শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা তিন মহিলার গল্প      শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা তিন মহিলার গল্প

এই মহিলাগুলো প্রমাণ করেছে সুখের জন্য সবসময় একটি শক্তসমর্থ যৌন জীবনের প্রয়োজন হয় না!

"সপ্তাহে কতবার শারীরিক সম্পর্ক করা উচিত" - এটা নিয়ে তো অনেক গবেষণা হয়, প্রতিবেদনও ছাপা হয় পেপারে কিংবা অনলাইন জগতে।

যদি কখনো শুনে থাকেন, শারীরিক সম্পর্ক না করেই দিব্যি সুখে আছেন তিনজন মহিলা! এমনকি কোন নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছেনা তাদের উপর তবে ভ্যাবাচ্যাকা খাবেন নিশ্চয়ই!

সুখী জীবন-যাপন করতে শারীরিক সম্পর্ক লাগবেই এমন কোন কথা নয়, তবে দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সম্পর্ক পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে। তবে এমন ৩ জন ভিন্ন মতাদর্শের মহিলাও রয়েছেন যারা এই কথাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন! শারীরিক অক্ষমতা কিংবা কোন প্রকার রোগের কারণে যে তারা শারীরিক সম্পর্কে থেকে দূরে এমনও কিন্তু নয়।

চলুন তাহলে জেনে আসা যাক এমন ৩ মহিলার কথা যারা দাবি করেন কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াই তারা অনেক সুখী

স্টেফানি রিভার্সঃ "আমি কোন যৌন ক্রীতদাসী নই"!

৪৯ বছর বয়সী এই মহিলার গল্পটি এমন, "২০১৪ সাল থেকে আজ অবধি শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে রয়েছি, এবং এতেই আমি স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি। তখন আমার সাথে একজনের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, অধিকাংশ মানুষই সম্পর্কে জড়ানোর পর তার প্রিয়তমার ভালবাসা পাওয়ার থেকে তার দেহ ভোগ করার দিকেই নজর থাকে বেশি। আমার বয়ফ্রেন্ডও ছিলেন ঠিক এরকম। এর ফলে আমি সম্পর্কের ইতি টানি। এমন নয় যে, আমার শারীরিক অক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আমি তো তার টাকায় কেনা কোন যৌন ক্রীতদাসী নই যে যখন সে বলবে তখনই আমি তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়াব!

যে বিষয়টির উপর তিনি গুরুত্ব দেন তা হল, "আমার মতে শারীরিক সম্পর্কের থেকেও প্রয়োজনীয় হচ্ছে আত্নার সম্পর্ক গড়ে তোলা। আমি এমন একজনের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চাই, যার সাথে আমার আত্নার সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং সে যাতে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারে এসব দিক থেকে। আমি বিশ্বাস করি, এটাই সবচেয়ে উত্তম পন্তা। কারণ স্বামি-স্ত্রী উভয়ের যৌন চাহিদা একদিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তাদের ভালবাসা যাতে চলতে থাকে মৃত্যুর পর্যন্ত।"

পরে জানতে চাওয়া হয় তিনি কি আর কাউকেই ভালবাসবেন না? আর যদি কাউকে ভালবেসেই থাকেন তাহলে সম্পর্ক নিয়ে তিনি কিরকম আশাবাদী?

জবাবে তিনি বলেন, "মার্চে নেলসনের সাথে আমার দেখা হয়। আমার স্বপ্নের রাজকুমার, আমার ভালবাসার সঙ্গী। সে বর্তমানে সাউথ ক্যারোলিনায় থাকে, আর আমি থাকি টেক্সাসে। মাঝে মাঝে আমি তার শহরে গিয়ে দেখা করে আসি তার সাথে। সেও আমার কাছে আসে। আমরা উভয়েই সিদ্ধান্ত নেই, আগামি বছর আমরা বিয়ে করব এবং বিয়ের আগ পর্যন্ত আমরা শারীরিক সম্পর্কে জড়াবোনা।

আমার এক সাবেক সহকর্মি আমাকে প্রশ্ন করেছিল আমি কি আসলেই বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করবোনা তার সাথে?

