জানেন কি কিভাবে মৃত্যুর পর ও মানবদেহ সংরক্ষণ করা হয়? জানেন কি কিভাবে মৃত্যুর পর ও মানবদেহ সংরক্ষণ করা হয়?

জানেন কি কিভাবে মৃত্যুর পর ও মানবদেহ সংরক্ষণ করা হয়?

কিছু ব্যক্তি হাজার হাজার বছর ধরে তাদের দেহকে অমরত্ব প্রদান করা হয়েছে। যদিও এই লোকেরা জীবিত নয়, তবে কিছু সংরক্ষণ কৌশল এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে যে হাজার বছর পরে ও সেই দেহগুলোর যখন ময়নাদন্ত করা হয়েছে তখন মনে হয়েছে যে এইতো কিছুক্ষন আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। চলুন আজ সম্পুর্ণ ভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানা যাক যেখানে আপনি মৃতদেহ সংরক্ষনের বিভিন্ন প্রাচীন ও সর্বাধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

ফরমালডিহাইড

Internet

Internet

ফরমালডিহাইড  হচ্ছে মৃতদেহ সংরক্ষণের অন্যতম একটি প্রাচীন পদ্ধতি। ১৮৬০ সালের দিকে জার্মানির একজন রসায়নবিদ অগাষ্ট উইলহেম ভন হফম্যান মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন আবিষ্কার করেন। শরীর থেকে সকল তরল পদার্থ এবং বায়বীয় পদার্থ নিষ্কাশন করার পর মৃত দেহে বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়ে থাকে এবং এরপর মৃতদেহ কে হিমায়িত করা হয় অথবা শুকানো হয়ে থাকে। এরপর মৃতদেহের উপর এক ধরনের মোমের মিশ্রণ স্প্রে করা হয় যাতে কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া শরীরকে পচাতে না পারে।

মমি

Internet

Internet

মমি নামক শব্দটার সাথে মিশরের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রথমে মৃতদেহ কে তালের রস থেকে তৈরি মদ এবং নদীর পানি দিয়ে ভালো করে ধোয়া হয়। মৃতদেহের শরীর থেকে সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বের করে নিয়ে আসা হয় শুধুমাত্র হৃদপিণ্ড ছাড়া। কারণ হৃদপিণ্ড সাথে আধ্যাত্মিক কিছু বিষয় জড়িত রয়েছে। এরপর নাক দিয়ে হুক এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক বের করে নিয়ে আসা হয়। এ সকল কাজ সম্পন্ন করার পর মৃতদেহকে এক ধরনের লবণের মিশ্রণ দিয়ে ৪০ দিন শুকাতে রেখে দেয়া হয়। ৪০ দিন পর মৃতদেহকে তৈলাক্ত ও লিলেন কাপড় দিয়ে মোড়ানোর আগে পুনরায় ধোয়া হয়।

ক্রূড মমিফিকেশান

Photo credit: Andrea021

Photo credit: Andrea021

আজ থেকে সাত হাজার বছর আগে চিলি এবং পেরুর তীরবর্তী অঞ্চলে চিনকোরো নামের আদিবাসীরা বসবাস করত। প্রাচীন মিশরীয়দের থেকেও হাজার বছর আগে‌ মৃতদেহ কে মমি তে রূপান্তর করত। কিন্তু আমরা মিশর সম্পর্কে জানি তাদের সম্পর্কে জানি না। এর কারণ ছিল মিশরী ওরা মূলত তাদের সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের মমি করত অন্যদিকে চিনকোরা তাদের সম্প্রদায়ের সকল মানুষেরই মৃত্যুর পর মমি করতো।

তাদের মমি করার পদ্ধতি শুরু হতো শরীর থেকে মাথা চামড়া এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাথরের তৈরি চুড়ি দিয়ে আলাদা করার মাধ্যমে। এরপরে মস্তিষ্ক চূর্ণ করা হতো এবং তা নাক দিয়ে বের করে আনা হতো অনেকটা মিশরীয়দের মতোই। এরপর মস্তিষ্কের জায়গায় ছাই এবং খড় দিয়ে ভরে দেয়া হতো। এবং শরীরের ভেতর থেকে সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বের করার পর সেখানে বিভিন্ন শাক সবজির তন্তু ঢুকিয়ে দেয়া হতো পাশাপাশি প্রত্যেকটা হাড়ের জোড়া লাঠি দিয়ে বেঁধে আবার মৃত দেহের চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে তার উপরে এক ধরনের কাদা দিয়ে মোড়ানো হত পাশাপাশি পুরো মমি কে ম্যাঙ্গানিজ পদার্থের থেকে তৈরি কালো রং করে দেয়া হতো।

