আত্মশক্তিতে বলীয়ান আলোকিত এই মানুষগুলো হোক আমাদের অনুপ্রেরণা          আত্মশক্তিতে বলীয়ান আলোকিত এই মানুষগুলো হোক আমাদের অনুপ্রেরণা

আত্মশক্তিতে বলীয়ান আলোকিত এই মানুষগুলো হোক আমাদের অনুপ্রেরণা

আজকের আয়োজনে দেখবো এমন কয়েকজন মানুষকে যাদের ক্ষেত্রে "প্রতিবন্ধী" নামক শব্দটি ব্যবহার করাটা হবে বেশ অন্যায়। আত্মশক্তিতে বলীয়ান আলোকিত এই মানুষগুলো হতে পারে আমাদের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণা। চলুন দেখে আসা যাক-

১০. ওক্সানা মাস্টার্স

ওক্সানা মাস্টার্স

ওক্সানা মাস্টার্স

ওক্সানা মাস্টার্স

ওক্সানা মাস্টার্স

পেশাঃ প্যারাঅলিম্পিক রোভার

ওক্সানা মাস্টার্স একজন সফল নারী। তিনি তার শরীরের টিবিয়াল হেমিমেলিয়াসহ বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ৭ বছর বয়স হওয়ার আগেই তার জন্মদাতা পিতা-মাতা তাকে ত্যাগ করেছিলেন। সেসময় সন্তানহীন এক দম্পতি তাকে দত্তক নিয়েছিলেন। এই দম্পতি তার জন্মগত ত্রুটি সংশোধন করার জন্য তিনি বিভিন্ন চিকিৎসা ও বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করেছিলেন। সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও, ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি নিজেকে নিয়েছেন সফলতার শীর্ষে, অর্জন করেছেন অনেক খ্যাতি ও পুরষ্কার।

৯. জেসন ম্যাকলেভেন

জেসন ম্যাকলেভেন

জেসন ম্যাকলেভেন

পেশাঃ বাস্কেটবল খেলোয়াড়

জেসন ম্যাকলেভেনের জীবনের কথা দিয়ে শুরু করা যাক- তিনি তীব্রভাবে অটিজমে ভুগছিলেন এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারতেন না। শৈশব থেকে তাঁর সবচেয়ে বড় আবেগ এবং শখ ছিল বাস্কেটবল। শত বিপত্তির সত্ত্বেও তিনি নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুঁটে চলা থামিয়ে দেননি। হাই স্কুল টিমে তার জায়গা পাওয়ার গল্পটাও বেশ দারুণ।

খুব অল্প বয়সী হওয়ায়, তাকে দলের ম্যানেজার করা হয়েছিল। তবে, শেষ হোম ম্যাচে, কোচ জেসনকে শেষ ৪ মিনিটের জন্য মাঠে নামান, যা দলের কাছে অবাক করা বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই সুযোগটি লুফে নিতে মোটেও ভুল করেননি, নিশ্চিত হারতে বসা একটি ম্যাচ জিতিয়ে দেন তিনি। জেসনের জাদুতে মুগ্ধ ও অত্যন্ত আনন্দিত দলটি তাকে কাঁধে নিয়ে বিজয় উৎযাপন করে এবং যে দৃশ্যটি ২০০৬ সালে এএসপিওয়াই কর্তৃক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সেরা মুহূর্ত হিসাবে ভূষিত হয়েছিল।

এরপর থেকে জেসনকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে একটি বইও লিখেছেন তিনি, যেটির নাম-'দ্য গেইম অফ মাই লাইফ'।

৮. সুভরিত কৌর

সুভরিত কৌর

সুভরিত কৌর

পেশাঃ ড্যান্সার

পা আছে, নাচবে! এই অভিব্যক্তিটি দূর্ঘটনায় পা হারানো ভারতীয় ড্যান্সার সুব্রত কৌরের স্বপ্নের পথে বাঁধা হতে পারেনি। একজন ডাক্তারের অবহেলার কারণে তার পা হারাতে হয়েছিল। এই শারীরিক সীমাবদ্ধতার সত্ত্বেও, তিনি প্রতিদিন অনুশীলন করতেন এবং একটি টিভি রিয়ালিটি শোতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তিনি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন এবং শীঘ্রই অন্য একটি রিয়ালিটি শোতে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে, তিনি সবার রোল মডেল এবং প্রতিনিয়ত তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের দিকে হাঁটছেন,

