জিম ক্যারি জিম ক্যারি

স্কুল থেকে ঝরে পড়া জিম ক্যারির বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা হয়ে ওঠার সংগ্রামী জীবনের গল্প।

হলিউডের একজন অসাধারণ অভিনেতা জিম ক্যারি। নিজের অভিনয় দক্ষতা আর প্রতিভার প্রকাশে হাজারো দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। এই অভিনেতা তাঁর ছবিতে প্রতিক্ষণই দর্শকদের হাসাতে থাকেন। ব্যক্তিজীবনেও এ মানুষটি হাসিখুশি এবং রসিক। সিনেমায় অভিনয় ছাড়াও আঁকতে ভীষণ ভালোবাসেন তিনি। অবসরে ছবি আঁকতে বসে যান হলিউডের এই অভিনেতা। জিম ক্যারির অভিনয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বিশ্বের অনেক নামকরা কমেডিয়ান। এমনকি বলিউডের নামকরা অনেক নামকরা অভিনেতাও জিম ক্যারিকে হুবহু অনুকরণ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

জিম ক্যারি নামটা শুনলে চোখের সামনেই ভেসে ওঠে ‘ডাম্ব অ্যান্ড ডাম্বার’, ‘দ্য মাস্ক’, ‘লায়ার লায়ার’, ‘ব্রুস অলমাইটি’ ছবিগুলো। এসব ছবির প্রধান আকর্ষণই ছিলেন জিম ক্যারি। তাঁর অভিনীত এসব ছবির কথা মনে পড়লে হাসি লুকোনো একটু কঠিনই বটে।

হলিউড অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক জিম ক্যারি ১৯৬২ সালের ১৭ জানুয়ারি কানাডার অন্টারিও নিউমার্কেট এলাকায় এক রোমান ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কমেডি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেশী পরিচিত। তাকে হলিউডের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- দ্য মাস্ক, লায়ার লায়ার, এইস ভেঞ্চুরা, ডাম্ব এ্যান্ড ডাম্বার, দ্য ট্রুম্যান শো ও ব্রুস অলমাইটি।

জিম ক্যারির মূল নাম জেমস ইউগেন ক্যারি। তার বাবা পার্সি ক্যারি ছিলেন মিউজিশিয়ান। তার চাকরি চলে গেলে মধ্যবিত্ত পরিবারটি দুর্দশায় পতিত হয়। এই অবস্থায় মাত্র ১৫ বছর বয়সেই জিমকে স্কুল ছেড়ে চাকরি নিতে হয়। পরে আবারও স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু সেটাও মাত্র দুই বছরের জন্য। এর পর আর স্কুলের পড়া শেষ করতে পারেননি। কঠিন দুঃখের সময় স্বপ্ন দেখতেন কমেডিয়ান হওয়ার।

জিম ক্যারির অভিনয় জীবন শুরু হয় বিভিন্ন ক্লাবে কমেডি শো দিয়ে। ১৯৮০’র দশকের শুরুতে টেলিভিশনের কমেডি শোতে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে ‘দ্য সেক্স এ্যান্ড ভায়োলেন্স ফ্যামিলি আওয়ার’-এর ছোট চরিত্র দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৯০ সালে স্কেচ কমেডি ঘরানার ‘ইন লিভিং কালার’ টেলিভিশন শোর উল্লেখযোগ্য চরিত্রে অভিনয় করেন জিম।

১৯৯৪ সালে মূল চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ‘এইচ ভেঞ্চার : পেট ডিটেক্টিভ’ চলচ্চিত্র, যা তাকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। একই বছর মুক্তি পায় ‘ডাম্ব এ্যান্ড ডাম্বার’ ও ‘দ্য মাস্ক’। এগুলোর মতো পরের বছরের ‘এইচ ভেঞ্চার : হোয়েন নেচার কলস’ও সুপারহিট হয়। ১৯৯৭ সালে ‘লায়ার লায়ার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দারুণভাবে প্রশংসিত হন ক্যারি। এই মুভিটি তাকে সেরা অভিনেতা বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন এনে দেয়।

১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় জিম ক্যারির ব্লকবাস্টার মুভি ‘ব্রুস অলমাইটি’। এর পর ১৯৯৮ সালে ‘দ্য ট্রুম্যান শো’ ও ১৯৯৯ সালে ‘ম্যান অন দ্য মুন’ তাকে সেরা অভিনেতা বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ড এনে দেয়। ২০০৩ সালে মুক্তি পায় তার অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ব্রুস অলমাইটি’। পরের বছর মুক্তি পায় অন্যরকম চলচ্চিত্র ‘ইটার্নাল সানসাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড’।

মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারটিতে তার অভিনয় দর্শক অনেক দিন মনে রাখবে। তার অন্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘লেমনি নিকেটস আ সিরিজ অব আনফরচুনেট ইভেন্টস’ (২০০৪), ‘ফান উইথ ডিক এ্যান্ড জেন’ (২০০৫), ‘ইয়েস ম্যান’ (২০০৮), ‘আ ক্রিসমাস ক্যারল’ (২০০৯) ও ‘দ্য ইনক্রেডিবল বার্ট ওয়ান্ডারস্টোন’ (২০১৩)।

জিম ক্যারি গোল্ডেন গ্লোব এ্যাওয়ার্ডের জন্য চার-চারবার মনোনীত হয়েছেন এবং জয় করেছেন দু’বার। এ ছাড়া অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা জিতেছেন তিনি।

তিনি ডিসলেক্সিয়াতে ভুগছিলেন এবং এটা অসনাক্ত ছিল, যে কারণে তাকে স্কুলে অনেক সংগ্রাম করতে হয়। ডিসলেক্সিক হওয়া মানে তিনি বেশি বন্ধু তৈরি করতে পারেননি।সেই সাথে তিনি ছিলেন গরিবও...  তার মা যখন অসুস্থ হয়ে যেতেন, তিনি তার মাকে হাসাতে বিভিন্ন রকম অঙ্গভঙ্গি করতেন। দ্রুতই তিনি অনুধাবন করলেন, তিনি সহজে মানুষকে হাসাতে পারেন‌। তিনি আরো দেখলেন, এটা বন্ধু বানানোর কাজেও লাগছে।

১৫ বছর বয়সে এটা তাকে স্ট‍্যান্ড আপ কমেডি করতে অনুপ্রেরণা যোগায়। তবে পারফর্মিং আর্টের প্রতি তার এই প্যাশন তার মাকে চিন্তায় ফেলে দিলো। এতোটা গরিব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন যে, এই পথটি আশা বহুল মনে হলো না। তাই স্কুল শেষ করার পর পরিবারকে সাহায্য করার জন্য একটা ফ্যাক্টরিতে কাজ নিয়ে নিলেন। কিন্তু স্কুলে গিয়ে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়তেন যে কোন কিছুতেই মন বসাতে পারতেন না।

অবশেষে, ১৬ বছর পর স্কুল থেকে ছাঁটাই হলেন।। হতাশায় নিমজ্জিত হওয়ার বদলে, তিনি নিজেকে বলতেন- "আমার জন্য অনেক ভালো কিছু অপেক্ষা করছে, শুধু এগুলো এখনো আমার কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি"। ভবিষ্যতের তারিখ দিয়ে তিনি নিজেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি চেক দিলেন। কারণ তিনি নিশ্চিত ছিলেন একদিন এটা করতে পারবেন। কয়েক বছর পর তিনি সেই চেকটি ক্যাশ করান, জেফ ডেনিয়েল এর সাথে কমেডি ফ্লিক এ সাফল্য পাবার পর।

পরবর্তীতে তিনি হলিউডের সবচেয়ে বেশি আয় করা অভিনেতা হয়েও হতাশায় ভুগতে থাকেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, তিনি অ‍্যান্টি ডিপ্রেসেন্ট এর ফাঁদে জড়িয়ে যেতে পারেন। তাই তিনি আধ্যাত্মিকভাবে চেষ্টা শুরু করেন। এমনকি আজও তাকে মনে হতে পারে যে তিনি কোকেন অথবা মেথ নিয়েছেন, তবে জিম কেরি কখনোই ড্রাগ নেন নি।

যেভাবে তিনি হতাশা থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসতে সেন্স অফ হিউমার ডেভলপ করেছেন, তা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। "ব্যথা ভুলে যাও, ব্যাথাকে ভেংচি কাটো, কমিয়ে ফেল। আর হাসো।" - জিম ক্যারি। কোন খারাপ অবস্থাতেই নিজেকে হারিয়ে ফেলো না, কঠোর পরিশ্রম কর আর নিজের উপর বিশ্বাস রাখ! তুমি নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট।

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ উকিপিডিয়া, ইন্টারনেট।



জনপ্রিয়