মঙ্গল গ্রহে রোভার অভিযানের অবিশ্বাস্য ছবি   মঙ্গল গ্রহে রোভার অভিযানের অবিশ্বাস্য ছবি

মঙ্গল গ্রহে রোভার অভিযানের অবিশ্বাস্য ছবি

পাথফাইন্ডার মহাকাশযানটি ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যেে রওনা দেয় এবং ১৯৯৭ সালের জুলাই মাসে পৌঁছায়। এখানে সোজর্নার নামে একটি চলমান রোবট ছিল। সোজর্নার ৬টি চাকা যুক্ত পায়ের পাতার আকারের একটি চলমান প্ল্যাটফর্ম। এটা দিনে সৌর শক্তিতে চলে এবং রাতে ব্যাটারিতে। এটা প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১ সে.মি পথ অতিক্রম করে। এতে ক্যামেরা এবং অন্যান্য সেন্সর থাকে। মহাকাশযানের চার দিকে ঘুরে এটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এবং সোজর্নার পাঠানো ছবির ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন। 

তারপর একে একে মঙ্গল গ্রহ অনুসন্ধানকারী রোবট অপরচুনিটি রোভার এবং স্পিরিটি রোভার ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত মঙ্গলপৃষ্ঠের অবিশ্বাস্য  ছবি পাঠিয়ে চলেছে। এছাড়াও কিউরিওসিটি রোভার ২০১২ সালে মঙ্গল গ্রহে নাসার প্রেরিত চতুর্থ রোবটযান। মঙ্গল গবেষণার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত (২০১২) নাসার বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। 

আজকে আমরা সোজর্না, অপরচুনিটি রোভার, স্পিরিটি রোভার  এবং কিউরিওসিটি রোভারের পাঠানো মঙ্গল গ্রহের কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।   

 

২৫. সোজর্নার ‘রক গার্ডেন’ ছেড়ে যাচ্ছে

 NASA

NASA

এই ছবিটা ১৯৯৯ সালেই জুলাই মাসে ধারণ করা, সোজর্নার মঙ্গলগ্রহে পা রাখা প্রথম ভ্রমণকারী যে ৭ দিনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ৭৬ দিন টিকে ছিল।

 

২৪. আবর্তনের কাছাকাছি সোজর্নার

 NASA

NASA

নাসা কীভাবে এই আশ্চর্যজনক মঙ্গল গ্রহের ছবি তুলতে পেরেছে? পাথফাইন্ডার ল্যান্ডারে যা ঘটেছিল তা নথিভুক্ত করার জন্য সোজর্নার প্রায় আটকে গিয়েছিল।

 

২৩. সোজর্নার ‘মোই’ এ এক্স-রে স্পেকট্রমিটার ছেড়ে যাচ্ছে

 NASA

NASA

আপনি এই ছবিতে পাথফাইন্ডারের নীচের প্যানেলটি দেখতে পারেন, সোজর্নার ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে তার তথ্য সংগ্রহ করা শেষ করেছে। 

 

২২. সোজর্নার ‘যোগী’র কাছাকাছি অবস্থান করছে

 NASA

NASA

১৯৯৭ সালের অক্তোবর মাসে সোজর্নার ‘যোগী’ পাথরের একটি নমুনা পেয়েছে, পাথরটি পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিজাত শিলা পাথরের অনুরূপ।

 

২১. মঙ্গলের ‘ব্লুবেরি’

 NASA

NASA

২০০৪ সালে এপ্রিল মাসে নাসা ক্ষুদ্র খনিজ উৎস খুঁজে পেয়েছেন এবং সেটিকে ‘ব্লুবেরি’ নাম দিয়েছেন।

 

২০. সম্ভাব্য পানির ‘শেষ সুযোগ’

 NASA

NASA

২০০৪ সালের মার্চ মাসে অপরচুনিটি রোভার এই ছবিটি তোলেন, এটি ‘শেষ সুযোগ’ শিলার মাত্র ২ ইঞ্চি কাছ থেকে তোলা ছবি। আপনি শিলার মধ্যে আরো ‘ব্লুবেরি’ সংযুক্ত হওয়া দেখতে পাবেন এবং এই নমুনা থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতে পেরেছেন যে, মঙ্গল গ্রহে একসময় পানি ছিল।

