এনার্জি ড্রিংকের কারণে তার স্বামীর কি হয়েছিল জানালেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী    এনার্জি ড্রিংকের কারণে তার স্বামীর কি হয়েছিল জানালেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী

এনার্জি ড্রিংকের কারণে তার স্বামীর কি হয়েছিল জানালেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী

আমাদের মাঝে কেউ কেউ আছেন যাদের ধারণা এনার্জি ড্রিংক এর বদৌলতেই তারা কর্মব্যস্ত দিনটি পার করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ মানুষ, ক্যাফেইন এবং চিনি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর খুব কম সময়েই বিবেচনায় আনেন ‌।

সদ্য বাবা হওয়া এক ব্যক্তির মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক পানের ফলে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়ে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়ার, যিনি সারা জীবনের জন্য শারীরিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছেন।

 

তার স্ত্রী ব্রায়ানা তার প্রথম সন্তান জন্মদানের এক সপ্তাহ আগে, ফেসবুক মারফত জানালেন তার জীবনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা, কিভাবে তার পৃথিবী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোর ফটোগ্রাফার সারা এন্ড্রেস, অস্টিন হাসপাতালে থাকার সময়ে তার পরিবারের প্রতিদিনকার স্ট্রাগল গুলো তুলে এনেছেন তার ছবিতে।

source: boredpanda

source: boredpanda

 

এনার্জি ড্রিংক ক্ষতিকর হতে পারে এ বিষয়ে যাদের এখনো দ্বিধা দ্বন্দ্ব আছে, তারা স্ক্রল করুন, আর শুনুন ব্রায়ানার নিজের ভাষায় কি হয়েছিল তখন‌।

সদ্য মা হওয়া এক নারী সাহসিকতার সাথে এনার্জি ড্রিংক কিভাবে তার স্বামীর জীবন কেড়ে নিচ্ছিলো, আর কি ভাবে তার জীবন বদলে দিল সে গল্প তুলে এনেছেন।

"হ্যালো, আমার নাম ব্রায়ানা, আর এটা আমারই গল্প।...

ভালবাসা খুব ক্ষুদ্র কোন ব্যাপার নয়। এটা কিছু ফোন কল, কিছু ডেট এমনকি কিছু স্মৃতির সংগ্রহ ও নয়। ভালবাসা মানে এটা জানা যে, আপনি এমন কোন কিছু স্যাক্রিফাইস করতে পারবেন যেটা আপনি জানতেনইনা যে আপনি স্যাক্রিফাইস করতে পারেন। ভালোবাসা আত্ম স্বার্থহীন।

আপনার জীবন, আপনার সমস্ত পৃথিবী কেঁপে উঠার মত অনুভূতি কি কখনো হয়েছিল? এমন কোন আবেগের ঝাপটা মুখোমুখি হতে হয়েছিল সবকিছু ঝাপসা মনে হচ্ছিল এবং কেঁপে কেঁপে উঠছিল? আপনার ফুসফুস ভারী হয়ে উঠছিল এবং কিছু সময়ের জন্য আপনি কিছুই করতে পারছেন না; চলতে ফিরতে পারছেন না, চিন্তা ভাবনা করতে পারছেন না এমন কি প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারছেন না; হয়েছিল এমন? আমার হয়েছে। ‌ আমাকে এমন একটা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে যেটা আমি কখনও কল্পনাও করিনি... যখন আমি আমার প্রথম সন্তান নিয়ে ন'মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে দারুন অনুভূতি। আপনি একটি নতুন জীবন তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। এমন একজনের জন্য ভালোবাসা' অনুভব করছেন যার সাথে এখনো আপনার দেখা হয়নি।

অস্টিন এবং আমি আমাদের ছোট্ট ছেলেটাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম। তাকে ঘরে এনে তাকে নিয়ে পরিবার সাজানোর ইচ্ছায়।মাত্রাতিরিক্ত কাজের শিডিউল এবং চাপের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অস্টিন এর এই অভ্যাস গড়ে ওঠে। কল্পনাও করেনি সে এগুলো তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে।

source: boredpanda

source: boredpanda

 

"সেদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে ও আমার চিন্তায় এটা আসেনি যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার জীবন উলট পালট হয়ে যাবে। আমার এখনো মনে আছে সেদিন সকালবেলা আমার শাশুড়ি আমাকে এসে বললেন, "অস্টিনের একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে"।

