স্বাস্থ্যবান ফুসফুস বনাম ধূমপায়ীর ফুসফুস স্বাস্থ্যবান ফুসফুস বনাম ধূমপায়ীর ফুসফুস

স্বাস্থ্যবান ফুসফুস বনাম ধূমপায়ীর ফুসফুস

প্রতিটা জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরার সাথে সাথে তা আপনার দেহের বিপর্যয় ঘটানো শুরু করে। ধূমপান যে কতোটা ক্ষতিকর ও মারাত্মক তা সম্বন্ধে কম বেশি সবাই অবগত। কিন্তু তবুও ধূমপায়ীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ২০১২ সালে আইএইচএমইয় এর পরিসংখ্যান অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩% নিয়মিত ধূমপান করে। এবং ২০১৬ সালের এক রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশে ধূমপানের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। বাস্তবে এই সংখ্যা বাড়বে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ মিলিয়ন মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপানের কারনে মারা যাচ্ছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায় কতোটা ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে এই ধূমপান।

সম্প্রতি আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার এক নার্স স্বাস্থ্যবান ফুসফুস ও ধূমপায়ীদের ফুসফুসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেন। ভিডিওটি আপলোডের কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় লক্ষাধিকবার শেয়ার হয়। এই ভিডিওতে স্পষ্ট চোখে পরে দুই ফুসফুসের কার্যকারিতার পার্থক্য।

নিচে এই ভিডিও থেকে ক্রপ করা কিছু ছবির মাধ্যমে দেখানো হল দুই ফুসফুসের মধ্যে পার্থক্যগুলো। ফুসফুস দুটির মধ্যে পার্থক্য দেখানোর জন্য এই নার্স ফুসফুস দুটি আলাদা আলাদাভাবে পাম্প করে দেখান।

১। স্বাস্থ্যবান ফুসফুস

© Rokas L

© Rokas L

© Rokas L

© Rokas L

 

নার্স প্রথমে স্বাস্থ্যবান ফুসফুসটি পাম্প করেন। উপরের ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন খুব স্বাভাবিকভাবেই ফুলে উঠেছে গোলাপি রঙয়ের স্বাস্থ্যবান ফুসফুসটি।

২। ধূমপায়ীর ফুসফুস

© Rokas L

© Rokas L

© Rokas L

© Rokas L

 

কিন্তু নার্স যখন ধূমপায়ীর ফুসফুসটি পাম্প করতে যান তখন তা ঠিক উপরের ছবির মত দেখায়। ফুসফুসটি কোনভাবেই পূর্ণ আয়তনে ফুলে উঠতে পারছিল না। বরং এবড়ো থেবড়োভাবে যেখানে বেশি স্থিতিস্থাপক শুধু সেই জায়গাগুলোই ফুলে উঠছিল। আর বাতাস বের করে দেয়ার সাথে সাথে ফুসফুসটি তৎক্ষণাৎ চুপসে যাচ্ছে।

উপরের ছবিগুলো থেকে আপনারা সহজেই পার্থক্যগুলো ধরতে পারবেন। একদম গোলাপি রঙয়ের স্বাস্থ্যবান ফুসফুস এবং আগুনে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়ার মত দেখতে ধূমপায়ীদের ফুসফুস। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে এই ব্যাপারটি ঘটে ধূমপায়ীদের ফুসফুসের সাথে। দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে ফুসফুসের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। ফলে তা ঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না। অপরদিকে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং বায়ু ঠিকভাবে পরিশোধিত হতে পারে না। যা ধীরে ধীরে ধূমপায়ীদের প্রাণঘাতী ক্যান্সারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই খুব বেশি দেরী হয়ে যাওয়ার আগেই ধূমপান পরিত্যাগ করুন।

আশা করি আজকের এই পোস্টটি ধূমপায়ীদের ধূমপান পরিত্যাগে উৎসাহিত করবে। আপনার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সাথে পোস্টটি শেয়ার করুন। তাদের ধূমপানের ক্ষতির এই মারাত্মক ছবিগুলো দেখান এবং ধূমপানে অনুৎসাহিত করুন। একটি ধূমপান মুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলুন।

আমাদের সাথে থাকার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।



জনপ্রিয়