লরা  ইঙ্গালস ওয়াইল্ড   লরা ইঙ্গালস ওয়াইল্ড

বৃদ্ধ বয়সে খ্যাতি পেয়েছেন যে আমেরিকান লেখিকা

সাহস, ইচ্ছে এবং অধ্যাবসায় থাকলে যেকোনো বয়সেই সফলতা অর্জন করা যায়। আজ আমরা এমনি এক সফল নারীর কথা জানবো যিনি তার ধৈর্য্য ও ইচ্ছাশক্তির বলেই শেষ বয়সে অনেক সফলতা অর্জন করেছেন।  

১।লরা ইঙ্গালস ওয়াইল্ড

১৮৬৭ সালের ৭-ই ফেব্রুয়ারি লরা যুক্তরাষ্ট্রের উইসকন্সিন রাজ্যের পেপিনে জন্মগ্রহন করেন। চার ভাই-বোনের মাঝে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সুবিধার্থে তাকে আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে।

এ কারনে তিনি কোনো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়তে পারেননি, কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন।

ঘন-ঘন জায়গা পরিবর্তনের জন্য বেশিরভাগ সময় ই তিনি ছিলেন স্ব-শিক্ষিত।

১৮৮২ সালে, পনেরো বছর বয়সে তিনি একটি ছোটখাটো বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব পান, যেখানে তিনি প্রায় তিন বছর শিক্ষকতা করেন।

মাত্র আঠারো বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায় এবং তিনি তার চাকরী ছেড়ে দিয়ে স্বামীর খামারের কাজে সাহায্য করতে শুরু করেন।

তার একটি ছেলে সন্তান জন্মের এক মাস পর মারা যায়। তার পরপরই তিনি জীবনের বড় আরেকটি বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তার স্বামী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে আংশিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন।

তার বয়স যখন ৪৩ বছর তখন তার মেয়ে রোজ তাকে তার শৈশব সম্পর্কে একটি স্মৃতিকথা লিখতে উৎসাহিত করেছিলেন।

পরে তিনি তার আত্মজীবনী লিখলেও প্রকাশকদের দ্বারা কয়েকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন।

সফলতা অর্জনের জন্য তিনি দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং পরবর্তী কয়েক বছরে লেখার  উন্নতি করার চেষ্টায় থাকেন।

অবশেষে প্রকাশকগণ শিশুদের জন্য তার লেখা কল্পিত গল্পসমগ্র প্রকাশ করতে রাজি হয়।

তার বয়স যখন ৬৫ বছর, তখন তার লেখা প্রথম বই "লিটল হাউস ইন দ্য বিগ উডস" প্রকাশিত হয়েছিল।

৭৬ বছর বয়সে তার আরেকটি প্রকাশনা “লিটল হাউস” সিরিজ বের হয়।

তার লেখাগুলো বেশ জনপ্রিয় হয় আর শেষ বয়সে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

ওয়াইল্ডের গল্পটি এমনি একটি উদাহরন যা বর্তমান সময় এবং বয়সকে হার মানিয়ে আমাদের অনেক অনুপ্রেরণা যোগাবে।

তিনি তার প্রতিভা বিকশিত করার জন্য বয়সের কাছে হার মানেননি।

তিনি এই কথা প্রমাণ করেছেন যে ইচ্ছে আর অধ্যবসায় থাকলে ইচ্ছেপূরণের জন্য বয়স কোন বাঁধাই না!

 



জনপ্রিয়