বিমানের ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে আপনি এই তথ্য গুলো আগে জানতেন কি? বিমানের ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে আপনি এই তথ্য গুলো আগে জানতেন কি?

বিমানের ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে আপনি এই তথ্য গুলো আগে জানতেন কি?

বিমান দূর্ঘটনা অন্য যেকোন দূর্ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ ও মারাত্নক। এজন্য বলছি, অন্য দূর্ঘটনায় যেখানে বেঁচে থাকার সামান্য ও সম্ভাবনা থাকে সেখানে বিমান দূর্ঘটনায় প্রায় ই শতভাগ মৃত্যু ঘটে। ১৯৫৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩০,২৪০ জন যাত্রী বিমান দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। বেশীরভাগ দুর্ঘটনাই যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বিমানের চালকের ভুল পরিচালনায় হয়ে থাকে। তবে ব্ল্যাক বক্স সত্য উদঘাটনে একটা অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে । আজ আমরা ব্ল্যাক বক্স সম্পর্কে ৮ টি গুরুত্বপুর্ণ কিন্তু সাধারণ মানুষের অজানা বিষয় সম্পর্কে জানবো।  

০১. ব্ল্যাক বক্স মানে কালো বক্স নয়

AFP: Justin Sullivan

AFP: Justin Sullivan

কালো বাক্সগুলি সান ফ্রান্সিসকোতে গোল্ডেন গেট সেতুর মতো একই রঙের অর্থাৎ কমলা রঙের। তারা আন্তর্জাতিক কমলা রঙ হিসাবে পরিচিত। এই রঙ এমনভাবে তিনটি রঙের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটার আশেপাশের যেকোন বস্তু থেকে আলাদা করা যায় বা খুঁজে পাওয়া যায়। গোল্ডেন গেট সেতুটি যদিও অনুজ্জ্বল, ব্ল্যাক বক্সে ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক কমলা রঙ অনেক উজ্জ্বল।

০২. দুই অংশ বিশিষ্ট

Twitter@NTSB

Twitter@NTSB

"ব্ল্যাক বক্স" দুটি যন্ত্রের তৈরি একটি যন্ত্র : ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) গঠিত।  ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার সাহায্যে বিমানের উড্ডয়ন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত করা হয় অন্যদিকে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের সাহায্য বিমানচালকের পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। ব্ল্যাক বক্স কোন বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা কর্পোরেট জেটের জন্য বাধ্যতামূলক, এবং সাধারণত একটি বিমানের লেজের দিকে রাখা হয়, যেখানে তাদের বড় কোন বিমান দুর্ঘটনায় ও অক্ষত থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এফডিআরগুলি বাতাসের গতি, উচ্চতা, উল্লম্ব ত্বরণ এবং জ্বালানি প্রবাহের মতো জিনিসগুলি রেকর্ড করে।

০৩. আবিষ্কার

aviationvoice.lk

aviationvoice.lk

ডেভিড ওয়ারেনের নিজের বাবা ১৯৩৪ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন, যখন ডেভিডের মাত্র ৯ বছর বয়স ছিল। ১৯৫০-এর দশকের প্রথম দিকে ওয়ারেন একটি ধারণা প্রকাশ করলেন যা বিমানের উড্ডয়ন সংক্রান্ত এবং ককপিট কথোপকথনগুলি রেকর্ড করতে পারবে যার সাহায্যে বিশ্লেষকগণ  দুর্ঘটনা ঘটার পেছনের কারণ জানতে পারবেন ।

মেলবোর্নের এ্যারোনটিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের জন্য তিনি একটি স্মারক লিখেছিলেন, "বিমান দুর্ঘটনায় সহায়তা করার জন্য একটি যন্ত্র", এবং ১৯৫৬ সালে "এআরএল ফ্লাইট মেমরি ইউনিট" নামে একটি প্রোটোটাইপ ফ্লাইট রেকর্ডার তৈরি করেছিলেন। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর আবিষ্কারটি বেশি গুরুত্ব পায়নি। অবশেষে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হয়েছিল।  তবে, অস্ট্রেলিয়া এই প্রযুক্তি বাধ্যতামূলককারী প্রথম দেশ।

