মানসা মুসা- পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি মানসা মুসা- পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি

মানসা মুসা- পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি

বর্তমানে পৃথিবীতে ১,৫০০ জন বিলিওনিয়ার বা ধনকুবের আছেন। ২০১৭ সালে আমাজনের সিইও সেরা ধনী হয়েছেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে বিল গেটস পৃথিবীর সেরা ধনী হয়েছিলেন কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই সর্বকালের সেরা ধনী হতে পারেননি।

মানসা মুসাকে নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

 

মানসা মুসাকে দেখুন, যাকে ধরা হয় পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ধনী হিসেবে। টাইম ম্যাগাজিন রিপোর্ট হয়েছিল "তার সম্পদে্র সঠিক সংখ্যা রাখার কোন উপায় নেই।"

source: internet

source: internet

 

মানসা মূসা অথবা মালির প্রথম মূসা ছিলেন ১৪শতকের মালি সম্রাজ্যের একজন মানসা। জন্মমৃত্যু- আনুমানিক ১২৮০ থেকে আনুমানিক ১৩৩৭ পর্যন্ত। মানসা শব্দের অর্থ সুলতান, বিজেতা বা সম্র্রাট। 

মানসা ছিলেন মালি সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সান্দিয়াতা কেইতা'র ভাগ্নে। ১৩০৭ সালে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রথম আফ্রিকান শাসক যিনি ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।

মূসা একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম ছিলেন এবং মক্কা থেকে তাঁর তীর্থযাত্রা তাঁকে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে সুপরিচিত করেছিল। মূসার কাছে ইসলাম ছিল "পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক সংস্কৃতিতে প্রবেশ"।  তিনি তার সাম্রাজ্যের ভিতরে ধর্মের বৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য অনেক সময় ব্যয় করতেন।

source: internet

source: internet

 

আফ্রিকান সম্রাট মেসা কেইটা ১, যিনি মানসা মুসা হিসেবে অধিক পরিচিত তাকে পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক সেরা ধনী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি যে পরিমাণ ধনী ছিলেন তা অকল্পনীয়।

৪০০ বিলিয়ন ডলার ভাগ্যের সঙ্গে, আজ পর্যন্ত, তিনি এই গ্রহে যে কোনো মানুষের চেয়ে আক্ষরিকভাবেই ধনী ছিলেন। তার ভাগ্য অত্যন্ত ভাগ্য ছিল যা আমাদের ধারণার বাইরে। 

মানসা মুসা ১০ জন মনসার মধ্যে একজন ছিলেন, তার অর্থ রাজা। তের শতকে, মানসা মুসা পশ্চিম আফ্রিকার মালিয়ান সাম্রাজ্যে শাসন করেছিলেন। তিনি আধুনিক দিনের মৌরিতানিয়া, সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনি, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, নাইজেরিয়া এবং চাদের অংশও শাসন করেছিলেন। তাঁর ভূমি লাভজনক প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে পরিপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে স্বর্ণ।

source: internet

source: internet

 

সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায় রাজা দেশ শোষণের দ্বারা অর্থ উপার্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর, তার উত্তরাধিকারীরা তার এই ভাগ্যকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হন।

মানসা মুসার রাজত্বকালে, তিনি তাঁর এলাকার সীমান্ত প্রসারিত করেন এবং তাঁর সাম্রাজ্য প্রায় ২০০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় তার একমাত্র লক্ষ্য সম্পদ অর্জন ছিল না, ছিল শক্তি অর্জন।

তিনি মসজিদ, বিদ্যালয় এবং একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে টিম্বুচ্চু শহর দখল করেছিলেন। তিনি যে মসজিদগুলো নির্মাণ করেছিলেন তার মধ্যে কিছু কিছু এখনও কষ্ট হতে দাঁড়িয়ে আছে।

source: internet

source: internet

 

মূসা অধিক পরিচিত ছিলেন তার কথিত হজ্জপালনের জন্য ( ১৩২৪ থেকে ১৩২৫ )। প্রচলিত আছে, তার হজ্জবহরের কাফেলায় রসদপূর্ণ থলে বহনকারী ৬০,০০০ লোক ছিল, সাথে ছিল ৫০০ গোলাম যারা প্রত্যেকে একটি করে সোনার দন্ড বহন করছিল এবং ৮০ থেকে ১০০টি উট ছিল, যেগুলো প্রত্যেকটি প্রায় ১৪০ কেজি সোনার গুঁড়ো বহন করছিলো। তার এই যাত্রাপথে তিনি প্রায় কয়েকশত কোটি টাকা মূল্যের সোনা বিতরণ করেছিলেন।

source: internet

source: internet

 

মুসার এই হজযাত্রায় সঙ্গী হন তার প্রথম স্ত্রী। এছাড়া নিযুক্ত ছিলেন আরো ৫০০ সেবিকা। কাফেলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা ও সংগীতশিল্পীও ছিলেন।

কথিত আছে, প্রতি জুমাবারে একটি করে মসজিদ নির্মাণ করতেন তিনি। মক্কায় হজ পালনের পর আরব বিশ্বের একটি বড় অংশ ঘুরে বেড়াতে থাকেন এই পশ্চিম আফ্রিকান শাসক।

source: internet

source: internet

 

কায়রোতে একবার, মানসা মূসা দরিদ্রের কাছে এত বেশি টাকা দিয়েছিলেন যে তিনি ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি করেছিলেন! নগদ মুদ্রা সংকট থেকে সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধারের জন্য এক বছরের বেশি সময় লেগেছিল!

মুসা মালির দশম মানসা। ২০১২ সালের জরিপ মতে, ৪০ হাজার কোটি ডলারের মালিক ছিলেন মুসা। যেখানে ২০১৭ সালে ফোর্বসের হিসাব মতে, বিল গেটসের নেট সম্পদের পরিমাণ হাজার ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার।

শুধু সম্পদ নয়, বিশাল একটি সেনাবাহিনীও ছিল তার, যাকে আজকের দিনে বলা যায়, ‘সুপারপাওয়ার আর্মি’। তার সেনাবাহিনীতে সদস্য ছিল দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ৪০ হাজারই ছিল তীরন্দাজ। তখনকার দিনে এত সংখ্যক সেনাবাহিনী ছিল কল্পনাতীত। ক্ষমতায় আরোহণের পর আফ্রিকার ২৪টি বড় বড় শহর জয় করেছিলেন তিনি।

source: internet

source: internet

 

মানসা মুসার মৃত্যুর সঠিক কোনো কারণ এখনো উদ্ধার করতে পারেননি ইতিহাসবিদরা। ধারণা করা হয়, ১৩৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন বিশ্বের সর্বকালের সবচে ধনী এই ব্যক্তি। মৃত্যুর সাল নিয়েও আছে বিতর্ক। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুনের মতে, কমপক্ষে ১৩৩৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন তিনি। ওই বছরই আলজেরিয়া বিজয়ে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন মুসা।

 

তখনকার হিসেবে মানসা মুসার যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ছিল তা আজকের দিনের অর্থ ও সম্পদে হিসাব করলে বর্তমানের সকল ধনবুরেরদের সম্পদের চেয়েও বেশি হবে, এখন ধনী ছিলেন তিনি!

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই জানুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়