হলিউড স্টার কিয়ানু রিভসের সফলতার গল্প আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে।   হলিউড স্টার কিয়ানু রিভসের সফলতার গল্প আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে।

হলিউড স্টার কিয়ানু রিভসের সফলতার গল্প

৩ বছর বয়সে কিয়ানু রিভেসের বাবা তাকে ত্যাগ করেন। পড়তে অসুবিধার কারণে তিনি স্কুল থেকে বিতাড়িত হন। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে ২৩ বছর বয়সে তিনি তার প্রিয় বন্ধুটিকে হারান। ৩৪ বছর বয়সে তিনি তার ভালোবাসার মানুষের দেখা পান এবং ওই বছরই বিয়ে করেন।

ঠিক ২ বছর পর তাদের একটি মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। যার জন্য তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। আঠারো মাস পর...

তিনি দূর্ঘটনায় তার গাড়িটি হারান। ভাঙ্গা মন নিয়ে, তিনি কারো কাছের হওয়া বা পরিবার গঠন এড়িয়ে চলতেন। তিনি খুব কাছ থেকে কষ্টকে অনুভব করেন, কারণ তার বোন লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সম্পত্তির মালিক হয়েও কিয়ানু রিভেস পাতাল ট্রেনে যাতায়াত করেন। “ম্যাট্রিক্স” মুভি থেকে আয়ের সত্তর ভাগ তিনি দান করে দেন। জীবনের এতো খারাপ সময়ের পরও তিনি শক্ত হাতে মানবিকতাকে আঁকড়ে রেখেছেন।

কিয়ানু চার্লস রিভস জন্মঃ ২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৪) হলেন একজন কানাডীয় অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক এবং সঙ্গীত শিল্পী। রিভস সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার চলচ্চিত্র অভিনয়ের জন্য যার শুরু হয় ১৯৮৫ সালে এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলোঃ স্পিড, দ্য ম্যাট্রিক্স, পয়েন্ট ব্রেক প্রভৃতি।

ছবিঃ ১

ছবিঃ ১

 

রিভস বৈরুত, লেবাননে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা প্যাট্রিশিয়া বন্ড ছিলেন একজন কস্টিউম ডিজাইনার/পারফর্মার এবং তার বাবার নাম হলো স্যামুয়েল নোলিন রিভস জুনিয়র। রিভসের মা বৈরুতে কাজ করার সময় তার বাবার সাথে দেখা হয়। রিভসের বাবা হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেরোইন বেচার অপরাধে হাওয়াইয়ে জেল খাটেন। জেলে থাকাকালীন সময় তিনি জেনারেল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট সম্পূর্ণ করেন। রিভসের বয়স যখন তিন বছর তখন তার বাবা তার পরিবার ছেড়ে চলে যান।

 

ছবিঃ ২

ছবিঃ ২

রিভস ছোটবেলায় খেলাধুলায় ভালো করলেও তার ডিসলেক্সিয়ার সমস্যার কারণে পড়াশোনায় তেমন ভালো ছিলেন না। তিনি তার হাই স্কুল আইস হকি দলের একজন সফল গোলরক্ষক ছিলেন এবং এজন্য তাকে “দ্য ওয়াল” ডাকা হতো। তিনি স্বপ্ন দেখতেন কানাডা দলের হয়ে খেলার কিন্তু একটি চোটের কারণে সে স্বপ্নের ইতি ঘটে।

 

রিভস নয় বছর বয়সে ড্যাম ইয়াঙ্কিস এর একটি মঞ্চ প্রযোজনায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। পনের বছর বয়সে তিনি লিয়া পসলানস থিয়েটারের রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েটেরএকটি মঞ্চ প্রযোজনায় মারকিউশিওর চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি হাই স্কুল ছেড়ে অভিনয়ে মনোযোগী হন। তিনি তার মার্কিন সৎ বাবার মাধ্যমে গ্রীন কার্ড লাভ করেন এবং লস এঞ্জেলেসে আসেন।

ছবিঃ ৩

ছবিঃ ৩

তার প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ইয়াংব্লাড (১৯৮৬) যেখানে তিনি একজন গোলরক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর কয়েকটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর তিনি “রিভারস এজ” চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে। পরবর্তিতে রিভস পার্মানেন্ট রেকর্ড, বিল অ্যান্ড টেড’স এক্সিলেন্ট অ্যাডভেঞ্চার এবং এর সিক্যুয়েল বিল অ্যান্ড টেড’স বোগাস জার্নি সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৯০-র দশক:ব্যাপক জনপ্রিয়তাঃ

১৯৯১ সাল থেকে রিভস রক ব্যান্ড ডগস্টারে বেস গিটার বাজান। ১৯৯১ সালে তিনি ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পয়েন্ট ব্রেকে অভিনয় করেন যার জন্য তিনি পরের বছর এমটিভির “সবচেয়ে আবেদনময়ী পুরুষ” এর পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি “মাই ওউন প্রাইভেট আইডাহোর” মতো সফল চলচ্চিত্র করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ব্রাম স্টোকার‘স ড্রাকুলা চলচ্চিত্রে “জনাথন হার্কার” চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি ব্যবসাসফল হলেও কিয়ানু রিভসের অভিনয় সমালোচিত হয়।

ছবিঃ ৪

ছবিঃ ৪

রিভস ১৯৯৪ সালে অ্যাকশন চলচ্চিত্র স্পিড-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ছবিতে রিভসকে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কেননা এর আগে তাকে একা কোনো চলচ্চিত্রের শীর্ষ চরিত্রে দেখা যায়নি। কিন্ত স্পিডের সাফল্য রিভসের অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

স্পিডের সাফল্যের পর তিনি বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যা অসফল ছিল। ১৯৯৭ সালে আল পাচিনো এবং শার্লিজ থেরনের সাথে দ্য ডেভিল‘স অ্যাডভোকেট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পুনরায় সাফল্যের দেখা পান। ১৯৯৯ সালে তিনি দ্য ম্যাট্রিক্স চলচ্চিত্রে “নিও” নামের এক হ্যাকারের চরিত্রে অভিনয় করে। চলচ্চিত্রটি ব্যবসাসফল হয় এবং সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে।



জনপ্রিয়