০৪. বিশেষজ্ঞরা ব্ল্যাক বক্স কে ব্ল্যাক বক্স বলেন না

Internet

Internet

"ব্ল্যাক বক্স" শব্দটিকে মিডিয়া দ্বারা অভিহিত করা হয়, তবে বেশিরভাগ লোকই যারা এটাকে জানেন তাঁরা এই নামে অভিহিত করেন না। "ব্ল্যাক বক্স" নামটির সত্যিকার নাম নিয়ে অনেকে মতবাদ রয়েছে।  ব্ল্যাক বক্সগুলি সাধারণত বিমানের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা ইলেকট্রনিক ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

তাদের কাজ হল  ফ্লাইট তথ্যের বিস্তারিত রেকর্ড রাখার পাশাপাশি উচ্চতা, অবস্থান এবং গতি এ সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করা। অনেক বেসামরিক বিমানের এই কর্মগুলি চালানোর জন্য একাধিক যন্ত্র থাকা সাধারণ ব্যাপার, যাতে কোন ব্যর্থতার ক্ষেত্রে আরও সহজে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, তারা দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে তা নির্ণয় করতে সহায়তা করে।

০৫. শুধুমাত্র ২ ঘন্টার ককপিট কথোপকথন সংরক্ষিত হয়

AFP:Manny Ceneta

AFP:Manny Ceneta

ডিজিটাল রেকর্ডারগুলির ২৫ ঘন্টার  ফ্লাইট ডেটা সংরক্ষণ করলে ও মাত্র ২ ঘন্টার ককপিট কথোপকথন সংরক্ষণ করতে পারে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারগুলো ক্রু'দের এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে হওয়া পারস্পরিক কথোপকথন শনাক্ত করে  পাশাপাশি কথোপকথনের বাহিরের আওয়াজ ও ধারণ করে যার সাহায্যে তদন্তকারীরা দূর্ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত পেতে পারেন।  এর আগে ম্যাগনেটিক বা চৌম্বকীয় টেপ সংস্করণগুলি শুধুমাত্র ৩০ মিনিটের ককপিট কথোপকথন রেকর্ড করতে পারত।

০৬. খুঁজে পেতে অনেক সময় লাগে

US Navy

US Navy

ব্ল্যাক বক্সগুলোর সাথে আন্ডারওয়াটার লোকেটার বিকন ( অর্থাৎ যা পানির নিচে গিয়েও সঙ্কেত পাঠাতে পারে)  থাকে যা তার সেন্সর জল স্পর্শ করার সাথে সাথে  একটি পালস বা কম্পন নির্গত করা শুরু করে। এই ব্ল্যাকবক্স মাত্র চার কিলোমিটার গভীরতাতে কাজ করে এবং প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একবার টিং করতে থাকে এবং এভাবে ব্যাটারির চার্জ শেষ হওয়ার আগে ৩০ দিন পর্যন্ত এটা কাজ করতে পারে।

০৭. অনেকটা অবিনশ্বর বা অক্ষত

Internet

Internet

ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার সাধারণত দুইভাগ বিশিষ্ট টাইটানিয়াম বা স্টেইনলেস স্টীল দ্বারা আবৃত হয়, এবং যেকোন ভয়ঙ্কর অবস্থায় এই ব্ল্যাকবক্স অক্ষত থাকে। গবেষকরা বিভিন্ন উপায়ে  এটিকে চূর্ণ করার চেষ্টা করেন, ১১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আগুনে পুড়িয়ে,উচ্চচাপযুক্ত লবণাক্ত ট্যাঙ্কে ডুবিয়ে,  জেটবিমানের জ্বালানিতে এটি নিমজ্জিত করে এবং কামানের গোলা দিয়ে । কিন্তু সকল পরিস্থিতিতে এটা অক্ষত প্রমাণিত হয়েছিল।

০৮. কিন্তু তারা আপনার ফোনের মত শক্তিশালী নয়

Reuters

Reuters

MH370 বিমান দূর্ঘটনার পরে, বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতিগুলি আপডেট করার বিষয়ে জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন। যাত্রীরা বিমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যথাসময়ে বার্তা পাঠাতে পারছেন কিন্তু ডেটা রেকর্ডার যথা সময়ে যোগাযোগ করতে পারছে না। তাঁর মানে কি দাঁড়ায়? আপনার সেলফোনটি এই ক্ষেত্রে ব্ল্যাকবক্সের চাইতেও বেশি শক্তিশালী।

আপনাদের আনন্দ দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। যদি আমাদের আয়োজন ভালো লাগে তাহলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।



জনপ্রিয়