নেতিবাচক সমালোচনার ফল সবসময় ভালো হয় না!           নেতিবাচক সমালোচনার ফল সবসময় ভালো হয় না!

নেতিবাচক সমালোচনার ফল সবসময় ভালো হয় না!

আপনি সমালোচনার কোন কাজ না করেও সমালোচনা পেলে অবশ্যই আপনার খারাপ লাগবে। আর যদি আপনি শিল্পচাতুর্যপূর্ণ হয়ে থাকেন তাহলে জ্বলনের পরিমাণ আরো বেশি হবে। আপনি হয়ত আপনার মন প্রাণ দিয়ে কোন কাজ করেন । কিন্তু তা কি কোন এমন নির্বোধ ব্যক্তির আশায় যে কিনা প্রকাশ্যে আপনার এত কষ্টের শিল্পকে কোন আবর্জনার মত যাচাই করে? 

যদিও অনেকেই সমালোচনাকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেন কিন্তু কিছু মানুষ রয়েছেন যারা খুব সামান্য কটু কথায় ও মারাত্নক ক্ষেপে যান। আজকের আয়োজনে আমরা নেতিবাচক সমালোচনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ সে সকল মানুষের কথা জানবো পাশাপাশি তাঁদের ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ সম্পর্কে ও জানব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। 

০৭. রিচার্ড ব্রিটেন 

Photo credit: townsvillebulletin.com.au

Photo credit: townsvillebulletin.com.au

দ্যা অয়ার্ল্ড রোজ নামে একটি সাহিত্য রচনা করেন ছবিতে উপরে ডানে  রিচার্ড ব্রিটেন। এজন্য সে খুব ভালো ভালো প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন শুধুমাত্র কিছু নির্বোধ কিশোর কিশোরীর কটু মন্তব্য ছাড়া অন্য সমালোচকরা তাঁর এই বইটি ডিকেন্স সেক্সপিয়ার এবং রাউলিং এর মত বিখ্যাত লেখকদের সাথে তুলনা করেছেন। 

ছবিতে নিচের দিকে ডান দিকে যাকে দেখতে পাচ্ছেন সে হলেন পেইজ রোল্যান্ড। সে রিচার্ডের বই পড়ে মারাত্নক বিরক্ত হয়েছেন বলে ঘোষণা দেয় এবং সে একটা বিশাল মন্তব্য লিখে যেখানে রিচার্ডের লিখা বইটার প্রত্যেকটা বিষয় নিয়ে বিদ্রুপাত্নক মন্তব্য করেন। রিচার্ড ও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নন। সে এই মেয়ের ঠিকানা ফেসবুকে ট্র্যাক করে খুঁজে বের করে।

এরপর সে ৬৪০ কিমি পথ পারি দিয়ে সরাসরি এই মেয়েটি যে মুদি দোকানে কাজ করে সেখানে গিয়ে হাজির হয়। এবং মেয়েটা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিচার্ড সেই দোকানে তাকে রাখা একটা বিশাল মদের বোতল  সোজা ধাম করে মাথায় মেরে দেয়। আর মেয়ে পরে হাসপাতালের বাসিন্দা হয়ে যায়। ছবিতে দেখতেই পারছেন মাথার ঝোল কিভাবে বের করা হয়েছে? কারো বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু বলার আগে ভেবে দেখবেন। 

০৬. ম্যারিসল সাইমোস

Photo credit: ottawamagazine.com

Photo credit: ottawamagazine.com

এলিয়ানা কার্টজ নামে একজন ভদ্রমহীলা মাম্বো নুভো ল্যাটিনো নামের একটি রেস্তোরায় খেতে যান। এবং তিনি জাম্বালেয়া নামের একটা খাবার অর্ডার করেন। এই খাবারে অলিভ দেয়া হয়। এলিয়ানা অলিভ পছন্দ করেন না তাই তিনি আগেই ওয়েটারকে বারণ করে দিয়েছেন যেন তাঁর জাম্বালেয়ায় কোন অলিভ দেয়া না হয়। কিন্তু খাবার আসার পর তিনি দেখলেন ঠিক ই সেখানে অলিভ মিশানো হয়েছে। তিনি সেটা ফেরত নিয়ে তাকে আবার আরেকটা অলিভ ছাড়া খাবার আনতে বলেন।

