এই রাজকীয় হ্রদগুলো বোঝাবে আমাদের পৃথিবী কতই না বিস্ময়কর!  এই রাজকীয় হ্রদগুলো বোঝাবে আমাদের পৃথিবী কতই না বিস্ময়কর!

এই রাজকীয় হ্রদগুলো বোঝাবে আমাদের পৃথিবী কতই না বিস্ময়কর!

পৃথিবীতে এমন অনেক উত্তেজনাপূর্ণ স্থান রয়েছে যা আমাদের অনুপ্রাণিত করে, জাদুমুগ্ধ করে এবং আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি হল শ্রেষ্ঠ শিল্পী। সারা পৃথিবী জুড়ে প্রকৃতি তাঁর তুলির আঁচড়ে একের পর একের অপুর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

হ্রদ হল ভূ-বেষ্টিত লবণাক্ত বা মিষ্টি স্থির পানির বা জলের বড় আকারের জলাশয়। হ্রদ উপসাগর বা ছোট সাগরের মত কোন মহাসমুদ্রের সাথে সংযুক্ত নয়, তাই এতে জোয়ার ভাটা হয় না। 

আজ আমাদের আয়োজনে থাকছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রাজকীয় হ্রদগুলোর কথা।

 

হ্রদের নাম- মোরাইন হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- কানাডা

© biglifetime

© biglifetime

মোরাইন কানাডার বানফ ন্যাশনাল পার্কের একটি গ্রীষ্মমন্ডল হ্রদ। হিমবাহগুলো গলে যায় তাই জুন মাসে এটি সবচেয়ে বেশি গভীর থাকে। হ্রদের পাথুরে তলদেশে হালকা স্বচ্ছতার কারণে জলের রং দারুণ নীল মনে হয়। কানাডার যেসব স্থানে সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা হয় তাঁর মধ্যে এটি একটি। এরকম হওয়ার কারণ তো বুঝতেই পারছেন, সত্যিই এটিকে স্বর্গের মতো দেখাচ্ছে।

 

হ্রদের নাম- ক্রেটার হ্রদ,

যে স্থানে অবস্থিত- অরেগন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

© portalcienciayficcion

© portalcienciayficcion

ক্রেটার হ্রদ মাউন্ট মাজামায় একটি বিলুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে অবস্থিত, যা ৭,০০০ বছর আগে সক্রিয় ছিল। এই হ্রদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিসটি হল উইজার্ড দ্বীপ, যাকে তাঁর চেহারার জন্য ফ্যান্টম শিপ নাম দেওয়া হয়েছে। অন্ধকারে এটিকে দেখতে সমুদ্রের জাহাজ মনে হয়। এখানে একটি বিশাল গাছের গুড়ি আছে, যার নাম 'দা ওল্ড মেন অফ দা লেক'। এটি হ্রদে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে উল্লম্বভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, বলা হয় যারা এটি দেখবে তাদের ভাগ্যে ভালো কিছু ঘটবে।

 

হ্রদের নাম- আব্রাহাম হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- কানাডা

© 500px@Pete Wongkongkathep

© 500px@Pete Wongkongkathep

আব্রাহাম লেক একটি কৃত্রিম হ্রদ যা ১৯৭০ সালে একটি বাঁধ নির্মাণের সময় নির্মিত হয়েছিল। পুরু বরফের মধ্যে দেখা যাওয়া অস্বাভাবিক নিদর্শনগুলি অনেক পর্যটক এবং ফটোগ্রাফারকে আকর্ষণ করে। এর পেছনে গোপন রহস্য হল, মিথেন বুদবুদগুলি যা হ্রদটির উদ্ভিদ দ্বারা উৎপাদিত হয়ে নিচ থেকে উঠে আসে এবং একটি ভিন্ন গভীরতায় ঘনীভূত হয়। এটি অসাধারণ ভিজুয়াল ইফেক্ট তৈরি করে।

 

হ্রদের নাম- হিলিয়ার হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- অস্ট্রেলিয়া

© placestoseeinyourlifetime

© placestoseeinyourlifetime

পিঙ্ক লেক হিলিয়ার ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াের মধ্য দ্বীপে অবস্থিত। বালিয়াড়ি একটি সংকীর্ণ ফালা মহাসাগর থেকে এটিকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং এটি  উপবৃত্তাকার আকৃতির। এর চারপাশে ইউক্যালিপটাস গড়ে উঠেছে। এই হ্রদের রং গোলাপী হওয়ার কারণ এখনও একটি ধাঁধা। যদিও বিজ্ঞানীরা এটি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সারা বিশ্বে্র পর্যটকরা এই বিস্ময়কর প্রাকৃতিক আশ্চর্যের প্রশংসা করেন।

 

হ্রদের নাম- মেলিসানি হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- ্গ্রীস

© imgur

© imgur

মেলিসানি একটি গুহা অ একটি হ্রদ উভয়ের নাম এবং এগুলো গ্রিক দ্বীপ কেফালোনিয়া এর পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। কয়েক হাজার বছর আগে গুহাটির খিলান পড়ে গিয়েছিল, যা মাঝখানে একটি অসম আকৃতির একটি অদ্ভুত দেওয়াল তৈরি করেছে। এই ভূগর্ভস্থ রাজ্য সূর্যালোকের রশ্মি দিয়ে উদ্ভাসিত হয় যা উপরের গর্তের মাধ্যমে আসে এবং জলকে হালকা নীল বানায়। পর্যটকরা এই রোমান্টিক জায়গা ভালবাসে।

 

