বিচিত্র রহস্যময় দ্বীপগুলোর গোপন গল্প। বিচিত্র রহস্যময় দ্বীপগুলোর গোপন গল্প।

বিচিত্র রহস্যময় দ্বীপগুলো।

যে দ্বীপ গুলোর রয়েছে অনেক গোপন তথ্য যা আপনাদের অবাক করে দিবে। 
এই পৃথিবীর আনাচে কানাচে রয়েছে প্রচুর বিচিত্র জিনিসের সমাহার। তেমনই কিছু দ্বীপ রয়েছে যেগুলোর গল্পগুলো রহস্যময় এবং চমৎকার-  

গকুই আইল্যান্ড

© Exclusivepix Media/EAST NEWS
প্রকৃতি সবসময় জিতবে যদি আমরা প্রকৃতি কে তাদের মতো শান্তিতে থাকতে দিই ,গকুই আইল্যান্ড হলো এর আদর্শ উদাহরণ । জেলেদের মূলভূখন্ডে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে এই গ্রাম পরিত্যক্ত হয়। এরপর থেকে প্রকৃতি তার দায়িত্ব বুঝে নেয় এবং পুরো রাস্তা ,বাড়ি ঘড় নরম চাদরে মুড়ে দেয়। 

© Exclusivepix Media/EAST NEWS

''পানির নিচে জলপ্রপাত'' মরিসিয়াস দ্বীপ

© Shutterstock.com
''মরিসিয়াস আইল্যান্ড'' খুবই চমৎকার স্থান এবং পাশাপাশি গৃষ্মমন্ডলীয় স্বর্গ ও বলা যায়। এর অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একটি বিস্ময়কর বিভ্রম এর সৃষ্টি করেছে। উপর থেকে দেখলে বালি এবং পলির প্রবাহ একটি জলের নিচের জলপ্রপাত এর মতোন ছাপ দেয়। 

© Shutterstock.com

সাপের দ্বীপ 

© Shutterstock.com

© Shutterstock.com

''সাপের দ্বীপ'' এই ডাক নাম পাওয়ার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। এই দ্বীপটি একটি অন্যতম বিষধর সাপের আবাসস্তলে পরিণত হয়েছে, সাপটি হলো গোল্ডেন লেন্সহেড। কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে এই দ্বীপে প্রায় ৪০০০ সাপ রয়েছে অর্থাৎ প্রতিবর্গ মিটারে একটি করে সাপ আছে। এই দ্বীপ এতোই বিপদজনক যে ব্রাজিল সরকার পরিদর্শকদের জন্য এই দ্বীপ নিষিদ্ধ করেছে। 
 
বোভেট আইল্যান্ড

© 1447 / Wikimedia Commons
''বোভেট আইল্যান্ড'' সম্ভবত পৃথিবীর সবচাইতে প্রত্যন্ত দ্বীপ। এর অবস্থান আটলান্টিক মহাসাগরের সর্ব দক্ষিণ বিন্দুতে। এর বিচ্ছিন্নতার কারণে এটি অনেকবার আবিষ্কৃত হয়েছে। সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে জ্যান-ব্যাপটিস্ট চার্লস বোভেট দে লোজিয়ারের মাধ্যমে। তিনি এই দ্বীপ চিহ্নিত করেছেন ১৭৩৯ সালে, কিন্তু তাঁর তথ্য যথাযথ না থাকায় ১৮০৮ সালের আগ পর্যন্ত এই দ্বীপ কেও খুঁজে পায়নি। ১৮০৮ সালে ব্রিটিশ নাবিক জেমস লিন্ডস্যা এটি খুঁজে পায় এবং এর নাম দেয় '' লিন্ডস্যা আইল্যান্ড'' । ১৭ বছর পর আরেকজন নাবিক এটি খুঁজে পায় এবং নাম দেয় '' লিভারপুল আইল্যান্ড'' ।
নানা বিতর্কের পর ১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দ্বীপের নাম এবং আবিষ্কারের কৃতিত্ব জ্যান-ব্যাপ্টিস্ট কে দেওয়া হয়।

© 1447 / Wikimedia Commons

ক্লিপপারটন দ্বীপ

© Shannon Rankin / Wikimedia Commons
প্যাসিফিক মহাসাগরে একটি ছোট প্রবালদ্বীপ '' ক্লিপপারটন দ্বীপ'' । এর আয়তন মাত্র ৬ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপ থেকে প্রধান ভূমি গুলো প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে। ১৯০০ সালের প্রথম দিকে এটি পাখির মলের খনি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৯১০ এর কাছাকাছি সময়ে একটি বাতি ঘর নির্মান করা হয় এবং প্রায় ১০০ লোক বসবাস করতো। প্রতি ২ মাস পর পর একটি জাহাজ এসে খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা হতো। ১৯১৪ সালের দিকে জাহাজ আসা বন্ধ হয়ে যায় মেক্সিকান সিভিল ওয়ারের কারণে। দ্বীপের লোকদের কথা সবাই ভুলে গিয়েছিলো , দ্বীপে বেঁচে থাকার জন্য ছিলোনা কোনো বন বা উর্বর জমি। ১৯১৭ সালের দিকে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকা ৩ নারী  এবং ৮ বাচ্চাকে উদ্ধার এবংউদ্বাসিত করে একটি আম্রিকান জাহাজ যারা সকলেই গুরুতরভাবে অপুষ্টিতে ছিলো।

