যাদব পায়েং- শুন্য থেকে নতুন এক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন যিনি যাদব পায়েং- শুন্য থেকে নতুন এক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন যিনি

যাদব পায়েং- শুন্য থেকে নতুন এক পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন যিনি

বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ, মাজুলি, অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। গত ৭০ বছরে মাজুলির অর্ধেকেরও বেশি সঙ্কুচিত হয়েছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ার ভালো একটা সম্ভাবনা আছে। দ্বীপটি তার তীরে ব্যাপক ভূমিধসের কারণে নিয়মিত হুমকির মুখে আছে। ব্রহ্মপুত্র নদীতে বড় বাঁধ নির্মাণ এর কারণ হিসেবে ধরা হয় যা বন্যার মৌসুমে তাদের রক্ষা করতে তৈরি করা হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে ৩৫ জন গ্রামবাসী ভেসে গিয়েছে। যখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই দ্বীপটি কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয় তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে স্থানীয় এক পরিবেশ কর্মী না থাকলে দ্বীপটি আগেই ধ্বংস হয়ে যেতো।

যাদব পায়েং যিনি এই দ্বীপটিকে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন দান করেছেন। তার এই গল্প আপনাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, মনে হতে পারে একজন মানুষ দ্বারা কি এটি আসলেই সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হল যাদব পায়েং সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। একটি মৃতপ্রায় দ্বীপকে তিনি পুনরায় জীবিত করে তুলেছেন। তিনি শুধু তাকে জীবিতই করেননি, জীবনের নতুন এক সংজ্ঞা দান করেছেন। 

চলুন জেনে আসি যাদব পায়েং-এর এই অভূতপূর্ব কাহিনী।

 

যাদব পায়েং বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপে মাজুলিতে বসবাস করেন।

Image credits: Jitu Kalita

Image credits: Jitu Kalita

 

আসামের মাজুলি বিশ্বের বৃহত্তম নদী দ্বীপ। ব্রহ্মপুত্র নদীর এই দ্বীপটির আয়তন ৮৮০ কিলোমিটার। এখানে বসবাসকারী মানুষের অধিকাংশ অরুণাচল প্রদেশ থেকে আগত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। তাঁদের জীবনও নদীকেন্দ্রিক।

source: internet

source: internet

 

দ্বীপটি তার তীরে ব্যাপক ভূমিধসের কারণে নিয়মিত হুমকির মুখে আছে।

Image credits: 101 India

Image credits: 101 India

 

গত ৭০ বছরে মাজুলির অর্ধেকেরও বেশি সঙ্কুচিত হয়েছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে যাওয়ার ভালো একটা সম্ভাবনা আছে।

Image credits: 101 India

Image credits: 101 India

 

কিন্তু এটি আরো আগেই ধ্বংস হয়ে যেতো যদি যাদব পায়েং না থাকতেন।

 Image credits: William D McMaster

Image credits: William D McMaster

 

সবকিছু শুরু হয় ১৯৭৯ সালে, এ সময় যাদব পায়েং-এর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।

Image credits: Theforestmanofindia

Image credits: Theforestmanofindia

 

তিনি প্রচুর পরিমাণে সাপের মুখোমুখি হন, যারা অত্যধিক তাপের কারণে মারা যায়। এই সাপগুলো বন্যার কারণে এই গাছহীন দ্বীপে উঠে এসেছিল।

 Image credits: William D McMaster

Image credits: William D McMaster

 

তখনি যাদব পায়েং ঠিক করেন তিনি এই দ্বীপকে বাঁচাবেন। মাজুলিতে তিনি প্রচুর পরিমাণ গাছ রোপণ করবেন এবং তাকে ক্ষয় হতে বাঁচাবেন।

Image credits: bijitdutta

Image credits: bijitdutta

 

এবং গত ৩৯ বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে এই কাজটি করে যাচ্ছেন।

Image credits: bijitdutta

Image credits: bijitdutta

 

তিনি এই পর্যন্ত ৫৫০ হেক্টর বন তৈরি করেছেন। এর আয়তন নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কের চেয়ে বড়(সেন্টড়াল পার্ক- ৩৪০ হেক্টর)

Image credits: bijitdutta

Image credits: bijitdutta

 

বর্তমানে এটি অনেক প্রাণীদের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে।

Image credits: 101 India

Image credits: 101 India

 

বঙ্গীয় বাঘ ও ভারতীয় গণ্ডারসহ আরও অনেক প্রানীর এটি এখন বাসস্থান।

 Image credits: William D McMaster

Image credits: William D McMaster

 

এমনকি ১০০টি হাতির দল প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই বন পরিদর্শন করে।

Image credits: 101 India

Image credits: 101 India

 

ব্রহ্মপুত্র নদীতে বড় বাঁধ নির্মাণ ভূমিধসের কারণ হিসেবে ধরা হয়।

Image credits: 101 India

Image credits: 101 India

 

বন্যার মৌসুমে মানুষ তাদের সুরক্ষার জন্য মানুষ বাঁধ নির্মাণ করেছিল।

Image credits: William D McMaster

Image credits: William D McMaster

 

কিন্তু এই বাঁধ নদীর বিধ্বংসী ক্রোধ মাজুলির দিকে নিয়ে এসেছে।

Image credits: William D McMaster

Image credits: William D McMaster

 

"ফরেস্ট ম্যান অব ইন্ডিয়া" এবং তার যুদ্ধ সম্পর্কে আরও জানতে, নীচের সংক্ষিপ্ত ডকুমেন্টরীটি দেখুন।

ইউটিউব লিঙ্ক- ( https://youtu.be/HkZDSqyE1do )

 

অনেক মানুষই এখন এই পাখাবিহীন সুপারহিরোর কথা জানতে পেরেছে। তাদের বক্তব্য দেখুন নিচে।

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

source: facebook

 

এই পৃথিবী আমাদের সবকিছু দিয়েছে, একে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মানুষ শুধু পৃথিবী থেকে নিয়েছি, এক রক্ষা করার কথা খুব মানুষই ভাবে। কিন্তু মনে রাখবেন আমাদের মাঝে এখনও যাদব পায়েংরা বেঁচে আছেন। এরাই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত।

আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট, শেয়ারের মাধ্যমে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

 

 



জনপ্রিয়