 

১৯. ছায়া দেখার সুযোগ

 NASA

NASA

২০১৪ সালের মার্চে, অপরচুনিটি রোভার ক্যামেয়ার সেলফি তোলে পিছনে ছায়া দেখতে পেয়েছে।

 

১৮. এটির ধূলা দেখার সুযোগ

 NASA

NASA

এটি ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসের ছবি, এটি সৌর প্যানেলের একটি ছবি। যেহেতু প্যানেলগুলি পরিষ্কার করতে মঙ্গলে কোন মহাকাশচারী নেই, তাই অপরচুনিটিকে সূর্যের মুখোমুখি হয়ে থাকতে হবে এবং বাতাসের বেগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে অথবা শীতকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষণ না এটি আবার অবাধে সরে যেতে পারে।

 

১৭. ফিরে দেখা

 NASA

NASA

২০১০ সালের মার্চ মাসে মঙ্গলগ্রহে শীতকালের সময় অপরচুনিটি রোভারের অগ্রভাগ সূর্যের মুখোমুখি হওয়ার জন্য বালি ঢেউ থেকে বালি ঢেউয়ে পূর্ববর্তী ট্র্যাকগুলোতে ফিরে তাকায়।

 

১৬. ভিক্টোরিয়া অগ্নিমুখ

 NASA

NASA

২০০৬ সালের সেপ্টেমবরে অপরচুনিটি রোভার প্রথম প্রধান আবিষ্কার হিসেবে ভিক্টোরিয়া অগ্নিমুখ আবিষ্কার করেন এবং এটির উপর থেকে দৃশ্যটি চমৎকার দেখাচ্ছিল।

 

১৫.  অপরচুনিটির গুটি

 NASA

NASA

মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করা কঠিন কাজ এবং এই ছবিটি (জানুয়ারি ২০০৪ সালের)।

 

১৪. ব্লুবেরির অবক্ষয়

 NASA

NASA

২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মঙ্গল গ্রহের মাটি থেকে এই ছবিটি তোলা হয়েছে।

 

১৩. স্পিরিট রোভারের সেলফি

 NASA

NASA

স্পিরিট হল অপরচুনিটির বড় বোন, ২০০৫ সালের আগস্টে নিজের এই ছবিটি তোলে দেখায় যে, মঙ্গলে ২ বছর থাকার পরও সে কিভাবে এখনো ভাল রয়েছে।

 

১২. স্পিরিট রোভার হোম প্লেটের দিকে তাকাচ্ছে

 NASA

NASA

২০০৬ সালে, স্পিরিট রোভার ‘হোম প্লেটের’ দুটি পাথরের নমুনা সংগ্রহ করে।

 

১১. লরি শৈলশিরাতে আগ্নেয় শিলা

 NASA

NASA

২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে, লরি শৈলশিলাতে এই আগ্নেয়গিরির শিলা আবিষ্কার করেছিল, যার নাম ছিল ‘ফুয়াই’।

 

১০. ‘ধুলো শয়তান’ চিহ্নিত

 NASA

NASA

পৃথিবীতে ধুলো শয়তানের অনুরূপ (খুবই খারাপ একটি ছোট টর্নেডো) ২০০৫ সালে ঘটেছিল। স্পিরিট রোভার ভূপৃষ্ঠের উপর ধুলার এই কষাঘাতের ছবি ধারণ করেছিল।

 

৯. একটি পর্বতে আরোহন

 NASA

NASA

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, কিউরিওসিটি রোভার (মঙ্গল গ্রহে নাসার প্রেরিত চতুর্থ রোবটযান) পর্বতের পাশে আরোহণ করতে শুরু করেছিল।

 

৮. ঢেউয়ের সার্ফ

 NASA

NASA

২০১৫ সালের এই ছবি মঙ্গল গ্রহে বৃহৎ বালি ঢেউয়ের (প্রায় ১০ ফুট জুড়ে) প্রথম ছবিগুলোর মধ্যে একটি।