জবাবে আমি বলি "না"। সে তখন অবাক হয়ে যায় এবং আমাকে বলে, আমাদের একবার হলেও শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো উচিত। আমার কাছে এই কথাটি ভিত্তিহীন। অনেক মহিলাও এটাই ভাবে যে, আমাদের প্রিয়তমকে আমাদের শরীর ছাড়া দেয়ার মতন আর কিছুই নেই। এটা বিকৃত মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা।

সমাজে এমন কিছু মহিলাও আছেন যারা যখনই মন চায় তখনই পর পুরুষের সাথে শারিরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, আর আমাদের সমাজের পুরুষেরাও তাদের থেকে ভিন্ন মতাদর্শেরও নন। আমার মতে ভালবাসা থেকে শারীরিক সম্পর্কের রীতি যদি বাদ দিয়ে দেয়া যায় তবে ভালবাসা হবে আরও বেশি পবিত্র। তবে যাইহোক, আমি আমার নেলসন কে নিয়ে খুব খুশি। আমার মনের মানুষটির মধ্যে যেসব গুণাবলি চেয়েছিলাম, সবই তার মধ্যে আছে। আশা করি বিয়ের পর আমাদের মধ্যে কোন অসুবিধা হবেনা।"

 

ল্যাকুইতা লাস্কঃ "৮ বছর ধরে আমি শারীরিক সম্পর্কে থেকে দূরে"

৩২ বছর বয়সী এই নারীর ভাষ্যমতে, "২০০৯ সালের কথা যখন আমি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই। ধর্মীয় মানসিকতার কারণে আমি ছোটকাল থেকেই কারো সাথে সম্পর্কে জড়াইনি, শারীরিক সম্পর্ক তো অনেক দুরের কথা। এতবছর নিজেকে ধরে রাখতে পারায় আমার যৌন ক্ষুদার উপরও নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। এবং বিয়ের জন্য আমার কুমারিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করি।

বয়স যখন ২০ এর দিকে, তখন অনেকবার প্রেমে ব্যর্থ হই আমি। প্রতিটি সম্পর্কই আমাকে আগের থেকে অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে যায়। একদিন সকালের কথা, আমি তখন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী। পুরোটা রাস্তা আমি কেঁদে কেঁদে আসি খালি এই কারণে, যে  ভালবাসার মানুষটির সাথে আমি রাত কাটিয়েছি আসলে সে আমাকে মোটেও ভালবাসেনা। যত নজর সব ছিল আমার শরীরের উপর। আর এর ফলে তখন থেকেই আমি আজ অবধি শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি।"

যে বিষয়টির উপর তিনি গুরুত্ব দেন তা হল, "আমার মতে সকলেরই ইচ্ছা থাকে প্রিয় মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠ হবার। আমি শারীরিক সম্পর্ককে পুরোপুরি খারাপও বলব না। কিন্তু আমি নিজেকে এমনভাবে তৈরি করে নিয়েছি যার ফলে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হবার জন্য নিজের শরীর বিকিয়ে দিতে রাজি নই!

কারো সাথে সম্পর্কের ব্যপারে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আট বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থেকে আসলেই আমি অনেক আনন্দে আছি। আমি অনেকের থেকেই এমন অনুরোধ পেয়ে থাকি এবং আমি তা হাসিমুখেই প্রত্যাখ্যান করি। একটি সম্পর্কে জড়ানোর পর আমি যখন আমার বয়ফ্রেন্ডের থেকে তার এরকম কোন কিছু শুনি, তাহলে তাকে সাফ জানিয়ে দেই, "দুঃখিত, তুমি আমার সেই মনের মানুষটি নও। কারণ আমি এমন কাউকে ভালবাসব না।" আমার পরিবার এবং আমার বন্ধুগণও আমার সিদ্ধান্তের কথা জানে এবং আমার এই সিদ্ধান্তকে তারা সাধুবাদও জানিয়েছে!

