দ্বিধাদ্বন্দ্ব... দ্বিধাদ্বন্দ্ব...

জেনে নিন যে অভ্যাসগুলোর কারণে বারবার আপনি ব্যর্থ হচ্ছেন!

‘সফলতা’ শব্দটা বলতে অনেক সহজ, কিন্তু অর্জন করা ঠিক ততটুকুই কঠিন। আপনি যতটুকু সফলতা অর্জন করতে চাচ্ছেন, তার জন্য আপনার সমান পরিমাণ শ্রম এবং সময় দেওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে। আপনার মধ্যে সকল ব্যর্থতা এবং বাধা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সকল সমালোচনা এড়িয়ে ইতিবাচক থেকে নিজের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনাদের মধ্যে যারা ভালো কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে কিছু শুরু করেছেন এবং কিছু দিন চেষ্টা করার পর হতাশ হয়ে নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শুরু করছেন, তাদের প্রথম ভুলটাই এখানে!

সত্যিকার অর্থে আপনি ব্যর্থ তখনি, যখন আপনি আশা ছেড়ে দিয়ে কাজ করা বন্ধ করে দিলেন এবং ভাবতে শুরু করলেন যে, এই কাজ আপনার জন্য নয়। অনেকেই ধারণা করেন যে,জীবনে সফলতার জন্য ভাগ্য লাগে। তবে এই কথাটি শুধু একটি ভ্রান্ত-ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। ভাগ্যের সাথে সফলতার কোন সম্পর্ক নেই। মানুষের জীবনের সফলতা তার দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাস ও মনোভাব এর উপরই নির্ভরশীল। তাই আপনি যদি জীবনে সফল হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে এবং সঠিক পথে চলতে হবে। আসুন জেনে নিই ব্যর্থ যারা তাদের কিছু অভ্যাস।

পরিবর্তনকে ভয় পায়

Source: thenegativepsychologist.com

Source: thenegativepsychologist.com

আপনার জীবনে সফলতা দেখা না পাবার সব থেকে প্রধান কারন হল আপনি পরিবর্তনকে ভয় করেন। আপনি আপনার জীবনে কি পরিবর্তন দেখতে চান তা যদি জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে এর উত্তর হবে সবকিছু। সফলতার জন্য আপনার আচরণ ও মানসিকতার পরিবর্তন, আপনি আপনার সময় কিভাবে অতিবাহিত করবেন তা চিন্তা করা, ভবিষ্যতে কি করবেন তা চিন্তা করতে হবে।  একজন সফল ব্যবসায়ী বলেছেন, “আপনি যদি সবসময় একই কাজ করেন তাহলে সবসময় যা পেয়েছেন তাই পাবেন”। আপনি ভবিষ্যৎ এ কি পেতে চান? তা এখন থেকেই ঠিক করে রাখুন এবং জীবনকে নতুনভাবে গড়তে শিখুন। প্রতিদিন যদি একটু একটু করে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন তাহলে একদিন নিজের মধ্যে অনেক পরিবর্তন চলে আসবে।

অপরকে দোষী সাব্যস্ত করে

Source: The Independent

Source: The Independent

আমরা অনেকেই নিজেদের বিভিন্ন ক্ষতির জন্য অন্যকে দোষী বলে মনে করি। কোন একটি কাজ করতে না পারলে মনে করি সে কাজটি আমাদের হাতে নেই। তাই নিজের কাজ নিজেরই করতে হবে। কথায় আছে একবার না পারিলে দেখ শতবার। তাই আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যে পর্যন্ত আমরা সফল না হই। জন বুররটস বলেন, “একজন মানুষ বারবার বিফল হতে পারে, কিন্তু সে ততদিন পর্যন্ত পরাজিত হবেনা যতদিন পর্যন্ত না আপনি চেষ্টা বন্ধ করবেন বা অন্য কাউকে দায়ী করবেন”।

নিজের উপর বিশ্বাস না থাকে না

Source: Digg 

Source: Digg

নিজের উপর অবশ্যই মন থেকে বিশ্বাস করতে হবে। আপনার জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই যদি ব্যর্থতা থাকে তবেও নিজের উপর বিশ্বাস রাখবেন। অনেক সময় আপনি চিন্তা করতে পারেন যে, এই কাজ টি হয়ত আমার দ্বারা হবে না। মাথায় যতই নেতিবাচক চিন্তা আসুক, নিজের উপরের বিশ্বাস কখনোই কমাবেন না। শুগার রে রবিন্সন বলেছেন, “যদি কেও তোমাকে বিশ্বাস না ও করে তবুও তোমাকে নিজের উপর অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে।

