বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর সিঁড়ি গুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর সিঁড়ি গুলো

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর সিঁড়ি গুলো ।

এই সিঁড়ি গুলো সকলের মনেই ভয় ধরাতে পারে।

এই সিঁড়ি গুলো বিশ্বের বিভিন্ন কোণে অবস্থিত। কিছু সিঁড়ি তৈরি পাথর অথবা কাঠ  দিয়ে , কিছু সিঁড়ির রেলিং আছে কিছু সিঁড়ির নেই, কিন্তু সিঁড়ি গুলোর মধ্যে একটি বিষয় মিল রয়েছে তা হলো সিঁড়ি গুলোর উচ্চতা এবং তাদের লুকানো বিপদ যা সকলের মনে  ভীতির সৃষ্টি করে।

কালাভান্তিন দূর্গ এর সিঁড়ি,( মহারাষ্ট্র,ভারত )

internet

internet

দূর্গটি একটি ছোটো গুহা কিন্তু এর সিঁড়ি একে বিশ্বের বিপদজনক গুলোর একটি বানিয়েছে । এটি মুম্বাই এর কাছে অবস্থিত । এর অমসৃণ সিঁড়ি গুলো পাথর কেটে বানানো। এই সিঁড়ি বেয়ে উপর প্রান্তে পৌছাতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টা। নেমে আসতে সময় আরো বেশি লাগে কারণ সিঁড়ি সময় কুয়াশার কারণে স্যাঁতস্যাঁতে থাকে। এই পুরাতন সিড়িতে কোনো রেলিং নেই ।

সেলাই করা পাথর ( কলম্বিয়া )

© holykash/pikabu

© holykash/pikabu

এই পাথরটির নাম ''এল পেনন দে গুয়াতাপে'' যা কলম্বিয়াতে অবস্থিত। এই পাথরের গা বেয়ে উঠা সিঁড়িটি খুবই অদ্ভুত । এর ধণের কারণে মানুষ এটিকে বিভিন্ন জিনিসের সাথে তুলনা দেয়। কিছু লোকের কাছে পাথরটি একটি সুতা দিয়ে সেলাই করা, কেও দেখে একটি জিপার হিসেবে , আরেক দল মনে করে জম্বি রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য এটি আদর্শ আশ্রয় হবে। 

আকাশ ছুঁতে চীন যান

internet 
চীনের হুনান প্রদেশে ''টিনামেন পর্বত" অবস্থিত । এই নামের অর্থ হলো " স্বর্গের দরজা " এবং নামটি শুধু শুধু দেওয়া হয়নি। 
বিশ্বাস করা হয়, যে ৯৯৯টি সিঁড়ির সব গুলো অতিক্রম করে " স্বর্গের দরজা " পর্যন্ত পৌছাবে সে আকাশ স্পর্শ করতে সক্ষম হবে এবং অনন্ত সুখের অধিকারী হবে । এটা সিঁড়ি নিজেদের পৌঁছানো বেশ কঠিন। এটি পর্বতের একদম উপরে অবস্থিত এবং ভ্রমণকারী এবং তীর্থযাত্রীদের ক্যাবল কার দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে হয় এবং তাঁর পর গাড়ি দিয়ে ৭ মাইলের একটি ঘূর্ণায়মান রাস্তা পেরুতে হয় যেটি "৯৯ টার্ন" নামে পরিচিত। 

internet

হাওয়াইয়ান পাহাড়ের নিষিদ্ধ সিড়ি 

© Shenielle/tripadvisor   © AndreiAndrei63/twitter
হাওয়াই এর হাইকু সিঁড়ি পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় স্থান ,যারা চরম কিছু উপভোগ করতে চায়। এখানে প্রবেশ নিষদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই আরোহণের চেষ্টা করে। রুটের শুরুতে কর্তব্যরত পুলিশ থাকে যারা বিশাল জরিমানা দিতে পারে যদি আপনি আরোহণের উৎসাহও দেখান। 
অনেক লোক " ও'আহু দ্বীপে " আসে বিশেষ করে এই কিংবদন্তী সিঁড়ি দেখতে, যেটি ১৯৪২ সালে সামরিক বাহিনী নির্মাণ করেছিলো একটি যোগাযোগ তাঁর টানার জন্য। 