© Shannon Rankin / Wikimedia Commons

আর্নস্ট থ্যালম্যান আইসল্যান্ড

© NordNordWest / wikipedia

© NordNordWest / wikipedia

আর্নস্ট থ্যালম্যান আইসল্যান্ড কিউবার কাছে একটি অতি ক্ষুদ্র দ্বীপ । ১৯৭২ সালে কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ট্রো পূর্ব জার্মানির নেতা ''এরিক হনেকার'' এর জন্য একটি পরিদর্শন এর আয়োজন করেছিলেন। অই সময় ''আর্ন্সট থ্যালম্যান'' এর সম্মানে দ্বীপটির নামকরণ করা হয় এবং জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কে দেওয়া হয়। মজার ব্যাপারটি হলো বার্লিন ওয়াল এর পতনের পর পূর্ব এবং পশ্চিম জার্মানি একটি দেশ হয়ে যায় এবং টেকনিক্যালি এই দ্বীপটিই পূর্ব জার্মানির বেঁচে থাকা অবশিষ্ট টুকরো। 

পালমিরা প্রবালদ্বীপ 

© imago stock&people/EAST NEWS

এই দ্বীপটি প্রবাল দ্বারা বেষ্টিত এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন স্থান । এখানে রয়েছে অপরূপ উপহ্রদ যেগুলো রেইনফরেস্ট দ্বারা আচ্ছাদিত। এবং সামুদ্রিক জীবনের সর্বোচ্চ সমাবেশ রয়েছে। শুনে মনে হচ্ছে একটুকরো স্বর্গ তবে দ্বীপটি ঘিরে প্রচুর কুসংস্কার রয়েছে। এর আশেপাশে জাহাজের  রহস্যময়ভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। আপনি যদি এটি দেখতে চান তবে আপনাকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে এবং যাত্রীদের সংখ্যা হতে হবে খুব সীমিত।

ভালক্যান আইল্যান্ড

© Depositphotos.com

© Depositphotos.com

ফিলিপাইনের উত্তরে ''তাল'' নামের একটি লেক রয়েছে। অই লেকেই ''তাল ভালক্যানো'' নামের একটি দ্বীপ রয়েছে। এই দ্বীপের মাঝে রয়েছে আরেকটি লেক, যা আসলে ভলক্যানোর একটি প্লাবিত আগ্নেয়গিরির মুখ, এবং এই লেকের মধ্যে আরেকটি দ্বীপ রয়েছে, যা '' ভালক্যান আইল্যান্ড'' । 

ফোর্ট ক্যারল

© East News
আপনি কখনো একটি দ্বীপের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন ? আর ভেবেছেন এটি শুধু অতিরিক্ত ধনীদের দ্বারাই সম্ভব? আপনি হয়তো অবাক হবেন কিছু দ্বীপ খুবই সাশ্রয়ী মূল্যের, কিন্তু সেগুলো কেও কিনতে চায়না। যেমন- ফোর্ট ক্যারল। যান অসম্ভব সস্তা। 
এই দুর্গটি মার্কিন সেনা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল কিন্তু এখন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়েছে। মালিক পরিকল্পনা করেছিলো একটি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, এবং একটি ক্যাসিনো সহ একটি অবসর কেন্দ্র চালু করার যা অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছিলো। প্রধান কারণ বছর ধরে দ্বীপটি একটি পাখিদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে এবং কোনো বিল্ডিং পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে যে পাখিদের বিরক্ত করা হবে না। 

© East News

সোকোট্রা দ্বীপ

© East News
দেখলে মনে হয় ''সোকোট্রা আইল্যান্ড'' অন্য গ্রহের অন্তর্গত, কিছু লোক বিশ্বাস করে যে দ্বীপটি স্বর্গের উদ্যান । দ্বীপটি দীর্ঘসময় ধরেই বিচ্ছিন্ন এবং এটি এমন কিছু গাছের আবাসে পরিণত হয়েছে যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। যেমন- ড্রাগনের রক্তের গাছ নামের একধরণের গাছ যা দেখতে প্রাকৃতিক ছাতার মত। 

© East News

ডিয়াভিক হিরার খনি

© Rio Tinto

© Rio Tinto

এই পুরো দ্বীপটি আসলে একটি বড় জিরার খনি। ডিয়াভিক খনি উত্তর কানাডায় অবস্থিত। এটি খোলা হয়েছে ১৫ বছর আগে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০মিলিয়ন ক্যারেট হিরা উত্তোলন করা হয়েছে যার ওজন ২০ টনের মতন।   



জনপ্রিয়