মনে হবে আপনি এক ইঞ্চিও নড়তে পারছেন না এবং আপনার দম বন্ধ হয়ে আসছে। এই অভিজ্ঞতা আমার একবার হয়েছিল আমি জানি ের ভয়াবহতা কী বা কতটুকু?  

এসমস্যা দু ধরণের হতে পারে এক যখন ই আপনি ঘুমিয়ে পড়লেন তখন অথবা ঠিক ঘুম ভাঙ্গার আগ মুহুর্তে। যে ধরণের ই হোক না কেন অনুভূতি একই থাকে। বিজ্ঞানকে অসংখ্য ধন্যবাদ এর সমস্যার কারণ উন্মোচন করার জন্য। ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত চোখের নড়াচড়া, বেশি স্বপ্ন দেখা এসকল কারণে মস্তিষ্কে একধরণের ত্রুটি তৈরি হয় যার ফলাফল বোবা ভূত! 

০৪. অন্ধত্ব

Unknown

Unknown

হ্যালুসিনেশানের ধরণগুলোর মধ্যে অন্যতম বিস্ময়সুচক একটি ধরণ হচ্ছে দৃষ্টিহীনদের তীব্র দৃশ্যমান হ্যালুসিনেশান। অথচ তাঁর চোখে দেখেন না। এটা অন্ধ লোকেদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি দেখা যায়। সেটা হল তাঁরা সে সকল জিনিস দেখার কথা জানায় যা তাঁরা দেখতে সক্ষম নন।এবং এমন কিছু ঘটনা অন্ধ ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন যা আসলেই অবাক করার মত।যার মধ্যে বন্য প্রানী সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা কিংবা খুবই ক্ষুদ্র কোন সত্তার বর্ণনা 

০৫. সিজোফ্রেনিয়া

Unknown

Unknown

সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মানসিক রোগ। রোগাক্রান্তের পরিবার এবং পরিচিতরা সমস্যায় পড়ে যান রোগীর অদ্ভুত আচরণ দেখে। তাদের সাথে মানিয়ে চলাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই রোগকে অনেক সময় মানসিক রোগের ক্যানসার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। ভ্রান্ত বিশ্বাস, অহেতুক সন্দেহপ্রবণতা (ডিল্যুশন), অবাস্তব চিন্তাভাবনা, হ্যালুসিনেশন (অলীক প্রত্যক্ষণ), অসংলগ্ন কথাবার্তা ইত্যাদি সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ। আর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষণ হচ্ছে অনাগ্রহ, চিন্তার অক্ষমতা, আবেগহীনতা, বিচ্ছিন্নতা। এমন ঘটনার কথা বলতে ও শুনতে দেখা যায় যা বাস্তবে ঘটেই নি কেবল হ্যালুসিনেশান।

০৬. মাদক

Unknown

Unknown

হ্যালুসিনেশানের স্বাদ নেয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় খুব সম্ভবত মাদক সেবন। আমি মোটেও মাদক সেবনকে উৎসাহিত করছি না। শুধুমাত্র হ্যালুসিনেশানের কারণ তুলে ধরছি। মাদকের রাসায়নিক উপাদান মস্তিষ্কে এক ধরণের প্রবল উত্তেজনা তৈরি করে যার ফলে হ্যালুসিনেশান তৈরি হতে পারে। 

আমাদের আয়োজন সম্পর্কে কমেন্টে জানান। ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার দিন। আমাদের সাথেই থাকুন।



জনপ্রিয়