বাংলাদেশের ইতিহাসে নাম লেখানো এই নারীরা দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পাওয়ার যোগ্য ! বাংলাদেশের ইতিহাসে নাম লেখানো এই নারীরা দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পাওয়ার যোগ্য !

বাংলাদেশের নাম ইতিহাসে লেখানো এই নারীরা দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পাওয়ার যোগ্য !

নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা এখন বিশ্বের কাছে সুনাম কুড়াচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রায় ৫ কোটি ৪১ লাখ কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ নারী। প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা রয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ৮০ শতাংশের বেশি নারী। সাধারণ পেশার বাইরেও বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং পেশায় অংশগ্রহণের ফলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নারীরা এখন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছেন। বাংলাদেশের মত সামাজিক ব্যবস্থায় একজন নারী কখনোই সমান অধিকার পায় না, এর পরেও এই নারীরা যা করেছেন তার জন্য দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা পাওয়ার যোগ্য 


প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার৷ বাংলাদেশ সময় ২০১২ সালের ১৯ মে শনিবার সকাল নয়টা ৩০ মিনিটে এভারেস্ট চূড়ায় তিনি বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান৷ 

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরেক এভারেস্ট জয়ী এম এ মুহিত, যিনি এর আগেও একবার এভারেস্ট জয় করেছিলেন৷ দুজন'ই বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সদস্য৷  

 

ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুৎফী৷ বাংলাদেশের প্রথম নারী বৈমানিক হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিয়েছেন বিমান বাহিনীর এই সদস্য

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার সন্তান তামান্না-ই-লুৎফী এবং কৃষিবিদের সন্তান নাইমা হক ছোটবেলা থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখতেন৷ ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানে কঠিন এক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের প্রথম সামরিক নারী পাইলটের স্বীকৃতি পান তাঁরা৷ 

 

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী জাতিসংঘ প্রস্তাবিত 'টেকনোলজি ব্যাংক' গঠনের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলে সদস্য মনোনীত হয়েছেন। বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে সহায়তার লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রস্তাবিত 'টেকনোলজি ব্যাংক' গঠন হয়। 

ছবি - ইন্টারনেট

ছবি - ইন্টারনেট

বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিশিষ্ট রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞানী ফেরদৌসীকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন মনোনয়ন দেন। ইউএন নিউজ সেন্টারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত টেকনোলজি ব্যাংকের কার্যক্রম ও আওতা নির্ধারণে জাতিসংঘ মহাসচিব ১১ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল ঘোষণা করেন। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে টেকনোলজি ব্যাংক কীভাবে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) টেকসই উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশমালা তৈরি করবেন প্যানেলের সদস্যরা। 

 

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত একজন বাংলাদেশি ভারোত্তলক। ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমস এ মহিলা ৬৩ কেজি শ্রেণীতে তিনি স্বর্ণপদক জয় করেন।

মাবিয়া আক্তার

মাবিয়া আক্তার

তিনি একটি স্বর্ণ জেতেন তরুণ বিভাগে এবং দুইটি রুপা জয় করেন জেষ্ঠ্য এবং কনিষ্ঠ বিভাগের কমনওয়েলথ ভারোত্তলন চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা ৬৩ কেজি শ্রেণীতে। তিনি মোট ১৭৬ কেজি উত্তোলন করেন স্বর্ণ পদক জিততে।

 

ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস বাংলাদেশের প্রথম নারী প্যারাট্রুপার, জান্নাতুল ফেরদৌস বর্তমানে মিলিটারি একাডেমির কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৫৯তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। 

ছবি - বিবিসি বাংলা

ছবি - বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে প্রথম নারী ছত্রীসেনা (প্যারাট্রুপার) হিসেবে তিনি সফলভাবে এক হাজার ফুট উঁচু থেকে অবতরণের সম্মান অর্জন করেছেন।  ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ২০মিনিটে তিনি সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসের পানিছড়া এলাকায় বিমানবাহিনীর একটি বিমান থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করেন। 

 

মাহফুজা বেগম যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলায় এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন,  দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে মা-বাবার চতুর্থ সন্তান তিনি। 

একজন বাংলাদেশী মহিলা সাঁতারু। তিনি ভারতে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৫০ মি: ও ১০০ মি: ব্রেস্টস্ট্রোকে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

