জন্মের সময় আমাদের হৃদয় জয় করা সেই অনন্য বাচ্চারা এখন যেমন আছে    জন্মের সময় আমাদের হৃদয় জয় করা সেই অনন্য বাচ্চারা এখন যেমন আছে

জন্মের সময় আমাদের হৃদয় জয় করা সেই অনন্য বাচ্চারা এখন যেমন আছে

বিশ্বে প্রতি তিন সেকেন্ডের মধ্যে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে কিছু বাচ্চারা এতটাই অনন্য যে, তাদের জন্ম সমগ্র ইন্টারনেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আজকে আমরা কিছু ব্যতিক্রমী শিশুদের বর্তমান ছবি সংগ্রহ করেছি, যারা কয়েক বছর আগে তাদের অবিশ্বাস্য কাহিনী দিয়ে পুরো বিশ্বের মানুষের হৃদয় জয় করেছিল। বর্তমানে তারা কেমন আছে চলুন তা দেখে আসি!   

 

১. বিশ্বের প্রথম জীবিত সেপ্টপ্লেট (একসাথে জন্ম নেয়া সাত বাচ্চা)

© YouTube © KiwiReport

© YouTube © KiwiReport

এই সেপ্টপ্লেটগুলো ১৯৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা যায় যে, গর্ভবতী মহিলা ববি ম্যাককোহির গর্ভে ৭টি সন্তান রয়েছে। এরপরে, তিনি এবং তার স্বামী কেনিকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, যাতে তারা সব সন্তানকে টিকিয়ে না রাখেন, কারণ তাদের প্রত্যেকের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুব কম ছিল। এতে তারা দুজনই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তারা যেকোন অবস্থাতেই হোক সব সন্তানদেরকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। ডাক্তারেরা এটা ভেবে খুব চিন্তিত ছিলেন যে, সব শিশু সুস্থ হবে কিনা। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে এখন সবাই সুস্থ এবং ভালো আছে।     

প্রতিবছর ১৯ শে নভেম্বর, এই পরিবারটি একটি বিশাল ছুটির দিন উদযাপন করে থাকেনঃ একযোগে ৭ জনের জন্মদিন বলে কথা!

 

২. ভিন্ন রঙের ত্বকের যমজ বাচ্চা

© Elite Photography/ facebook  © boredpanda.es

© Elite Photography/ facebook © boredpanda.es

বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, তারা দুজন বায়োলজিক্যাল টুইনস! তাদের চেহারার মধ্যে কোন কিছুই মিল নেই। যেখানে মেরির ত্বক শ্যামলা, কালো চুল এবং গাঢ় বাদামী চোখ, সেখানে লুসির ত্বক ফর্সা, নীল চোখ এবং লাল চুল। এটি তাদের পিতামাতার বর্ণের কারণে সম্ভব হয়েছিল। তাদের মা জ্যামাইকান এবং বাবা ইউরোপিয়ান।

কিন্তু পরিবারের ক্ষেত্রে ত্বকের রঙ কোন ব্যাপার না। এই দুই বোনের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন আছে।

 

৩. স্মিত পুঁচকে মিনেসোটা

© LoveWhatMatters/facebook  © NetNews

© LoveWhatMatters/facebook © NetNews

যখন এই বাচ্চার মা গুরুতর প্রিক্লাম্পসিয়ার আক্রান্ত হয়েছিল তখন সে পাশের দিকে আবর্তিত হয়েছিল। তার মা, স্বাভাবিকভাবেই জন্ম দেয়ার জন্য যা করা লাগে তার সব কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন। সি-সেকশনের (সিজার)পর ঠিক সময়ে একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল, খুব ছোট শিশু জন্মগ্রহণ করে এবং তাকে অবিলম্বে নল দিয়ে হুক-আপ করা হয়েছিল। স্পষ্টতই তারা বাবা খুবই চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু তার জীবনের পঞ্চম দিনে, এই ছবিটি ধারণ করা হয়েছিল। এই পুঁচকে শিশুটির হাসি তার বাবা-মায়ের মনে আশা জাগিয়েছিল এবং ইন্টারনেটে অনেকের হৃদয় স্পর্শ করেছিল।