খাওয়া শেষে রেস্তোরা তাঁর কাছে দুটো মিলের টাকা দাবি করে। তিনি তর্ক করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সেটা দিতে হয়েছিল। এই ঘটনার পর এলিয়ানা সামাজিক মাধ্যমে এই রেস্তোরার বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিভিউ দেন।  এর ফলস্বরররূপ রেস্তোরার মালিক ম্যারিসল সাইমোস ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন তিনি এলিয়ানার ব্যাংক কার্ডের তথ্য অনুযায়ী ভুয়া ইমেইল আইডি খুলে এলিয়ানার ফার্মের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের যৌন উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিশ্রী বার্তা পাঠাতে থাকেন।

যেমন- আজ রাতে আমি একা তুমি চলে আসো আমরা থ্রিজাম করবো, গ্রুপ সেক্স করবো। আমি কামোত্তেজিত আমাকে এসে *** ইত্যাদি। যাই হোক এই মানহানি ২ বছর ধরে চলছিল। মূল রহস্য উদঘাটন হওয়ার পর ম্যারিসল সাইমোসকে ৯০ দিনের কারাবাস দেয়া হয় ও ২০০ ঘণ্টার মানসিক চিকিৎসা চালানোর আইনগত আদেশ দেয়া হয়েছিল।  

০৫. জুন সং

Photo credit: nypost.com

Photo credit: nypost.com

মিশেল লেভাইন তাঁর বার্ষিক চেক আপের জন্য স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ জুন সং এর শরণাপন্ন হন। আপনারা জেনে থাকবেন উন্নত দেশগুলোতে চিকিৎসা বীমা বাধ্যতামুলক আর এজন্যই সেখানকার নাগরিকগণ চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন না। যাই হোক মিশেল জানতেন যে যে ডাক্তারেদাক্তারের বীমার অর্থে পরিশোধ হয়ে যাবে। যাইহোক দেখানোর পর তাকে ৪২৭ ডলারের একটা বিল ধরিয়ে দেয়া হল।

যা কোনভাবেই হওয়ার কথা ছিল না।এর কারণ হলো যে সকল বিষয় দেখিয়ে তাঁর কাছে বিল চার্জ করা হয়েছিল সে সেই সুবিধাগুলো নেয়ই নি। যাই হোক পরে সে বিল দিয়ে এসে জুন সং ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। যার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ জুন সং মিশেলের বিরুদ্ধে ১ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করেন ও তাঁকে আইনি নোটিশ পাঠায়।

০৪. ডায়ানে গডম্যান 

Photo credit: yelp.com

Photo credit: yelp.com

সোন সি নামের একজন পুরুষ ছবির এই লাইব্রেরিতে গিয়েছিলেন। এবং তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন যে লাইব্রেরির সকল বই স্তূপাকারে এখানে সেখানে অগোছালো পড়ে আছে। ফিরে এসে তিনি রিভিউ দিলেন, "লাইব্রেরির মালিক ডায়ানে গডম্যানের, একজন নারী, উচিৎ দোকান কিছুদিন বন্ধ রেখে সব গুছানো।" এবার এই রিভিউ দেখে ডায়ানের মাথা পুরাই গরম হয়ে গেল। সে সোনকে হুমকিধামকি দিতে লাগলো বিভিন্ন বার্তা পাঠিয়ে। এবং এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে মারামারি দিয়ে শেষ হয়। 

০৩. জাং

Photo credit: singaporeplus.info

Photo credit: singaporeplus.info

শিয়াও লি ছবির নারী কিছু জামাকাপড় অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন।শিয়াও লি তাঁর পণ্য পেতে দেরি হওয়ায় অনলাইন শপের বিরুদ্ধে দেয়া রিভিউতে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। বিক্রেতা ছবির জাং এই মন্তব্যে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুলে ওঠেন। সে শিয়াও লি কে মুঠোফোনে বার্তার মাধ্যমে হুমকি দিতে থাকেন। এমনকি মৃত্যুর হুমকি ও দিচ্ছিলেন।

