১০জন বিখ্যাত ব্যাক্তির ব্যর্থতা যা আপনাদের অনুপ্রাণিত করবে ।    ১০জন বিখ্যাত ব্যাক্তির ব্যর্থতা যা আপনাদের অনুপ্রাণিত করবে ।

১০জন বিখ্যাত ব্যাক্তির ব্যর্থতা যা আপনাদের অনুপ্রাণিত করবে

আমরা মাঝে মাঝে ভাবি যারা পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছেন তাদের কাজের মাধ্যমে তারা জন্ম থেকেই সফল ছিলেন তবে সেটা কিন্তু ভুল  ধারনা  । কিন্তু তাদের জীবনের ইতিহাস বলে বারবার তাদের ব্যর্থতা তাদের সফলতার পথ দেখিয়েছে । আপনাদের জন্য হাজির করেছি  ১০জন সফল ব্যক্তির সফল হবার আগের ব্যর্থতার গল্প যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে । 

 

১. ওয়াল্ট ডিজনি 

আমরা ছোটবড় অনেকেই কার্টুন ছবি দেখতে পছন্দ করি। আর ওয়াল্ট ডিজনির কার্টুন হলে তো কথাই নেই। ওয়াল্ট ডিজনি এমন এক ব্যক্তির নাম যিনি সারা বিশ্বে কার্টুনের জন্য বিখ্যাত। কার্টুনের জগতে তিনি একনামে পরিচিত। অথচ তার জীবনের শুরুতে ছিল ব্যর্থতা। তিনি একটা পত্রিকায় কাজ করতেন কার্টুন আর্টিস্ট হিসেবে। পত্রিকার মালিক তাকে চাকরিচ্যুত করেন। কারণ হিসেবে জানিয়ে দেন, তার সৃষ্টিশীল আইডিয়া নেই। নতুন কিছু কল্পনা করার শক্তি নেই। তাকে দিয়ে কাজ চলবে না।  

 

২. ম্যারি কে এশ  

ধরেন আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন কিন্তু আপনার দেওয়া ডিসিশন তারা রাখছে না কি করবেন ? ছেড়ে দিয়ে অন্য কোন জব খুজবেন সেটাই স্বাভাবিক কিন্তু সেই ক্ষেত্রে বিখ্যাত লেখিকা ম্যারি কে এশ ব্যাতিক্রমি কাজ করেছেন ।যেই প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর চাকরি করেছেন সেখানে তার যথাযথ মুল্যায়ন না পেয়ে চাকরী ছেড়ে দেন এবং নিজেই নারীরা কিভাবে সহজে ব্যবসা করতে পারব তা নিয়ে লিখে ফেললেন এক বই এবং সে বই হল প্রতিটা ব্যবসায়ের জন্য উপযুক্ত নির্দেশাবলী ।   

 

৩. টমাস আলভা এডিসন 

বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের নাম শোনেননি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছেন। ছেলেবেলায় শিক্ষকরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তাকে দিয়ে কিছুই হবে না। তিনি কোনো দিন কিছু শিখতে পারবেন না । অথচ তিনি পৃথিবীর বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানী যার ১ হাজর ৯৩টি প্যাটেন্ট রয়েছে। তিনি বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করে পৃথিবীর মানুষকে চমকে দিয়েছিলেন। অবশ্য বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করতে গিয়ে তিনি ৯ হাজার বার ব্যর্থ হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ব্যর্থ হইনি। এতে আমি শিক্ষা পেয়েছি, এমন ১০ হাজার বিভিন্ন উপায় আছে যেগুলো কাজ করবে না।  

 

৪. মিশেল ওবামা 

নিরলস পরিশ্রম উপরে উঠে আসা ব্যক্তির নাম মিশেল ওবামা। তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার উপর কোনদিনই অন্যের মতামত কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি। নিজের মেধা ও শ্রম তাকে দিয়েছে বিশেষত্ব। যখন তিনি অল্পবয়সী ছিলেন তখন আশেপাশের মানুষের কাছে তার পরিচয় ছিলো নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের খেটেখাওয়া পরিবারের সদস্যা হিসেবে।

নিজ মেধায় যখন তিনি প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান তখনো তিনি খুব অল্প কিছু মানুষের ভরসা অর্জন করতে পেরেছিলেন। বার বার সমালোচনার শিকার হয়ে তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সবসময় নিজের কাছে সত্য ও সৎ থাকবেন। তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ছিলো নিজের দেশের জন্য কিছু করার ও নিজের পরিচয়ে পূর্ণ রূপে আত্মপ্রকাশ করার ও তার প্রতিফলন তিনি দেখিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টের অর্ধাঙ্গী হয়ে। 

 

৫. স্টিভ জবস 

স্টিভ জবসের পরিচয় নতুন করে দেয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। তাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। অথচ তিনি তার নিজের কোম্পানি নেক্সট থেকে বিতাড়িত হন। তখন তার বয়স ৩০ বছর। তিনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু হতাশা কাটিয়ে কিছুদিন পর অ্যাপেল নামে নতুন একটা কোম্পানি দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি নেক্সটকে কিনে নেন। বিল গেটস আর ওয়াল্ট ডিজনির নাম বিবেচনায় রেখে বলা যায় বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রগতিশীল, প্রভাবশালী, প্রতিভাবান আর সফল প্রযুক্তিক ভাবনার অধিকারী ছিলেন স্টিভ জবস ।  