© Shenielle/tripadvisor © AndreiAndrei63/twitter

মূসা নবীর পদচিহ্ন অনুসরণ

© mirana-travel
"মাউন্টেন অব মোসেস"  অবস্থিত মিশরের দক্ষিণ সিনাই পেনিনসুলায়। উপকথা অনুযায়ী , এটিই সেই চূড়া যেখানে মূসা ১০ টি আদেশ সহ পাথরের ফলক পেয়েছিলেন । আজ এটি এমন একটি জায়গা যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তীর্থযাত্রীরা জড়ো হয়। 
এই পাহাড়ের চূড়াই পৌঁছাতে হলে এর কঠিন ধাপগুলো পেরুতে হবে। বেশিরভাগ তীর্থযাত্রীরা সাধারণত রাতে পাহাড়ে উঠে আসে। প্রথমত এটি খুব একটা গরম নয় , দ্বিতীয়ত পর্যটকদের মতে পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যদয় দেখতে পাড়া আসলেই অসাধারণ একটি ব্যাপার। 

© mirana-travel

একটি ৩০০ ফুট উঁচু ভীতি 

© Nomiss/reddit   © Imaginechina/Corbis

© Nomiss/reddit © Imaginechina/Corbis

এই সিঁড়িটি প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু এবং বাঁকানো যা তাইহ্যাং পর্বতের চূড়াই গিয়ে ঠেকেছে। একসাথে ৬০ এর বেশি মানুষকে এই বাঁকানো সিড়িতে উঠতে দেওয়া হয়না কারণ এতে উঠা সহজ নয় এবং চূড়াই বয়ে যাওয়া বাতাস পুরো নির্মানটিকে দোলায়। 

আদমের শিখর

© tinac622/tripadvisor   © Aruna W/tripadvisor
এই দূর্দান্ত দৃশ্যটি তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যারা শ্রিলংকায় " এডাম'স পিক" এ উঠার সাহস করবেন। স্থানীয়দের কাছে এটি "শ্রি পাদা" নামে পরিচিত। পর্যটক এবং তীর্থযাত্রিরা এই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সূর্যদয় এবং গৌতম বুদ্ধ এর পায়ের ছাপ সম্বলিত একটি পাথরের থালা দেখতে। এর অন্যতম ঝামেলা হলো আপনি যদি চূড়াই উঠতে চান তাহলে আপনার যাত্রা শুরু করতে হবে রাতে, কারণ দিনে সূর্যের তাপে চূড়াই উঠা খুবই কঠিন। 

© tinac622/tripadvisor © Aruna W/tripadvisor

শুধুমাত্র একটি সিঁড়ি 

© Bevux/twitter   © Graham Custance
এই সিঁড়িটির নাম ভুলিবার্গ টাওয়ার। এই যায়গায় আগে একটি কাঠের ডেক ছিলো , যা পুড়ে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় একটি ধাতুর নির্মাণ দিয়ে একে প্রতিস্থাপন করার। এর উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট এবং এর উপরের খোলা যায়গা থেকে প্রখ্যাত "হলারবস" এর অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়ে যা দেখলে মনে হবে এ যেন পরীদের বন যেটি নীল অপরাজিতার চাদরে মোড়ানো। 

© Bevux/twitter © Graham Custance

রাজার রাস্তা 

© RYT2703/tripadvisor
স্পেনে "এল খররো" এর প্রান্ত ঘেষে পর্বতের পথ "এল ক্যামিনিতো দেল রেয়" বানানো হয়েছিলো বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে "এল  ২টি পাওয়ার স্টেশন এর মধ্যে মালামাল আনা নেওয়ার জন্য । এই পথটি তার নাম পায় কারণ এটি রাজা আলফোন্সো ১২ থাকা অবস্থায় এটি চালু হয়। নির্মান কারীরা সস্তা উপকরণ ব্যবহার করায় এটির অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে এবং ২০০০ সালের দিকে কিছু পর্যটকের মৃত্যর পর এর নাম হয়ে যায় ''ডেথ ওয়াক'' এবং তা পর্যটকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় । পরে তা পুনর্গঠন করে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ করে ২০১৫ সালের বসন্তে 'এল ক্যামিনিতো দেল রেয়' পুনরায় খুলে দেয়। 
 