 

আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও তিনটি গ্লোবাল পেটেন্টের অধিকারী ড. রুবহানা রকিব । এত দিন যক্ষ্মা শনাক্ত হতো কফ-থুতু কিংবা বুকের এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে, এ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক রোগী পজিটিভ প্রমাণিত হলেও তাদের শরীরে সক্রিয় যক্ষ্মা আছে কি না তা এক শ ভাগ নিশ্চিত করে বলা যেত না। রুবহানা রকিবের যুগান্তকারী গবেষণায় এখন শুধু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই খুব সহজে শরীরে যক্ষ্মার জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ছবি - প্রথম আলো

ছবি - প্রথম আলো

গত প্রায় ৫০ বছর যক্ষ্মার নতুন কোনো ওষুধ পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হয়নি। যক্ষ্মাকে দরিদ্র মানুষের ব্যাধি বলা হয়। অনেকে অভিযোগ করেন, দরিদ্র দেশ ও মানুষের মধ্যে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের ব্যাপারে ধনী দেশগুলোর আগ্রহ কম। সুখের খবর, বাংলাদেশেই সেই নতুন ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণা শুরু হয়েছে। এই গবেষণার পুরোভাগে আছেন ড. রুবহানা রকিব।

 

ওয়াসফিয়া নাজরীন একজন বাংলাদেশী পর্বতারোহী। তিনি এখনও পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশী এবং দ্বিতীয় বাংলাদেশী নারী হিসেবে ২০১২ সালের ২৬ মে শনিবার সকাল পৌনে ৭টায় বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেষ্টের চুড়ায় আরোহন করেন।  তিনি বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় (সেভেন সামিট) করেছেন।

এভারেস্টজয়ী দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ২০১৪সালে বর্ষসেরা অভিযাত্রীর খেতাব পেয়েছেন। একই বছর ন্যাশনাল জিওগ্রাফি কর্তৃক ‘পিপলস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ নামে একটি পুরস্কার লাভ করেন।  

 

অধ্যাপক খালেদা একরাম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য। অধ্যাপক খালেদা একরাম বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পাওয়া দ্বিতীয় নারী উপাচার্য আর বুয়েটে প্রথম।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চিকিৎসার জন্য খালেদা একরামকে ব্যাংককে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২৪ মে ২০১৬ সোমবার দিবাগত রাতে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা একরাম। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

 

বোনাস:  

সীমা সরকার যিনি তার ১৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে যান। এই ছবি সাড়া জাগায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মায়ের এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ হয় অনেকে। প্রতিবন্ধী ছেলেকে পড়াশোনা করানোয় নিগ্রহের শিকারও হয়েছেন সীমা সরকার।

ছবি - প্রথম আলো

ছবি - প্রথম আলো

স্বল্প আয়ের পরিবারে প্রতিবন্ধী শিশুকে পড়াতে গিয়ে আর্থিক অনটনেও পড়েছেন সীমা সরকার। বাংলাদেশে প্রায় কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানেই শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য ব্যবস্থা নেই। ছেলেকে কোলে নিয়ে তিন-চার তলা সিঁড়িও বেয়েছেন সীমা সরকার। এই ছবি সাড়া জাগায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মায়ের এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ হয় অনেকে।

আমরা চেষ্টা করেছি যারা সেরা তাদের ঘটনাগুলো উল্লেখ করতে, এর মাঝে যদি আপনাদের মনে হয় কেউ বাদ পড়ে গিয়েছে আমাদের কমেন্টে অথবা ইনবক্সে জানাতে পারেন তবে পরবর্তিতে আমরা চেষ্টা করব উনাদের ঘটনাগুলো আনতে। 

কোন ঘটনাটি আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার আশে পাশের যে কোন ভালো কিংবা মজার ছবি যদি আমাদের মাধ্যমে পেইজে অথবা আর্টিকেলে শেয়ার করতে চান তাহলে আমাদের ফাঁপরবাজ পেইজের ইনবক্সে ছবিটি কোথায় উঠানো এবং কে উঠিয়েছেন এই তথ্য সহ মূল ছবিটি পাঠাতে পারেন, পরবর্তিতে আমরা আপনার তোলা ছবি সবার সাথে শেয়ার করব। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ



জনপ্রিয়