 

৬. হাওয়ার্ড স্কাল্টজ 

আজকাল আমরা রাস্তায়  যে হাতে নিয়ে কফির কাপ নিয়ে খেতে খেতে চলি জানেন কার মাথা থেকে আইডিয়াটা বের হয়েছে । যদি না জানেন তবে জেনে নেন তিনি হলেন বিশ্ব বিখ্যত ক্যাফে স্টারবাক্স এর মালিক  হাওয়ার্ড স্কাল্টজ  । চলার পথে কফি পান করা সম্ভব এই ধারনার পিছে কোন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে বিন্দুমাত্র আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু হাওয়ার্ড স্কাল্টজ এর জিদের কাছে প্রতিকুল পরিস্থিতি ও হার মেনে যায়। যতদুর জানা যায় হাওয়ার্ড এর প্যাকেজ কফির আইডিয়া ২১৪বার রিজেক্ট হয়েছিলো।  

 

৭. দ্যা বিটলস 

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড দ্যা বিটলস ক্যারিয়ারের শুরুতেই অসংখ্য রেকর্ড কোম্পানি থেকে রিজেক্ট হয়েছিলো ।  ১৯৬২ সালের জানুয়ারির ১ তারিখে দ্যা বিটলস লন্ডনের ডেকা রেকর্ডসে এসে প্রায় ১৫টির মত গান রেকর্ড করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেকা রেকর্ডস দ্যা বিটলস কে ব্যান্ড হিসেবে রিজেক্ট করে যা পরবর্তীতে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলো। 

 

৮. মিল্টন মার্শে 

মিল্টন হার্শে খুবই ছোটবেলা থেকেই ১টা চকলেট ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। ১৮৭৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম চকলেটের দোকান খুলেন। কিন্তু সেখানে তিনি সাফল্যের দেখা পান নি। পরবর্তীতে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াতে আবারো একটি চকলেট ফ্যাক্টরিতে কাজ নেন। সেখানে তিনি এমন অনেক কিছু শিখেন যা তিনি আগে জানতেন না। ১৮৮৩ সালে তিনি আবারো একটি চকলেটের দোকান খুলেন। এবার তিনি ও তার চকলেটের দোকানটি খুবই দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়।১০ বছর পর হার্শে  আবারো একক ঝুঁকিতে বিক্রি করে দেন জনপ্রিয় হয়ে উঠা চকলেটের দোকানটি । পরবর্তীতে তিনি চালু করেন তার জীবনের সেরা সাফল্য হার্শে চকলেট ফ্যাক্টরি। 

 

৯. স্টিফেন কিং 

এই জনপ্রিয় মার্কিনী লেখকের ক্যারিয়ারের সূচনাই হয়েছিলো এমন একটি লেখার মাধ্যমে যা বিভিন্ন প্রকাশনী কর্তৃক ৩০ বার রিজেক্ট হয়েছিলো। পরবর্তীতে সেই মাস্টার পিসের জায়গা হয়েছিলো ডাস্টবিনে। প্রত্যেক সফল মানুষের পিছে যে একজন নারীর সফল অবদান থাকে তা প্রমান করেছিলেন লেখকের স্ত্রী। তিনি ডাস্টবিন থেকে অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপিটি উদ্ধার লেখক কে প্রেরনা দেন সেই পাণ্ডুলিপিটি সম্পূর্ণ করার যা থেকে জন্ম নেয় বেস্ট সেলার উপন্যাস ‘ক্যারি’ যা থেকে পরবর্তীতে চলচিত্র নির্মাণ করা হয়।স্টিফেন কিং এর উপন্যাস এর কপি ৩৫০ মিলিয়ন এর অধিক বিক্রি হয় ও তার মধ্যে অনেকগুলো থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র নির্মাণ করা হয় যার মধ্যে রয়েছে দ্যা গ্রীন মাইল, ইট প্রভৃতি।   

 

১০. সচিরো হোন্ডা 

১৯০৬ সালে জাপানে জন্ম নেওয়া এই উদ্যেক্তার ছেলেবেলা কাটে তার বাবার সাইকেলের দোকানে বাবাকে সহায়তা করে।১৮ বছর বয়সে সইচিরো তার প্রথম রেসিং কার তৈরি করেন।২২ বছর বয়সে তিনি তার অটোরিপেয়ারিং বিজনেস চালু করেন ও কিছুদিন পরেই ‘টোকাই সেইকি’ নামে অটো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা হামলায় তার কোম্পানিটি ধ্বংস হয়ে যায়।

হোন্ডা তার কোম্পানিটি পুনরায়  চালু না করে ১ বছর তার বাগানে অ্যালকোহল উৎপাদন করে সময় কাটান। হয়তো এভাবেই তার জীবন কাটতো যদি না হঠাৎ একদিন তিনি তার স্ত্রীর বাইসাইকেলে রেডিও জেনারেটর স্থাপনের পরিকল্পনা না করতেন। ঠিক দুই বছর পরে হোন্ডা সম্পূর্ণ মোটর চালিত বাইসাইকেল “এ” টাইপ এর উৎপাদন শুরু করেন যা হোন্ডা কোম্পানির উদ্ভাবিত প্রথম মোটর সাইকেল ছিলো। তারপর থেকেই আমরা অনেকে মটর সাইকেল কে হোন্ডা হিসেবেই ডাকতাম। 



জনপ্রিয়