জাং পরিশেষে সেই নারীর পন্য বুঝিয়ে দেন পাশাপাশি কিছু লাথি, ঘুষি ও বুঝিয়ে দেন। যদিও শিয়াও কল্পনা ও করেন নি তাঁর সাথে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে জাং শুধুমাত্র প্রতিশোধ নিতে ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে শিয়াওকে পণ্য বুঝিয়ে দিতে নিজেই  আসেন। এই ঘটনায় আসামী জাংকে গ্রেফতার করা হয়। মজার বিষয় হলো সে ছাড়া পেয়ে আবারো শিয়াওকে বার্তা পাঠায় যে " আমি আবার আসবো তোর বারোটা বাজাতে।" 

০২. অনলাইন বারবিকিউ শপের মালিক

Photo credit: scmp.com

Photo credit: scmp.com

ছবি দেখে একটু হলেও বুঝতে পারছেন যে কি হয়েছিল? ঘটনা ঘটে চীনে। এক দম্পতি অনলাইনে বারবিকিউ মাংসের অর্ডার করেন। তাঁরা খাবার পাওয়ার পর দেখলেন খাবারের মান সন্তোষজনক নয়। এজন্য তাঁরা খাবারের সমস্যা উল্লেখ করে সেই অনলাইন পেজে নেতিবাচক রিভিউ দেন খাবারের সমস্যা উল্লেখ করে। পরদিন সন্ধ্যেবেলায় সেই অনলাইন বারবিকিউ শপের মালিক মহিলাকে মুঠোফোনে কল করেন।

তিনি জানতে চান, "নিগেটিভ রিভিউটা কি তুমি দিয়েছো?'' তিনি বলেন,"হ্যা।" বাস ওপাশে ফোন রেখে দেয়া হয় কিছুক্ষণ পরই মহিলার বিউটি পার্লারে ৭/৮ জন লোক লাঠি সোঠা নিয়ে হাজির। এই অবস্থায় তাঁর স্বামী দ্রুত ভেতর থেকে স্ত্রীকে বাঁচাতে আসেন। আর তর্ক বিতর্কের মধ্যে সেই গুন্ডারা তাঁদের বেদম প্রহার করেন। দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তী করতে হয়েছিল। মহিলার কয়েকটা হাড় ভেঙ্গে গেছিল অন্যদিকে স্বামীর মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেতে হয়েছিল। 

০১. বাসায় গুলি ও হামলা 

Photo credit: wftv.com

Photo credit: wftv.com

আমেরিকাতে এই ঘটনা ঘটেছিল। একজন শারীরিকভাবে অচল নারী ডে ব্রেক নামে  একটি রেস্তরায় খেতে যান। তাকে সেই রেস্তোরা কতৃপক্ষ খেতে না দিয়ে চলে যেতে বলেন। এর কারণ ছিল তিনি অক্ষম ও একা খেতে আসছেন। এর আগে কোন এক দিন তিনি এই রেস্তোরায় খেতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন যার জন্য তারা তাকে অন্য কোন মানুষ না থাকলে এখানে খেতে পারবে না বলে দেয়। পরে সেই মহিলা বাসায় ফিরে তাঁর মেয়ে মনিকাকে বিষয়টা জানায়।

মনিকা রেস্তোরায় গিয়ে ে বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু কেউ সহযোগিতা করছিল না। সে ফিরে এসে ফেসবুকে ডে ব্রেক রেস্তোরার নামে নিগেটিভ রিভিউ দেয়। এটার ফলস্বরূপ সেই রেস্তোরার মালিকের ছেলে প্রতিশোধ নিতে মনিকাদের বাড়ীতে হামলা চালায়। তিনটি গুলি ও ছুঁড়েছিল। একটা গুলি প্রায় মনিকার বাবার মাথায় লেগেই গিয়েছিল। ভাগ্যিস তিনি সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বেঁচে গিয়েছিলেন। পরে সেই অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়।

নিগেটিভ রিভিউ দেয়ার আগে জেনে বুঝে দেয়াই আপনার জন্য মঙ্গল।আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। 



জনপ্রিয়