আমি শুধু এটুকুই জানতাম যে, আমার স্বামী হাসপাতালে আছেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো আমি জানতাম না ঠিক কি কারণে সে হাসপাতালে আছে।

দু'ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে পৌঁছার পর আমি জানলাম আমার স্বামী, আমার বাচ্চার বাবা যাকে আমি এতটা গভীর ভাবে ভালোবেসেছি তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। কেন? দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা এই সিদ্ধান্তে আসলেন এই ভয়ংকর ঘটনাটি তার অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক পান এর বদ অভ্যাসের ফলেই ঘটে গেছে। এ অভ্যাসটি সে রপ্ত করেছিল কাজে অতিরিক্ত সময় দিতে শুরু করার পর।

অপারেশন চলছিল... দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষার পর আমরা তাকে দেখতে পেলাম। কিন্তু সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে প্রায় সনাক্ত করার অনুপযোগী একটা চেহারার উপর যেটায় সব ধরনের মেশিন আর নল লাগানো আছে, আমি শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম তার বাবা-মাকে।

আমি দেখলাম তার মায়ের চোখ থেকে আলো সরে গেছে, তার অচল ছেলের হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা দেখে। তার বাবা ভেঙ্গে পড়ে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। তারা জানতেন না যে জীবন তারা জন্ম দিয়েছেন সেটি আবার জেগে উঠবে কিনা।

এই পরিবারটিকে ভেঙ্গে পড়তে দেখার অনুভূতি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টকর অনুভূতি- আমার নতুন পরিবার, যেটা আমার ভালোবাসার সাথে গড়ে উঠেছে এবং আমার ভালবাসারই অংশ।"

একবার ‎মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং কয়েকবার সার্জারির পর অস্টিনের মাথায় একটা চিকিৎসা অনুপোযোগী গর্তের সৃষ্টি হয়, যখন তার স্ত্রী প্রথম সন্তান জন্মদানের পথে।

source: boredpanda

source: boredpanda

 

"পরদিন আরো দুই দফা ব্রেইন সার্জারি চলে। তারপর কয়েকদফা স্ট্রোক, ফুলে যাওয়া, ব্যাথা, নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এমন আরও অনেক গুলো বিষয় যেগুলোর জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। এমন একটা সময় ছিল যখন তার হাসপাতালে বিছানার পাশে বসে আমরা শুধু প্রার্থনা করতাম যেন সে সুস্থ হয়ে উঠে, যাতে কখনো আমার তাকে ছাড়া বাঁচতে না হয়, আমাদের জীবন যতই এলোমেলো হয়ে যাক না কেন। আমি সবসময় তার পাশেই থাকব। সে কি বেঁচে যাবে, না সৃষ্টিকর্তা তাকে নিয়ে যাবেন এই ভাবনার মাঝেই দুই সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পর আমরা ঘরে ফিরি, ওদিকে যে আমার সন্তানের আসার সময় হয়ে এলো।"

অস্টিনের অসুস্থতার চাপ নিয়েই, ব্রায়ানাকে সম্মুখীন হতে হলো তার সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার পাহাড়সম চাপের মাঝে।

"আমি কাউকে মিথ্যা বলব না, এটা আসলেই অনেক কঠিন ছিল। ভেবে রেখেছিলাম এই অসাধারণ সময়ের অংশ হবে অস্টিনও। আমার পাশে থাকবে, হাত দুটি ধরে সাহস দিবে, নাড়ি কাটবে, আমাদের সন্তানকে পৃথিবীতে স্বাগতম জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে এ সবই ছিল আমার ভাবনায়। আমার একদমই ভাল লাগছিল না...