 

সারা রজার্সঃ "আমি একজন সহনশীল নারী"

৩৫ বছর বয়সী এই ক্রীড়াবিদের গল্পটি এমন, "২০১২ সাল থেকে আমি কারো সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি। আমার কিছুটা পরিচয় আপনাদের জানাচ্ছি, আমি একজন ধৈর্যশীল ক্রীড়াবিদ। অ্যাথলেট হবার দরুণ আমার শরীরে তেমন মেদ নেই। আমার এস্ট্রোজেন এবং এস্ট্রাডিওল লেভেল এতটাই কম যে নেই বললেই চলে, ফলে আমার তেমন যৌন ক্ষুধাও নেই।"

যে কথাটির উপর গুরুত্ব দিতে চান তা হল, "দৌড়, ট্রায়াথলন এগুলো অনেকটা স্বার্থপর খেলা। আমার দিনের অধিকাংশ সময় চলে যায় প্রশিক্ষণের সময় এবং আয়ের অনেক এক বড় এক অংশ চলে যায় জুতা, ঘোড়ার রেইসে এবং দেশ ভ্রমণে। একা থাকার ফলে নিজের জন্য একটি রুটিন তৈরি করে নিয়েছি আমি। সকালে ঘুম থেকে তারাতারি উঠা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া, দিনের একটি নির্ধারিত সময় ব্যায়াম করা ইত্যাদি।

এমনভাবে নিজেকে তৈরি করেছি যে প্রতিদিন ঠিক রাত ৯ টায় আমি ঘুমোতে যাই এবং সকালে তারাতারি উঠে যাই। এভাবে আবারও আমার রুটিন মাফিক দিন চলতে থাকে। রিলেশন আমার কাছে মধুর একটি বিষয়, রিলেশনে থাকাবস্থায় একজনের হাত সবসময় আপনার পাশে থাকে কখনো বন্ধু হয়ে, কখনো গার্ডিয়ান হিসেবে আর সবসময় ভালবাসার মানুষ হিসেবে। সুখ-দুঃখ সবকিছুই ভাগাভাগি করে নেয়া যায় হয়ত আমি এমনটা পারছিনা। আমার নিজের জিবনের লড়াইয়ে সাহায্যের হাত বাড়ানোর কেউ নেই!

সম্পর্কে জড়ানো নিয়ে তিনি যা বলেন, "আমি অবশ্যই সম্পর্কে জড়াতে চাই এবং আমার ভালবাসার মানুষটি যদি আমার জন্য পারফেক্ট হয় তবে আমি তার সাথে শারীরিক সম্পর্কেও জড়াতে আগ্রহী। আসলে আমাদের ট্রেনিং সেন্টারে অনেকটা গদবাধা নিয়মে চলতে হয় আমাদের। প্রতিদিন দৌড়-ঝাপ, শারীরিক কসরত, নিত্য নতুন গ্যাজেট নিয়ে আলোচনা ছাড়া তেমন কিছু হয়না। আমিও চাই আমার মনের মানুষের হাতে হাত ধরে পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করতে। তবে এর জন্য আমার একটু ধৈর্য্য ধরতেই হবে কারণ আমার মতে উভয়েই যদি অ্যাথলেট হয় তবে তাদের পক্ষে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন। আর এজন্য আমি আসলে কোন অ্যাথলেটের সাথে সম্পর্কে জড়াতে চাচ্ছিনা। আর তাছাড়া আমি নিজেকে তেমন একটা সিরিয়াসলিও নেইনা!"

তথ্যসুত্রঃ রিডার্স ডাইজেস্ট



জনপ্রিয়