৩৫০০ টি ধাপ

© RYT2703/tripadvisor

© grannypage/tripadvisor
ভারতের আভানেরি গ্রামে অবস্থিত চান্দ বাউরি নামের এই স্থাপনা ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন এবং গভীরতম। এটি দেখতে পইরামিড এর মতো দেখায়। উপর থেকে এটি ১০০ ফুট গভীর । স্থানীয়রা বিশ্বাস করে যে এটি ভূতে রা নির্মাণ করেছিলো  আর ইতিহাসবিধরা মনে করে এটি বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে তৈরি করা হয়েছিলো। 

© grannypage/tripadvisor

স্বর্গের রাস্তা 

© laurence6711/tripadvisor   © Andrew H/tripadvisor

© laurence6711/tripadvisor © Andrew H/tripadvisor

© depositphotos.com

© depositphotos.com

এই পথটি নিয়ে যায় হুয়া পর্বতের চূড়ায় যার নাম " দি রোড ট হেভেন" । এর সিঁড়িগুলো পাথরের গা কেটে বানানো আর রেলিং হিসেবে আছে লোহার চেইন। প্রথম দিকে শুধুমাত্র তীর্থযাত্রীরা এই পর্বত আরোহণ করতো কারণ এটি ভয়ংকর পাঁচটি পর্বতের মধ্যে একটি , এখন এটি পর্যটকদের জন্য ও উন্মুক্ত। এটি চীন এর টাওইসম এ অবস্থিত। 

জল্প্রপাত এর পেছনে উঁকি দেওয়া

internet
আপনি ইকুয়েডর এর এই জল্প্রপাতে পৌঁছাতে পারবেন একটি পাথরের সিঁড়ি বেয়ে । এটি এমন যায়গা দিয়ে উঠেছে যাদিক দিয়ে পানি খুব জোড়ে প্রবাহিত হয়। সিঁড়িটি একটি পিচ্ছিল্ল দেওয়ালের গুহা দিয়ে গিয়েছে যেটি সোজা জল্প্রপাতে পৌঁছেছে ।

internet

প্রতিদিন ৩০০ জনের বেশি নয়

© ManWithGoodHands/YouTube

© ManWithGoodHands/YouTube

ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্ক এর চূড়ায় পৌঁছাতে একটি ৫ মাইলের রাস্তা পেরিয়ে আসতে হবে। পার্ক এর কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ৩০০ জনের বেশি মানুষকে এটি পরিদর্শনের অনুমতি দেন না। পর্যটকদের শারীরিকভাবে উপযুক্ত হতে হবে এবং তীব্র ইচ্ছা থাকতে হবে ৪০০ টি প্রায় খাড়া সিঁড়ি পেরুনোর। 

চাঁদের মন্দিরের পথ 

internet
এই পাথরের সিঁড়ি অবস্থিত মাচু পিচু তে যা প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো। এটি সন্যাসি ইঙ্কাস নির্মাণ করেছিলো টেম্পল অব দি মুন এ পৌঁছানোর জন্যে। এখন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪০০ লোক কে অনুমতি দেওয়া হয় এখানে উঠার। , কারণ দেওয়াল এবং সিঁড়ি গুলো পিচ্ছিল হওয়ার কারণে সিঁড়ি দিয়ে উঠার সময় আপনার সবসময় সাবধানে দেওয়াল ধরে উঠতে হবে।

internet

নক্ষত্রের উপরে

internet
এই পর্যবেক্ষণাগার এর নাম 'পিক দু মিদি' যা ফ্রেন্স পাইরেনিস এ অবস্থিত । এখানে ভ্রমণের এক অংশে ক্যাবল কার ব্যবহার করা হয়, অন্য অংশটি সিঁড়ি দিয়ে আবর্তিত। এর উপরে খুবই ঠান্ডা বাতাস থাকায় আপনাকে গরম কাপড় পরিধান করতে হবে। 

internet



জনপ্রিয়