কিন্তু আমি সন্তান জন্মদানের পর পরই ঘটলো এক দারুন অলৌকিক ব্যাপার। জেগে উঠল অস্টিন। আমি প্রায় এক সপ্তাহ পার করে ফেলেছি তাকে না দেখেই। আমি প্রতিদিনই তার কথা ভাবতাম। কতবার কেঁদেছি ছেলের দিকে তাকিয়ে যে কিনা হুবুহু তার বাবার মতো দেখতে।

আমাদের বাচ্চার বয়স যখন এক সপ্তাহ আমি তাকে আমার শ্বশুর শাশুড়ির কাছে রেখে হাসপাতালের দিকে রওনা হলাম। আমি জানতাম আমার অস্টিন এর সাথে দেখা করতেই হবে, তাকে জানাতে হবে যে আমাদের বাচ্চাটি পৃথিবীতে চলে এসেছে। তাকে জানাতে হবে এখন তাকে আমার কতটা দরকার।

source: boredpanda

source: boredpanda

 

অলৌকিকভাবে, বাচ্চাটি জন্মের কিছুক্ষণ পরই অস্টিন ট্রমা থেকে জেগে ওঠে, এবং অবশেষে দুই মাস পর দুইজনের সাক্ষাৎ হয়।

"সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলে যাচ্ছে। আরো অপারেশন, আরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলছে। যতবারই সুযোগ পেয়েছি তাকে দেখেছি।

দুই মাসের চেয়ে একটু বেশি বয়সে আমাদের ছেলের তার বাবার সাথে প্রথম দেখা হয়। এমন একটি দিন, ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি কখনো দেখতে পারব। ওই দিনই আমি আমার হৃদয়ে কিছুটা সুখ ফিরে পেলাম। তার কিছুদিন পরই সে আমার সাথে বাড়ি ফিরতে পারলো। আমাদের জীবন স্বাভাবিক নয়। কতবার যে ডাক্তারের বাড়ি আর হাসপাতালে গিয়েছি তার হিসাব নেই। তবে আমরা আছি। যুদ্ধ করে চলেছি প্রতিনিয়ত"।

source: boredpanda

source: boredpanda

 

ব্রায়ানাকে এখন প্রতিদিন শুধু তার বাচ্চারই যত্ন নিতে হয় না, সাথে যোগ হয়েছে একেবারে প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়া স্বামী, যেটা সে বেশ শক্তিশালী মনোভাব নিয়েই গ্রহণ করেছে।

"আমি প্রতিদিন জেগে উঠি আমার এই দারুণ ফুটফুটে বাচ্চাটি এবং আমার স্বামীর যত্ন নেয়ার জন্য। আমি খাবার তৈরি করি, ফিজিক্যাল থেরাপি, স্পিচ থেরাপি এবং অকুপেশনাল থেরাপি দেই‌। আমি তাকে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহায়তা করি। তাকে হাঁটতে সাহায্য করি। তার জীবনের সমস্ত কিছুতে তাকে সাহায্য করি।"

source: boredpanda

source: boredpanda

 

এই দারুণ ছবিগুলো তুলেছেন সাক্রামেন্টোর ফটোগ্রাফার সারা এন্ড্রেস, যেখানে তিনি ধারণ করেছেন এই দারুণ সৌন্দর্য এবং এই তরুণ পরিবারটির কষ্টগুলোকে।

"আমাদের এই ব্যস্ত ৮ মাসের বাচ্চা এবং এত সব কাজের মাঝে আমি হিমশিম খেয়ে যাই, দুর্বল হয়ে পড়ি, তবে এই কাজগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই আমি করে ফেলতে পারি।"

source: boredpanda

source: boredpanda

 

গল্পটি অত্যন্ত কষ্টের এবং ভয়ঙ্কর, সেই সাথে সত্যিকারের ভালোবাসা এবং আত্মদানের প্রমাণ।

source: boredpanda

source: boredpanda

 

"সে আর সেই আগের মানুষটি নেই যাকে আমি ভালবেসেছিলাম, কিন্তু আমি এখনো প্রতিদিনই তাকে ভালোবেসে যাচ্ছি, আমরা তাকে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি, তার জীবনটাকে আরেকটু ভালো করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। অবশ্যই একদিন আমরা সেটা করতে পারব। তার আগ পর্যন্ত আমি চেষ্টা থামাবো না। কেননা ভালবাসা স্বার্থহীন এবং আমি তাকে আমার জীবনের চাইতেও বেশী ভালোবাসি।"

source: boredpanda

source: boredpanda

 

 

আমাদের কি উচিত এনার্জি ড্রিংক পান করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেয়া? আপনাদের কি মতামত জানিয়ে দিন কমেন্টের মাধ্যমে।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়