হ্রদের নাম- পেইটো হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- কানাডা

© mota

© mota

বানফ ন্যাশনাল পার্কের অন্য একটি বিস্ময়কর স্থান হযল ্পেইটো হ্রদ। এই জলাধারের একটি অস্বাভাবিক আকৃতি আছে যা দেখে লেকড়ের মাথা মনে হয়। এটিতে প্রায় সব গ্রীষ্মমন্ডলীয় রং আছে যা সবুজ গাছের পেছনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে। গলিত তুষার থেকে পাথরের কণা হ্রদকে এক অনন্য ফিরোজা রঙের ছায়া দিয়েছে এবং এটি হ্রদকে জাদুকরী করে তুলেছে।

 

হ্রদের নাম- ফাইভ কালার পন্ড

যে স্থানে অবস্থিত- চীন

© shenyechen

© shenyechen

ফাইভ কালার পন্ড বিভিন্ন রঙের সাথে মিলে ঝকমক করে। চীনের ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত যার অন্য নাম জিয়াজহাইগু বা 'ভ্যালি অফ লাইন ফর্টিফাইড ভিলেজেস''।  পুকুরটি এই নাম পেয়েছে কারন এটি হলুদ রং থেকে হীরের নীল রঙ্গে নিজের জল পরিবর্তন করতে পারে! এই পুকুর কখনও জমে যায় না। পুকুরটির রহস্যময় গুণাবলির কারণে স্থানীয় জনগণদের এটি বেশ আকর্ষিত করে।

 

হ্রদের নাম- টিটিকাকা হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- পেরু ও বলিভিয়ার সীমান্ত

© travelermap

© travelermap

টিটিকাকা হ্রদকে ইনকা এবং আন্দেজ সভ্যতার শৈশবাবস্থার জমি বলা হয্। এই বড় পর্বত হ্রদ পেরু এবং বলিভিয়া সীমানার উপর অবস্থিত এবং লেক পার্শ্ববর্তী অনেক কিংবদন্তির কারণে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ইনকাদের স্বর্ণ সম্পর্কে সবচেয়ে বিখ্যাত এক গল্প হল, স্পানিশদের থেকে লুকিয়ে এখানে স্বর্ণ রাখা হয়েছিল। সাহসী মানুষ এবং ধনকুবেররা স্থানটি পছন্দ করবে।

 

হ্রদের নাম- সালার দি উয়েনি

যে স্থানে অবস্থিত- বলিভিয়া

© evolutsia

© evolutsia

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাষ্পীভূত হ্রদটি বলিভিয়াতে অবস্থিত। এই সল্ট প্যানটি সাপ্লাই স্প্রিং থেকে যা বেঁচেছিল তাঁর থেকে উৎপত্তি। পানি বাষ্প হয়ে গিয়েছিল এবং সমতল এলাকা লবণ দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে গিয়েছিল। এই সল্ট প্যানটি লবণের পরিমাণের জন্য নয় বরং বৃষ্টির প্রভাবের কারণে জনপ্রিয়। পৃষ্ঠের উপর প্রবাহিত, জল অবিশ্বাস্যভাবে পাতলা এবং বড় '' আয়না সৃষ্টি করে। " বলা হয় ভূমি কোথা থেকে শেষ এবং আকাশ কোথা থেকে শুরু বোঝা যায় না। এটি দেখতে খুব বেশী আকর্ষণীয়!

 

হ্রদের নাম- বৈকাল হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- রাশিয়া

© mytour

© mytour

অনেকে বলেন বৈকাল হ্রদ নয়, সমুদ্র। একটি গানেও বলা হয়েছে, ’’Glorious sea, the holy Baikal.’’ এটা বিস্ময়কর নয়, এটা পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ এবং তাজা জলের বৃহত্তম উৎস। এর জল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ এবং এই অঞ্চল বিভিন্ন উদ্ভিদের ধরনের সমন্বয়ে অনন্য। সাইবেরিয়ার সম্পদ বৈকাল হ্রদ এছাড়াও  ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্গত।

 

এবং একটি বোনাস-

হ্রদের নাম- কাপ্তাই হ্রদ

যে স্থানে অবস্থিত- বাংলাদেশ

source: charudesh.com

source: charudesh.com

কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার একটি কৃত্রিম হ্রদ। কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৯৫৬ সালে কর্ণফুলি নদীর উপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করা হলে রাঙামাটি জেলার ৫৪ হাজার একর কৃষি জমি ডুবে যায় এবং এ হ্রদের সৃষ্টি হয়। কাপ্তাই লেককে ঘিরেই মূলত রাঙামাটি জেলার পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। এই লেকের উপর রয়েছে বিখ্যাত ঝুলন্ত ব্রীজ। লেকের দুই ধারই পাহাড়-টিলা দিয়ে ঘেরা। ট্রলার ভাড়া করে লেকে ভ্রমণ করা যায়। ট্রলারে করে যাওয়া যায় শুভলং জলপ্রপাতে। লেকের পাড়ে রয়েছে নতুন চাকমা রাজবাড়ি ও বৌদ্ধ মন্দির। পুরাতন চাকমা রাজবাড়ি কাপ্তাই বাঁধ নির্মানের সময় লেকে তলিয়ে যায়। রাজবন বিহার বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বৃহত্তম বিহার রাঙামাটি শহরের অদূরেই অবস্থিত, যা পূণার্থী এবং দর্শনার্থীদের অন্যতম আর্কষনীয় স্থান।

 

আমাদের লক্ষ্য থাকে সবসময় নতুন কিছু আপানদের জানানোর। আপনারা নতুন কিছু জানতে পারলে আমাদের আয়োজন সফল হয়।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়