৭. মার্লিন ম্যাটলিন

মার্লিন ম্যাটলিন

মার্লিন ম্যাটলিন

পেশাঃ অভিনেত্রী ও লেখিকা

মার্লিনের এক কান সম্পূর্ণ বধির হয়েই জন্ম নেন এবং ১৮ মাস বয়সে তার অন্য কানের শ্রবণশক্তির ৮০% হারান। এই সীমাবদ্ধতা তার সফল অভিনেত্রী এবং লেখিকা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারেনি। আমেরিকান এই অভিনেত্রী ২১ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং একমাত্র বধির অভিনেত্রী যিনি নাটকে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন এবং তার চলচ্চিত্র চিল্ড্রেন অফ এ লেসার গডের জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমী পুরস্কার পেয়েছেন।

তিনি আইল স্ক্রাম লেটার নামে একটি আত্মজীবনী লিখেছেন। তার ক্যারিয়ার এখনও চমৎকারভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

৬. ইতজহাক পার্লম্যান

ইতজহাক পার্লম্যান

ইতজহাক পার্লম্যান

পেশাঃ বেহালাবাদক

এই ইজরাইলি আমেরিকান ভায়োলিনিস্টের জন্ম ১৯৪৫ সালে। ৪ বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। তিন বছর বয়সে ভায়োলিন বাজাতে শুরু করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে তিনি ভায়োলিন বাজিয়ে বেশ নাম কামিয়েছেন।

৫. ক্রিস্টাল কান্তু

ক্রিস্টাল কান্তু

ক্রিস্টাল কান্তু

পেশাঃ ক্রস ফিট ট্রেইনার

ফিটনেস ট্রেইনার ক্রিস্টাল কান্তু ২০১৩ সালে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ডান পা হারান। জীবন সেখানেই বদলে যায়, তবে ঠিক তিন সাপ্তাহ পর থেকে তিনি আবার জিমে ফিটনেস ট্রেনিং করাতে শুরু করেন! পঙ্গুত্বের কাছে হার মানেনি তার ইচ্ছেশক্তি।

৪. টিম হ্যারিস

টিম হ্যারিস

টিম হ্যারিস

পেশাঃ রেস্টুরেন্ট মালিক

টিম হ্যারিস একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। প্রতিদিন সকালে সে ব্রেকফার্স্ট সার্ভ করার সময় সে হাসিমুখে খাবার সার্ভ করে তখন কেউ চিন্তাও করতে পারবে না 'ডাউন সিনড্রম'-এ আক্রান্ত এই ব্যাক্তি কিভাবে ইচ্ছে শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে একটি রেস্টুরেন্টকে জনপ্রিয় করেছে।

৩. জন ব্রামবিট

জন ব্রামবিট

জন ব্রামবিট

১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া আমেরিকান পেইন্টার জন ব্রামবিট কয়েক দফা সার্জারির পর ২০০১ থেকে ধীরে ধীরে দৃষ্টি হারাতে শুরু করে। তবে সে স্পর্শ করে রং চিনতে পারে এবং তার পেইন্টিং ৩০-টিরও বেশি দেশে প্রদর্শিত হয়েছে।

২. আমির বোমজান

আমির বোমজান

আমির বোমজান

পেশাঃ আর্টিস্ট

নেপালের বালক আমির হাত-পা ছাড়াই জন্মেছে। কিন্তু এই প্রতিবন্ধকতা তাকে একটুও আটকাতে পারেনি শিল্পী হওয়ার পথে। সে মুখ দিয়ে ছবি আঁকে, রং করে! কবিতা লেখার জন্যও সে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

১. স্যু অস্টিন

স্যু অস্টিন

স্যু অস্টিন

পেশাঃ মাল্টিমিডিয়া, পারফর্মেন্স ও ইনস্টলেশন আর্টিস্ট

স্যু অস্টিন প্রশিক্ষিত প্রতিবন্ধী শিল্পী যিনি মাল্টিমিডিয়া, পারফর্মেন্স ও ইন্সস্টেলেশন শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। পানির নিচে হুইলচেয়ার নিয়ে গিয়ে পারফর্ম করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি ২০১২-এর লন্ডন সাংস্কৃতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেন। তিনি প্রায় দেড়শ মিলিয়ন মানুষকে তার হুইলচেয়ার স্ট্যান্ট দেখিয়েছেন। ২০১৩ সালে তার এই স্ট্যান্ট পেটেন্ট করে নেন তিনি।

আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ...



জনপ্রিয়