কি করবেন তা জানেন না

Source: Entrepreneur

Source: Entrepreneur

ছোটকালে আপনার অবশ্যই বিভিন্ন কিছু হবার ইচ্ছা হয়েছে। কখনো মহাকাশচারী, কখনো ডাক্তার কত কিছুই তো ইচ্ছা হয়েছে। কিন্তু এখন ও যদি আপনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন তাহলে কিছু সমস্যা হতে পারে। কারন, বিশ্বের বিভিন্ন সফল ব্যক্তি অনেক অল্প বয়সেই একথা চিন্তা করেছেন যে তারা ভবিষ্যৎ এ কি হবেন। তাই আপনার ও এখন থেকে চিন্তা করা উচিৎ। জীবনটা একটা অভিযান, পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার মতো। তোমার প্রতিদিনের কাজগুলো ঠিক করে দেবে তুমি কি চূড়ায় ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে গেলে নাকি আরো পিছিয়ে পড়লে। ব্যর্থ মানুষদের জীবনের একটি বড় অংশ কেটে যায় অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে।

 

অন্যের ব্যর্থতা আশা করা

 নিজে কিছু করতে পারেনি বলে ব্যর্থ মানুষ সবসময় অন্যের ব্যর্থতা আশা করে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার না করা

 সফল মানুষদের একটা কিছু ধ্যানজ্ঞান থাকে যেটার পিছে তারা নাওয়া খাওয়া ভুলে লেগে থাকতে পারেন। ব্যর্থ মানুষদের জীবন কাটে নিজের কাজকে ঘৃণা করে। তাদের না আছে কোন দক্ষতা, না আছে কোন গঠনমূলক কাজের প্রতি ভালবাসা। তাদের ধ্যানজ্ঞান থাকে রাজ্যের আনপ্রোডাক্টিভ সব কাজে- খেলা দেখা, সিরিজ দেখা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘুমানো, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া, আড্ডা দেওয়া, ফেসবুকিং করা এসব।

না বুঝে, না ভেবে কাজ করা

ব্যর্থ মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় কোন কিছুই না বুঝেই।

অন্যের উপর রেগে থাকা 

কেউ আপনাকে কষ্ট দিলে তাকে  ক্ষমা করে দেওয়া, তাতে আপনার কল্যাণ হবে। আমাদের জীবন কতো ছোট! একটা কচ্ছপ পর্যন্ত কয়েকশ বছর বাঁচতে পারে। তাই এই ছোট্ট জীবনের একটি দিনও কারো উপর রাগ পুষে নষ্ট করার মানে হয়না।

অন্তরের শান্তি জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, পৃথিবীর কারো এতটা গুরুত্ব থাকতে পারে না তোমার সেই শান্তি নষ্ট করে দেওয়ার। তাই সফল হতে হলে ক্ষমা করতে জানতে হয়, ক্ষোভ পুষে রেখে কেবল নিজেরই অন্তরে ক্ষত বাড়ে। আর ব্যর্থ মানুষরাই ক্ষোভ পুষে বেশি।

 

সব কাজে নেতিবাচক চিন্তা করা

 যে কোন কাজেই ব্যর্থ মানুষ নেতিবাচক চিন্তাই করে বেশি।

সহজ পন্থায় লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা 

সকল কাজে তারা সহজ পন্থা খুঁজে বেড়ায়।

নিজেকে সবজান্তা মনে করা  

তরুণ বয়সে মানুষ মনে করে, “বাবা-মা সেকেলে চিন্তা-চেতনার মানুষ, তারা আর কী জানে?” সেই মানুষটিই পরিণত বয়সে গিয়ে উপলব্ধি করে, “ইশ! তখন যদি বাবা-মা’র কথা শুনতাম!”

একটি জিনিস মেনে নিতে হবে, আপনি পৃথিবীর সবকিছু জানেন না। সবার থেকেই তোমার কিছু শেখার আছে, এই জিনিসটি যখন অনুভব করবেন দেখবেন জীবন অনেক বদলে যাবে। অনেকে পত্রিকার হকার, ভিক্ষুক এই পেশাগুলোকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে, অথচ এদের থেকেই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষাগুলো পাওয়ার আছে।

অন্যকে দায়ী করা

 নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে ভাল দিকটি কী হলো সিদ্ধান্ত যদি ভুলও হয় তবু কোন আক্ষেপ থাকবে না, কারণ আপনি মনের ইচ্ছাটিকেই অনুসরণ করেছেন। তাই সবসময় কাজের দায়ভার নিজের কাঁধে নিতে হবে, অন্যদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে কখনো জীবনে এগোনো যায়না। যা ব্যর্থ মানুষ সবসময় করে।

 

পরনিন্দা বা পরচর্চা করা

Source: i-Sight 

Source: i-Sight

আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ থাকবে যারা সবসময় অন্যদের নিয়ে হাসাহাসি, ঠাট্টা বিদ্রূপ করে বেড়াবে। এই মানুষগুলো নিজেরা জীবনে কিছু করতে পারেনি, তাই কেউ এগিয়ে যাচ্ছে দেখলে প্রাণপণে টেনে ধরে নামিয়ে দিতে চেষ্টা করে যেন কেউ উন্নতি করতে না পারে! 

আত্ম অহমিকা

ব্যর্থরা কিছুই করতে না পারলেও নিজেদের আত্ম-অহমিকা ঠিকই বজায় রাখে।

আপনার কি মনে হয় উপরের বিষয়গুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে? সাথেই থাকুন... 



জনপ্রিয়