বলা হয়েছিল শিশুটি বাঁচবে না, কিন্তু এরপর যা হল তা অলৌকিক! বলা হয়েছিল শিশুটি বাঁচবে না, কিন্তু এরপর যা হল তা অলৌকিক!

বলা হয়েছিল শিশুটি বাঁচবে না, কিন্তু এরপর যা হল তা অলৌকিক!

মাতৃত্ব সত্যিই বিশ্বের একটি বিশেষ জিনিস। যখন ডাক্তার কোন নারীকে বলেন আপনি মা হতে চলেছেন সেটি সেই নারীর শোনা পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর বাক্য হয়। এমা নিউম্যানও সেই কথা শুনে খুব আনন্দ পেয়েছিলেন। এই দম্পতির আগেই তিনটি কন্যা ছিল, এটি ছিল তাদের চতুর্থ সন্তান। কিন্তু যখন ডাক্তার তাদের বলে তাদের এই সন্তান বাঁচবে না তাদের সব খুশি উবে যায়। কোন গর্ভবতী মহিলাকে যখন বলা হয় তার সন্তান বাঁচবে না তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।

যে সন্তান সম্পর্কে এই কথা বলা হয়েছিল ,সেই ডাক্তারকে ভুল প্রমাণ করে এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে শিশুটি গত দশ বছর ধরে বেঁচে আছে। তাকে নিয়েই আমাদের আজকের এই আয়োজন।

 

১. গর্ভবতী মা এবং শিশুর জন্য কষ্টের প্রথম লক্ষণ

source: internet

source: internet

মায়ের মতে, যখন সে গর্ভবতী ছিল তখন কষ্টের কোন চিহ্ন ছিল না। সবকিছুই ঠিক ছিল যতক্ষণ না প্রসব বেদনা মূল তারিখের ৪ সপ্তাহ আগে উঠে। তখনই ডাক্তার তাকে বলেছিল তার সন্তান বাঁচবে না যা তাকে মারাত্মক আঘাত করে।

 

২. এরপর গর্ভবতী মা কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হয়

source: internet

source: internet

গর্ভবতী মা খুব ভীত হয়ে পড়ে, কিন্তু সন্তানও জন্ম দিতে হবে। তিনি সন্তানের ছোট আকার নিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু সন্তানের আসল আকার নিয়ে তৈরি ছিলেন না।

 

৩. প্রকৃত বাস্তবতা

source: internet

source: internet

শিশুটির ওজন ছিল মাত্র ২ পাউন্ড এবং ২৫ সে.মি। শিশুটি অস্বাভাবিক ছোট ছিল। ডাক্তারদের কথা সঠিক ছিল কারণ শিশুটি primordial dwarfism নামক বিরল রোগে ভুগছিল। এরকম ঘটনা পৃথিবীতে মাত্র ১০০ টির মত আছে।

 

৪. শিশুর জীবনের প্রথম দিনগুলো

source: internet

source: internet

মা যখন শুনে তার সন্তান বাঁচবে না তিনি খুবই আঘাতপ্রাপ্ত হন। তিনি বলেন, সন্তানের যখন জন্ম হয় তখন সে খুবই নাজুক ছিল, বাবল র‍্যাপে তাকে মুড়িয়ে রাখা হত , এমনকি তার মা-বাবাও তাকে কোলে নিতে পারত না। শিশুটি ১৩ সপ্তাহ হাসপাতালে ছিল কারণ তখনও ডাক্তাররা নিশ্চিত ছিলেন না শিশুটি বাঁচবে কিনা। 

 

৫. জন্মের পর

source: internet

source: internet

শিশুর নাম রাখা হয় শার্লট। তাকে দেখতে মনে হতো ১৬ সপ্তাহ আগে জন্ম নিয়ে ফেলেছে। সাধারণত এই রোগে আক্রান্তরা বেশিদিন বাঁচে না। কিন্তু দৃশ্যত, ডাক্তাররা তার ইচ্ছাশক্তি এবং বেঁচে থাকার প্রবৃত্তিকে ছোট করে দেখেছিল।

 

৬. আনন্দ এবং বেদনা

source: internet

source: internet

বাচ্চা জন্ম দেওয়া খুব আনন্দের ব্যাপার কিন্তু যখন জানা যায় বাচ্চা বাঁচবে না তা হয়ে যায় খুব দুঃখের। তার ন্যাপি (শিশুদের জন্য তোয়ালেজাতীয় কাপড়ের লেংটি ) ছিল ক্রেডিট কার্ডের আকারের।

 

৭. সমস্যাগুলো

source: internet

source: internet

শার্লটের আকার খুব ছোট ছিল বলে মা তাকে বার্বি পুতুলের কাপড় পড়াতেন। তাছাড়া শক্ত খাবার খাওয়া তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আশা করি কোন গর্ভবতী মহিলার এরকম অবস্থা যাতে না হয় এবং শুনতে না হয় তার সন্তান বাঁচবে না।

 

৮. চীনামাটির পুতুল

source: internet

source: internet

যদিও সে দেখতে পুতুলের মত, সে আর আগের মত নাজুক নেই। সে খুবই অস্থির এবং দুষ্টু। তার বোনের মতে, শার্লটকে আকাশে ছুঁড়ে দিলে সেটি সে বেশ পছন্দ করে।

 

৯. ঝামেলা

source: internet

source: internet

মানুষ এখনও মনে করে শার্লট সদ্যোজাত। এটা তার মাকে কষ্ট দেয় কিন্তু তিনি চান তার মেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক। তার মা-বাবা শার্লটের জন্য একটি নিয়মিত স্কুল ঠিক করেছে।

 

১০. তার ব্যক্তিত্ব

source: internet

source: internet

শার্লট অনেক বন্ধু বানিয়েছে কিন্তু দক্ষতার পার্থক্যের কারণে সেই রেগুলার স্কুলে থাকতে পারেনি। কিন্তু তার মা বিশ্বাস করে কেউ তাকে সফল হওয়া থেকে আটকাতে পারবে না এবং শার্লট সব ঝড় মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাবে।

 

১১. সেই গর্বিত মা

source: internet

source: internet

শার্লটকে মেয়ে হিসেবে পেয়ে তার মা-বাবা বেশ গর্বিত। তার মা বেশ গর্বিত কারণ সে শার্লটকে গর্ভে ধারণ করেছে। শার্লট পাশে না থাকলে তার জীবন বিরক্তিকর হয়ে যেত। শার্লট তাদের জীবনকে নতুন করে বুঝতে শিখিয়েছে এবং এই কারণেই শার্লটের বেঁচে থাকা অপরিহার্য।

 

১২. সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল

source: internet

source: internet

যারা এই বিরল রোগে ভুগে তারা কমপক্ষে ৩০ বছর বেঁচে থাকে। তারা বেশিদিন বাঁচে না। এই কারণেই মা শার্লটকে জীবনের সব ধরনের খুশি দিতে চান। মা-বাবা শার্লট বাঁচবে কি বাঁচবে না সে চিন্তা করা বাদ দিয়ে দিয়েছে। যেভাবে চলছে এভাবেই চলতে থাকুক, আর কিছু তারা চান না।

 

আমরা আশা করব শার্লট তার জীবনকে সম্পূর্ণ উপভোগ করুক। আমরা এটাও প্রার্থনা করি গর্ভবতী মহিলা যাতে এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হয়।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য  



জনপ্রিয়