ইনফ্লুয়েঞ্জা সারানোর অতীত এই পদ্ধতিগুলো আপনাকে অবাক করে দেবে! ইনফ্লুয়েঞ্জা সারানোর অতীত এই পদ্ধতিগুলো আপনাকে অবাক করে দেবে!

ইনফ্লুয়েঞ্জা সারানোর অতীত এই পদ্ধতিগুলো আপনাকে অবাক করে দেবে!

বেশিদিন আগের কথা নয় যখন রোগীর শিরা কেটে রক্ত প্রবাহিত করা হত কিংবা হুইস্কির সাহায্যে অবস করা হত। আজ আপনাদের আমরা এমন কিছু অতীতে ইনফ্লুয়েঞ্জা সারানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবো যা আসলেই ক্রেজি। চলুন দেখা যাক।

লাল মরিচ

izzzy71/Shutterstock

izzzy71/Shutterstock

১৯১৮ সালের দিকে যখন স্পেনে ফ্লু মহামারী আকার ধারণ করে তখন এর তেমন কোনো প্রতিকার ছিল না। পরে আমেরিকাতে কিছু ঘরোয়া ঔষধ ব্যবহার করা হতো যার সাহায্যে ফ্লু সারানোর চেষ্টা করা হতো। আমেরিকার শিকাগোতে এরকম ফ্লু’তে আক্রান্ত হলে ঘরের সকল দরজা জানালা বন্ধ করে একসাথে অনেক পরিপক্ক লাল মরিচ সেদ্ধ করা হতো। তাঁরা বিশ্বাস করতেন মরিচের ঝাঁজে ফ্লু তাড়ানো যায়। মজার বিষয় হচ্ছে অনেক অনেক জায়গায় লাল রংয়ের পোশাক পরিধান করা হতো এটা মনে করে যে ফ্লু লাল রং পছন্দ করে না সুতরাং লাল রঙের কোন কিছু পড়লে ফ্লু সেরে যাবে।  

পেঁয়াজ কুচি

Ronald Sumners/Shutterstock

Ronald Sumners/Shutterstock

কোন কোন জায়গায় ঘরে যদি কেউ ফ্লুতে আক্রান্ত হত সে ক্ষেত্রে অন্যদের সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য পেঁয়াজ স্লাইস করে কেটে বিভিন্ন জায়গায় রেখে দেয়া হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল পেঁয়াজের কুচির সাহায্যে ফ্লু'র জীবাণুকে ধ্বংস করা। এবং এতে করে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আক্রান্ত হবে না এটা বিশ্বাস করা হত। এখন আমারা জানি কিভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা কাজ করে?

রক্তক্ষরণ

Sergey Podlesnov/Shutterstock

Sergey Podlesnov/Shutterstock

প্রায় ২ হাজার বছর আগে রক্ত ঝরানোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অসুখ ভালো করা হতো। ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে শুরু করে হৃদরোগ পর্যন্ত কিংবা দুষ্টু আত্মা দূরীকরণেও রক্ত ঝরানোর প্রথা চালু ছিল। ইনফ্লুয়েঞ্জা দূর করার জন্য রোগীর শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত করা হতো যার কারণে অতীতে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে ছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন ও একইভাবে মারা গিয়েছিলেন। বিশ্বাস করা যায়, ১৯২০ সালের দিকেও এ ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি চালু ছিল।  

হুইস্কি

Supakorn Sangpech/Shutterstock

Supakorn Sangpech/Shutterstock

১৯৪১ সালের মে মাসে টাইম ম্যাগাজিনে একটা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে হুইস্কি হচ্ছে মানুষের জন্য সবচেয়ে সস্তা এবং সর্বোত্তম ব্যথানাশক। সে সময় অনেকেই ইনফ্লুয়েঞ্জা সারানোর জন্য হুইস্কি গ্রহণ করত।

ধোঁয়া গ্রহণ

yotily/Shutterstock

yotily/Shutterstock

১৯১৮ সালে যখন ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী আকার ধারণ করেছিল তখন কিছু ইংরেজ গ্রামবাসী উপলব্ধি করলেন যারা বিষাক্ত ধোঁয়ায় কাজ করে তাদের অন্যদের তুলনায় ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম। অনেক পিতা-মাতা তাদের  ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত সন্তানদের সেই সকল প্ল্যান্ট বা কারখানার কাছাকাছি নিয়ে যেত এবং সেখান থেকে ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করাতো। যদিও সেইসময় এ প্রতিকার টা কাজে লেগে ছিল তবুও ইনফ্লুয়েঞ্জা ছাড়াতে গিয়ে ওই ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক সম্বলিত ধোঁয়া গ্রহণ অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য সুখকর ছিল না।

কুইনাইন

Lars Hallstrom/Shutterstock

Lars Hallstrom/Shutterstock

দক্ষিণ আমেরিকার সিনকোনা গাছের ছাল থেকে তৈরি হয় এই কুইনাইন নামক খুবই তিতা ভেষজ ঔষধ। শতাব্দীর পর শতাব্দী এই কুইনাইন ব্যবহার করা হয়েছে ম্যালেরিয়া দূর করার জন্য। ১৯১৮ সালে যখন ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাব ঘটে চিকিৎসকরা ফ্লু’র সাথে যে জ্বর হত সেটা নিবারণের জন্য কুইনাইন ব্যবহার করেছিল।

জলীয় ঔষধ

Ellenme/Shutterstock

Ellenme/Shutterstock

এক ধরনের জলীয় ঔষধ ছিল যেটা ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীর পায়ুপথে প্রবেশ করানো হতো এবং তিন সপ্তাহে মোট সাতটি ডোজ নিতে হতো। আমাদের ভাগ্য ভালো যে আমরা ঐ সময়ে জন্মাই নি।

চিকেন সুপ

Elena Shashkina/Shutterstock

Elena Shashkina/Shutterstock

১৯৭৮ সালে ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞরা সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের তিন ধরনের পানীয় খেতে দেন যেখানে গরম জল, ঠান্ডা জল, এবং চিকেন সুপ ছিল। কোন ধরনের সংকোচন বা জমাট বাঁধা দূর করার জন্য এই সবগুলো পদ্ধতির মধ্যে চিকেন সুপ বেশি কার্যকর ছিল।

আপনার মুল্যবান মতামত আমাদের জানান এবং আমাদের পোস্ট লাইক ও শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন।



জনপ্রিয়