ক্রায়োনিক্স

Photo credit: BBC

Photo credit: BBC

ক্রায়োনিক্স মৃতদেহ সর্বক্ষণের একটা সর্বাধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি বলে বিবেচিত। মৃতদেহ পুনরায় জীবিত করার প্রত্যাশায় ই এই সংরক্ষণ পদ্ধতির উদ্দেশ্য। এঈ পদ্ধতিতে যে মৃতদেহ সরক্ষণ করা হবে সেটার জন্য মৃতদেহের পক্ষে কারো ২,০০,০০০ ডলার এককালীন খরচ করতে হবে। এবং বাৎসরিক ১০০০ ডলার প্রদান করতে হবে।

এই পদ্ধতিতে মৃত ব্যাক্তিকে দ্রুত অনেকগুলো ইঞ্জেকশান দেয়া হয় যাতে তাঁর মস্তিষ্ক সচল থাকে তাঁর পরপর তাঁকে বরফে প্যাক করা হয়। যখন মৃতের শরীর পুরোপুরি ঠাণ্ডা হয়ে যায় তাঁর রক্তে একধরনের সংরক্ষণকারী পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। শরীর যাতে পুরোপুরি বরফ হয়ে না যায় এ জন্য আরো কিছু ইনজেকশান দেয়া হয়। এবার পুরো শরীর একটা বিশাল বিশুদ্ধ নাইট্রোজেন ভর্তী ট্যাঙ্কে ঢুকানো হয় এবং তা -১৯৬ ডিগ্রী তীব্র ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় রাখা হয়।

মেলিফিকেশান

Photo credit: Sachem31

Photo credit: Sachem31

গতানুগতিক পদ্ধতিতা মমি না করে ৩০০ খ্রিস্ট পূর্বে মধু ব্যবহার করে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হত। এটা সত্য যে মধুর এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে মানবদেহের টিস্যু সংরক্ষণ করার। অ্যালেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের মৃতদেহ ও মধু দিয়ে মমি করা হয়েছিল।

প্লাস্টিনেশান

Photo credit: Sachem31

Photo credit: Sachem31

মুলত চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ত্বরান্বিত করতে প্লাস্টিনেশান পদ্ধতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। এটাই একমাত্র পদ্ধতি যেখানে একটা মৃতদেহকে হুবহু যেভাবে আছে সেভাবে রাখা সম্ভব। মুলত এই পদ্ধতিতে মৃত শরীরে স্থায়ী প্লাস্টিকের উপাদান প্রয়োগ করে ও অন্য সকল পদ্ধতি অনুসরণ করে মৃতদেহের ক্ষয় ও পচন রোধ করা হয়। এবং তা জনসমক্ষে প্রদর্শনীতে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউটিউবে খুঁজুন " Plastination Process"।

প্রাকৃতিক সংরক্ষণ

Photo via Wikipedia

Photo via Wikipedia

ছবিতে আপনি যে মৃতদেহের ছবি দেখতে পাচ্ছেন। ইহা ওজ্জির শরীর যা আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে দুর্ভাগ্যবসত হিমবাহে আটকে পড়েছিল বা কেউ হত্যা করে বরফে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। এবং তাঁর এই শরীর অন্য মমিদের থেকে আলাদা কারণ তাঁর ভেতরে সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া গিয়েছিল। কোন মৃত দেহকে যদি বরফ অঞ্চলে নিয়ে বরফে চাপা দেয়া হয় তাহলে সেটা প্রাকৃতিকভাবেই সংরক্ষিত থাকবে।

সিনাবার ক্রিস্টাল

Photo credit: JJ Harrison

Photo credit: JJ Harrison

স্পেনে ৫০০০ বছরের পুরোনো মমি পাওয়া গেছে যা ছবিতে প্রদর্শিত সিনাবার ক্রিস্টাল দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। যদিও এই পদ্ধতি অত জনপ্রিয় নয়। তবে মমির হাড়ে কয়েকশো কেজি সিনাবার ক্রিস্টাল চুর্ণ স্তরে স্তরে রাখা হয়েছিল। মমির সমাধির কাছাকাছি সিনাবার ক্রিস্টালের খনি ও পাওয়া গিয়েছিল।

আপনাদের আনন্দ দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। যদি আমাদের আয়োজন ভালো লাগে তাহলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।



জনপ্রিয়