সে এখন বড় হয়েছে, সুখী, সুস্থ আছে এবং ফুটবল খেলতে পছন্দ করে।

 

৪. হাতে হাত ধরে জন্মানো যমজ বোন

© Pinterest © Sarah Thistlethwaite

© Pinterest © Sarah Thistlethwaite

এই অনন্য যমজ বোন ডাক্তারদেরকে বিস্মিত করেছিল, কারণ তাদের জন্মের সময় একে অপরের হাতে হাত ছিল। বর্তমানে জেনা এবং জিলিয়ান বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বোন। এই মেয়েরা ৪৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে জন্মগ্রহণ করে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা একে অপরের সান্নিধ্য হিসেবে, অবিলম্বে একে অপরের হাত ধরে। জন্মের সময় যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাদের দেখে সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে যান।

৪ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোন কিছুই বদল হয়নি- এই মেয়েরা এখনো অবিচ্ছেদ্য।

 

৫.  সেক্সটুপ্লেটের পরিবার (একসাথে জন্ম নেয়া ৬জন সন্তান)

© petersphotography.com   © The McGhee Sextuplets/facebook  © Today

© petersphotography.com © The McGhee Sextuplets/facebook © Today

ম্যাকগী পরিবারকে কে না জানে? তারা ৬ বছর আগে ইন্টারনেটে ঝড় উঠিয়েছিলেন (ভাইরাল হয়েছিলেন)। এই দম্পতি একই সময়ে ৬ সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন এবং একটি আবেগপূর্ণ ছবির সেশনে অভিনয় করে অনেকের মন জয় করেছিলেন। যা সবচেয়ে আবেগপূর্ণ ব্যক্তিদের চোখে জল আসতে বাধ্য করেছিল। সাম্প্রতিককালে, অভিভাবকেরা তাদের বাড়ন্ত সন্তানদের নিয়ে আবার ফটোশুট দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা একটি চমৎকার ছবি উঠাতে সক্ষম হয়েছেন।

 

৬. ডাউন সিনড্রোমের ছেলে

© Noah's Dad

© Noah's Dad

নোয়ার ডাউন সিনড্রোম আছে। তার বাবাকে এই কাহিনীটি অনুপ্রেরণা দিয়েছিল এবং অনেক মানুষকে উৎসাহিত করেছিল। নোয়ার বাবা আশা করেছিলেন, মানুষ একদিন বুঝবে যে ডাউন সিনড্রোম কোন ব্যাপারই না। সব ঠিক হয়ে যাবে।

এখন নোয়ার বয়স ৭ বছর, সে সুস্থ এবং ভালো আছে, সে তার ভাই এবং পরিবারকে অনেক ভালোবাসে।

 

৭. রেডহেডেড ট্রিপল্টস

© Hazel&Cass/facebook

এই সুন্দর বাচ্চারা ২০১৭ সালে আমাদের হৃদয়কে সম্পূর্ণরূপে চুরি করে নিয়েছিল। মেসি, টোবি এবং স্যাডি। তাদেরকে ছবিতে খুবই সুখী এবং স্বচ্ছন্দ মনে হয়। এই ফটো সেশনটি ক্যাসান্দ্রা ইংলিশ দ্বারা অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে, তাদের বয়স এক বছর পূর্ণ হয়েছে এবং তারা তাদের হাসি দিয়ে আমাদের সবাইকে অবিরত প্রাণবন্ত করে রাখছে।    

 

আমাদের আয়োজন আপনাদের কেমন লেগেছে এবং কোন ছবিটি আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে? কমেন্টে আমাদের শেয়ার করে জানান। আমাদের আয়োজন ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার দিয়ে সাথেই থাকুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 



জনপ্রিয়