নিজের রক্ত দিয়ে ২০ লক্ষাধিক প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুর্লভ রক্তের অধিকারী জেমস হ্যারিসন নিজের রক্ত দিয়ে ২০ লক্ষাধিক প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুর্লভ রক্তের অধিকারী জেমস হ্যারিসন

নিজের রক্ত দিয়ে ২০ লক্ষাধিক প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুর্লভ রক্তের অধিকারী জেমস হ্যারিসন

১৯৫১ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে জেমস হ্যারিসনের বুকে একটি অস্ত্রপাচার হয়। ডাক্তাররা তার একটি ফুসফুস কেটে বাদ দিয়ে দেন। এই সময় জেমসকে প্রায় তিন মাস হাসপাতালে কাটাতে হয়। প্রায় ২০০০ ডোনারের রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তোলা হয়। তিনি সেই বয়সেই বুঝতে পারেন রক্ত কতটা মূল্যবান। এরপর তিনি ঠিক করেন তাকে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে তাই তিনি ঠিক করেন তিনি রক্তের জন্য কাউকেই ফিরিয়ে দিবেন না।

Image credits: Australian Red Cross Blood Service

Image credits: Australian Red Cross Blood Service

Image credits: Australian Red Cross Blood Service

Image credits: Australian Red Cross Blood Service

 

১৪ বছর বয়সে যেহেতু রক্ত দেয়া যায় না তাই তাকে ৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়। তিনি ১৮ বছর বয়স থেকে রক্ত দেয়া শুরু করেন। জেমস তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেননি। রেড ক্রিসেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে জেমস প্রায় ২.৪ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ২০ লক্ষাধিক প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

Image credits: 9news

Image credits: 9news

Image credits: Australian Red Cross Blood Service

Image credits: Australian Red Cross Blood Service

 

রক্তদান শুরু করার পর ডাক্তাররা জেমসকে বলেন তার রক্ত অনেক মূল্যবান। তার এই দুর্লভ রক্ত হাজার শিশুর প্রাণ বাঁচাতে পারে। জেমসের রক্তে একটি আরএইচ পজেটিভ ডি অ্যান্টিবডি আছে যা রেসার্স রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগে। এই রোগে বি নেগেটিভ রক্তের কোন গর্ভবতী মার গর্ভে থাকা পজেটিভ রেসার্সের শিশুকে ওই মায়ের নিজের ব্লাড সেল নষ্ট করে দেয়। ফলে মৃত শিশু জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু জেমসের রক্ত এই রোগকে প্রতিরোধ করতে পারে।

Image credits: 9news

Image credits: 9news

Image credits: 9news

Image credits: 9news

 

ডাক্তারদের ধারণা  জেমস ১৪ বছর বয়সে তার রক্ত প্রতিস্থাপনের সময় এই দুর্লভ অ্যান্টিবডিটি অর্জন করে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৭% গর্ভবতী মহিলা এই রোগে আক্রান্ত। জেমস তার এই দুর্লভ রক্ত দিয়ে লক্ষাধিক শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন।

Image credits: 9news

Image credits: 9news

 

বর্তমানে জেমসের বয়স ৮১ বছর। তিনি কিছুদিন আগেই তার শেষ রক্তদানটি সম্পন্ন করেছেন। গত ৬০ বছর ধরে জেমস মোট ১,১৭৩ টি রক্ত ও প্লাজমা দান করেন। তিনি তার ডান হাত থেকে ১১৬৩ টি ও বাম হাত থেকে ১০ টি ডোনেশন করেন। এই জন্য তাকে সোনালী হাতের মানুষ হিসেবে ডাকা হয়।

Image credits: 9news

Image credits: 9news

এই অসাধারণ মানুষটি রক্তদানের ইতিহাসে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার মত সবাই যদি বুঝত রক্তের মূল্য কত তাহলে আর একটি প্রাণও রক্তের অভাবে অকালে ঝরে যেত না। আশা করি তার এই কীর্তি সবাইকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবে। 

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 



জনপ্রিয়