 

৭. কিউরিওসিটি রোভার গাড়ি কাঠামোর একটি শিখর

 NASA

NASA

আপনি খুব কম সময়ই একটি রোভারের নিচের স্থানটি দেখতে পাবেন, কিন্তু ঠিক এই ছবিতে কি দেখা যাচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে, মঙ্গলের রোভার টিমটি কিউরিওসিটির ক্যামেরা ব্যবহার করে সেটির চাকা এবং টিয়ার চেক করছে।

 

৬. আকাশ থেকে কিউরিওসিটির বাড়ি

 NASA

NASA

 

৫. কিউরিওসিটি এটির কেমক্যাম ব্যবহার করেছে

 NASA

NASA

কেমক্যাম কি? এটি একটি সংবেদনশীল যন্ত্র যার সাহায্যে সাত মিটার দূরের কোনো শিলার উপরিস্তর বাষ্পায়িত করতে সক্ষম। এ যন্ত্র বাষ্পায়িত শিলা বিশ্লেষণ এবং এর মধ্যকার খনিজ উপাদান শনাক্ত করতে পারবে। ভিনগ্রহে পাঠানো কোনো যানে এ-ই প্রথম এমন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন লেজার সংযোজন করা হয়েছে। এতে আরো কয়েকটি ক্যামেরা সংযুক্ত আছে যারা মঙ্গলের বৈচিত্রময় ভূপ্রকৃতির উচ্চমানের ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে। অন্য যন্ত্রপাতিগুলো মঙ্গলের আবহাওয়ার অবস্থা পরীক্ষা করবে। এটি ব্যবহার করে মাউন্টেন শার্পের নিচের ছবি তুলে পাঠিয়েছে।

 

৪. কিউরিওসিটি রোভার থেকে সিক্রেট মরস কোড  

 NASA

NASA

 

৩. কিউরিওসিটি রোভার পানির আরো প্রমাণ খুঁজে বের করেছে

 NASA

NASA

মঙ্গলগ্রহে জলের অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছে কিউরিওসিটি। নাসার তরফে দাবি করা হয়েছে, কিউরিওসিটি মঙ্গলগ্রহের যেখানে অবতরণ করেছে সেই এলাকা দিয়ে একসময় বয়ে যেত জলের ধারা। প্রাথমিকভাবে বিজ্ঞানীদের অনুমান, হাঁটু গভীরতার জলের ধারা বইত ওই পাথরের ওপর দিয়ে। তবে পাথরটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ এখনও করা বাকি। নাসার বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, পাথরখণ্ডগুলি আকারে গোলাকার। একটি আকারে বেশ বড়। তাই বাতাসে স্থানচ্যূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। যা দেখে বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত, এগুলির আকার জলস্রোতের ফলেই এমন হয়েছে।

 

২. এই পর্বতমালার আরেকটি দৃষ্টিকোণ

 NASA

NASA

কিউরিওসিটি মঙ্গলপৃষ্ঠে প্রাচীন স্রোতবাহিত নুড়ি পাথরের সন্ধান পেয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলেছে, এক সময় ওই এলাকাটির ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া স্রোতের জলে এসব নুড়ি পাথর ভেসে এসেছে। এর আগেও বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে এক সময় জল থাকার অন্য প্রমাণ পেয়েছেন কিন্তু এই প্রথম স্রোতধারার তলদেশের নুড়ি পাথর আবিষ্কৃত হলো।

 

১. কিউরিওসিটি একটি সেলফি শেয়ার করেছে

 NASA

NASA

 

 মহাকাশে ভ্রমণ সম্ভব হওয়ার পর থেকেই মানুষ নিজেদের চূড়ান্ত সীমা নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।  তাই ২০৩৩ সালে মঙ্গল গ্রহে পা রাখা প্রথম মানুষ হিসেবে লিজিয়ানার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে এলিসা কারসনকে মহাকাশ্চারী হওয়ার প্রশক্ষিণ দেয়া হচ্ছে।  

 

 

লিস্ট টোয়েন্টি ফাইভ থেকে এবং উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত। 



জনপ্রিয়